[স্থান: করিমপুর পরমানন্দ মিশন।
সময়:–১৯৯৫ সাল।
উপস্থিত ব্যক্তিগণ:– পঙ্কজবাবু, আশু ডাক্তার, মানিকবাবু(শুকচর), রমেনবাবু(সোদপুর) এবং আরো অসংখ্য স্থানীয় ভক্তগণ!!]
জিজ্ঞাসু : ~ আমি মুসলিম ধর্মের মানুষ , রোজ পাঁচ ওয়াক্ত নমাজ পড়ি ! কিন্তু আমার ধারণা এসবের দ্বারা মানুষের চেতনার খুব একটা উন্নতি হয় না , কোরআন পাঠের দ্বারাও মানুষের জ্ঞান সম্পূর্ণ হয় না । আমি কিছু হিন্দু ধর্মগ্রন্থ ও বিভিন্ন মহাপুরুষ দের জীবনী পড়েছি_ সেগুলিতে আমার মনের অনেক জিজ্ঞাসার উত্তর পেয়েছি।
আপনার কথাবার্তা শুনে আমার মনে হয়েছে_আপনি একজন জ্ঞানী মানুষ ! তাই এই বিষয়ে আপনার মতামত জানতে চাই !
গুরু মহারাজ : ~
আপনি কি করেন ? ওঃ_হাইস্কুলে শিক্ষকতা করেন!! আপনি নিশ্চয়ই যে কোনোভাবে কোনো উচ্চ চিন্তার স্পর্শ পেয়েছেন __তাই করিমপুরে দাঁড়িয়ে এত লোকের মাঝে প্রকাশ্যে এই ধরনের কথা আলোচনা করতে পারছেন !
আপনি প্রতিদিন পাঁচবার নমাজ পড়েন ! বাঃ -এটা খুবই ভালো ! প্রকৃতই নমাজ পড়া খুব ভালো Exercise ! জানেন – আমিও দীর্ঘদিন নমাজ পড়েছি , দেখেছি এটা ঠিক ঠিক অভ্যাস করলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ভালো Exercise হয় ৷ সাধন ভজন করতে গেলে তো শরীরটা মজবুত হওয়া চাই ! ভারতীয় শাস্ত্রে ও রয়েছে ” শরীরম্ আদ্যম্__ খলুধর্মসাধনম্ “। অবশ্য আপনাদের মৌলভীদের সামনে এসব কথা বললে ওরা অন্য মানে করবে , রেগে যাবে । তবে দেখুন_আপনার-আমার বা মৌলভীদের চিন্তা দিয়ে তো জগৎ চলেনা_ এটি চলছে মহাবিশ্বপ্রকৃতির মহতী ইচ্ছায়। এই মহাশক্তি বিরাট তত্ত্বকে আপনি আল্লাহ্, ঈশ্বর,গড,সদাপ্রভূ,পরমেশ্বর ইত্যাদি যা কিছু বলতে পারেন!
আল কোরানে রয়েছে_মোমিন , মোনাফেক , মোশরেক ,কাফের, বেদীন ৷ ইসলাম দর্শন অনুযায়ী হিন্দুরা অর্থাৎ যারা ঈশ্বর মানে_অথচ মূর্তিপূজায় বিশ্বাসী , তারা কিন্তু কাফের নয় – মোশরেক ৷ অনেকের ধারণা Non Muslim মানেই কাফের , কোরান কিন্তু তা বলেনি । হিন্দুরা পৌত্তলিক অর্থাৎ মূর্তি পূজা করে – তারাও ঈশ্বর মানে , তাই তাদেরকে সংশোধন করা যায় বলে _তারা কাফের নয় । যারা ঈশ্বর অর্থাৎ আল্লাহ ও হযরত মুহাম্মদ এর বিরোধ করে __তারা কাফের । আর বে-দীন হলো যারা ধর্ম , ঈশ্বর এসব কিছুই মানে না । সেই অর্থে যারা Communist তাদেরকে ‘বে-দীন’ বলা যায় ৷
