[ প্রোভার্টি রিলিফ সোসাইটির সংকট ও সংকটের সমাধান।]
আদিবাসীদের জীবনে সার্বিক উন্নয়ন ঘটানোই স্বামীজীর একমাত্র উদ্দেশ্য ! যতদিন অন্যান্য সূত্রে টাকা এসেছে _সরকারের কাছে হাত পাতার প্রয়োজন হয়নি ! কিন্তু এবার নিরুপায় হয়ে সরকারের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করতে হয়েছে এবং সরকারও নির্দ্বিধায় তাঁকে সাহায্য করার জন্যে প্রতিশ্রুতি বদ্ধ হয়েছেন। যদি পিআরএস ভবিষ্যতে এই দু লাখ টাকা ঋণ ব্যাংককে শোধ না করতে পারেন, তবে সরকার তার জন্য দায়ী হবেন । তবু কেন ব্যাংক এই ঋণ দেবার ব্যাপারে এত গড়িমসি করছে ?
টাকাটা সঠিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা_ এটা দেখাও সরকারি কাজ ! ব্যাংকের এখানে কোনো ভূমিকাই নাই! সুব্রহ্মণ্যম নাইডু বিরোধী যুক্তিকে খন্ডন করে ওঁদের সংশয় মেটাতে ব্যর্থ হলেন। তিনি মাদ্রাজে ফিরে গিয়ে সমস্ত ঘটনার রিপোর্ট জমা দিলেন। সরকারের শুভ-প্রচেষ্টাও শেষ পর্যন্ত কার্যে রূপান্তরিত হলো না! কাজ আটকেই থাকলো।
অনেকেই স্বামীজীকে পরামর্শ দিলেন যে, তাঁর একবার মাদ্রাজে গিয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করা উচিত! স্বামীজী বললেন _”ঈশ্বরের নির্দেশে এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে ! এই কাজে সাফল্য বা ব্যর্থতা তাঁর উপরই নির্ভর করছে! আমাদের পক্ষে যতটুকু করা সম্ভব, আমরা করেছি। যদি এই প্রচেষ্টা মাঝপথেই থেমে যায়, তবে জানতে হবে যে, অশুভ শক্তির জয় হয়েছে! তাই যদি ঈশ্বরের ইচ্ছা হয়ে থাকে, তবে তাই হোক!”
পি আর এস এর তরফ থেকে তখন সরকার ও কো-অপারেটিভকে লিখিতভাবে পুরো অবস্থাটা বিশদভাবে জানানো হোলো । স্বামীজী আরো বললেন _”কাজটা যদি হবার হয়, তবে এবার মাদ্রাজ আসবে পেরেন্টাপল্লীতে । আমরা আর যাবো না মাদ্রাজে!” সেই দিনই তিনি পেরেন্টাপল্লী ফিরে গেলেন ।
পি আর এস এবং স্টোরের পরিবেশ একটু থমথমে হয়ে গেল । মনে হচ্ছিলো, এইবার যেন শুরু হয়ে গেলো _’শুভ শক্তির সাথে অশুভ শক্তির সংঘাত’!
পি আর এস-এ তো রীতিমত ঝড় উঠে গেল! যদি কাজ থেমে যায়, তবে এতগুলো দরিদ্র শ্রমিক এবং কর্মচারীদের কি অবস্থা হবে ! সাধ্যম্ নিজেও একটা সংকটের মধ্যে পড়ে গেলেন স্টোরের অনেক টাকাই পি আর এস-এ লগ্নি করা আছে ! সেই টাকাটা ব্যবহার হলে স্টোরের আর্থিক লাভ হয় । সবকিছু ঠিক থাকলে যারাই এই কাজের সাথে যুক্ত, তাদের সবাই লাভবান হোতেন। এইসব নানান পরিণতির কথা চিন্তা করে তিনি সেদিন অনাহারেই রাত কাটিয়ে দিলেন !
