জিজ্ঞাসু : ~ বনগ্রাম আশ্রমে যে বাচ্চা ছেলেরা মানুষ হোচ্ছে, ওরা কি সবাই অনাথ ছেলে ? ওদের সব খোস-পাঁচড়া হয়েছে দেখলাম – ওদেরকে আর একটু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা যায় না ?
গুরু মহারাজ : ~ হ্যাঁ, ওরা আশ্রম-বালক । তবে ওরা অনাথ নয় ! হয়তো ছেলেগুলির মধ্যে অনেকেরই বাবা মারা গেছে , কিন্তু এখন তো ওরা সবই পেয়েছে । এখানে ওদের অন্ন , বস্ত্র , বাসস্থানের কোনো অভাব নেই _ ওদের দেখভাল করার জন্য ব্রহ্মচারী , সন্ন্যাসীরা রয়েছে , তারা সদাসর্বদা ওদের Care take করছে । এমনিতে ওদের কোনো অসুবিধা নেই তো !
আর তুমি যেটা দেখেছো, ছেলেদের মধ্যে কারো কারো খোস-পাঁচড়া হয়েছে – ওটা Genetic factor ! এই ছেলেগুলি এমন সব পরিবার থেকে এসেছে যেখানে genetic ভাবে বিভিন্ন ক্ষয় রোগের germ শরীরে ঢুকেই ছিল । এদের পিতাদের অকালমৃত্যুর ওটাই(বিভিন্ন ক্ষয়রোগ) তো অন্যতম কারণ ! এখানে অর্থাৎ এই আশ্রমে সুষম খাদ্য খেয়ে , নিয়মিত ও সুশৃঙ্খল জীবন যাপনের ফলে, ওদের শরীরের genetic যে সমস্ত problem ছিল, সেগুলি চর্মরোগের আকারে বেরিয়ে যাচ্ছে । এতে ওদের ভালোই হোচ্ছে । এই চর্ম রোগগুলি সেরে গেলেই ওদের শরীর নিরোগ আর মজবুত হয়ে উঠবে ।
খেয়াল করে দেখবে__ ছোট ছোট ছেলেগুলিরই এই ধরণের রোগ হয় , অপেক্ষাকৃত যারা বড় তাদের হয় না । তাদের ছোটোবেলায় হয়তো খোস-পাঁচড়া হয়েছিল – ভালো হয়ে গেছে ৷ বনগ্রাম আশ্রমে
ছেলেগুলির কাছে যে মহারাজরা বা ব্রহ্মচারীরা থাকে, তারা রাত দিন ওদের খেয়াল রাখে ৷
তুমি তো আজকেই ওদেরকে কাছ থেকে দেখলে__আর ঐ একদিন দেখে এসেই ওদেরকে পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দিচ্ছো ? তা দু-চার দিন এখানে থেকে গিয়ে ছেলেগুলির পরিচর্যায় লেগে যাও না ! পারবে ? পারবে না__ কোনো না কোনো অজুহাতে কেটে পড়বে ! বাবা – দূর থেকে লোককে পরামর্শ দেওয়া যায় কিন্তু হাতে কলমে কিছু করা চাট্টিখানি কথা নয় ! মদন মহারাজ , নানু মহারাজ (তখন এই দুই মহারাজ ছেলেদের প্রধান দায়িত্বে ছিলেন) যেভাবে গরম জলে তুলো ভিজিয়ে ওদের পাছার খোস-পাঁচড়া গুলো ধুয়ে ধুয়ে পুঁজ-রক্ত পরিষ্কার করে ওষুধ লাগিয়ে দেয় – Trained Nurse রাও ঐভাবে করবে না !
নিঃস্বার্থ না হোলে সেবা হয় না ৷ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সেবা প্রতিষ্ঠান গুলিতে পয়সার বিনিময়ে কর্মীরা কাজ করে – সেবা হয় কোথায় ? একমাত্র বিভিন্ন মঠ-মিশনে যেখানে একদল যুবক ছেলে বা মেয়ে__যারা ‘সেবা’-কে জীবনের ব্রত হিসেবে নিয়েছে , সাধনা হিসেবে নিয়েছে – তাদের দ্বারাই প্রকৃত সেবা হয় ৷ ‘সেবা’ কথাটার অর্থ কিন্তু সংকীর্ণ অর্থে নয় – “শিব জ্ঞানে জীব সেবা” -টাই প্রকৃত ‘সেবা’ ৷
যখন যে কাজটাই করছো _সেটাই হোক ঈশ্বর-প্রীত্যর্থে । কোনো মানুষ বা অন্য কোনো জীবের সেবা করছো কিন্তু মনে জানছো যে ইনি-ই সাক্ষাৎ ঈশ্বর ৷ এইটাই ঈশ্বর প্রীত্যর্থে কর্ম।
এছাড়া আর একটা পথের কথা বলি__ যেভাবে বললাম ঐভাবে না ভাবতে পারলে উল্টো করে ভাবো যে, “ঈশ্বর-ই সব হয়েছেন” । তাহলে আর কোন ‘গোল’ থাকবে না ।
কিন্তু সবসময়, সব অবস্থায় __এই ভাবটি বজায় রাখা সহজ কথা নয় । এর জন্য নিরন্তর প্রার্থনা বা নিয়মিত সাধনার প্রয়োজন হয় ৷ এই জন্যই বলা হয়েছে “সেবা ও সাধনা” ।
যাইহোক , আমাদের আশ্রমে যে ছেলেগুলি এখন রয়েছে __এদের অধিকাংশই অর্থনৈতিকভাবে খুবই অনুন্নত পরিবার থেকে এসেছে ৷ ‘অনুন্নত’ বলতে অর্থনৈতিক , সামাজিক ইত্যাদি সব দিক থেকেই পিছিয়ে ৷ তার উপর এদের বেশির ভাগের পিতার অকাল মৃত্যু ঘটেছে । তার মানেই তারা হয় খুব উশৃংখল ছিল অথবা কঠিন ব্যাধিগ্রস্থ ছিল – তাই নয় কি ? এবার সেই সব ঘরের ছেলেরা এখানে মানুষ হোচ্ছে , এখানকার আশ্রমিক পরিবেশে , আধ্যাত্মিক পরিবেশে বেড়ে উঠছে !