তাই বলে ভারতীয় বা বাংলার Communist-দের আবার ঐসব ভাববেন না যেন ? এরা উপর উপর লোক-দেখানো নাস্তিক , সবার বাড়িতে ঠাকুর ঘর আছে । মুসলিম Communist-রা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজও পড়ে , অনেকে হজে যায় ৷
যাই হোক, ইসলাম মত অনুযায়ী যারা প্রকৃত আল্লাহর বান্দা অর্থাৎ ইসলামের সমস্ত নিয়ম যথাযথ পালন করে তারা ‘মোমিন’ ৷ মৃত্যুর পর শেষ বিচারে এরা আল্লাহর দরবারে যাবার সুযোগ পায় ।
হজ , নমাজ , রোজা , জাকাত – ইসলামে এইগুলি অবশ্য পালনীয় কর্তব্য ! ইসলাম কথাটির অর্থ ‘পবিত্র’ , কেউ কেউ বলে ‘শান্তি’ । হযরত কিন্তু ইসলামকে ‘ধর্ম’ বলেন নি , বলেছেন ‘মজহব’ বা সম্প্রদায় ৷ সেই সময় (প্রায় দেড় হাজার বছর আগে) আরব দেশে মানুষের কি শোচনীয় অবস্থা ছিল ! চরম প্রতিকূল পরিবেশ , অনেকগুলি যাযাবর জাতি , পরস্পরের সঙ্গে সংঘর্ষ করে কোনরকমে Survive করছিল ৷ ঘোড়ার পিঠে , উটের পিঠে-ই তাদের জীবনের বেশিরভাগ সময়টা কেটে যেত ৷ ওই অঞ্চলের মানুষ জনের ঘোড়ার পিঠে বা উটের পিঠে থেকে থেকে পা দুই দিকে বেঁকে যেতো ৷ ঊষর , বন্ধ্যা মৃত্তিকা , রুক্ষ পরিবেশের এইসব মানুষজনও চরম নিষ্ঠুর ছিল ৷ হত্যা , রক্তপাত , মৃত্যু – এগুলোয় এদের হৃদয় বা মন বিচলিত হোত না ৷ এই পরম্পরা বজায় রাখতে গিয়ে __ আজও দেখবেন গ্রামে-গঞ্জে মুসলিম বাড়িতে কারো মৃত্যু হোলে বাড়ির লোকে কাঁদে না , ‘কাঁদন’ করার লোক ভাড়া করে নিয়ে আসা হয় ৷ আর মৃতদেহ থাকতে থাকতেই পাড়া-প্রতিবেশীদেরকে নিয়ে ভালোমন্দ খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করতে হয় । অর্থাৎ প্রাথমিকভাবে ভাবটা এমন দেখানো হয় যে, ‘ঐ ব্যক্তির মৃত্যুর জন্য আমরা মোটেও ব্যথিত হই নি’ !
যাইহোক, আরব জাতির সেই চরম সংকটকালে হজরত মহম্মদের জন্ম হয়েছিল ৷ উনি ছোটবেলায় মেষ চরাতে চরাতে চলে এসেছিলেন হিমালয়ের দুর্গম অঞ্চলে , যেখানে তিনি কোনো উন্নত যোগী-গুরুর নির্দেশে কঠোর যোগসাধনা করেন ও সিদ্ধিলাভ করেন ৷ আরবের মানুষ, মহম্মদের শৈশব বা বাল্যাবস্থার কথা জানে আবার একেবারে যুবক মহম্মদ যখন থেকে মদিনায় ফিরে গিয়ে ‘আয়াত’ বলছেন তখন থেকে জানে ৷ কিন্তু মাঝখানের ১২/১৪ বছর তিনি কি করেছেন, তার খবর জানে না ৷ ওইটা ছিল ওনার সাধন Period ! মহম্মদ ওই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র যাযাবর , লুটেরা জাতিগুলোকে একত্র করে এক ছত্রছায়ায় নিয়ে এসেছিলেন ! আরবজাতির ত্রাণকর্তা বা রক্ষাকর্তা হিসেবেই উনি ‘হযরত’ বা মহান ৷ উনি বলেছিলেন ‘ইসলাম’ একটা ‘মজহব’ বা সম্প্রদায় ।
