শ্রী শ্রী গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দের জীবনে প্রকাশিত মহিমা শক্তির প্রকাশের নানান ঘটনা এখানে পরিবেশন করা হচ্ছিলো। গুরুমহারাজের সমগ্র জীবন-ই মহিমায় ভরা। গুরুমহারাজ যখন পৃথিবী গ্রহে শরীর ধারণ করেছিলেন [১৯৫৩ সালের ১৩-ই(বাংলা ক্যালেন্ডারে ১৪-ই) ডিসেম্বর ভূমিষ্ঠ হ’ন, ১৯৫২ সালের ২৫-শে ডিসেম্বর ওনার গর্ভে প্রবেশ।] তার অনেক আগে থাকতেই এর প্রস্তুতি চলছিল। মানুষ-শরীরে যেহেতু গুরুমহারাজ লীলা করে গেলেন ( সমস্ত অবতার পুরুষেরাই মানুষ-শরীরে লীলা করেছেন।), তাই তাঁকে মহিমময় সম্পূর্ণ মানুষ বলা যায়। তাঁর সবই সম্পূর্ণ ! আমরা জানি যে কোনো বস্তুর ছয়টি দশার কথা – প্রাগ্উৎপত্তি, উৎপত্তি প্রবৃদ্ধি, রূপান্তর, ক্ষয় ও লয়। জীবনেও এই ছয়টি দশা রয়েছে। যে কোনো জীবের জন্মের পেছনেও কারণ(প্রাগ্ উৎপত্তি) থাকে। আমরা সবাই যে এক একটা জীবন – আমাদেরও জন্মের জন্য নানান ‘কারণ’ বিদ্যমান। বেদে একে “কার্যকারণ সূত্র” বলা হয়েছে । কিন্তু মহিমময় গুরু মহারাজের তো জন্মানো নয় – “জন্মগ্রহণ” ! তিনি পূর্ণজ্ঞান নিয়ে মাতৃজঠরে প্রবেশ করেছিলেন ! মা-কে, স্থানকে এবং তাঁর জন্মগ্রহণের সময়কে তিনি-ই নির্বাচন করে নিয়েছিলেন ! সেই হিসাবে তাঁর জন্মানোটা প্রকৃত অর্থেই _”জন্ম-গ্রহণ” !
গুরু মহারাজের জন্মগ্রহণের প্রাগ্উৎপত্তির ব্যাপারটা ছিল আমাদের মতো সাধারন মানুষদের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা – সেই ব্যাপারটা আলোচনা করলেই অবশ্য খানিকটা বোঝা যাবে ! আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্মানোর প্রাগ্উৎপত্তি বা কারণ হিসাবে বলা যায় পূর্ব পূর্ব জীবনের চাওয়া-পাওয়া’র অপূর্ণতাকে ! কিন্তু ভগবানের তো সেসব বালাই নাই ! ভগবানের তো নয়ই – এমনকি তাঁর পার্ষদ হিসাবে বা তাঁর লীলাসঙ্গী (যেটা ঐ দু-চার জন!) হিসাবে যাঁরা আসেন – তাঁদেরও কর্মফল ভোগ করতে হয় না ! তাহলে তাঁরা আসেন কেন ?
গুরুমহারাজ নিজে বলেছিলেন তাঁর শরীর গ্রহণের পূর্ব পূর্ব কারণের কথা ! শুধু তাই নয়_ উনি বলেছিলেন এর পরবর্তী শরীর কিভাবে সৃষ্টি হবে তার কথাও !
ওনার নিজের মুখের কথায় কথাগুলো শোনা যাক। – ” দ্যাখো, আমার এই যে পরমানন্দরূপ শরীরকে তোমরা দেখছো – এই শরীরটা বা এইরকমই একটা শরীর যে আমাকে নিতে হবে – এমন তো কোনো সংকল্প আমার ছিল না ! আমার কোনো পূর্ব পূর্ব চাওয়া-পাওয়াও নাই _ আমার কোনো অপূর্ণতাও নাই ! তাহলে আমার শরীর হয় কিভাবে ? জানো– ওটা ঠিক হয়েই থাকে ! শুদ্ধসত্ত্ব বহু soul স্থূলে বা সূক্ষে অথবা অন্যভাবেও আমার শরীর ধারণের জন্য নিরন্তর প্রার্থনা করে চলেছেন ! তাঁদের ভাবজগতে আমার শরীরের “রূপ”টি রয়েছে ![ আমরা অনেকেই এমন একজনের কথা মাত্র জানি – শান্তিপুরের অদ্বৈত আচার্য, যাঁকে মহাপ্রভুর শরীরধারণের “কারণ” হিসাবে ধরা হয় ! কিন্তু গুরুমহারাজের কথা অনুযায়ী, এইরূপ অনেক শুদ্ধসত্ত্বের প্রার্থনায় মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যের শরীর গ্রহণ!] তাই, তোমরা এখন আমার পরমানন্দরূপ শরীরটাকে দেখছো তো – কিন্তু জানবে পরপর এরূপ অনেক শরীর আমার তৈরী হয়ে রয়েছে _ ঋষিকল্প ওইসব শুদ্ধসত্ত্বদের ভাব জগতে ! সেখানে আমার অনেক ভাবময় শরীর রয়েছে ! যুগপ্রয়োজনে সেইসব শরীরগুলোর মধ্যে থেকেই উপযুক্ত একটিকে গ্রহণ করে অবতারেরা জন্মগ্রহণ করেন ! ‘আমি’ (অসংখ্য মানবের আর্তি এবং ঋষিদের নিরন্তর প্রার্থনা ও আবাহনের ফলে সৃষ্ট অখন্ডের মধ্যে বেদনা-বোধ থেকে সৃষ্ট খন্ডতত্ত্বই হোলো–এই ‘আমি’!)-তো প্রথম আমার এই শরীর-টিকে দেখলাম হিমালয়ে গঙ্গার উৎসমুখের কাছে যে সাতজন ঊর্দ্ধবাহু ঋষি আমাকে আহ্বান করছিলেন – তাঁদের কাছে এসে ! তখনই আমি দেখেছিলাম __তাঁদের সকলের ভাবজগতে রয়েছে জ্যোতির্ময় শিশু মূর্তি ! আমি তখনই বুঝলাম ঐ শরীরটাই আমার এবারকার লীলাশরীর !”
