শ্রী শ্রী গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দের জীবনে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনার উল্লেখ করে তাঁর জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রেই ঈশ্বরের মহিমা শক্তির যে প্রকাশ ঘটে ছিল __সেগুলি এখানে তুলে ধরার চেষ্টা করা হোচ্ছে।
আমরা আগের আগের আলোচনাগুলি থেকে দেখেছি__ গুরুমহারাজের (কিশোর বয়সী) ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন জীবজন্তুকে কিভাবে বশ মানাতে হয় বা তাদেরকে ভয় না পেয়ে তাদের মুখোমুখি হয়ে কিভাবে তাদেরকে কোনভাবে engaged করে দিয়ে নিজের কার্যোদ্ধার করতে হয় – সেইসব কৌশল তাঁর জানা ছিল ! আর থাকবেই বা না কেন – তাঁরই তো জগৎ, তাই এই জগতের সবকিছুই তাঁর করায়ত্ত। তবু ঐ ধরণের যেসব ঘটনা ঘটেছিল, সেগুলি উনি কোনোরকম অলৌকিকভাবে মোকাবিলা করেন নি – করেছিলেন নিতান্ত সাধারণভাবে, লৌকিকভাবে। আর সেইগুলিই উনি বনগ্রাম আশ্রমের বিভিন্ন সিটিং-এ মজা করে বলতেন এবং আমরাও ‘হাঁ’ করে ওনার শ্রীমুখ থেকে সেইসব কথা শুনতাম ! সেই সব কথাগুলির মধ্যে যে সমস্ত কথা আমার আজও স্মরণে রয়েছে, সেহগুলিই আপনাদের সাথে share করে ___সকলে মিলে আনন্দ ভাগ করে নেবার জন্যই এই প্রচেষ্টা !
গুরুমহারাজ বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন পশু-পাখি বা অন্যান্য জীব-জন্তুর জন্য কিভাবে ফাঁদ পাততে হয় বা কিভাবে সেগুলিকে ধরতে হয়, কিভাবে বন্যপশুদেরকে ‘বশ’ মানাতে হয়, হিংস্র পশুকে কিভাবে জব্দ করতে হয় বা মোকাবিলা করতে হয় – সেইসব কথাও আলোচনা করতেন !
তেঁতুল বিছে, কাঁকড়া বিছে, বোলতা, ভীমরুল – ইত্যাদিকে মারতে গেলে দেখার সঙ্গে সঙ্গে sudden এক থাপ্পড়ে মেরে ফেলতে হবে ! থাপ্পড়টা যেন sudden হয় – অর্থাৎ মাটিতে ‘ঘা’ লাগার সাথে সাথেই যেন হাত আবার উঠে যায় – নাহলে _এতোটুকু সময় পেলেই হুল ফুটিয়ে দেবে ! আবার এরা এতো দ্রুতগতিসম্পন্ন যে, মারতে দেরি করলেই কোথায় লুকিয়ে পড়বে_আর নাগাল পাবে না।! তাই ওগুলো মারার জন্য চটিজুতো বা হাতা খুন্তি খুঁজে আনতে আনতেই সেটা পালাবে ।।
যাই হোক,ঐ ধরণের sudden আঘাতে মেরে ফেলাটাকে গুরুজি ‘monkey style’ বলেছিলেন। বানরেরা এই কায়দায় বিষাক্ত কীট-পতঙ্গকে মেরে ফেলে ! এই একই কায়দায় বিষধর সাপ ধরার কথাও বলেছিলেন গুরুমহারাজ ! একেবারে suddenly প্রচন্ড ক্ষিপ্রতার সাথে সাপের মাথাটা চেপে ধরে ফেলতে হবে – তারপর তাকে দূরে ছুঁড়েও ফেলে দেওয়া যায় বা ধরে কব্জাও করা যায় !
