জিজ্ঞাসু : ~
মহাপুরুষদের জীবনে এত কষ্ট হয় কেন ? সাধারণ মানুষ না হয় প্রারব্ধবশতঃ কষ্ট পায় – কিন্তু মহাপুরুষদের তো প্রারব্ধ নাই – তাহলে ?
গুরু মহারাজ : ~
মহাপুরুষরা কষ্ট না করলে সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘব হবে কি করে ? মানুষের প্রতি , সকল জীবের প্রতি প্রেমবশতঃ , করুণাবশতঃই তো তাঁদের শরীর ধারণ ! আর তার জন্যই কষ্ট গ্রহণ । সাধারণভাবে তুমি-ই দ্যাখো না , তুমি যাদেরকে ভালোবাসো তাদের কষ্টে বা দুঃখে তুমি বিচলিত হও না ? তোমার এই ভালোবাসা যার প্রতি যত বেশি__ তার যে কোনো দুঃখ বা কষ্টে তুমিও তত বেশি চঞ্চল হও , কষ্ট পাও _তাই না ! মা-বাবা পুত্র-কন্যার শরীর খারাপ হোলে সারা রাত জেগে সন্তানের রোগশয্যায় বসে থাকে । সন্তানের মুখে একটু হাসি দেখার জন্য মা কত কষ্ট সহ্য করে – করে না কি ? এমন কি তোমার কোনো নিকটাত্মীয় বা বন্ধু-বান্ধবের বিপদে-আপদেও তুমি কত ঝক্কি নিজের কাঁধে তুলে নাও – তাই না ? তাহলে অবতারকল্প-মহাপুরুষেরা , যাঁরা শুধুমাত্র মানুষকে ভালোবাসার জন্যই শরীর ধারণ করেছেন – তাঁর হৃদয় তো সর্বদাই জীবের দুঃখে কাঁদছে ! তাহলে তিনি কত কষ্ট পাচ্ছেন এবং জেনে রাখবে আরও অনেক বেশি কষ্ট গ্রহণ করার জন্য সব সময়তেই যেন Ready হয়ে আছেন ! রবীন্দ্রনাথ একটা কবিতা লিখেছিল – মৃত্যুহীন প্রাণকে দান করার কথা ৷ প্রকৃতপক্ষে মানবকল্যাণ-কামী সকল মহাপুরুষরা এটাই করেন !
তবে, এটা তুমি ঠিকই বলেছ যে , এঁদের কোনো প্রারব্ধ থাকে না । সমাজের সাধারণ পাঁচ জন মানুষের মতো কোনো কামনা বা বাসনা চরিতার্থ করতে এঁদের শরীর ধারণ নয়, মহাজাগতিক নিয়মে অথবা বলতে পারো ঈশ্বরের ইচ্ছায় এঁদের শরীর নিতে হয় ৷ ফলে শরীর গ্রহণকালে যে কোনো প্রকার কর্মের জন্য এঁদের ক্রিয়মান কর্মজনিত কোনো ‘কর্মফল’ সঞ্চয় হয় না , ফলে নতুন কোন প্রারব্ধ-কর্ম তৈরিও হয় না ৷ তবু এঁদের কেন কষ্ট পেতে হয় – তাই তো তোমার জিজ্ঞাসা ? বলছি শোন __ অবতার পুরুষেরা যেন ‘ব্লটিং পেপার’ , এঁরা শুধু একজন বা দুজন মানুষেরই নয়, সমকালীন সমগ্র মানব সমাজের পাপ-তাপ অর্থাৎ যা কিছু ‘কালো’ – তা শুষে নেন নিজের শরীরে ৷৷
তাই তাঁরা করুনার যীশু , তাই তাঁরা শুকনো দড়ির মতো বিছানায় মিশে থাকা রোগগ্রস্ত ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ অথবা ডায়াবেটিস , হাঁপানি ইত্যাদি নানান critical রোগে ভোগা স্বামী বিবেকানন্দ !