আমরা প্রায়শই বলে থাকি হিন্দু ধর্ম ,মুসলমান ধর্ম বা ইসলাম ধর্ম ইত্যাদি । প্রকৃতপক্ষে ‘ধর্ম’ হল সনাতন বা শাশ্বত । অর্থাৎ যা ছিল , যা আছে আবার যা থাকবেও চিরকাল । সেই হিসাবে বলা হয় সত্য-ই ধর্ম , কারণ সত্য সনাতন । সত্য যা – তা সত্যই । তা চিরকালীন সত্য , সার্বজনীন সত্য ! প্রকৃত সত্য তোমার কাছে একরকম, আবার আমার কাছে একরকম – এমন তো হোতে পারে না ! আমরা যারা সাধারন মানুষ, তারা সংকীর্ণ বুদ্ধিতে বা ভেদবুদ্ধিতে – এই বিভেদ গুলি করি ! আর ধর্ম নিয়ে , সত্য নিয়ে মারামারি করি । কিন্তু জেনে রাখবে __ধর্ম সনাতন , সত্যও সনাতন । তাই সত্যই ধর্ম । এবার সত্য কি – তার খোঁজ করার জন্যই বিভিন্ন দেশে , বিভিন্ন সময়ে কোনো না কোনো মহাপুরুষকে কেন্দ্র করে _ ভিন্ন ভিন্ন মতাদর্শ তৈরি হয়েছে ৷ তারা স্থান , কাল , পাত্র ভেদে সেই অঞ্চলের , সেই কালের অর্থাৎ যুগোপযোগী কিছু সাধন পদ্ধতি বা ভজন পদ্ধতি , কিছু উপদেশ বা শিক্ষা মানুষকে দিয়েছেন – তাদের মঙ্গলের জন্য । পরবর্তীতে ধর্মান্ধ মানুষ সেই গুলিকে স্থান-কাল-পাত্রের বেড়া ভেঙে সবাইকে স্বমতে আনার প্রচেষ্টাতেই মানুষ যুদ্ধ করেছে , মারামারি করেছে , রক্তপাত ঘটিয়েছে – এটাই ইতিহাস ! মূর্খ , অজ্ঞ, অপরিণত মানসিকতাসম্পন্ন মানুষের অগ্রগতির ইতিহাস ! … (এই আলোচনার পরবর্তী অংশ পরের দিন)
সময়:–১৯৯৫ সাল।
উপস্থিত ব্যক্তিগণ:– পঙ্কজবাবু, আশু ডাক্তার, মানিকবাবু(শুকচর), রমেনবাবু(সোদপুর) এবং আরো অসংখ্য স্থানীয় ভক্তগণ!!]
জিজ্ঞাসু : ~ আমি মুসলিম ধর্মের মানুষ , রোজ পাঁচ ওয়াক্ত নমাজ পড়ি ! কিন্তু আমার ধারণা এসবের দ্বারা মানুষের চেতনার খুব একটা উন্নতি হয় না , কোরআন পাঠের দ্বারাও মানুষের জ্ঞান সম্পূর্ণ হয় না । আমি কিছু হিন্দু ধর্মগ্রন্থ ও বিভিন্ন মহাপুরুষ দের জীবনী পড়েছি_ সেগুলিতে আমার মনের অনেক জিজ্ঞাসার উত্তর পেয়েছি।
আপনার কথাবার্তা শুনে আমার মনে হয়েছে_আপনি একজন জ্ঞানী মানুষ ! তাই এই বিষয়ে আপনার মতামত জানতে চাই !
গুরু মহারাজ : ~
আপনি কি করেন ? ওঃ_হাইস্কুলে শিক্ষকতা করেন!! আপনি নিশ্চয়ই যে কোনোভাবে কোনো উচ্চ চিন্তার স্পর্শ পেয়েছেন __তাই করিমপুরে দাঁড়িয়ে এত লোকের মাঝে প্রকাশ্যে এই ধরনের কথা আলোচনা করতে পারছেন !
