[ আগের দিন আমরা দেখেছি _ নবাগত সন্ন্যাসীর শিষ্যদের মধ্যে শিশু ও নারীরা গুরুর আগে খেয়ে নেওয়ায় _তাঁর একটু রাগ-রাগ ভাব হয়েছিল। স্বামীজী সেটা মেটাবার চেষ্টা করছিলেন।]
তারপর কিছুক্ষণ বিশ্রাম করার পর নবাগত স্বামীজী বাউলানন্দজীর পাশে এসে বসে তাকে বলতে লাগলেন _”দেখুন স্বামীজী! আপনি একজন সন্ন্যাসী _আপনি হোলেন এই সমস্ত লোকের গুরু! এরা সকলে আপনার সন্তান ! সন্তানদের নিশ্চয় উচিত তাদের বাবার আদেশ পালন করা এবং তাঁকে শ্রদ্ধা করা ! এই শ্রদ্ধা ও সৌজন্য পেলে পিতা খুশি হ’ন । পিতাকে শ্রদ্ধা কোরে ছেলেমেয়েরাও তাদের ধর্ম পালন করে এবং কর্তব্য পালন করে । এর ফলে তারা পিতার আশীর্বাদও পেয়ে থাকে। গুরুর খাওয়া না হওয়া পর্যন্ত যদি শিষ্যরা খাবার গ্রহণ না করে _তাহলে তারা তাদের ধর্ম পালন করবে এবং এতে গুরু সন্তুষ্ট হবে _এটাই স্বাভাবিক! কিন্তু যদি কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এরকমটা না হয় _তাহলে আমাদের ক্ষুব্ধ এবং বিচলিত হওয়া উচিত নয় । যদি আমরা ক্রুদ্ধ হই বা বিচলিত হই _ তাহলে আমাদের ভুল হবে!
যদি আমাদের হাতে কোনো জিনিস থাকে, তাহলে সব ছেলেমেয়েদের ডেকে সেগুলি তাদের মধ্যে বিতরণ করাটা আমাদের কর্তব্য! যখন তারা খুশিমনে সেগুলি খাবে এবং তাদের ক্ষুধা নিবৃত্ত হবে _তখন আমরা তাদের দিকে সন্তুষ্টচিত্তে তাকাবো এবং ওই দৃশ্য দেখে আনন্দ পাবো । এই কারণে সন্তানদের না খাইয়ে আমাদের কখনোই খাওয়ার জন্য উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত নয়।
সন্তানদের ক্ষুধার্ত রেখে আমরা খাবার খেয়ে পেট ভরালেও _আমরা তৃপ্ত হতে পারবো না ! কারণ ওদের ক্ষুধার্ত দেখলে আমাদের কষ্ট হবে। যদি এই পরিপ্রেক্ষিতে আপনি আজকের এই ঘটনাটা দেখেন _তাহলে নিশ্চয়ই আমার সঙ্গে আপনি একমত হবেন ! সুতরাং এটা ভালই হয়েছে যে আপনার জন্য অপেক্ষা না করে তাদের খেতে দেওয়া হয়েছে !
নবাগত স্বামীজী নিজের ভুল বুঝতে পারলেন। স্বামীজীর কথার সত্যতাও বুঝতে পারলেন । কিন্তু তিনি ভেবে অবাক হলেন যে কেন পৃথিবীতে বিভিন্ন ধরনের রীতি প্রচলিত আছে ! তিনি অনুভব করলেন যে, তাঁর আগে খাবার খেয়ে সন্তানরা তাকে অপমান করেন নি! বরং এরকম ধারণা করলে তার অহং বৃদ্ধি পাবে। তিনি আরও অনুভব করলেন যে গুরু-শিষ্যের সম্পর্কের মধ্যে প্রধান বিষয় হলো ‘ভালোবাসা’। প্রেম ছাড়া অন্য কিছু হৃদয়কে আকর্ষণ করে না। ভয়ে ভক্তি এবং ভালোবাসায় ভক্তির মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। নবাগত স্বামীজী বাউলানন্দজীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রদর্শন করলেন। আধ্যাত্মিক ব্যক্তি যারা হবেন _যাঁরা সার্বজনীন সাম্যরক্ষার দায়িত্ব নিয়েছেন তাঁদেরকে সুখী করতে গিয়ে তাঁদের কয়েকজন সন্তান যদি অপর সন্তানদের প্রতারণা করে, তবে তাঁরা তা কেমন করে সহ্য করবেন? সুতরাং প্রকৃত সন্ন্যাসীদের অনেক দায়িত্বপূর্ণ অবস্থার কথা নিশ্চয়ই বুঝতে হবে! নবাগত স্বামীজীর প্রশস্ত হৃদয় ছিল বলেই তিনি ওই দৃষ্টান্তের তাৎপর্য তৎক্ষণাৎ বুঝতে পেরেছিলেন । তিনি বুঝতে পারলেন তাঁর সন্তানরা তাঁকে হেয় করে নাই । তাঁর আগমনের পূর্বে তাঁর সন্তানরা ক্ষুধানিবৃত্তি করে ভালই করেছে । যদি তাঁর প্রসারিত হৃদয় না থাকতো, তাহলে তিনি প্রচলিত প্রথা অনুসারে দুর্বাসার মত হয়ে উঠতেন! সুতরাং সন্ন্যাসীর উচিত _ তিনি হবেন উদারচিত্ত সম্পন্ন ব্যক্তি !
