শ্রী শ্রী গুরুমহারাজের ছোটবেলাকার কথা এবং তাঁর সমগ্র জীবনটাই যে মহিমময়_ সেই কথাই বলা হচ্ছিলো। কৃষ্ণদেবপুরে (পূর্ব বর্ধমানের কালনার কাছে একটি গ্রাম) ছোটবেলা কাটানোর সময় গুরুমহারাজের অন্যতম খেলার সাথী ছিল নারুদা (প্রকৃত নাম কার্তিক চন্দ্র দাস)! নারুদার সাথে গুরুমহারাজের অনেক রাত কেটেছে পদ্মপুকুরে, রেললাইনের ধারে, উন্মুক্ত প্রান্তরে – কিন্তু বৃন্দাবনের কৃষ্ণ-সখা সুদামার মতোই নারুদার সংসারেও “নুন আনতে পান্তা ফুরায়”! গুরুমহারাজ নিজেই বলেছিলে – ” ঈশ্বরের অবতরণ লীলা কখনোই একটার সাথে অন্যটা মেলে না।” কিন্তু ভগবানের বাল্য বন্ধুদের দারিদ্র্যের ব্যাপারটায় ‘মিল’ রয়েই গেল ! তবে আপনারা যারা জ্ঞানী মানুষ রয়েছেন তারা বলতেই পারেন যে – “পার্থিব ধন’-এর আর কি দাম আছে – পরমার্থিক সম্পদই তো সম্পদ। ভগবানের বন্ধুরা পারমার্থিক সম্পদে ধনী !”– সেটাও ঠিক কথা। কিন্তু বাস্তব তো বড়ই নিষ্ঠুর ! যারা দারিদ্র্যের সঙ্গে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে বাঁচছে – তারাই জানে সেই নিষ্ঠুরতার জ্বালা !
আমরা যখন প্রথম কৃষ্ণদেবপুরে গিয়েছিলাম গুরুমহারাজের বাড়ি দেখার জন্য এবং ওনার গর্ভধারিণীর সঙ্গে দেখা করার জন্য – সেইদিনই নারুদার সাথে আমাদের আলাপ হয়েছিল। সেইদিনই দেখেছিলাম ওনার পর্ণকুটির, সেইদিনেই পরিচয় পেয়েছিলাম ওনার সারল্যের ! গুরুমহারাজের কাছে শোনা কথাগুলি ওনাকে বলতেই উনি কেমন সুন্দর সহজ-সরলভাবে বলে দিলেন – “দেখুন ! উনি আমাকে ছোট বয়সে রাত্রে উঠিয়ে এখানে-ওখানে নিয়ে যেতেন ঠিকই, কিন্তু তখন তো বুঝিনি যে উনিই স্বয়ং ভগবান ! তখন খেলার সাথী হিসাবেই জানতাম। এখন বড় হয়ে বুঝেছি যে উনি ভগবান, উনিই আমাদের সব ! ওনার কাছে দীক্ষাও নিয়েছি – এখন গুরু বলে পুজোও করি !”
কৃষ্ণদেবপুরের পরিমল মাস্টার, নারাণদা প্রমুখরা সেই রাত্রে আজিমগঞ্জে (যে রাত্রির কথা আগের দিন বলা হচ্ছিল) গিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন। তাদের সাথে পুরোনো দিনের কথা বলতে গিয়েই গুরুমহারাজ ওনার ছোটবেলাকার নানা ঘটনার কথা বলতে শুরু করেছিলেন। আর আমরাও সৌভাগ্যবান ছিলাম বলেই – সারা রাত্রি ধরে ওনার শ্রীমুখনিসৃত কৃষ্ণদেবপুরের নানান কথা শুনতে পেয়েছিলাম ! আপনারা যারা নিয়মিত এই লেখাগুলো follow করেন, তারা তার অনেকটাই জেনে গেছেন – তবু যদি কোথাও ফাঁকফোকর থেকে থাকে ব’লে – আরও একবার করে touch করছি !
