[বিশ্বাসম]
বিশ্বাসম ছিলেন বাউলানন্দ ভক্তবৃন্দের(তৎকালীন ভক্তবৃন্দকে নিয়ে স্বামীজী যে কমিটি গঠন করেছিলেন_তারই নাম “ভক্তবৃন্দ”!) প্রথম প্রেসিডেন্ট। তাঁর প্রকৃত নাম ছিল শ্রী গাভাম আপ্পারাও । তিনি বনবিভাগের রেঞ্জ অফিসার ছিলেন । পরে তিনি জেলার বনবিভাগের অফিসার হয়েছিলেন।
“ভক্তবৃন্দ” গঠিত হওয়ার পূর্বে তিনি সাধারণের থেকে অনেক দূরবর্তী ব্যক্তি ছিলেন, কিন্তু “ভক্তবৃন্দ” গঠিত হওয়ার পর তিনি সকলের নিকটবর্তী, অতিপ্রিয় এবং শ্রদ্ধাভাজন হয়ে উঠেছিলেন । বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর শরীরে ‘কাঁপুনি রোগ'(Parkinson disease) দেখা দেয়। ওষুধ খেয়ে তিনি অনেকদিন বেঁচে ছিলেন। তাঁর রক্তের চাপ‌ও ছিল অধিক । শেষের দিকে তিনি আশ্রমের ভক্ত নিবাসে থাকতেন । তিনি আশ্রম নির্মাণ কাজের জন্য অর্থ এবং মালমশলা সংগ্রহ করতেন এবং আশ্রমের কাজের তদারকি করতেন । তাঁর দৈহিক ক্ষমতা ছিল খুবই কম, তথাপি তিনি আশ্রমের বিভিন্ন রকম কাজ করতেন । ঐশ্বরিক শক্তি তাঁর মধ্যে কাজ করতো ।
1962 সালের আগস্ট মাসে আশ্রমে মন্দির নির্মাণের কাজ শেষ হোলো। অপ্রত্যাশিতভাবে ঐ সালের 15 ই আগস্ট আশ্রম দেবতাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হোলো।
বর্ষা ঋতু গত হওয়ার পর মন্দিরের চূড়ায় গোপুরম নির্মাণ করা হোলো স্থির হোলো__ গোপুরমের উপরে সোনার পাত দিয়ে মোড়ানো “ওম্” স্থাপন করা হবে ! বৈকুণ্ঠ একাদশীতে এই উৎসব হবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হোলো।
ভক্তদেরকে নিমন্ত্রণ পত্র পাঠানো হোলো। অনেক ভক্ত জমায়েত হয়েছিল ঐ অনুষ্ঠানে।
1963 সালের 6 জানুয়ারি ছিল বৈকুণ্ঠ একাদশী ! বিশ্বাসম বিরাট কর্মে সফল হয়েছেন বলে তাঁকে ও ঐদিনে অভিনন্দন জানানো হবে _ঠিক করা হোলো।
শুভ বৈকুণ্ঠ একাদশীর দিন যথারীতি মন্দিরের প্রাতঃকালীন দেবতার পূজা সমাপ্ত হোলো। তারপর জনৈক ভক্ত ‘শেষাস‌ই’ পঞ্চধাতু দিয়ে নির্মিত এবং মোটা সোনার পাত দিয়ে মোড়ানো “ওম্” হাতে নিয়ে মন্দিরকে তিনবার প্রদক্ষিণ করলেন। ঢাক, করতাল বাজতে লাগলো। একানন্দ(একজন ভক্ত) এবং আরো দুই-একজন মন্দিরের উপরে উঠলো শেষাস‌ই-কে “ওম” প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করার জন্য । সযত্নে চূড়ায় “ওম” বসানো হোলো! নারকেল নিবেদন করা হোলো, কর্পূর জালানো হোল । কর্পূরের আলোয় সোনার পাত ঝকঝক্ করতে লাগলো। শ্রীরামকৃষ্ণের জয়ধ্বনি দিয়ে অনুষ্ঠান সমাপ্ত হোলো।
অনুষ্ঠান সমাপ্ত হওয়ার পর স্বামী বাউলানন্দজী যখন তার কুটিরে একাকী বসে ছিলেন, সেই সময় তাঁর নিকট প্রস্তাব দেওয়া হোলো যে, এরপর বিশ্বাসমের অভিনন্দন অনুষ্ঠান করা হবে !
ঐদিন সন্ধ্যায় সমস্ত ভক্তবৃন্দ অভিনন্দন সভায় যোগ দিলো । স্বামীজী কুটিরের পিছনে বারান্দায় বসলেন । স্বামীজীর পাশে বসলেন বিশ্বাসম । উভয়ের গলাতেই মাল্যদান করা হোলো। ভক্তগণ সামনে বসেছিল ।ঐ অনুষ্ঠানে লেখক আঃ বেঙ্কট রাও একটি অভিনন্দন পত্র পাঠ করেছিলেন।(সেটি পরের দিন)…[ক্রমশঃ]