আপনি প্রতিদিন পাঁচবার নমাজ পড়েন ! বাঃ -এটা খুবই ভালো ! প্রকৃতই নমাজ পড়া খুব ভালো Exercise ! জানেন – আমিও দীর্ঘদিন নমাজ পড়েছি , দেখেছি এটা ঠিক ঠিক অভ্যাস করলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ভালো Exercise হয় ৷ সাধন ভজন করতে গেলে তো শরীরটা মজবুত হওয়া চাই ! ভারতীয় শাস্ত্রে ও রয়েছে ” শরীরম্ আদ্যম্__ খলুধর্মসাধনম্ “। অবশ্য আপনাদের মৌলভীদের সামনে এসব কথা বললে ওরা অন্য মানে করবে , রেগে যাবে । তবে দেখুন_আপনার-আমার বা মৌলভীদের চিন্তা দিয়ে তো জগৎ চলেনা_ এটি চলছে মহাবিশ্বপ্রকৃতির মহতী ইচ্ছায়। এই মহাশক্তি বিরাট তত্ত্বকে আপনি আল্লাহ্, ঈশ্বর,গড,সদাপ্রভূ,পরমেশ্বর ইত্যাদি যা কিছু বলতে পারেন!
আল কোরানে রয়েছে_মোমিন , মোনাফেক , মোশরেক ,কাফের, বেদীন ৷ ইসলাম দর্শন অনুযায়ী হিন্দুরা অর্থাৎ যারা ঈশ্বর মানে_অথচ মূর্তিপূজায় বিশ্বাসী , তারা কিন্তু কাফের নয় – মোশরেক ৷ অনেকের ধারণা Non Muslim মানেই কাফের , কোরান কিন্তু তা বলেনি । হিন্দুরা পৌত্তলিক অর্থাৎ মূর্তি পূজা করে – তারাও ঈশ্বর মানে , তাই তাদেরকে সংশোধন করা যায় বলে _তারা কাফের নয় । যারা ঈশ্বর অর্থাৎ আল্লাহ ও হযরত মুহাম্মদ এর বিরোধ করে __তারা কাফের । আর বে-দীন হলো যারা ধর্ম , ঈশ্বর এসব কিছুই মানে না । সেই অর্থে যারা Communist তাদেরকে ‘বে-দীন’ বলা যায় ৷
তাই বলে ভারতীয় বা বাংলার Communist-দের আবার ঐসব ভাববেন না যেন ? এরা উপর উপর লোক-দেখানো নাস্তিক , সবার বাড়িতে ঠাকুর ঘর আছে । মুসলিম Communist-রা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজও পড়ে , অনেকে হজে যায় ৷
যাই হোক, ইসলাম মত অনুযায়ী যারা প্রকৃত আল্লাহর বান্দা অর্থাৎ ইসলামের সমস্ত নিয়ম যথাযথ পালন করে তারা ‘মোমিন’ ৷ মৃত্যুর পর শেষ বিচারে এরা আল্লাহর দরবারে যাবার সুযোগ পায় ।
হজ , নমাজ , রোজা , জাকাত – ইসলামে এইগুলি অবশ্য পালনীয় কর্তব্য ! ইসলাম কথাটির অর্থ ‘পবিত্র’ , কেউ কেউ বলে ‘শান্তি’ । হযরত কিন্তু ইসলামকে ‘ধর্ম’ বলেন নি , বলেছেন ‘মজহব’ বা সম্প্রদায় ৷ সেই সময় (প্রায় দেড় হাজার বছর আগে) আরব দেশে মানুষের কি শোচনীয় অবস্থা ছিল ! চরম প্রতিকূল পরিবেশ , অনেকগুলি যাযাবর জাতি , পরস্পরের সঙ্গে সংঘর্ষ করে কোনরকমে Survive করছিল ৷ ঘোড়ার পিঠে , উটের পিঠে-ই তাদের জীবনের বেশিরভাগ সময়টা কেটে যেত ৷ ওই অঞ্চলের মানুষ জনের ঘোড়ার পিঠে বা উটের পিঠে থেকে থেকে পা দুই দিকে বেঁকে যেতো ৷ ঊষর , বন্ধ্যা মৃত্তিকা , রুক্ষ পরিবেশের এইসব মানুষজনও চরম নিষ্ঠুর ছিল ৷ হত্যা , রক্তপাত , মৃত্যু – এগুলোয় এদের হৃদয় বা মন বিচলিত হোত না ৷ এই পরম্পরা বজায় রাখতে গিয়ে __ আজও দেখবেন গ্রামে-গঞ্জে মুসলিম বাড়িতে কারো মৃত্যু হোলে বাড়ির লোকে কাঁদে না , ‘কাঁদন’ করার লোক ভাড়া করে নিয়ে আসা হয় ৷ আর মৃতদেহ থাকতে থাকতেই পাড়া-প্রতিবেশীদেরকে নিয়ে ভালোমন্দ খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করতে হয় । অর্থাৎ প্রাথমিকভাবে ভাবটা এমন দেখানো হয় যে, ‘ঐ ব্যক্তির মৃত্যুর জন্য আমরা মোটেও ব্যথিত হই নি’ !