গুরুজী বলেছিলেন জঙ্গলে বানরদের এই ধরনের আচরণ দেখেই সাধুরা marshall art-এ monkey style -এর সূচনা করে। জুডো, ক্যারাটে, তাই-চি ইত্যাদি সমস্ত marshall art-এর কৌশল ভারতীয় সন্ন্যাসীরাই (সনাতনপন্থী ও বৌদ্ধ) প্রথম সৃষ্টি করেছিল। পরে বিভিন্ন দেশে গিয়ে নাম ও রূপ পাল্টে তারা নিজেদের মতো করে নিয়েছে। এখনো “শাওলিন টেম্পল” বা “তাও” (বাউলসাধু) দের কাছেই এইসব বিদ্যার ‘সারভাগ’টা রয়ে গেছে ! গোটা পৃথিবীতে যারা এই ধরনের marshall art-এ কৃতিত্ব অর্জন করেছে (Bruce lee-র মতো বিখ্যাতরা) – তারা কোনো না কোনোভাবে এইসব ধর্মীয়-সংস্থার সাধু-সন্তদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সেখান থেকেই এরা বিশেষ প্রশিক্ষণ লাভ করেছিল।
বনের হিংস্র বাঘকে কিভাবে ধরতে হয় এবং কিভাবে কাবু করতে হয় – সেইসব কথাও গুরুমহারাজ বলেছিলেন। উনি বলেছিলেন যে, কোনো মানুষ যদি জঙ্গলে বাঘের সম্মুখীন হয় – তাহলে ভয় পেয়ে পালাতে গেলেই বাঘ পিছন থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে ধরে ফেলবে বা মেরে ফেলবে (যদিও বেশিরভাগ সময় বাঘ পিছন থেকেই শিকারের উপর হামলা করে থাকে। তাই বনকর্মীরা বা স্থানীয় মানুষেরা মাথার পিছনে মানুষের মুখোশ পড়ে থাকে। এতে বাঘেরা confused হয়ে যায় !
তবে, এখানে মানুষের সাথে বাঘ মুখোমুখি হোলে কি করা উচিৎ সেই কথা বলা হচ্ছে!)। বাঘ যদি কোন ব্যাক্তির সামনে থাকে – তাহলে বাঘের চোখ থেকে কখনও নিজের চোখ সরালে চলবে না ! বাঘের চোখে চোখ রেখে সামনে এগিয়ে গেলেই বাঘ পিছোতে থাকবে। আর যদি একেবারে সামনাসামনিও হয় – তাহলে বাঘ যেই মূহূর্ত্তে হাঁ করে কামড়াতে আসবে – সেই মুহূর্ত্তেই ডানহাতটা মুখের ভিতর সটান ঢুকিয়ে দিয়ে একেবারে stomach পর্যন্ত চালিয়ে দিতে হবে – তাহলেই বাঘ কাবু ! আর কিছু করতে পারবে না। এমনকি হাতে কামড় বসাতেও পারবে না ! এই অবস্থায় বাঘের নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে বাঘটি মারাও যেতে পারে !
বুনো ঘোড়াকে যখন trainer-রা বশ মানায় – তখনও এইভাবেই মুখের ভিতর হাত ঢুকিয়ে জিভ টেনে ধরে, তারপর তাকে বশ মানায় ! এইসব কায়দা ওস্তাদ trainer-রা জানে। তবে বাঘ-সিংহ ইত্যাদি যেকোনো হিংস্র জন্তুর লেজ চেপে ধরে ফেলতে পারলেও তাদেরকে সহজেই কাবু করা যায়। লেজকে শক্ত করে ধরে পিছন দিকে প্রচণ্ড জোরে টেনে রাখতে হবে এবং ঐ জন্তুটি যেদিকে যেদিকে ঘুরতে চাইবে – তার বিপরীত দিকে লেজ ধরে ঘুরে যেতে হবে। এইভাবে কিছুক্ষণ করতে পারলেই ঐ হিংস্র জন্তুটি (বাঘ বা সিংহ) একেবারে বোকার মতো হয়ে যাবে। তখন ওটির মাথায় বস্তা-জাতীয় কিছু একটা চাপিয়ে দিলেই – পশুটি একেবারে শান্ত হয়ে যাবে। চিড়িয়াখানার কর্মীরা বা সার্কাস পার্টির লোকেরা এভাবেই তাদের পোষা হিংস্র জন্তু-জানোয়ারদেরকে কাবু করে এবং তারপর ওদের স্বাস্থ্যপরীক্ষা করে বা কোনো ওষুধ-ইনজেকশন প্রয়োগ করে।