আমাকে অনেকেই জিজ্ঞাসা করে __’ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের ক্যান্সার কেন হয়েছিল’ ? কোন বইয়ে লেখা আছে মা সারদা নাকি বলেছিলেন গিরিশের পাপ গ্রহণ করে ! কিন্তু ‘মা’- এ কথা বলেন নি । এই কথাটাও ঠিক নয় – এসব কথা তৎকালীন বাবু সমাজের কথা ! তাদের অনেকে মোদো-মাতাল , নটীদের নিয়ে নাড়াচাড়া করা নাটুকে গিরিশকে সহ্য করতে পারতো না । এসব তাদের কথা ! স্বামী বিবেকানন্দ বা সংঘজননী মা সারদা গিরিশকে কত সম্মান করতেন ! সারদা মা পরবর্তীতে গিরিশের বাড়িতে কতদিন থেকেছেন – তিনি কেন বলবেন একথা ? তাছাড়া মা স্বয়ং জগদম্বার শক্তির প্রকাশ__ আর তিনি জগত-রহস্য জানেন না ? যে কোনো মহাপুরুষ যখন শরীর ধারণ করেন, তখন তাঁকে যুগোপযোগী কর্ম করার জন্য উপযুক্ত শরীর নিয়েই আসতে হয় । আর ভগবান যখন যুগপুরুষ-রূপে স্বয়ং অবতীর্ণ হ’ন, তখন তো সেই ভাগবতী তনুর সমস্ত কোষ কলা , শরীরের সমস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গের function অন্যরকম হয় । ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের ছিল ভাগবতী তনু ! মা সারদা একবার সাধন-কালীন সময়ে ‘ঠাকুরের শরীর কেমন ছিল’– তার বর্ণনা করেছিলেন । সেই শরীরের রূপ যেন দেবদুর্লভ ! আবার দ্যাখো __ ঠাকুর পেটরোগা ছিলেন , বৈদ্যের পথ্য মেনে খাবার খেতে হোতো ৷ শেষ দিকে গলায় ক্যান্সার রোগ হোল । এগুলো সব কিছুর কার্যকারণ সম্পর্ক রয়েছে ৷
রাজঅন্ন কদন্ন ! রানী রাসমণি ভক্তিমতী মহিলা ছিলেন ৷ ঠাকুর বলেছিলেন _’মায়ের অষ্ট সখীর এক সখী’ ! কিন্তু জমিদারি চালাতে গেলে নায়েব-গোমস্তাদের সাধারন প্রজার উপর নানা অত্যাচার করতে হয় , পীড়ন করতে হয় ৷ তাছাড়া রানীর বাসনা ছিল যেন মন্দিরের ভোগে সাধুসেবা হয় ৷ ওখানকার পূজারীরা বা কর্মচারীরা সবাই ভালো লোক ছিল না । ওই পূজা বা ভোগের অন্ন অনেকেই তাদের বাঁধা মেয়েমানুষের কাছে পাঠাতো । ঠাকুর নিজের শরীরে সেইসব নিয়ে – অন্নশুদ্ধি করতেন ৷ একেবারে গোড়ার দিকে ঠাকুর মন্দিরের অন্ন খেতে পারতেন না , এদিকে আসতেনও না । গঙ্গাতীরে আপন মনে পড়ে থাকতেন , কাদা দিয়ে নানান মূর্তি করতেন আবার জলে বিসর্জন করে দিতেন ৷ … (ক্রমশঃ)
[এই অমৃতময় আলোচনার বাকি অংশ পরের দিন……]
মহাপুরুষদের জীবনে এত কষ্ট হয় কেন ? সাধারণ মানুষ না হয় প্রারব্ধবশতঃ কষ্ট পায় – কিন্তু মহাপুরুষদের তো প্রারব্ধ নাই – তাহলে ?
গুরু মহারাজ : ~
মহাপুরুষরা কষ্ট না করলে সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘব হবে কি করে ? মানুষের প্রতি , সকল জীবের প্রতি প্রেমবশতঃ , করুণাবশতঃই তো তাঁদের শরীর ধারণ ! আর তার জন্যই কষ্ট গ্রহণ । সাধারণভাবে তুমি-ই দ্যাখো না , তুমি যাদেরকে ভালোবাসো তাদের কষ্টে বা দুঃখে তুমি বিচলিত হও না ? তোমার এই ভালোবাসা যার প্রতি যত বেশি__ তার যে কোনো দুঃখ বা কষ্টে তুমিও তত বেশি চঞ্চল হও , কষ্ট পাও _তাই না ! মা-বাবা পুত্র-কন্যার শরীর খারাপ হোলে সারা রাত জেগে সন্তানের রোগশয্যায় বসে থাকে । সন্তানের মুখে একটু হাসি দেখার জন্য মা কত কষ্ট সহ্য করে – করে না কি ? এমন কি তোমার কোনো নিকটাত্মীয় বা বন্ধু-বান্ধবের বিপদে-আপদেও তুমি কত ঝক্কি নিজের কাঁধে তুলে নাও – তাই না ? তাহলে অবতারকল্প-মহাপুরুষেরা , যাঁরা শুধুমাত্র মানুষকে ভালোবাসার জন্যই শরীর ধারণ করেছেন – তাঁর হৃদয় তো সর্বদাই জীবের দুঃখে কাঁদছে ! তাহলে তিনি কত কষ্ট পাচ্ছেন এবং জেনে রাখবে আরও অনেক বেশি কষ্ট গ্রহণ করার জন্য সব সময়তেই যেন Ready হয়ে আছেন ! রবীন্দ্রনাথ একটা কবিতা লিখেছিল – মৃত্যুহীন প্রাণকে দান করার কথা ৷ প্রকৃতপক্ষে মানবকল্যাণ-কামী সকল মহাপুরুষরা এটাই করেন !
