[সম্বশিব/সম্বম]
(সম্বম তীর্থদর্শনে যাবার মনস্থ করেছিলেন কিন্তু পেরেন্টপল্লী আশ্রমে এক মায়ের গাওয়া গান শুনে তাঁর মনে হয়েছিল যে, তীর্থে যাওয় উচিত নয়! এই সংশয় দূর করার জন্য স্বামী বাউলানন্দ সম্বমকে কিছু উপদেশ দিয়েছিলেন। এখানে তার শেষাংশ থেকে প্রবন্ধ শুরু করা হোচ্ছে।)
……… সম্বম! তবে, তুমি তীর্থে যেতে পারো কিন্তু যেখানেই যাবে_ সেখানেই তোমার অভিজ্ঞতা একই ধরনের হবে ! যে নারায়ন তোমার হৃদয়ে রয়েছেন, তাঁকেই তুমি সর্বত্র বিভিন্ন মূর্তিতে দেখতে পাবে।……
শম্বশিব ! তুমি তীর্থদর্শনে যাও ! সেখানে তুমি খুশিমতো বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে পারবে, বিভিন্ন আধ্যাত্মিক পুরুষের সঙ্গ করতে পারবে ! তোমার তীর্থযাত্রা সফল হবে !” এই ব’লে কথা শেষ করলেন স্বামী বাউলানন্দজী !
সম্বম উচ্ছ্বসিত হয়ে বাড়ি ফিরে গেলেন। শ্রীনিবাস নামে তাঁর এক বন্ধু ছিলেন যিনি শিক্ষকতা করতেন । ঐ ভদ্রলোক খুবই জ্ঞানপিপাসু ছিলেন । অবসর সময়ে তিনি সম্বমের সঙ্গে বসে আধ্যাত্মিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন । সম্বম তাকে স্বামী বাউলানন্দের লেখা এবং স্বামী বিবেকানন্দের লেখা বই সম্বন্ধে বলেন । পেরেন্টাপল্লী আশ্রম এবং ঐ আশ্রমের স্বামীজী সম্বন্ধেও ওঁরা আলোচনা করতেন ।
শ্রীনিবাস রাও সম্বম এবং তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে তীর্থ করতে গিয়েছিলেন । তাঁরা ট্রেনে ভ্রমণ করেছিলেন। তাঁরা বারানসী,গয়া,প্রয়াগ, দক্ষিণেশ্বর এবং পুরী ভ্রমণ করেছিলেন ।
তীর্থভ্রমণ করে ফিরে এসে সম্বমের সঙ্গে শ্রীনিবাসও মুকোটি উৎসব উপলক্ষে আশ্রমে এসেছিলেন। ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সম্বন্ধে তিনি বর্ণনা দিচ্ছিলেন ।
শ্রীনিবাস বললেন __”এই আশ্রম, এর আগে আমি কখনো দেখি নাই। স্বামীজীকেও আগে দেখি নাই । শ্রী বেঙ্কটপিয়ার নিকট তাঁর সম্বন্ধে শুনেছিলাম । তাঁর বই পড়েছি । ভেঙ্কটপিয়ার সঙ্গে আমার প্রায়ই দেখা হয় । যখনই দেখা হয়, তখনই আমরা স্বামীজীর সম্বন্ধে কথা বলতাম !