শ্রী সুব্রমনিয়ম নাইডু এতাবৎ সমর্থক হওয়া সত্ত্বেও এখন সাধ্যমের সমালোচনা করতে শুরু করলেন ! বললেন__”যারা বেসরকারি কর্মচারী, তারা যদি বিরোধিতা করে _তবে তাদের সাথে আমরা সরকারি শক্তি দিয়ে লড়তে পারি । আবার সরকারি কর্মচারীরা বিরোধ করলে, আমরা বেসরকারি শক্তি দিয়ে প্রতিরোধ করতে পারি। কিন্তু যদি সরকারি-বেসরকারি সমস্ত শক্তি একজোট হয়ে আমাদের বিরুদ্ধাচরণ করে _তখন আমরা কি করব?” তিনি আরো বললেন _”সাধ্যমের বুদ্ধিনাশ হয়েছে ! একটা সাধু(স্বামী বাউলানন্দজী)-কে নিয়ে এসে ঝামেলা পাকাচ্ছে! উপরমহলের লোকগুলোকে ক্ষেপিয়ে তোলার চেষ্টা করছে! কোন্ অধিকারে ও এসব করছে ?এখন ওর স্বামীজী _ওকে বাঁচাতে পারবে?”
কথাগুলো সাধ্যমের কানে এসেও পৌঁছে ছিল! সত্যিই কি স্বামীজী পারবেন ওকে বাঁচাতে? যদি অন্যকে বাঁচানোর ক্ষমতা তাঁর থাকতো_ তবে তাঁর ব্যবসাটাই তো বাঁচতো!
15 দিন এভাবে কেটে গেল ! 16 দিনের মাথায় সাধ্যমের কাছে সত্যনাথনের একটি চিঠি এলো । তাঁর ভ্রমণের সমস্ত বৃত্তান্ত দিয়ে পেরেন্টাপল্লী যাওয়ার সমস্ত ব্যবস্থা করার কথা উল্লেখ করেছেন এবং গোদাবরী বন বিভাগের কর্মচারীদের আমন্ত্রণ জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন ।
সাধ্যম্ বিশেষ দূত পাঠিয়ে স্বামীজীকে সব কথা জানালেন । নির্দিষ্ট দিনে বনবিভাগের অফিসারদের এবং স্টোর পরিচালকদের আমন্ত্রণ করা হোলো। শ্রী সত্যনাথন তাঁর সঙ্গে সুব্রমনিয়ম নাইডু কে নিয়ে এলেন। ব্যাঙ্ক ম্যানেজার কিন্তু ওনাদের কাছে তাঁর আপত্তির কথা জানালেন! বললেন _”পি আর এস-এর কাছে দেখানোর মত কোনো সিকিউরিটি নাই ! সরকারি গ্যারান্টি থাকলেও এই অবস্থায় ঋণ দেওয়া সম্ভব নয়।”(ক্রমশঃ)
আদিবাসীদের জীবনে সার্বিক উন্নয়ন ঘটানোই স্বামীজীর একমাত্র উদ্দেশ্য ! যতদিন অন্যান্য সূত্রে টাকা এসেছে _সরকারের কাছে হাত পাতার প্রয়োজন হয়নি ! কিন্তু এবার নিরুপায় হয়ে সরকারের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করতে হয়েছে এবং সরকারও নির্দ্বিধায় তাঁকে সাহায্য করার জন্যে প্রতিশ্রুতি বদ্ধ হয়েছেন। যদি পিআরএস ভবিষ্যতে এই দু লাখ টাকা ঋণ ব্যাংককে শোধ না করতে পারেন, তবে সরকার তার জন্য দায়ী হবেন । তবু কেন ব্যাংক এই ঋণ দেবার ব্যাপারে এত গড়িমসি করছে ?
টাকাটা সঠিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা_ এটা দেখাও সরকারি কাজ ! ব্যাংকের এখানে কোনো ভূমিকাই নাই! সুব্রহ্মণ্যম নাইডু বিরোধী যুক্তিকে খন্ডন করে ওঁদের সংশয় মেটাতে ব্যর্থ হলেন। তিনি মাদ্রাজে ফিরে গিয়ে সমস্ত ঘটনার রিপোর্ট জমা দিলেন। সরকারের শুভ-প্রচেষ্টাও শেষ পর্যন্ত কার্যে রূপান্তরিত হলো না! কাজ আটকেই থাকলো।
অনেকেই স্বামীজীকে পরামর্শ দিলেন যে, তাঁর একবার মাদ্রাজে গিয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করা উচিত! স্বামীজী বললেন _”ঈশ্বরের নির্দেশে এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে ! এই কাজে সাফল্য বা ব্যর্থতা তাঁর উপরই নির্ভর করছে! আমাদের পক্ষে যতটুকু করা সম্ভব, আমরা করেছি। যদি এই প্রচেষ্টা মাঝপথেই থেমে যায়, তবে জানতে হবে যে, অশুভ শক্তির জয় হয়েছে! তাই যদি ঈশ্বরের ইচ্ছা হয়ে থাকে, তবে তাই হোক!”