ঘুমপাড়ানি গুলির ব্যবহার করেও চিকিৎসা বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যায়_তবে, বারবার একই পশুকে ঘুমপাড়ানি গুলির ব্যবহার করতে গেলে ওই পশুটির মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।
[এই আলোচনার পরবর্তী অংশ পরের দিন।]
আমরা আগের আগের আলোচনাগুলি থেকে দেখেছি__ গুরুমহারাজের (কিশোর বয়সী) ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন জীবজন্তুকে কিভাবে বশ মানাতে হয় বা তাদেরকে ভয় না পেয়ে তাদের মুখোমুখি হয়ে কিভাবে তাদেরকে কোনভাবে engaged করে দিয়ে নিজের কার্যোদ্ধার করতে হয় – সেইসব কৌশল তাঁর জানা ছিল ! আর থাকবেই বা না কেন – তাঁরই তো জগৎ, তাই এই জগতের সবকিছুই তাঁর করায়ত্ত। তবু ঐ ধরণের যেসব ঘটনা ঘটেছিল, সেগুলি উনি কোনোরকম অলৌকিকভাবে মোকাবিলা করেন নি – করেছিলেন নিতান্ত সাধারণভাবে, লৌকিকভাবে। আর সেইগুলিই উনি বনগ্রাম আশ্রমের বিভিন্ন সিটিং-এ মজা করে বলতেন এবং আমরাও ‘হাঁ’ করে ওনার শ্রীমুখ থেকে সেইসব কথা শুনতাম ! সেই সব কথাগুলির মধ্যে যে সমস্ত কথা আমার আজও স্মরণে রয়েছে, সেহগুলিই আপনাদের সাথে share করে ___সকলে মিলে আনন্দ ভাগ করে নেবার জন্যই এই প্রচেষ্টা !
গুরুমহারাজ বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন পশু-পাখি বা অন্যান্য জীব-জন্তুর জন্য কিভাবে ফাঁদ পাততে হয় বা কিভাবে সেগুলিকে ধরতে হয়, কিভাবে বন্যপশুদেরকে ‘বশ’ মানাতে হয়, হিংস্র পশুকে কিভাবে জব্দ করতে হয় বা মোকাবিলা করতে হয় – সেইসব কথাও আলোচনা করতেন !
তেঁতুল বিছে, কাঁকড়া বিছে, বোলতা, ভীমরুল – ইত্যাদিকে মারতে গেলে দেখার সঙ্গে সঙ্গে sudden এক থাপ্পড়ে মেরে ফেলতে হবে ! থাপ্পড়টা যেন sudden হয় – অর্থাৎ মাটিতে ‘ঘা’ লাগার সাথে সাথেই যেন হাত আবার উঠে যায় – নাহলে _এতোটুকু সময় পেলেই হুল ফুটিয়ে দেবে ! আবার এরা এতো দ্রুতগতিসম্পন্ন যে, মারতে দেরি করলেই কোথায় লুকিয়ে পড়বে_আর নাগাল পাবে না।! তাই ওগুলো মারার জন্য চটিজুতো বা হাতা খুন্তি খুঁজে আনতে আনতেই সেটা পালাবে ।।
যাই হোক,ঐ ধরণের sudden আঘাতে মেরে ফেলাটাকে গুরুজি ‘monkey style’ বলেছিলেন। বানরেরা এই কায়দায় বিষাক্ত কীট-পতঙ্গকে মেরে ফেলে ! এই একই কায়দায় বিষধর সাপ ধরার কথাও বলেছিলেন গুরুমহারাজ ! একেবারে suddenly প্রচন্ড ক্ষিপ্রতার সাথে সাপের মাথাটা চেপে ধরে ফেলতে হবে – তারপর তাকে দূরে ছুঁড়েও ফেলে দেওয়া যায় বা ধরে কব্জাও করা যায় !