সুতরাং সুধী পাঠকেরা বুঝতেই পারছেন যে, ভগবানের শরীর কেমন হবে তা নির্ধারিত হয়েই থাকে ! সেই শরীরটি সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম রূপে ঋষিদের (যে ঋষিরা ভগবানের আগমনের জন্য নিয়ত প্রার্থনায় রত) ভাবজগতে বিদ্যমান থাকে। গুরুমহারাজ সেইদিন কথা প্রসঙ্গে এটাও বলেছিলেন যে, ” আমার পরবর্তী শরীর কেমন হবে – তার জন্যও ‘ধ্যান’ শুরু হয়ে গিয়েছে !”
এইসব কথা যখন আমরা বনগ্রাম পরমানন্দ মিশনের সিটিং-এ বসে শুনতাম – তখন অবাক বিস্ময়ে সেই মহিমময় মহান মানুষটার মুখের দিকে নির্নিমেষে চেয়ে থাকা ছাড়া আর কি-ই বা করতে পারতাম ! তবে এটা নিশ্চয়ই মনে মনে ভাবতাম – “আমাদের কি সৌভাগ্য যে, আমরা স্বয়ং ভগবানের সামনে বসে বসে – তাঁরই শ্রীমুখ থেকে এইসব কথা শুনছি !”
এখন আপনারা যারা প্রথম এই কথাগুলো শুনছেন – তাদেরও নিশ্চয়ই এমনটাই মনে হবে। আপনারাও নিশ্চয়ই ভাবছেন সেই মহান মানুষটির কথা, তাঁর প্রেম-ভালোবাসার কথা, তাঁর মহিমার কথা এবং এই ভেবে আপনারাও অবাক হচ্ছেন যে, একটা সাড়ে তিনহাত মনুষ্যশরীরের এক ব্যক্তির জীবনে এত অলৌকিক, অতিলৌকিক ঘটনা সংঘটিত হয় কি ভাবে!! কিন্তু তিনি তো__যে সে মানুষ নন – তিনি যে স্বয়ং ভগবান ! ঈশ্বরের অবতার ! মহিমময়, মহান পুরুষ, সোনার মানুষ “স্বামী পরমানন্দ” !! অঘটন-ঘটন-পটিয়সী স্বয়ং মহামায়াও যে তাঁতে মুগ্ধ!! তাই তো তাঁর সমগ্র জীবন জুড়ে শুধুই মহিমাই প্রকাশিত!!
গুরু মহারাজের জন্মগ্রহণের প্রাগ্উৎপত্তির ব্যাপারটা ছিল আমাদের মতো সাধারন মানুষদের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা – সেই ব্যাপারটা আলোচনা করলেই অবশ্য খানিকটা বোঝা যাবে ! আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্মানোর প্রাগ্উৎপত্তি বা কারণ হিসাবে বলা যায় পূর্ব পূর্ব জীবনের চাওয়া-পাওয়া’র অপূর্ণতাকে ! কিন্তু ভগবানের তো সেসব বালাই নাই ! ভগবানের তো নয়ই – এমনকি তাঁর পার্ষদ হিসাবে বা তাঁর লীলাসঙ্গী (যেটা ঐ দু-চার জন!) হিসাবে যাঁরা আসেন – তাঁদেরও কর্মফল ভোগ করতে হয় না ! তাহলে তাঁরা আসেন কেন ?
গুরুমহারাজ নিজে বলেছিলেন তাঁর শরীর গ্রহণের পূর্ব পূর্ব কারণের কথা ! শুধু তাই নয়_ উনি বলেছিলেন এর পরবর্তী শরীর কিভাবে সৃষ্টি হবে তার কথাও !
