[আগের দিন আমরা দেখেছিলাম, একজন গুরু মহারাজকে জিজ্ঞাসা করেছিল __’পৃথিবীতে বিভিন্ন দেশে নিজেদের মধ্যে এতো অশান্তি কেন?’_গুরুমহারাজ তার উত্তর দিচ্ছিলেন।]
…….. যাইহোক , এই Saddism-এর কারণে ফিরে যাই , এর মূল কারণ হলো ‘অসন্তোষ’ । ভারতীয় সনাতন ধর্মে শেখানো হয় ‘সন্তোষ’-ই সুখ আর অসন্তোষ দুঃখের কারণ ৷ এখানকার শাশ্ত্রাদিতে রয়েছে , ” নাল্পে সুখমস্তু ভূমৈব সুখম্ ” –জাগতিক সমস্ত প্রকার সুখকে অল্প বা তুচ্ছ বলা হয়েছে । একমাত্র ভূমাতেই সুখ । ছোটবেলা থেকে এইসব শিক্ষা পেয়ে ভারতবাসীরা অনেকাংশে মানসিকভাবে সুস্থ আছে , ভালো আছে । বর্তমান পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্রের দিকে তাকিয়ে দেখলে অর্থাৎ সেখানকার জনগণের অবস্থা পর্যালোচনা করলে দেখবে__ আমাদের দেশের সাধারণ গরীব মানুষও অপেক্ষাকৃত সুখে আছে । হয়তো তাদের অভাব রয়েছে , দারিদ্র রয়েছে , সামাজিক বৈষম্যের শিকার এরা – তবুও শহরের সভ্যসমাজ থেকে অনেক দূরে, কোনো আদিবাসী গ্রামে, দিনান্তে একটু উগ্র পানীয় পান করে , আগুন জ্বালিয়ে , মাদল বাজিয়ে নারী-পুরুষ সবাই মিলে যখন একসাথে গান ধরে, নাচ করে – এই দৃশ্য দেখে আমার মনে হয় যেন ওইটা যেন দেবসভা ! আর সেখানে দেবকন্যা, দেববালকেরা হাত ধরাধরি করে নৃত্য পরিবেশন করছে!
আমি যখন ইউরোপে ঘুরছিলাম সেই সময় ওখানকার বিদ্বৎসমাজের সামনে__ আমাকে বর্তমান উন্নত দেশগুলির যুব সমাজের অবক্ষয় , বিভিন্ন দেশের ক্রমবর্ধমান হিংসা বা হানাহানি , তৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সম্ভাবনা – এসবের কারণ ও প্রতিকার সম্বন্ধে বলতে বলা হয়েছিল ৷ আমি ওদের সেমিনারে বললাম – “দেখুন ! বিশ্বের বর্তমান ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির ব্যাপারে আপনারা সচেতন জেনে আমার খুব ভালো লাগছে ! কারণ ‘মানবতার অনুকূলে’_ যা কিছু, আমি সর্বদা তার স্বপক্ষে, আর ‘মানবতা বিরোধী’ _যা কিছু, আমি তার পরিপন্থী”।
যাইহোক , পৃথিবীর দিকে একবার তাকিয়ে দেখুন__ গোটা কয়েক দেশ সামাজিক , রাজনৈতিক , অর্থনৈতিক ভাবে চরম উন্নত ! অপরপক্ষে বিশ্বের বেশ কিছু দেশ চরমভাবে দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে । এইভাবে অর্থনৈতিক এবং প্রযুক্তগতভাবে প্রথম বিশ্ব , দ্বিতীয় বিশ্ব , তৃতীয় বিশ্ব ইত্যাদি নানা বিভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে পৃথিবী৷ আবার প্রতিটি দেশের অভ্যন্তরেও রয়েছে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য ! সব দেশেরই সমাজ জীবনে দেখা যায় এই একই চিত্র । সেখানেও কিছু মানুষ অর্থনৈতিক ভাবে , সামাজিকভাবে বা রাজনৈতিকভাবে সমাজের উপর তলায় উঠে গেছে, কিছু মানুষ মাঝামাঝি জায়গায় থাকে, আর সাধারণ আমজনতা_ অভাব-অনটন , দুঃখ-দুর্দশার মধ্যে বসবাস করে ৷ এরা সন্তানদের ভালোভাবে বিদ্যা শিক্ষা দিতে পারে না , নাগরিক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের স্বাদ পায় না , ভালো খাদ্য, ভালো পোশাক-পরিচ্ছদ অথবা বিলাস সামগ্রী যেগুলো সমাজে রয়েছে –অন্যেরা ভোগ করছে – কিন্তু এরা বঞ্চিতই থেকে যাচ্ছে !