গুরুজী বলেছিলেন জঙ্গলে বানরদের এই ধরনের আচরণ দেখেই সাধুরা marshall art-এ monkey style -এর সূচনা করে। জুডো, ক্যারাটে, তাই-চি ইত্যাদি সমস্ত marshall art-এর কৌশল ভারতীয় সন্ন্যাসীরাই (সনাতনপন্থী ও বৌদ্ধ) প্রথম সৃষ্টি করেছিল। পরে বিভিন্ন দেশে গিয়ে নাম ও রূপ পাল্টে তারা নিজেদের মতো করে নিয়েছে। এখনো “শাওলিন টেম্পল” বা “তাও” (বাউলসাধু) দের কাছেই এইসব বিদ্যার ‘সারভাগ’টা রয়ে গেছে ! গোটা পৃথিবীতে যারা এই ধরনের marshall art-এ কৃতিত্ব অর্জন করেছে (Bruce lee-র মতো বিখ্যাতরা) – তারা কোনো না কোনোভাবে এইসব ধর্মীয়-সংস্থার সাধু-সন্তদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সেখান থেকেই এরা বিশেষ প্রশিক্ষণ লাভ করেছিল।
বনের হিংস্র বাঘকে কিভাবে ধরতে হয় এবং কিভাবে কাবু করতে হয় – সেইসব কথাও গুরুমহারাজ বলেছিলেন। উনি বলেছিলেন যে, কোনো মানুষ যদি জঙ্গলে বাঘের সম্মুখীন হয় – তাহলে ভয় পেয়ে পালাতে গেলেই বাঘ পিছন থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে ধরে ফেলবে বা মেরে ফেলবে (যদিও বেশিরভাগ সময় বাঘ পিছন থেকেই শিকারের উপর হামলা করে থাকে। তাই বনকর্মীরা বা স্থানীয় মানুষেরা মাথার পিছনে মানুষের মুখোশ পড়ে থাকে। এতে বাঘেরা confused হয়ে যায় !
তবে, এখানে মানুষের সাথে বাঘ মুখোমুখি হোলে কি করা উচিৎ সেই কথা বলা হচ্ছে!)। বাঘ যদি কোন ব্যাক্তির সামনে থাকে – তাহলে বাঘের চোখ থেকে কখনও নিজের চোখ সরালে চলবে না ! বাঘের চোখে চোখ রেখে সামনে এগিয়ে গেলেই বাঘ পিছোতে থাকবে। আর যদি একেবারে সামনাসামনিও হয় – তাহলে বাঘ যেই মূহূর্ত্তে হাঁ করে কামড়াতে আসবে – সেই মুহূর্ত্তেই ডানহাতটা মুখের ভিতর সটান ঢুকিয়ে দিয়ে একেবারে stomach পর্যন্ত চালিয়ে দিতে হবে – তাহলেই বাঘ কাবু ! আর কিছু করতে পারবে না। এমনকি হাতে কামড় বসাতেও পারবে না ! এই অবস্থায় বাঘের নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে বাঘটি মারাও যেতে পারে !
বুনো ঘোড়াকে যখন trainer-রা বশ মানায় – তখনও এইভাবেই মুখের ভিতর হাত ঢুকিয়ে জিভ টেনে ধরে, তারপর তাকে বশ মানায় ! এইসব কায়দা ওস্তাদ trainer-রা জানে। তবে বাঘ-সিংহ ইত্যাদি যেকোনো হিংস্র জন্তুর লেজ চেপে ধরে ফেলতে পারলেও তাদেরকে সহজেই কাবু করা যায়। লেজকে শক্ত করে ধরে পিছন দিকে প্রচণ্ড জোরে টেনে রাখতে হবে এবং ঐ জন্তুটি যেদিকে যেদিকে ঘুরতে চাইবে – তার বিপরীত দিকে লেজ ধরে ঘুরে যেতে হবে। এইভাবে কিছুক্ষণ করতে পারলেই ঐ হিংস্র জন্তুটি (বাঘ বা সিংহ) একেবারে বোকার মতো হয়ে যাবে। তখন ওটির মাথায় বস্তা-জাতীয় কিছু একটা চাপিয়ে দিলেই – পশুটি একেবারে শান্ত হয়ে যাবে। চিড়িয়াখানার কর্মীরা বা সার্কাস পার্টির লোকেরা এভাবেই তাদের পোষা হিংস্র জন্তু-জানোয়ারদেরকে কাবু করে এবং তারপর ওদের স্বাস্থ্যপরীক্ষা করে বা কোনো ওষুধ-ইনজেকশন প্রয়োগ করে।
ঘুমপাড়ানি গুলির ব্যবহার করেও চিকিৎসা বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যায়_তবে, বারবার একই পশুকে ঘুমপাড়ানি গুলির ব্যবহার করতে গেলে ওই পশুটির মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।
[এই আলোচনার পরবর্তী অংশ পরের দিন।]