তবে যারা কেবল কাপড়ের রং পাল্টিয়েছেন অথচ তাদের মধ্যে মনুষ্যত্বের বিকাশ হয়নি _ তারা কখনোই আনন্দ ও শান্তি পান না !
সুতরাং সন্ন্যাসীর তথা গুরুর কখনোই শিষ্যকে বিভ্রান্ত করা উচিত নয়! তাঁর উপদেশ এবং আলোচনা সবসময় জীবনমুখী হওয়া উচিত। আর সন্ন্যাসী বোলেই যে মানুষের সংস্পর্শ হতে তাঁকে দূরে সরে যেতে হবে বা অনাসক্তির নাম করে মানুষকে দূরে সরিয়ে রাখতে হবে, তার কোন মানে নাই। তাঁর হৃদয় হবে প্রশস্ত এবং তাঁর অনুভব শক্তি হবে গভীর।
নবাগত স্বামীজী এবং তাঁর শিষ্যরা অনুভব করলেন তাঁদের এই আশ্রম পরিদর্শন সার্থক হল। পরের দিন তাঁরা বেশ উৎফুল্ল চিত্তে এই আশ্রম ছেড়ে চলে গেলেন।
তারপর কিছুক্ষণ বিশ্রাম করার পর নবাগত স্বামীজী বাউলানন্দজীর পাশে এসে বসে তাকে বলতে লাগলেন _”দেখুন স্বামীজী! আপনি একজন সন্ন্যাসী _আপনি হোলেন এই সমস্ত লোকের গুরু! এরা সকলে আপনার সন্তান ! সন্তানদের নিশ্চয় উচিত তাদের বাবার আদেশ পালন করা এবং তাঁকে শ্রদ্ধা করা ! এই শ্রদ্ধা ও সৌজন্য পেলে পিতা খুশি হ’ন । পিতাকে শ্রদ্ধা কোরে ছেলেমেয়েরাও তাদের ধর্ম পালন করে এবং কর্তব্য পালন করে । এর ফলে তারা পিতার আশীর্বাদও পেয়ে থাকে। গুরুর খাওয়া না হওয়া পর্যন্ত যদি শিষ্যরা খাবার গ্রহণ না করে _তাহলে তারা তাদের ধর্ম পালন করবে এবং এতে গুরু সন্তুষ্ট হবে _এটাই স্বাভাবিক! কিন্তু যদি কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এরকমটা না হয় _তাহলে আমাদের ক্ষুব্ধ এবং বিচলিত হওয়া উচিত নয় । যদি আমরা ক্রুদ্ধ হই বা বিচলিত হই _ তাহলে আমাদের ভুল হবে!
