শ্রী শ্রী গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দ বিভিন্ন সিটিং-এ যে সমস্ত কথা বলতেন, যা শিক্ষা দিতেন – সেইসব বিষয়ে কিছু কিছু কথা আছে এখানে আলোচনা করা হচ্ছিলো। গুরুমহারাজ একটা কথা প্রায়ই বলতেন – ” জানিস্ তো ! এই সমাজে অনেক নামকরা লোক, অনেক বিদ্বান, অনেক বুদ্ধিমান, অনেক ক্ষমতাবান লোক রয়েছে – দেখবি, অনেক মানুষ তাদেরকে মানে-গনে, হৃদয় থেকে ভক্তি না করলেও ভয়ে বা প্রয়োজনে ভক্তি-শ্রদ্ধাও প্রদর্শন করে। কিন্তু তুই এমন কোনো ব্যক্তির সাথে যদি একটু মেলামেশা করার সুযোগ পাস্ – তাহলে দু-চার দিনের মধ্যেই তোর ‘হরিভক্তি’ ছুটে যাবে ! তুই ঐ ব্যক্তির অন্তঃসারশূন্য রূপটা খুব কাছ থেকে দেখতে পাবি। আসল কথা কি বলতো – এইসব সমাজবরেণ্য লোকগুলোর বেশীরভাগেরই তো চরিত্র শুদ্ধ নয় – তাই একটু মিশলেই সেটা ধরা পড়ে যাবে।”
‘সাধুব্যক্তি’ বলতে সাধারণভাবে বোঝায় চরিত্রবান ব্যক্তি। তা সে গৃহস্থাশ্রমেই থাকুক বা সন্ন্যাসাশ্রমে ! সন্ন্যাস আশ্রমের কোনো ব্রহ্মচারী বা সন্ন্যাসী যদি চরিত্রবান না হ’ন – তাহলে তার কিসের মর্যাদা ? আবার গৃহস্থাশ্রমের কোনো সম্মানীয় ব্যক্তিরও যদি চরিত্রের দোষ থাকে – তাহলে তিনি সামাজিক দৃষ্টিতে যতই উঁচুতে উঠুন না কেন – নজর তো সেই ভাগাড়ের দিকেই ! তাই যে কোনো আধ্যাত্মিক ব্যক্তিকে সাধন জীবনে উন্নত করতে হোলে – সর্বপ্রথমে তার নিজের স্বভাব-চরিত্র, চাল-চলন, হাব-ভাব, পোশাক-পরিচ্ছদ, আহার-বিহার ইত্যাদি সব ব্যাপারেই তাকে সতর্ক থাকতে হবে, তাকে প্রস্তুত হোতে হবে। নাহলে আমার মধ্যেই যদি সবরকম দোষ থাকে – তাহলে আমি অপরের দোষ বা ত্রুটির সমাধান কি করে করবো ! গুরুমহারাজের কাছে একদিন এক ভক্ত বলেছিল – ” জানেন তো গুরুজী ! একজনের (সমাজের চোখে উঁচুদরের লোক) বাড়ির ঝি বলেছিল, “আমাদের বাবুর সবই ঠিক আছে, কিন্তু ওনার ‘লেচার’ ভালো নয় !” সে কথা শুনে গুরুজীর সে কি হাসি !!