ওনার নিজের মুখের কথায় কথাগুলো শোনা যাক। – ” দ্যাখো, আমার এই যে পরমানন্দরূপ শরীরকে তোমরা দেখছো – এই শরীরটা বা এইরকমই একটা শরীর যে আমাকে নিতে হবে – এমন তো কোনো সংকল্প আমার ছিল না ! আমার কোনো পূর্ব পূর্ব চাওয়া-পাওয়াও নাই _ আমার কোনো অপূর্ণতাও নাই ! তাহলে আমার শরীর হয় কিভাবে ? জানো– ওটা ঠিক হয়েই থাকে ! শুদ্ধসত্ত্ব বহু soul স্থূলে বা সূক্ষে অথবা অন্যভাবেও আমার শরীর ধারণের জন্য নিরন্তর প্রার্থনা করে চলেছেন ! তাঁদের ভাবজগতে আমার শরীরের “রূপ”টি রয়েছে ![ আমরা অনেকেই এমন একজনের কথা মাত্র জানি – শান্তিপুরের অদ্বৈত আচার্য, যাঁকে মহাপ্রভুর শরীরধারণের “কারণ” হিসাবে ধরা হয় ! কিন্তু গুরুমহারাজের কথা অনুযায়ী, এইরূপ অনেক শুদ্ধসত্ত্বের প্রার্থনায় মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যের শরীর গ্রহণ!] তাই, তোমরা এখন আমার পরমানন্দরূপ শরীরটাকে দেখছো তো – কিন্তু জানবে পরপর এরূপ অনেক শরীর আমার তৈরী হয়ে রয়েছে _ ঋষিকল্প ওইসব শুদ্ধসত্ত্বদের ভাব জগতে ! সেখানে আমার অনেক ভাবময় শরীর রয়েছে ! যুগপ্রয়োজনে সেইসব শরীরগুলোর মধ্যে থেকেই উপযুক্ত একটিকে গ্রহণ করে অবতারেরা জন্মগ্রহণ করেন ! ‘আমি’ (অসংখ্য মানবের আর্তি এবং ঋষিদের নিরন্তর প্রার্থনা ও আবাহনের ফলে সৃষ্ট অখন্ডের মধ্যে বেদনা-বোধ থেকে সৃষ্ট খন্ডতত্ত্বই হোলো–এই ‘আমি’!)-তো প্রথম আমার এই শরীর-টিকে দেখলাম হিমালয়ে গঙ্গার উৎসমুখের কাছে যে সাতজন ঊর্দ্ধবাহু ঋষি আমাকে আহ্বান করছিলেন – তাঁদের কাছে এসে ! তখনই আমি দেখেছিলাম __তাঁদের সকলের ভাবজগতে রয়েছে জ্যোতির্ময় শিশু মূর্তি ! আমি তখনই বুঝলাম ঐ শরীরটাই আমার এবারকার লীলাশরীর !”
সুতরাং সুধী পাঠকেরা বুঝতেই পারছেন যে, ভগবানের শরীর কেমন হবে তা নির্ধারিত হয়েই থাকে ! সেই শরীরটি সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম রূপে ঋষিদের (যে ঋষিরা ভগবানের আগমনের জন্য নিয়ত প্রার্থনায় রত) ভাবজগতে বিদ্যমান থাকে। গুরুমহারাজ সেইদিন কথা প্রসঙ্গে এটাও বলেছিলেন যে, ” আমার পরবর্তী শরীর কেমন হবে – তার জন্যও ‘ধ্যান’ শুরু হয়ে গিয়েছে !”
এইসব কথা যখন আমরা বনগ্রাম পরমানন্দ মিশনের সিটিং-এ বসে শুনতাম – তখন অবাক বিস্ময়ে সেই মহিমময় মহান মানুষটার মুখের দিকে নির্নিমেষে চেয়ে থাকা ছাড়া আর কি-ই বা করতে পারতাম ! তবে এটা নিশ্চয়ই মনে মনে ভাবতাম – “আমাদের কি সৌভাগ্য যে, আমরা স্বয়ং ভগবানের সামনে বসে বসে – তাঁরই শ্রীমুখ থেকে এইসব কথা শুনছি !”
এখন আপনারা যারা প্রথম এই কথাগুলো শুনছেন – তাদেরও নিশ্চয়ই এমনটাই মনে হবে। আপনারাও নিশ্চয়ই ভাবছেন সেই মহান মানুষটির কথা, তাঁর প্রেম-ভালোবাসার কথা, তাঁর মহিমার কথা এবং এই ভেবে আপনারাও অবাক হচ্ছেন যে, একটা সাড়ে তিনহাত মনুষ্যশরীরের এক ব্যক্তির জীবনে এত অলৌকিক, অতিলৌকিক ঘটনা সংঘটিত হয় কি ভাবে!! কিন্তু তিনি তো__যে সে মানুষ নন – তিনি যে স্বয়ং ভগবান ! ঈশ্বরের অবতার ! মহিমময়, মহান পুরুষ, সোনার মানুষ “স্বামী পরমানন্দ” !! অঘটন-ঘটন-পটিয়সী স্বয়ং মহামায়াও যে তাঁতে মুগ্ধ!! তাই তো তাঁর সমগ্র জীবন জুড়ে শুধুই মহিমাই প্রকাশিত!!