গুরুমহারাজ বলেছিলেন – ওনাদের বাড়ির পাশের গোঁসাই বাড়ির কথা ! যারা একটু ধনীলোক ছিলেন। কিন্তু ঐ বাড়ির মানুষেরা বিশেষত মহিলারা গুরুমহারাজের মা “জননী নিভারানী”-কে খুবই ভালবাসতেন ! গুরুমহারাজের মা ভালো পিঠে, সরুচাকলি, পাটিসাপটা ইত্যাদি করতে পারতেন বলে গোস্বামী বাড়ি, চ্যাটার্জি বাড়ি(বামুন বাড়ি) থেকে শীতকালে পিঠে-পুলি বানানোর জন্য ওনার ডাক আসতো ! গুরুমহারাজও খুব ছোট বয়সে ওনার দিদিদের সাথে গিয়ে ওইসব বাড়ির ছেলেমেয়েদের সঙ্গে খেলা করতেন। এইরকমই একদিন খেলতে খেলতে উনি পাশের বাড়ির সদ্যমৃতা এক বৃদ্ধা পিসির অদ্ভুত শরীরের প্রেতাত্মাকে দেখেছিলেন! আর শুধু নিজেই দেখেন নি – তাঁর খেলার সাথীদেরকেও দেখিয়েছিলেন ! ওই বাড়িতে ভাঁড়ার ঘরে অনেকগুলি সিকলিতে দই, ক্ষীর, পাটিসাপটা ইত্যাদি উঁচুতে টাঙানো থাকতো ! ওই বৃদ্ধা পিসির প্রেতশরীর ঘোর কালো রংয়ের কাঠবিড়ালির মত সরু শরীরবিশিষ্ট হয়ে উল্টোদিক থেকে – সেইদিনের সদ্য-প্রস্তুত ক্ষীর-পুলি চেটে চেটে খাচ্ছিলো ! ছোট্ট গুরুমহারাজ তাঁর খেলার সাথীদের দেখাতেই সবাই তো ভয়ে পগার পার ! গুরুমহারাজের মা ঘটনাটা জানতে পেরে – পাশের বাড়িতে গিয়ে ঐ সব খাবার জলে ফেলে দিয়ে আসতে বলেছিলেন। প্রেতের ভুক্তাবশিষ্ট খাবার খেলে বাড়ির লোকের শরীর খারাপ হতে পারে – তাই এই বিধান !
বাড়ির লোকেরা প্রথমে মানতে চায়নি – কিন্তু সব ছেলেমেয়েরাই দেখেছে – তাই বিশ্বাস করেছিল। তাছাড়া পাড়ার লোকেরা জানতো রবীন (গুরুমহারাজ) বয়সে ছোট হলেও সর্বদা সত্যি কথাই বলে এবং রবীন যা বলে তা-ই সত্য হয়ে যায় ! পাড়ায় কারো কিছু জিনিস হারিয়ে গেলে সকলে রবীনকে জিজ্ঞাসা করতো_ সেটা পাওয়া যাবে কি না ! তার জন্য তারা বালক রবীনকে কিছু না কিছু খাওয়ার জিনিস ঘুষও দিতো ! এইভাবে গুরুমহারাজের মহিমা শক্তির প্রকাশ খুব ছোটবেলা থেকেই নানাভাবে প্রকাশ পেতে শুরু করেছিল।
ছোটবয়সেই গুরুমহারাজ তাঁর দলবল নিয়ে একবার ওনাদের ভিন্ পাড়ার একজন বদ্-চরিত্রের লোককে ভূতের ভয় দেখিয়ে গভীর রাত্রে ঐ পাড়ায় ঢোকা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। পদ্ধতিটাও খুবই সহজ। একটা লম্বা লাঠির মাথায় একটা মাটির হাঁড়ি বেঁধে দিয়েছিলেন। আর তারপর ঐ হাঁড়িটায় এমনভাবে তিনটে ফুটো করেছিলেন, যাতে মনে হয় দুটো চোখ এবং একটা মুখ ! এবার ঐ ফুটোগুলিতে উনি লাল রঙের পাতলা প্লাস্টিক পেপার _আঠা দিয়ে আটকে দিয়েছিলেন। এবার গভীর রাত্রিতে ঐ লোকটা যে পথ দিয়ে আসতো – সেই পথে হাঁড়ির মধ্যে একটা মোমবাতি জ্বালিয়ে দু-চারবার শুধু উপরনিচ করেছিলেন। আর এতেই কাজ হয়ে গেছিলো। ওই লোকটি দূর থেকে ওটাকেই প্রেতাত্মার লালমুখ এবং লাল লাল চোখ ভেবে দৌড়ে পালিয়েছিল – আর কোনোদিন পাড়ায় ঢোকেনি !