পি আর এস এর তরফ থেকে তখন সরকার ও কো-অপারেটিভকে লিখিতভাবে পুরো অবস্থাটা বিশদভাবে জানানো হোলো । স্বামীজী আরো বললেন _”কাজটা যদি হবার হয়, তবে এবার মাদ্রাজ আসবে পেরেন্টাপল্লীতে । আমরা আর যাবো না মাদ্রাজে!” সেই দিনই তিনি পেরেন্টাপল্লী ফিরে গেলেন ।
পি আর এস এবং স্টোরের পরিবেশ একটু থমথমে হয়ে গেল । মনে হচ্ছিলো, এইবার যেন শুরু হয়ে গেলো _’শুভ শক্তির সাথে অশুভ শক্তির সংঘাত’!
পি আর এস-এ তো রীতিমত ঝড় উঠে গেল! যদি কাজ থেমে যায়, তবে এতগুলো দরিদ্র শ্রমিক এবং কর্মচারীদের কি অবস্থা হবে ! সাধ্যম্ নিজেও একটা সংকটের মধ্যে পড়ে গেলেন স্টোরের অনেক টাকাই পি আর এস-এ লগ্নি করা আছে ! সেই টাকাটা ব্যবহার হলে স্টোরের আর্থিক লাভ হয় । সবকিছু ঠিক থাকলে যারাই এই কাজের সাথে যুক্ত, তাদের সবাই লাভবান হোতেন। এইসব নানান পরিণতির কথা চিন্তা করে তিনি সেদিন অনাহারেই রাত কাটিয়ে দিলেন !
শ্রী সুব্রমনিয়ম নাইডু এতাবৎ সমর্থক হওয়া সত্ত্বেও এখন সাধ্যমের সমালোচনা করতে শুরু করলেন ! বললেন__”যারা বেসরকারি কর্মচারী, তারা যদি বিরোধিতা করে _তবে তাদের সাথে আমরা সরকারি শক্তি দিয়ে লড়তে পারি । আবার সরকারি কর্মচারীরা বিরোধ করলে, আমরা বেসরকারি শক্তি দিয়ে প্রতিরোধ করতে পারি। কিন্তু যদি সরকারি-বেসরকারি সমস্ত শক্তি একজোট হয়ে আমাদের বিরুদ্ধাচরণ করে _তখন আমরা কি করব?” তিনি আরো বললেন _”সাধ্যমের বুদ্ধিনাশ হয়েছে ! একটা সাধু(স্বামী বাউলানন্দজী)-কে নিয়ে এসে ঝামেলা পাকাচ্ছে! উপরমহলের লোকগুলোকে ক্ষেপিয়ে তোলার চেষ্টা করছে! কোন্ অধিকারে ও এসব করছে ?এখন ওর স্বামীজী _ওকে বাঁচাতে পারবে?”
কথাগুলো সাধ্যমের কানে এসেও পৌঁছে ছিল! সত্যিই কি স্বামীজী পারবেন ওকে বাঁচাতে? যদি অন্যকে বাঁচানোর ক্ষমতা তাঁর থাকতো_ তবে তাঁর ব্যবসাটাই তো বাঁচতো!
15 দিন এভাবে কেটে গেল ! 16 দিনের মাথায় সাধ্যমের কাছে সত্যনাথনের একটি চিঠি এলো । তাঁর ভ্রমণের সমস্ত বৃত্তান্ত দিয়ে পেরেন্টাপল্লী যাওয়ার সমস্ত ব্যবস্থা করার কথা উল্লেখ করেছেন এবং গোদাবরী বন বিভাগের কর্মচারীদের আমন্ত্রণ জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন ।
সাধ্যম্ বিশেষ দূত পাঠিয়ে স্বামীজীকে সব কথা জানালেন । নির্দিষ্ট দিনে বনবিভাগের অফিসারদের এবং স্টোর পরিচালকদের আমন্ত্রণ করা হোলো। শ্রী সত্যনাথন তাঁর সঙ্গে সুব্রমনিয়ম নাইডু কে নিয়ে এলেন। ব্যাঙ্ক ম্যানেজার কিন্তু ওনাদের কাছে তাঁর আপত্তির কথা জানালেন! বললেন _”পি আর এস-এর কাছে দেখানোর মত কোনো সিকিউরিটি নাই ! সরকারি গ্যারান্টি থাকলেও এই অবস্থায় ঋণ দেওয়া সম্ভব নয়।”(ক্রমশঃ)