এরা সব দেখছে কিন্তু নিজেরা ঐ উন্নত এবং ভোগবিলাস যুক্ত জীবনের taste পাচ্ছে না ! এরফলে ক্ষোভ তৈরি হোচ্ছে , ক্ষোভ থেকে সৃষ্টি হয় বিক্ষোভ , আর বিক্ষোভ থেকে জন্ম নেয় বিদ্রোহ ! পারস্পরিক হিংসা , হানাহানির এটি একটি অন্যতম কারণ ৷ তাছাড়া, সমাজে একদল সব সুবিধা ভোগ করেছে অন্যরা তা পাচ্ছে না – এ থেকেও অসন্তোষ , প্রতিযোগিতা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা_ এইসব জন্ম নিচ্ছে । ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রতিবাদী রাজনৈতিক দল , Terrorist দল তৈরি হয়ে যাচ্ছে ! যে সমস্ত সুযোগ-সুবিধা , বিলাস-ঐশ্বর্য সমাজের উচ্চশ্রেণীরা ভোগ করে যা করেই হোক আমাকে বা আমাদেরও তা পেতে হবে –এই নিয়ে শুরু হয়ে যাচ্ছে প্রতিযোগিতা ।এটাকেই কেউ কেউ “শ্রেণীসংগ্রাম” বলেছে ৷
সমাজ বিবর্তনের অগ্রগতির সাথে সাথে__ ‘সমাজের সুযোগ সুবিধার চূড়ান্তটা আমারও চাই’ _ এই প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ছে এতোদিনের বঞ্চিত নিচুতলার মানুষ । এই সুস্থ প্রতিযোগিতা ভালো, কিন্তু অসম এই প্রতিযোগিতায় আর কজন কৃতকার্য হয় ___খুব বেশি হোলে হয়তো 10% । তবে মজাটা কি হয় জানো তো, যারা কৃতকার্য হয় __তারা উচ্চশ্রেণীর সাথে মিশে গিয়ে নিজেদের Social Status বাড়িয়ে সমাজের Elite Society-র Member হয়ে তাদের সাথে মিশে যেতে চায় এবং ধীরে ধীরে মিশেই যায় ।
বাকি যারা চেষ্টা করে তাদের 40% এই দৌড়ে চূড়ান্ত পর্যায় পৌঁছোতে পারবে না জেনে, নিজেদেরকে অন্য কোনো দিকে chanalised করে নেয় অর্থাৎ অকৃতকার্যতা-টাকে মেনে নেয় ৷ কিন্তু বাকি 50% -এর মনে জন্ম নেয় ক্ষোভ , অসন্তোষ ! এই অসন্তোষ থেকে কেউ কেউ হীনমন্যতায় ভোগে , কারো মধ্যে তৈরি হয় প্রতিশোধস্পৃহা ! এইভাবে Saddism-এর জন্ম হয় ! অথবা এটাকে এভাবেও বলা যায় ___যেটা মানুষের অন্তরে ছিল-ই , সেটি প্রকাশের field পেয়ে যায় ! ফলে, তখন তারা যে যেভাবে পারে , যে ভাবে সুযোগ পায় সমাজে নানা রকম হিংসা সৃষ্টি করে !