স্বামীজীর নিকট হ’তে পাওয়া আশীর্বাদ এবং তীর্থভ্রমণের প্রাক্কালে তীর্থ ভ্রমণ সম্বন্ধে স্বামীজী তাকে যেসব কথা বলেছিলেন _সে সমস্তই তীর্থ ভ্রমণকালীন সম্বম আমাকে বলেছিলেন ! কি আশ্চর্যের বিষয় __তীর্থস্থানগুলির যেখানেই আমরা গিয়েছি, সেখানেই আমরা দেখেছি স্বামীজী (অর্থাৎ স্বামী বাউলানন্দ) সেখানে উপস্থিত ! আমরা সবজায়গাতেই ভালোভাবে মূর্তি দর্শন করতে পেরেছিলাম । আমাদের পরম তৃপ্তিও হয়েছিল ।
তীর্থ ভ্রমণের সময় তাঁরা সকলে স্বামী বাউলানন্দজীর সাক্ষাৎ দর্শন পেয়েছিল কিন্তু তখনও তাঁদের মনে ঐ দর্শন সম্বন্ধে বিশ্বাস এবং সংশয়ের দ্বন্দ্ব ছিল ! যেমন তাঁরা ভাবছিলেন__বিভিন্ন তীর্থের তীর্থনাথ এবং আমাদের হৃদয়ের গুরুনাথ স্বামী বাউলানন্দের সঙ্গে কি কোন পার্থক্য নাই ? তাঁরা কি একই ? অথবা আমাদের মনের ভাবনা কি প্রক্ষিপ্ত হয়েছিল ?_এটা কি ভ্রম ছিল ? আমরা কি স্বামীজীর দর্শন পাই নাই? তবে এটা ভ্রমই বা কেমন করে হোতে পারে ? আমরা কেমন করে এসব কথা উড়িয়ে দিতে পারি ? আমাদের চারজনেরই যে একই অভিজ্ঞতা হয়েছে? যদি কোনো একটা স্থানে এরূপ ঘটনা ঘটতো তাহলেও আমরা তা উড়িয়ে দিতে পারতাম __ কিন্তু সকল স্থানে তাঁকে দেখেছি আমরা !! সুতরাং কেমন করে আমরা তা উপেক্ষা করি !! এটা ভ্রম নয়_ স্বামীজীই হোলেন ঐসব মন্দিরের দেবতার মূর্তি ! এ বিষয়ে আমাদের কোনো সন্দেহ নাই!” __এই কথা বলতে বলতে তার গাল বেয়ে চোখের জল গড়িয়ে পরছিল!
স্বামীজীর মহাপ্রয়াণের পরেও সম্বম আশ্রমের প্রত্যেক উৎসবে আসতেন । সম্বম ছিলেন আশ্রমের ভক্তগণের কাছে খুবই প্রিয়।
[স্বামী বাউলানন্দজী_ট্রপিকটি আপাততঃ এখানেই শেষ হোল।]
(সম্বম তীর্থদর্শনে যাবার মনস্থ করেছিলেন কিন্তু পেরেন্টপল্লী আশ্রমে এক মায়ের গাওয়া গান শুনে তাঁর মনে হয়েছিল যে, তীর্থে যাওয় উচিত নয়! এই সংশয় দূর করার জন্য স্বামী বাউলানন্দ সম্বমকে কিছু উপদেশ দিয়েছিলেন। এখানে তার শেষাংশ থেকে প্রবন্ধ শুরু করা হোচ্ছে।)
……… সম্বম! তবে, তুমি তীর্থে যেতে পারো কিন্তু যেখানেই যাবে_ সেখানেই তোমার অভিজ্ঞতা একই ধরনের হবে ! যে নারায়ন তোমার হৃদয়ে রয়েছেন, তাঁকেই তুমি সর্বত্র বিভিন্ন মূর্তিতে দেখতে পাবে।……
শম্বশিব ! তুমি তীর্থদর্শনে যাও ! সেখানে তুমি খুশিমতো বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে পারবে, বিভিন্ন আধ্যাত্মিক পুরুষের সঙ্গ করতে পারবে ! তোমার তীর্থযাত্রা সফল হবে !” এই ব’লে কথা শেষ করলেন স্বামী বাউলানন্দজী !