যাইহোক, আরব জাতির সেই চরম সংকটকালে হজরত মহম্মদের জন্ম হয়েছিল ৷ উনি ছোটবেলায় মেষ চরাতে চরাতে চলে এসেছিলেন হিমালয়ের দুর্গম অঞ্চলে , যেখানে তিনি কোনো উন্নত যোগী-গুরুর নির্দেশে কঠোর যোগসাধনা করেন ও সিদ্ধিলাভ করেন ৷ আরবের মানুষ, মহম্মদের শৈশব বা বাল্যাবস্থার কথা জানে আবার একেবারে যুবক মহম্মদ যখন থেকে মদিনায় ফিরে গিয়ে ‘আয়াত’ বলছেন তখন থেকে জানে ৷ কিন্তু মাঝখানের ১২/১৪ বছর তিনি কি করেছেন, তার খবর জানে না ৷ ওইটা ছিল ওনার সাধন Period ! মহম্মদ ওই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র যাযাবর , লুটেরা জাতিগুলোকে একত্র করে এক ছত্রছায়ায় নিয়ে এসেছিলেন ! আরবজাতির ত্রাণকর্তা বা রক্ষাকর্তা হিসেবেই উনি ‘হযরত’ বা মহান ৷ উনি বলেছিলেন ‘ইসলাম’ একটা ‘মজহব’ বা সম্প্রদায় ।
আমরা প্রায়শই বলে থাকি হিন্দু ধর্ম ,মুসলমান ধর্ম বা ইসলাম ধর্ম ইত্যাদি । প্রকৃতপক্ষে ‘ধর্ম’ হল সনাতন বা শাশ্বত । অর্থাৎ যা ছিল , যা আছে আবার যা থাকবেও চিরকাল । সেই হিসাবে বলা হয় সত্য-ই ধর্ম , কারণ সত্য সনাতন । সত্য যা – তা সত্যই । তা চিরকালীন সত্য , সার্বজনীন সত্য ! প্রকৃত সত্য তোমার কাছে একরকম, আবার আমার কাছে একরকম – এমন তো হোতে পারে না ! আমরা যারা সাধারন মানুষ, তারা সংকীর্ণ বুদ্ধিতে বা ভেদবুদ্ধিতে – এই বিভেদ গুলি করি ! আর ধর্ম নিয়ে , সত্য নিয়ে মারামারি করি । কিন্তু জেনে রাখবে __ধর্ম সনাতন , সত্যও সনাতন । তাই সত্যই ধর্ম । এবার সত্য কি – তার খোঁজ করার জন্যই বিভিন্ন দেশে , বিভিন্ন সময়ে কোনো না কোনো মহাপুরুষকে কেন্দ্র করে _ ভিন্ন ভিন্ন মতাদর্শ তৈরি হয়েছে ৷ তারা স্থান , কাল , পাত্র ভেদে সেই অঞ্চলের , সেই কালের অর্থাৎ যুগোপযোগী কিছু সাধন পদ্ধতি বা ভজন পদ্ধতি , কিছু উপদেশ বা শিক্ষা মানুষকে দিয়েছেন – তাদের মঙ্গলের জন্য । পরবর্তীতে ধর্মান্ধ মানুষ সেই গুলিকে স্থান-কাল-পাত্রের বেড়া ভেঙে সবাইকে স্বমতে আনার প্রচেষ্টাতেই মানুষ যুদ্ধ করেছে , মারামারি করেছে , রক্তপাত ঘটিয়েছে – এটাই ইতিহাস ! মূর্খ , অজ্ঞ, অপরিণত মানসিকতাসম্পন্ন মানুষের অগ্রগতির ইতিহাস ! … (এই আলোচনার পরবর্তী অংশ পরের দিন)