খুব ছোট আকারে হয়তো কেউ গুণ্ডা-গর্দি , লুটপাট ইত্যাদি করে , আবার কেউ যদি ভাগ্যের সহায়তায় ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছে যায় __তাহলে সে Massacre বা গণহত্যা শুরু করে দেয়, নয়তো দেশে দেশে যুদ্ধ লাগিয়ে দিয়ে লক্ষ লক্ষ জনগণকে অশেষ দুর্গতির মধ্যে ফেলে ! আর সমাজের সাধারণ Saddist member-রা, আহাম্মকের মতো এদেরকেই নেতা বানিয়ে ফেলে , কারণ তারাও তো অসন্তোষের শিকার_তাদের মনোজগতেও তো সমাজের প্রতি-উঁচুতলার মানুষের প্রতি বিদ্বেষ রয়েছে। ফলে, এরাও মারামারি, খুনোখুনি, যুদ্ধ-বিগ্রহ-সংঘর্ষ ইত্যাদিতে লিপ্ত হয়ে পড়ে ৷ আর এই ভাবেই সৃষ্টি হয় যুদ্ধ! আর ছোটখাটো যুদ্ধ থেকে হয় মহাযুদ্ধ , আর মহাযুদ্ধ থেকে বিশ্বযুদ্ধ !! ….. [ক্রমশঃ]
…….. যাইহোক , এই Saddism-এর কারণে ফিরে যাই , এর মূল কারণ হলো ‘অসন্তোষ’ । ভারতীয় সনাতন ধর্মে শেখানো হয় ‘সন্তোষ’-ই সুখ আর অসন্তোষ দুঃখের কারণ ৷ এখানকার শাশ্ত্রাদিতে রয়েছে , ” নাল্পে সুখমস্তু ভূমৈব সুখম্ ” –জাগতিক সমস্ত প্রকার সুখকে অল্প বা তুচ্ছ বলা হয়েছে । একমাত্র ভূমাতেই সুখ । ছোটবেলা থেকে এইসব শিক্ষা পেয়ে ভারতবাসীরা অনেকাংশে মানসিকভাবে সুস্থ আছে , ভালো আছে । বর্তমান পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্রের দিকে তাকিয়ে দেখলে অর্থাৎ সেখানকার জনগণের অবস্থা পর্যালোচনা করলে দেখবে__ আমাদের দেশের সাধারণ গরীব মানুষও অপেক্ষাকৃত সুখে আছে । হয়তো তাদের অভাব রয়েছে , দারিদ্র রয়েছে , সামাজিক বৈষম্যের শিকার এরা – তবুও শহরের সভ্যসমাজ থেকে অনেক দূরে, কোনো আদিবাসী গ্রামে, দিনান্তে একটু উগ্র পানীয় পান করে , আগুন জ্বালিয়ে , মাদল বাজিয়ে নারী-পুরুষ সবাই মিলে যখন একসাথে গান ধরে, নাচ করে – এই দৃশ্য দেখে আমার মনে হয় যেন ওইটা যেন দেবসভা ! আর সেখানে দেবকন্যা, দেববালকেরা হাত ধরাধরি করে নৃত্য পরিবেশন করছে!
আমি যখন ইউরোপে ঘুরছিলাম সেই সময় ওখানকার বিদ্বৎসমাজের সামনে__ আমাকে বর্তমান উন্নত দেশগুলির যুব সমাজের অবক্ষয় , বিভিন্ন দেশের ক্রমবর্ধমান হিংসা বা হানাহানি , তৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সম্ভাবনা – এসবের কারণ ও প্রতিকার সম্বন্ধে বলতে বলা হয়েছিল ৷ আমি ওদের সেমিনারে বললাম – “দেখুন ! বিশ্বের বর্তমান ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির ব্যাপারে আপনারা সচেতন জেনে আমার খুব ভালো লাগছে ! কারণ ‘মানবতার অনুকূলে’_ যা কিছু, আমি সর্বদা তার স্বপক্ষে, আর ‘মানবতা বিরোধী’ _যা কিছু, আমি তার পরিপন্থী”।
যাইহোক , পৃথিবীর দিকে একবার তাকিয়ে দেখুন__ গোটা কয়েক দেশ সামাজিক , রাজনৈতিক , অর্থনৈতিক ভাবে চরম উন্নত ! অপরপক্ষে বিশ্বের বেশ কিছু দেশ চরমভাবে দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে । এইভাবে অর্থনৈতিক এবং প্রযুক্তগতভাবে প্রথম বিশ্ব , দ্বিতীয় বিশ্ব , তৃতীয় বিশ্ব ইত্যাদি নানা বিভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে পৃথিবী৷ আবার প্রতিটি দেশের অভ্যন্তরেও রয়েছে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য ! সব দেশেরই সমাজ জীবনে দেখা যায় এই একই চিত্র । সেখানেও কিছু মানুষ অর্থনৈতিক ভাবে , সামাজিকভাবে বা রাজনৈতিকভাবে সমাজের উপর তলায় উঠে গেছে, কিছু মানুষ মাঝামাঝি জায়গায় থাকে, আর সাধারণ আমজনতা_ অভাব-অনটন , দুঃখ-দুর্দশার মধ্যে বসবাস করে ৷ এরা সন্তানদের ভালোভাবে বিদ্যা শিক্ষা দিতে পারে না , নাগরিক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের স্বাদ পায় না , ভালো খাদ্য, ভালো পোশাক-পরিচ্ছদ অথবা বিলাস সামগ্রী যেগুলো সমাজে রয়েছে –অন্যেরা ভোগ করছে – কিন্তু এরা বঞ্চিতই থেকে যাচ্ছে !