এই যে অশিক্ষিত মহিলাটিও ধরে ফেলেছে যে, “বাবুর ‘লেচার’ ভালো নয়”! এখানে ‘লেচার’ বলতে nature বা স্বভাবের কথা অথবা তার চরিত্রগত দোষের কথাই সে বলতে চেয়েছে ! মানুষের বাকি সমস্ত গুণ চাপা পড়ে যায় শুধুমাত্র চরিত্রের হানি হলে ! সমাজের বহু গুণবান, শিক্ষিত, মেধাবী, প্রতিভাবান ব্যক্তিকে দেখা যায় – যারা শুধুমাত্র চরিত্রের দোষের কারণে অনেক উঁচুতে উঠেও মানুষের চোখে অনেক নীচে নেমে গেছেন ! তাই গুরুমহারাজ তো এসব কথা খুবই বলতেন, তাছাড়া অন্যান্য যেকোনো মহাপুরুষগণও বারবার মানুষের চরিত্র গঠনের উপর খুব জোর দিয়ে গেছেন ! চরিত্র নিয়ে গুরুমহারাজের খুব সুন্দর একটা article রয়েছে, যেটি বহুপূর্বে ‘চরৈবেতি’ পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল ।
এত কথা বলা হোলো – কিন্তু সেই এসে যাবে সংস্কারের কথা, পৃথিবীগ্রহে মানুষ শরীরে জন্মগ্রহণের সিনিয়র-জুনিয়রের কথা ! কিন্তু মহামানবগণ এটাও বলেছেন যে, একেবারে আদিম চেতনায় বা খুবই নিম্ন চেতনায় থাকা মানুষেরা __সমাজের পক্ষে মোটেই অতটা ক্ষতিকারক নয়, যতটা সমাজের উচ্চশ্রেণীতে থাকা তথাকথিত শিক্ষিত-সভ্য মানুষেরা ! এই মানুষগুলি জন্ম-জন্মান্তরের বিচারে মানুষ শরীরে সিনিয়র হওয়ায় অনেকটা পাকাপোক্ত ও বুদ্ধিমান। তাই দেখা যায় – প্রথাগত বিদ্যা বেশি না থাকলেও বহু মানুষ (জন্মের দিক থেকে যারা সিনিয়র) সমাজে অর্থনৈতিকভাবে, রাজনৈতিকভাবে, ধর্মনৈতিকভাবে যথেষ্ট উঁচুস্থানে উঠে বসে রয়েছে শুধুমাত্র বুদ্ধির জোরে ! আর এরাই ক্ষতিকারক ! বিদ্যার জোরে সমাজে উঁচুপদে থাকা ব্যক্তিরা হয়তো সমাজকে এতোটা খারাপ জায়গায় পৌঁছে দিতো না – যদি না তাদের মাথার উপর ওই বিবেকহীন বুদ্ধিমানেরা বসে থাকতো !
বুদ্ধির তখনই দাম, যখন তা বিবেকাশ্রয়ী হয় ৷ বিবেকাশ্রয়ী বুদ্ধিকেই শুদ্ধবুদ্ধি বলা হয়েছে ! ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ এই বৃদ্ধিকেই ‘শুদ্ধবুদ্ধি’ বলেছিলেন এবং বলেছিলেন “ঈশ্বর সাধারণ বুদ্ধির অগোচর হোলেও ঈশ্বর শুদ্ধ বুদ্ধির গোচর ৷” গুরুমহারাজের কাছে শুনেছিলাম –’বিবেকহীন বুদ্ধি’ যেমন ধরুন খাপে ভরা তলোয়ার, খাপ থেকে তলোয়ার বার করলে তবেই সেই তরোয়ালের কার্যকারিতা সর্বোত্তম হয় – খাপে ভরা অবস্থায় নয় ! ঠিক তেমনি বিবেকরূপ তলোয়ার বুদ্ধিরূপ ঢাকা রয়েছে – বিবেকহীন বুদ্ধি যেন ভোঁতা, কার্যকারীতা হীন! কিন্তু খাপ থেকে তলোয়ার উন্মোচন করার মতো যখন সুপ্ত বিবেককে জাগানো সম্ভব হয় – তখন সেই বুদ্ধি হয় বিবেকাশ্রিত বুদ্ধি ! জগতে প্রকৃত কল্যাণ, যেখানেই যতটা হয়েছে – তা এই বিবেকাশ্রিত বুদ্ধি থেকেই হয়েছে ! অপরপক্ষে জগতে যতকিছু ধ্বংসাত্মক কাজ, মানবকল্যাণ বিরোধী কাজ সবই সংঘটিত হয়েছে বিবেকহীন বুদ্ধির দ্বারা !
গুরুমহারাজকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল – তাহলে কি কৌশল অবলম্বন করলে খাপ থেকে তলোয়ার বের করা যায় ? অর্থাৎ সুপ্ত বিবেককে জাগানো যায় ? তখন গুরুমহারাজ উত্তর দিয়েছিলেন – ” একমাত্র সাধুসঙ্গে বিবেকের জাগরণ হয় !” – ” তাহলে ‘সাধু’ কি করে চিনবো –গুরুমহারাজ ?” – আবার জিজ্ঞাসা ! গুরুমহারাজ বলেছিলেন – ” যাঁর সান্নিধ্যে মানুষের রিপুসমূহ শান্ত হয়ে যায়, মনে শান্তি পাওয়া যায়, অন্তরে আনন্দের লহর ওঠে – তিনিই সাধু।”
‘সাধুব্যক্তি’ বলতে সাধারণভাবে বোঝায় চরিত্রবান ব্যক্তি। তা সে গৃহস্থাশ্রমেই থাকুক বা সন্ন্যাসাশ্রমে ! সন্ন্যাস আশ্রমের কোনো ব্রহ্মচারী বা সন্ন্যাসী যদি চরিত্রবান না হ’ন – তাহলে তার কিসের মর্যাদা ? আবার গৃহস্থাশ্রমের কোনো সম্মানীয় ব্যক্তিরও যদি চরিত্রের দোষ থাকে – তাহলে তিনি সামাজিক দৃষ্টিতে যতই উঁচুতে উঠুন না কেন – নজর তো সেই ভাগাড়ের দিকেই ! তাই যে কোনো আধ্যাত্মিক ব্যক্তিকে সাধন জীবনে উন্নত করতে হোলে – সর্বপ্রথমে তার নিজের স্বভাব-চরিত্র, চাল-চলন, হাব-ভাব, পোশাক-পরিচ্ছদ, আহার-বিহার ইত্যাদি সব ব্যাপারেই তাকে সতর্ক থাকতে হবে, তাকে প্রস্তুত হোতে হবে। নাহলে আমার মধ্যেই যদি সবরকম দোষ থাকে – তাহলে আমি অপরের দোষ বা ত্রুটির সমাধান কি করে করবো ! গুরুমহারাজের কাছে একদিন এক ভক্ত বলেছিল – ” জানেন তো গুরুজী ! একজনের (সমাজের চোখে উঁচুদরের লোক) বাড়ির ঝি বলেছিল, “আমাদের বাবুর সবই ঠিক আছে, কিন্তু ওনার ‘লেচার’ ভালো নয় !” সে কথা শুনে গুরুজীর সে কি হাসি !!
এই যে অশিক্ষিত মহিলাটিও ধরে ফেলেছে যে, “বাবুর ‘লেচার’ ভালো নয়”! এখানে ‘লেচার’ বলতে nature বা স্বভাবের কথা অথবা তার চরিত্রগত দোষের কথাই সে বলতে চেয়েছে ! মানুষের বাকি সমস্ত গুণ চাপা পড়ে যায় শুধুমাত্র চরিত্রের হানি হলে ! সমাজের বহু গুণবান, শিক্ষিত, মেধাবী, প্রতিভাবান ব্যক্তিকে দেখা যায় – যারা শুধুমাত্র চরিত্রের দোষের কারণে অনেক উঁচুতে উঠেও মানুষের চোখে অনেক নীচে নেমে গেছেন ! তাই গুরুমহারাজ তো এসব কথা খুবই বলতেন, তাছাড়া অন্যান্য যেকোনো মহাপুরুষগণও বারবার মানুষের চরিত্র গঠনের উপর খুব জোর দিয়ে গেছেন ! চরিত্র নিয়ে গুরুমহারাজের খুব সুন্দর একটা article রয়েছে, যেটি বহুপূর্বে ‘চরৈবেতি’ পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল ।