যদি আমাদের হাতে কোনো জিনিস থাকে, তাহলে সব ছেলেমেয়েদের ডেকে সেগুলি তাদের মধ্যে বিতরণ করাটা আমাদের কর্তব্য! যখন তারা খুশিমনে সেগুলি খাবে এবং তাদের ক্ষুধা নিবৃত্ত হবে _তখন আমরা তাদের দিকে সন্তুষ্টচিত্তে তাকাবো এবং ওই দৃশ্য দেখে আনন্দ পাবো । এই কারণে সন্তানদের না খাইয়ে আমাদের কখনোই খাওয়ার জন্য উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত নয়।
সন্তানদের ক্ষুধার্ত রেখে আমরা খাবার খেয়ে পেট ভরালেও _আমরা তৃপ্ত হতে পারবো না ! কারণ ওদের ক্ষুধার্ত দেখলে আমাদের কষ্ট হবে। যদি এই পরিপ্রেক্ষিতে আপনি আজকের এই ঘটনাটা দেখেন _তাহলে নিশ্চয়ই আমার সঙ্গে আপনি একমত হবেন ! সুতরাং এটা ভালই হয়েছে যে আপনার জন্য অপেক্ষা না করে তাদের খেতে দেওয়া হয়েছে !
নবাগত স্বামীজী নিজের ভুল বুঝতে পারলেন। স্বামীজীর কথার সত্যতাও বুঝতে পারলেন । কিন্তু তিনি ভেবে অবাক হলেন যে কেন পৃথিবীতে বিভিন্ন ধরনের রীতি প্রচলিত আছে ! তিনি অনুভব করলেন যে, তাঁর আগে খাবার খেয়ে সন্তানরা তাকে অপমান করেন নি! বরং এরকম ধারণা করলে তার অহং বৃদ্ধি পাবে। তিনি আরও অনুভব করলেন যে গুরু-শিষ্যের সম্পর্কের মধ্যে প্রধান বিষয় হলো ‘ভালোবাসা’। প্রেম ছাড়া অন্য কিছু হৃদয়কে আকর্ষণ করে না। ভয়ে ভক্তি এবং ভালোবাসায় ভক্তির মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। নবাগত স্বামীজী বাউলানন্দজীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রদর্শন করলেন। আধ্যাত্মিক ব্যক্তি যারা হবেন _যাঁরা সার্বজনীন সাম্যরক্ষার দায়িত্ব নিয়েছেন তাঁদেরকে সুখী করতে গিয়ে তাঁদের কয়েকজন সন্তান যদি অপর সন্তানদের প্রতারণা করে, তবে তাঁরা তা কেমন করে সহ্য করবেন? সুতরাং প্রকৃত সন্ন্যাসীদের অনেক দায়িত্বপূর্ণ অবস্থার কথা নিশ্চয়ই বুঝতে হবে! নবাগত স্বামীজীর প্রশস্ত হৃদয় ছিল বলেই তিনি ওই দৃষ্টান্তের তাৎপর্য তৎক্ষণাৎ বুঝতে পেরেছিলেন । তিনি বুঝতে পারলেন তাঁর সন্তানরা তাঁকে হেয় করে নাই । তাঁর আগমনের পূর্বে তাঁর সন্তানরা ক্ষুধানিবৃত্তি করে ভালই করেছে । যদি তাঁর প্রসারিত হৃদয় না থাকতো, তাহলে তিনি প্রচলিত প্রথা অনুসারে দুর্বাসার মত হয়ে উঠতেন! সুতরাং সন্ন্যাসীর উচিত _ তিনি হবেন উদারচিত্ত সম্পন্ন ব্যক্তি !
তবে যারা কেবল কাপড়ের রং পাল্টিয়েছেন অথচ তাদের মধ্যে মনুষ্যত্বের বিকাশ হয়নি _ তারা কখনোই আনন্দ ও শান্তি পান না !
সুতরাং সন্ন্যাসীর তথা গুরুর কখনোই শিষ্যকে বিভ্রান্ত করা উচিত নয়! তাঁর উপদেশ এবং আলোচনা সবসময় জীবনমুখী হওয়া উচিত। আর সন্ন্যাসী বোলেই যে মানুষের সংস্পর্শ হতে তাঁকে দূরে সরে যেতে হবে বা অনাসক্তির নাম করে মানুষকে দূরে সরিয়ে রাখতে হবে, তার কোন মানে নাই। তাঁর হৃদয় হবে প্রশস্ত এবং তাঁর অনুভব শক্তি হবে গভীর।
নবাগত স্বামীজী এবং তাঁর শিষ্যরা অনুভব করলেন তাঁদের এই আশ্রম পরিদর্শন সার্থক হল। পরের দিন তাঁরা বেশ উৎফুল্ল চিত্তে এই আশ্রম ছেড়ে চলে গেলেন।