এরা সব দেখছে কিন্তু নিজেরা ঐ উন্নত এবং ভোগবিলাস যুক্ত জীবনের taste পাচ্ছে না ! এরফলে ক্ষোভ তৈরি হোচ্ছে , ক্ষোভ থেকে সৃষ্টি হয় বিক্ষোভ , আর বিক্ষোভ থেকে জন্ম নেয় বিদ্রোহ ! পারস্পরিক হিংসা , হানাহানির এটি একটি অন্যতম কারণ ৷ তাছাড়া, সমাজে একদল সব সুবিধা ভোগ করেছে অন্যরা তা পাচ্ছে না – এ থেকেও অসন্তোষ , প্রতিযোগিতা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা_ এইসব জন্ম নিচ্ছে । ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রতিবাদী রাজনৈতিক দল , Terrorist দল তৈরি হয়ে যাচ্ছে ! যে সমস্ত সুযোগ-সুবিধা , বিলাস-ঐশ্বর্য সমাজের উচ্চশ্রেণীরা ভোগ করে যা করেই হোক আমাকে বা আমাদেরও তা পেতে হবে –এই নিয়ে শুরু হয়ে যাচ্ছে প্রতিযোগিতা ।এটাকেই কেউ কেউ “শ্রেণীসংগ্রাম” বলেছে ৷
সমাজ বিবর্তনের অগ্রগতির সাথে সাথে__ ‘সমাজের সুযোগ সুবিধার চূড়ান্তটা আমারও চাই’ _ এই প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ছে এতোদিনের বঞ্চিত নিচুতলার মানুষ । এই সুস্থ প্রতিযোগিতা ভালো, কিন্তু অসম এই প্রতিযোগিতায় আর কজন কৃতকার্য হয় ___খুব বেশি হোলে হয়তো 10% । তবে মজাটা কি হয় জানো তো, যারা কৃতকার্য হয় __তারা উচ্চশ্রেণীর সাথে মিশে গিয়ে নিজেদের Social Status বাড়িয়ে সমাজের Elite Society-র Member হয়ে তাদের সাথে মিশে যেতে চায় এবং ধীরে ধীরে মিশেই যায় ।
বাকি যারা চেষ্টা করে তাদের 40% এই দৌড়ে চূড়ান্ত পর্যায় পৌঁছোতে পারবে না জেনে, নিজেদেরকে অন্য কোনো দিকে chanalised করে নেয় অর্থাৎ অকৃতকার্যতা-টাকে মেনে নেয় ৷ কিন্তু বাকি 50% -এর মনে জন্ম নেয় ক্ষোভ , অসন্তোষ ! এই অসন্তোষ থেকে কেউ কেউ হীনমন্যতায় ভোগে , কারো মধ্যে তৈরি হয় প্রতিশোধস্পৃহা ! এইভাবে Saddism-এর জন্ম হয় ! অথবা এটাকে এভাবেও বলা যায় ___যেটা মানুষের অন্তরে ছিল-ই , সেটি প্রকাশের field পেয়ে যায় ! ফলে, তখন তারা যে যেভাবে পারে , যে ভাবে সুযোগ পায় সমাজে নানা রকম হিংসা সৃষ্টি করে !
খুব ছোট আকারে হয়তো কেউ গুণ্ডা-গর্দি , লুটপাট ইত্যাদি করে , আবার কেউ যদি ভাগ্যের সহায়তায় ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছে যায় __তাহলে সে Massacre বা গণহত্যা শুরু করে দেয়, নয়তো দেশে দেশে যুদ্ধ লাগিয়ে দিয়ে লক্ষ লক্ষ জনগণকে অশেষ দুর্গতির মধ্যে ফেলে ! আর সমাজের সাধারণ Saddist member-রা, আহাম্মকের মতো এদেরকেই নেতা বানিয়ে ফেলে , কারণ তারাও তো অসন্তোষের শিকার_তাদের মনোজগতেও তো সমাজের প্রতি-উঁচুতলার মানুষের প্রতি বিদ্বেষ রয়েছে। ফলে, এরাও মারামারি, খুনোখুনি, যুদ্ধ-বিগ্রহ-সংঘর্ষ ইত্যাদিতে লিপ্ত হয়ে পড়ে ৷ আর এই ভাবেই সৃষ্টি হয় যুদ্ধ! আর ছোটখাটো যুদ্ধ থেকে হয় মহাযুদ্ধ , আর মহাযুদ্ধ থেকে বিশ্বযুদ্ধ !! ….. [ক্রমশঃ]