আমরা যখন প্রথম কৃষ্ণদেবপুরে গিয়েছিলাম গুরুমহারাজের বাড়ি দেখার জন্য এবং ওনার গর্ভধারিণীর সঙ্গে দেখা করার জন্য – সেইদিনই নারুদার সাথে আমাদের আলাপ হয়েছিল। সেইদিনই দেখেছিলাম ওনার পর্ণকুটির, সেইদিনেই পরিচয় পেয়েছিলাম ওনার সারল্যের ! গুরুমহারাজের কাছে শোনা কথাগুলি ওনাকে বলতেই উনি কেমন সুন্দর সহজ-সরলভাবে বলে দিলেন – “দেখুন ! উনি আমাকে ছোট বয়সে রাত্রে উঠিয়ে এখানে-ওখানে নিয়ে যেতেন ঠিকই, কিন্তু তখন তো বুঝিনি যে উনিই স্বয়ং ভগবান ! তখন খেলার সাথী হিসাবেই জানতাম। এখন বড় হয়ে বুঝেছি যে উনি ভগবান, উনিই আমাদের সব ! ওনার কাছে দীক্ষাও নিয়েছি – এখন গুরু বলে পুজোও করি !”
কৃষ্ণদেবপুরের পরিমল মাস্টার, নারাণদা প্রমুখরা সেই রাত্রে আজিমগঞ্জে (যে রাত্রির কথা আগের দিন বলা হচ্ছিল) গিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন। তাদের সাথে পুরোনো দিনের কথা বলতে গিয়েই গুরুমহারাজ ওনার ছোটবেলাকার নানা ঘটনার কথা বলতে শুরু করেছিলেন। আর আমরাও সৌভাগ্যবান ছিলাম বলেই – সারা রাত্রি ধরে ওনার শ্রীমুখনিসৃত কৃষ্ণদেবপুরের নানান কথা শুনতে পেয়েছিলাম ! আপনারা যারা নিয়মিত এই লেখাগুলো follow করেন, তারা তার অনেকটাই জেনে গেছেন – তবু যদি কোথাও ফাঁকফোকর থেকে থাকে ব’লে – আরও একবার করে touch করছি !