তবে, এটা তুমি ঠিকই বলেছ যে , এঁদের কোনো প্রারব্ধ থাকে না । সমাজের সাধারণ পাঁচ জন মানুষের মতো কোনো কামনা বা বাসনা চরিতার্থ করতে এঁদের শরীর ধারণ নয়, মহাজাগতিক নিয়মে অথবা বলতে পারো ঈশ্বরের ইচ্ছায় এঁদের শরীর নিতে হয় ৷ ফলে শরীর গ্রহণকালে যে কোনো প্রকার কর্মের জন্য এঁদের ক্রিয়মান কর্মজনিত কোনো ‘কর্মফল’ সঞ্চয় হয় না , ফলে নতুন কোন প্রারব্ধ-কর্ম তৈরিও হয় না ৷ তবু এঁদের কেন কষ্ট পেতে হয় – তাই তো তোমার জিজ্ঞাসা ? বলছি শোন __ অবতার পুরুষেরা যেন ‘ব্লটিং পেপার’ , এঁরা শুধু একজন বা দুজন মানুষেরই নয়, সমকালীন সমগ্র মানব সমাজের পাপ-তাপ অর্থাৎ যা কিছু ‘কালো’ – তা শুষে নেন নিজের শরীরে ৷৷
তাই তাঁরা করুনার যীশু , তাই তাঁরা শুকনো দড়ির মতো বিছানায় মিশে থাকা রোগগ্রস্ত ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ অথবা ডায়াবেটিস , হাঁপানি ইত্যাদি নানান critical রোগে ভোগা স্বামী বিবেকানন্দ !
আমাকে অনেকেই জিজ্ঞাসা করে __’ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের ক্যান্সার কেন হয়েছিল’ ? কোন বইয়ে লেখা আছে মা সারদা নাকি বলেছিলেন গিরিশের পাপ গ্রহণ করে ! কিন্তু ‘মা’- এ কথা বলেন নি । এই কথাটাও ঠিক নয় – এসব কথা তৎকালীন বাবু সমাজের কথা ! তাদের অনেকে মোদো-মাতাল , নটীদের নিয়ে নাড়াচাড়া করা নাটুকে গিরিশকে সহ্য করতে পারতো না । এসব তাদের কথা ! স্বামী বিবেকানন্দ বা সংঘজননী মা সারদা গিরিশকে কত সম্মান করতেন ! সারদা মা পরবর্তীতে গিরিশের বাড়িতে কতদিন থেকেছেন – তিনি কেন বলবেন একথা ? তাছাড়া মা স্বয়ং জগদম্বার শক্তির প্রকাশ__ আর তিনি জগত-রহস্য জানেন না ? যে কোনো মহাপুরুষ যখন শরীর ধারণ করেন, তখন তাঁকে যুগোপযোগী কর্ম করার জন্য উপযুক্ত শরীর নিয়েই আসতে হয় । আর ভগবান যখন যুগপুরুষ-রূপে স্বয়ং অবতীর্ণ হ’ন, তখন তো সেই ভাগবতী তনুর সমস্ত কোষ কলা , শরীরের সমস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গের function অন্যরকম হয় । ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের ছিল ভাগবতী তনু ! মা সারদা একবার সাধন-কালীন সময়ে ‘ঠাকুরের শরীর কেমন ছিল’– তার বর্ণনা করেছিলেন । সেই শরীরের রূপ যেন দেবদুর্লভ ! আবার দ্যাখো __ ঠাকুর পেটরোগা ছিলেন , বৈদ্যের পথ্য মেনে খাবার খেতে হোতো ৷ শেষ দিকে গলায় ক্যান্সার রোগ হোল । এগুলো সব কিছুর কার্যকারণ সম্পর্ক রয়েছে ৷
রাজঅন্ন কদন্ন ! রানী রাসমণি ভক্তিমতী মহিলা ছিলেন ৷ ঠাকুর বলেছিলেন _’মায়ের অষ্ট সখীর এক সখী’ ! কিন্তু জমিদারি চালাতে গেলে নায়েব-গোমস্তাদের সাধারন প্রজার উপর নানা অত্যাচার করতে হয় , পীড়ন করতে হয় ৷ তাছাড়া রানীর বাসনা ছিল যেন মন্দিরের ভোগে সাধুসেবা হয় ৷ ওখানকার পূজারীরা বা কর্মচারীরা সবাই ভালো লোক ছিল না । ওই পূজা বা ভোগের অন্ন অনেকেই তাদের বাঁধা মেয়েমানুষের কাছে পাঠাতো । ঠাকুর নিজের শরীরে সেইসব নিয়ে – অন্নশুদ্ধি করতেন ৷ একেবারে গোড়ার দিকে ঠাকুর মন্দিরের অন্ন খেতে পারতেন না , এদিকে আসতেনও না । গঙ্গাতীরে আপন মনে পড়ে থাকতেন , কাদা দিয়ে নানান মূর্তি করতেন আবার জলে বিসর্জন করে দিতেন ৷ … (ক্রমশঃ)
[এই অমৃতময় আলোচনার বাকি অংশ পরের দিন……]