সম্বম উচ্ছ্বসিত হয়ে বাড়ি ফিরে গেলেন। শ্রীনিবাস নামে তাঁর এক বন্ধু ছিলেন যিনি শিক্ষকতা করতেন । ঐ ভদ্রলোক খুবই জ্ঞানপিপাসু ছিলেন । অবসর সময়ে তিনি সম্বমের সঙ্গে বসে আধ্যাত্মিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন । সম্বম তাকে স্বামী বাউলানন্দের লেখা এবং স্বামী বিবেকানন্দের লেখা বই সম্বন্ধে বলেন । পেরেন্টাপল্লী আশ্রম এবং ঐ আশ্রমের স্বামীজী সম্বন্ধেও ওঁরা আলোচনা করতেন ।
শ্রীনিবাস রাও সম্বম এবং তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে তীর্থ করতে গিয়েছিলেন । তাঁরা ট্রেনে ভ্রমণ করেছিলেন। তাঁরা বারানসী,গয়া,প্রয়াগ, দক্ষিণেশ্বর এবং পুরী ভ্রমণ করেছিলেন ।
তীর্থভ্রমণ করে ফিরে এসে সম্বমের সঙ্গে শ্রীনিবাসও মুকোটি উৎসব উপলক্ষে আশ্রমে এসেছিলেন। ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সম্বন্ধে তিনি বর্ণনা দিচ্ছিলেন ।
শ্রীনিবাস বললেন __”এই আশ্রম, এর আগে আমি কখনো দেখি নাই। স্বামীজীকেও আগে দেখি নাই । শ্রী বেঙ্কটপিয়ার নিকট তাঁর সম্বন্ধে শুনেছিলাম । তাঁর বই পড়েছি । ভেঙ্কটপিয়ার সঙ্গে আমার প্রায়ই দেখা হয় । যখনই দেখা হয়, তখনই আমরা স্বামীজীর সম্বন্ধে কথা বলতাম !
স্বামীজীর নিকট হ’তে পাওয়া আশীর্বাদ এবং তীর্থভ্রমণের প্রাক্কালে তীর্থ ভ্রমণ সম্বন্ধে স্বামীজী তাকে যেসব কথা বলেছিলেন _সে সমস্তই তীর্থ ভ্রমণকালীন সম্বম আমাকে বলেছিলেন ! কি আশ্চর্যের বিষয় __তীর্থস্থানগুলির যেখানেই আমরা গিয়েছি, সেখানেই আমরা দেখেছি স্বামীজী (অর্থাৎ স্বামী বাউলানন্দ) সেখানে উপস্থিত ! আমরা সবজায়গাতেই ভালোভাবে মূর্তি দর্শন করতে পেরেছিলাম । আমাদের পরম তৃপ্তিও হয়েছিল ।
তীর্থ ভ্রমণের সময় তাঁরা সকলে স্বামী বাউলানন্দজীর সাক্ষাৎ দর্শন পেয়েছিল কিন্তু তখনও তাঁদের মনে ঐ দর্শন সম্বন্ধে বিশ্বাস এবং সংশয়ের দ্বন্দ্ব ছিল ! যেমন তাঁরা ভাবছিলেন__বিভিন্ন তীর্থের তীর্থনাথ এবং আমাদের হৃদয়ের গুরুনাথ স্বামী বাউলানন্দের সঙ্গে কি কোন পার্থক্য নাই ? তাঁরা কি একই ? অথবা আমাদের মনের ভাবনা কি প্রক্ষিপ্ত হয়েছিল ?_এটা কি ভ্রম ছিল ? আমরা কি স্বামীজীর দর্শন পাই নাই? তবে এটা ভ্রমই বা কেমন করে হোতে পারে ? আমরা কেমন করে এসব কথা উড়িয়ে দিতে পারি ? আমাদের চারজনেরই যে একই অভিজ্ঞতা হয়েছে? যদি কোনো একটা স্থানে এরূপ ঘটনা ঘটতো তাহলেও আমরা তা উড়িয়ে দিতে পারতাম __ কিন্তু সকল স্থানে তাঁকে দেখেছি আমরা !! সুতরাং কেমন করে আমরা তা উপেক্ষা করি !! এটা ভ্রম নয়_ স্বামীজীই হোলেন ঐসব মন্দিরের দেবতার মূর্তি ! এ বিষয়ে আমাদের কোনো সন্দেহ নাই!” __এই কথা বলতে বলতে তার গাল বেয়ে চোখের জল গড়িয়ে পরছিল!
স্বামীজীর মহাপ্রয়াণের পরেও সম্বম আশ্রমের প্রত্যেক উৎসবে আসতেন । সম্বম ছিলেন আশ্রমের ভক্তগণের কাছে খুবই প্রিয়।
[স্বামী বাউলানন্দজী_ট্রপিকটি আপাততঃ এখানেই শেষ হোল।]