গুরুমহারাজ বলেছিলেন – ওনাদের বাড়ির পাশের গোঁসাই বাড়ির কথা ! যারা একটু ধনীলোক ছিলেন। কিন্তু ঐ বাড়ির মানুষেরা বিশেষত মহিলারা গুরুমহারাজের মা “জননী নিভারানী”-কে খুবই ভালবাসতেন ! গুরুমহারাজের মা ভালো পিঠে, সরুচাকলি, পাটিসাপটা ইত্যাদি করতে পারতেন বলে গোস্বামী বাড়ি, চ্যাটার্জি বাড়ি(বামুন বাড়ি) থেকে শীতকালে পিঠে-পুলি বানানোর জন্য ওনার ডাক আসতো ! গুরুমহারাজও খুব ছোট বয়সে ওনার দিদিদের সাথে গিয়ে ওইসব বাড়ির ছেলেমেয়েদের সঙ্গে খেলা করতেন। এইরকমই একদিন খেলতে খেলতে উনি পাশের বাড়ির সদ্যমৃতা এক বৃদ্ধা পিসির অদ্ভুত শরীরের প্রেতাত্মাকে দেখেছিলেন! আর শুধু নিজেই দেখেন নি – তাঁর খেলার সাথীদেরকেও দেখিয়েছিলেন ! ওই বাড়িতে ভাঁড়ার ঘরে অনেকগুলি সিকলিতে দই, ক্ষীর, পাটিসাপটা ইত্যাদি উঁচুতে টাঙানো থাকতো ! ওই বৃদ্ধা পিসির প্রেতশরীর ঘোর কালো রংয়ের কাঠবিড়ালির মত সরু শরীরবিশিষ্ট হয়ে উল্টোদিক থেকে – সেইদিনের সদ্য-প্রস্তুত ক্ষীর-পুলি চেটে চেটে খাচ্ছিলো ! ছোট্ট গুরুমহারাজ তাঁর খেলার সাথীদের দেখাতেই সবাই তো ভয়ে পগার পার ! গুরুমহারাজের মা ঘটনাটা জানতে পেরে – পাশের বাড়িতে গিয়ে ঐ সব খাবার জলে ফেলে দিয়ে আসতে বলেছিলেন। প্রেতের ভুক্তাবশিষ্ট খাবার খেলে বাড়ির লোকের শরীর খারাপ হতে পারে – তাই এই বিধান !
বাড়ির লোকেরা প্রথমে মানতে চায়নি – কিন্তু সব ছেলেমেয়েরাই দেখেছে – তাই বিশ্বাস করেছিল। তাছাড়া পাড়ার লোকেরা জানতো রবীন (গুরুমহারাজ) বয়সে ছোট হলেও সর্বদা সত্যি কথাই বলে এবং রবীন যা বলে তা-ই সত্য হয়ে যায় ! পাড়ায় কারো কিছু জিনিস হারিয়ে গেলে সকলে রবীনকে জিজ্ঞাসা করতো_ সেটা পাওয়া যাবে কি না ! তার জন্য তারা বালক রবীনকে কিছু না কিছু খাওয়ার জিনিস ঘুষও দিতো ! এইভাবে গুরুমহারাজের মহিমা শক্তির প্রকাশ খুব ছোটবেলা থেকেই নানাভাবে প্রকাশ পেতে শুরু করেছিল।
ছোটবয়সেই গুরুমহারাজ তাঁর দলবল নিয়ে একবার ওনাদের ভিন্ পাড়ার একজন বদ্-চরিত্রের লোককে ভূতের ভয় দেখিয়ে গভীর রাত্রে ঐ পাড়ায় ঢোকা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। পদ্ধতিটাও খুবই সহজ। একটা লম্বা লাঠির মাথায় একটা মাটির হাঁড়ি বেঁধে দিয়েছিলেন। আর তারপর ঐ হাঁড়িটায় এমনভাবে তিনটে ফুটো করেছিলেন, যাতে মনে হয় দুটো চোখ এবং একটা মুখ ! এবার ঐ ফুটোগুলিতে উনি লাল রঙের পাতলা প্লাস্টিক পেপার _আঠা দিয়ে আটকে দিয়েছিলেন। এবার গভীর রাত্রিতে ঐ লোকটা যে পথ দিয়ে আসতো – সেই পথে হাঁড়ির মধ্যে একটা মোমবাতি জ্বালিয়ে দু-চারবার শুধু উপরনিচ করেছিলেন। আর এতেই কাজ হয়ে গেছিলো। ওই লোকটি দূর থেকে ওটাকেই প্রেতাত্মার লালমুখ এবং লাল লাল চোখ ভেবে দৌড়ে পালিয়েছিল – আর কোনোদিন পাড়ায় ঢোকেনি !