সকালবেলায় বেদ মন্ত্র উচ্চারণ করে এদের দিন শুরু হোচ্ছে, তারপর নিয়ম মত পুষ্টিকর অথচ সহজপাচ্য খাবার খাচ্ছে , ধ্যান-প্রাণায়াম-যোগব্যায়াম করছে ___ অর্থাৎ এক কথায় একটা disciplined life lead করছে । এই সব কারণেই ধীরে ধীরে ওদের শরীরের মধ্যে genetic পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে এবং শরীরের বিভিন্ন কঠিন রোগব্যাধির বীজ চর্মরোগের আকারে বেরিয়ে আসছে।
পরিবেশ পাল্টে গেলেই মানুষের অনেক কিছুই পাল্টে যায় – এদেরও পাল্টাচ্ছে । এইরকম কাজ বহু পূর্ব থেকেই ভারতবর্ষের ঋষি আশ্রম বা মুনি-তপোবনে হোত । ব্যাস , বশিষ্ট , সত্যকাম – ইত্যাদি বহু মনীষীরা সমাজের খুবই নিম্ন স্তর থেকে এসে ঋষি আশ্রমে পালিত হয়ে সমাজের উচ্চস্থান অধিকার করেছিলেন ।
এবারেও তাই হবে – এদের মধ্যে অনেকেরই সমাজের বিভিন্ন field-এ সম্মানজনক স্থান করে নেবে ৷৷
গুরু মহারাজ : ~ হ্যাঁ, ওরা আশ্রম-বালক । তবে ওরা অনাথ নয় ! হয়তো ছেলেগুলির মধ্যে অনেকেরই বাবা মারা গেছে , কিন্তু এখন তো ওরা সবই পেয়েছে । এখানে ওদের অন্ন , বস্ত্র , বাসস্থানের কোনো অভাব নেই _ ওদের দেখভাল করার জন্য ব্রহ্মচারী , সন্ন্যাসীরা রয়েছে , তারা সদাসর্বদা ওদের Care take করছে । এমনিতে ওদের কোনো অসুবিধা নেই তো !
আর তুমি যেটা দেখেছো, ছেলেদের মধ্যে কারো কারো খোস-পাঁচড়া হয়েছে – ওটা Genetic factor ! এই ছেলেগুলি এমন সব পরিবার থেকে এসেছে যেখানে genetic ভাবে বিভিন্ন ক্ষয় রোগের germ শরীরে ঢুকেই ছিল । এদের পিতাদের অকালমৃত্যুর ওটাই(বিভিন্ন ক্ষয়রোগ) তো অন্যতম কারণ ! এখানে অর্থাৎ এই আশ্রমে সুষম খাদ্য খেয়ে , নিয়মিত ও সুশৃঙ্খল জীবন যাপনের ফলে, ওদের শরীরের genetic যে সমস্ত problem ছিল, সেগুলি চর্মরোগের আকারে বেরিয়ে যাচ্ছে । এতে ওদের ভালোই হোচ্ছে । এই চর্ম রোগগুলি সেরে গেলেই ওদের শরীর নিরোগ আর মজবুত হয়ে উঠবে ।
খেয়াল করে দেখবে__ ছোট ছোট ছেলেগুলিরই এই ধরণের রোগ হয় , অপেক্ষাকৃত যারা বড় তাদের হয় না । তাদের ছোটোবেলায় হয়তো খোস-পাঁচড়া হয়েছিল – ভালো হয়ে গেছে ৷ বনগ্রাম আশ্রমে
ছেলেগুলির কাছে যে মহারাজরা বা ব্রহ্মচারীরা থাকে, তারা রাত দিন ওদের খেয়াল রাখে ৷
তুমি তো আজকেই ওদেরকে কাছ থেকে দেখলে__আর ঐ একদিন দেখে এসেই ওদেরকে পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দিচ্ছো ? তা দু-চার দিন এখানে থেকে গিয়ে ছেলেগুলির পরিচর্যায় লেগে যাও না ! পারবে ? পারবে না__ কোনো না কোনো অজুহাতে কেটে পড়বে ! বাবা – দূর থেকে লোককে পরামর্শ দেওয়া যায় কিন্তু হাতে কলমে কিছু করা চাট্টিখানি কথা নয় ! মদন মহারাজ , নানু মহারাজ (তখন এই দুই মহারাজ ছেলেদের প্রধান দায়িত্বে ছিলেন) যেভাবে গরম জলে তুলো ভিজিয়ে ওদের পাছার খোস-পাঁচড়া গুলো ধুয়ে ধুয়ে পুঁজ-রক্ত পরিষ্কার করে ওষুধ লাগিয়ে দেয় – Trained Nurse রাও ঐভাবে করবে না !