এত কথা বলা হোলো – কিন্তু সেই এসে যাবে সংস্কারের কথা, পৃথিবীগ্রহে মানুষ শরীরে জন্মগ্রহণের সিনিয়র-জুনিয়রের কথা ! কিন্তু মহামানবগণ এটাও বলেছেন যে, একেবারে আদিম চেতনায় বা খুবই নিম্ন চেতনায় থাকা মানুষেরা __সমাজের পক্ষে মোটেই অতটা ক্ষতিকারক নয়, যতটা সমাজের উচ্চশ্রেণীতে থাকা তথাকথিত শিক্ষিত-সভ্য মানুষেরা ! এই মানুষগুলি জন্ম-জন্মান্তরের বিচারে মানুষ শরীরে সিনিয়র হওয়ায় অনেকটা পাকাপোক্ত ও বুদ্ধিমান। তাই দেখা যায় – প্রথাগত বিদ্যা বেশি না থাকলেও বহু মানুষ (জন্মের দিক থেকে যারা সিনিয়র) সমাজে অর্থনৈতিকভাবে, রাজনৈতিকভাবে, ধর্মনৈতিকভাবে যথেষ্ট উঁচুস্থানে উঠে বসে রয়েছে শুধুমাত্র বুদ্ধির জোরে ! আর এরাই ক্ষতিকারক ! বিদ্যার জোরে সমাজে উঁচুপদে থাকা ব্যক্তিরা হয়তো সমাজকে এতোটা খারাপ জায়গায় পৌঁছে দিতো না – যদি না তাদের মাথার উপর ওই বিবেকহীন বুদ্ধিমানেরা বসে থাকতো !
বুদ্ধির তখনই দাম, যখন তা বিবেকাশ্রয়ী হয় ৷ বিবেকাশ্রয়ী বুদ্ধিকেই শুদ্ধবুদ্ধি বলা হয়েছে ! ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ এই বৃদ্ধিকেই ‘শুদ্ধবুদ্ধি’ বলেছিলেন এবং বলেছিলেন “ঈশ্বর সাধারণ বুদ্ধির অগোচর হোলেও ঈশ্বর শুদ্ধ বুদ্ধির গোচর ৷” গুরুমহারাজের কাছে শুনেছিলাম –’বিবেকহীন বুদ্ধি’ যেমন ধরুন খাপে ভরা তলোয়ার, খাপ থেকে তলোয়ার বার করলে তবেই সেই তরোয়ালের কার্যকারিতা সর্বোত্তম হয় – খাপে ভরা অবস্থায় নয় ! ঠিক তেমনি বিবেকরূপ তলোয়ার বুদ্ধিরূপ ঢাকা রয়েছে – বিবেকহীন বুদ্ধি যেন ভোঁতা, কার্যকারীতা হীন! কিন্তু খাপ থেকে তলোয়ার উন্মোচন করার মতো যখন সুপ্ত বিবেককে জাগানো সম্ভব হয় – তখন সেই বুদ্ধি হয় বিবেকাশ্রিত বুদ্ধি ! জগতে প্রকৃত কল্যাণ, যেখানেই যতটা হয়েছে – তা এই বিবেকাশ্রিত বুদ্ধি থেকেই হয়েছে ! অপরপক্ষে জগতে যতকিছু ধ্বংসাত্মক কাজ, মানবকল্যাণ বিরোধী কাজ সবই সংঘটিত হয়েছে বিবেকহীন বুদ্ধির দ্বারা !
গুরুমহারাজকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল – তাহলে কি কৌশল অবলম্বন করলে খাপ থেকে তলোয়ার বের করা যায় ? অর্থাৎ সুপ্ত বিবেককে জাগানো যায় ? তখন গুরুমহারাজ উত্তর দিয়েছিলেন – ” একমাত্র সাধুসঙ্গে বিবেকের জাগরণ হয় !” – ” তাহলে ‘সাধু’ কি করে চিনবো –গুরুমহারাজ ?” – আবার জিজ্ঞাসা ! গুরুমহারাজ বলেছিলেন – ” যাঁর সান্নিধ্যে মানুষের রিপুসমূহ শান্ত হয়ে যায়, মনে শান্তি পাওয়া যায়, অন্তরে আনন্দের লহর ওঠে – তিনিই সাধু।”