নিঃস্বার্থ না হোলে সেবা হয় না ৷ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সেবা প্রতিষ্ঠান গুলিতে পয়সার বিনিময়ে কর্মীরা কাজ করে – সেবা হয় কোথায় ? একমাত্র বিভিন্ন মঠ-মিশনে যেখানে একদল যুবক ছেলে বা মেয়ে__যারা ‘সেবা’-কে জীবনের ব্রত হিসেবে নিয়েছে , সাধনা হিসেবে নিয়েছে – তাদের দ্বারাই প্রকৃত সেবা হয় ৷ ‘সেবা’ কথাটার অর্থ কিন্তু সংকীর্ণ অর্থে নয় – “শিব জ্ঞানে জীব সেবা” -টাই প্রকৃত ‘সেবা’ ৷
যখন যে কাজটাই করছো _সেটাই হোক ঈশ্বর-প্রীত্যর্থে । কোনো মানুষ বা অন্য কোনো জীবের সেবা করছো কিন্তু মনে জানছো যে ইনি-ই সাক্ষাৎ ঈশ্বর ৷ এইটাই ঈশ্বর প্রীত্যর্থে কর্ম।
এছাড়া আর একটা পথের কথা বলি__ যেভাবে বললাম ঐভাবে না ভাবতে পারলে উল্টো করে ভাবো যে, “ঈশ্বর-ই সব হয়েছেন” । তাহলে আর কোন ‘গোল’ থাকবে না ।
কিন্তু সবসময়, সব অবস্থায় __এই ভাবটি বজায় রাখা সহজ কথা নয় । এর জন্য নিরন্তর প্রার্থনা বা নিয়মিত সাধনার প্রয়োজন হয় ৷ এই জন্যই বলা হয়েছে “সেবা ও সাধনা” ।
যাইহোক , আমাদের আশ্রমে যে ছেলেগুলি এখন রয়েছে __এদের অধিকাংশই অর্থনৈতিকভাবে খুবই অনুন্নত পরিবার থেকে এসেছে ৷ ‘অনুন্নত’ বলতে অর্থনৈতিক , সামাজিক ইত্যাদি সব দিক থেকেই পিছিয়ে ৷ তার উপর এদের বেশির ভাগের পিতার অকাল মৃত্যু ঘটেছে । তার মানেই তারা হয় খুব উশৃংখল ছিল অথবা কঠিন ব্যাধিগ্রস্থ ছিল – তাই নয় কি ? এবার সেই সব ঘরের ছেলেরা এখানে মানুষ হোচ্ছে , এখানকার আশ্রমিক পরিবেশে , আধ্যাত্মিক পরিবেশে বেড়ে উঠছে !
সকালবেলায় বেদ মন্ত্র উচ্চারণ করে এদের দিন শুরু হোচ্ছে, তারপর নিয়ম মত পুষ্টিকর অথচ সহজপাচ্য খাবার খাচ্ছে , ধ্যান-প্রাণায়াম-যোগব্যায়াম করছে ___ অর্থাৎ এক কথায় একটা disciplined life lead করছে । এই সব কারণেই ধীরে ধীরে ওদের শরীরের মধ্যে genetic পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে এবং শরীরের বিভিন্ন কঠিন রোগব্যাধির বীজ চর্মরোগের আকারে বেরিয়ে আসছে।
পরিবেশ পাল্টে গেলেই মানুষের অনেক কিছুই পাল্টে যায় – এদেরও পাল্টাচ্ছে । এইরকম কাজ বহু পূর্ব থেকেই ভারতবর্ষের ঋষি আশ্রম বা মুনি-তপোবনে হোত । ব্যাস , বশিষ্ট , সত্যকাম – ইত্যাদি বহু মনীষীরা সমাজের খুবই নিম্ন স্তর থেকে এসে ঋষি আশ্রমে পালিত হয়ে সমাজের উচ্চস্থান অধিকার করেছিলেন ।
এবারেও তাই হবে – এদের মধ্যে অনেকেরই সমাজের বিভিন্ন field-এ সম্মানজনক স্থান করে নেবে ৷৷
