গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দের জীবনে ঘটে যাওয়া নানান ঘটনার মধ্যে দিয়ে যে মহিমা শক্তির প্রকাশ ঘটতো – সেইগুলি এখানে আলোচনা করা হচ্ছিলো। আর সেই কথাগুলি বলতে গিয়ে এখন অনেক রকম পশু-পাখির ব্যাপারে গুরুমহারাজ যে সমস্ত কথা বলেছিলেন, সেইগুলো আর একবার ঝালাই করে নেওয়া হচ্ছে।
আগের দিন বলা হচ্ছিলো – জঙ্গলের আদিম অধিবাসীরা (এখনও এইরকম জনজাতি আফ্রিকা ও এশিয়া মহাদেশে রয়েছে) কিভাবে বনের হিংস্র পশু বাঘকে কব্জা করে ধরে নিয়ে যেতো – সেই কাহিনী ! গুরুমহারাজ একবার বলেছিলেন – ” কঠিন কোনো কাজকে যদি কঠিন ভেবে নেওয়া হয় – তাহলে সেই কাজ করা কখনোই সম্ভব হবে না। ‘বাঘ’কে যদি ‘বিড়াল’ ভাবতে পারা যায় – তবেই বাঘের সঙ্গে লড়াই করা যায় বা তাকে মেরে ফেলাও যায়। তেমনি যে কোনো কঠিন কাজকে সম্পন্ন করতে হলে প্রথমেই সেই কাজটিকে আগে সহজ ভেবে নিতে হবে।” আদিবাসীরা বা জঙ্গলের অধিবাসীরাও এই রহস্যটি জানে – ওরাও বাঘকে ভয়ঙ্কর হিংস্র জন্তু না ভেবে আর পাঁচটা সাধারণ জীবের মতোই ভাবে – আর সেভাবেই ওরা বাঘকে কাবু করে ভালোভাবে বেঁধে নিজেদের মহল্লায় নিয়ে যায় !
আদিবাসীরা বাঘ ধরেই বা কেন ? বিভিন্ন সার্কাস কোম্পানি (এখন অবশ্য আইন করে সার্কাস কোম্পানির বাঘ-সিংহ রাখা বন্ধ হয়ে গেছে), চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ, আগেকার দিনের রাজা-জমিদারেরা সরাসরি ওদের কাছ থেকে বাঘ কিনে নিয়ে যেতো ! তাছাড়া ওরা খুবই আনন্দ করে বাঘের মাংস খায় ! বাঘের নখ, জিভ, চামড়া এগুলিরও মার্কেটে খুবই চাহিদা রয়েছে। প্রচুর দামে এগুলি বিক্রি হয় – এইসব কারনেই ওরা আগে বাঘকে ঐভাবে ফাঁদে ফেলে জ্যান্ত ধরে নিয়ে যেতো। ওই পদ্ধতিতে বাঘটির শরীরের কোন আঘাত লাগত না – শুধুমাত্র ২০/২৫ মিনিট একটা ‘ঘোরে’ থাকতো – নড়াচড়া করতেও ভয় পেতো ! আর সেই সুযোগেই আদিবাসীরা বাঘটিকে ভালোভাবে বেঁধে নিজেদের কব্জায় নিয়ে নিতো !
গুরুমহারাজ সিংহের কথাও বলেছিলেন। সিংহের চাল-চলন, হাবভাব, রুচি-স্বভাব সমস্ত পশুদের থেকে আলাদা, সবকিছুই যেন রাজকীয় – তাই সিংহকে পশুরাজ বলা হয়। উদাহরণ হিসাবে উনি বলেছিলেন, সিংহ কখনোই শিশু-শাবক বা স্ত্রী-জাতীয় পশুর শিকার করে না ! বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সিংহ, হরিণ বা গরু-মহিষের দলের মধ্যে সেরাটাকেই শিকার করতে চায় ! সেটাকে ধরতে যদি ব্যর্থ হয় _তাহলেও সচরাচর কোনো দুর্বল পশুকে আঘাত করতে চায় না ! বাঘ-ভাল্লুক যেমন পিছন থেকেই অন্য কাউকে attack করতে ভালোবাসে, সিংহ কিন্তু তা করেনা ! সিংহের যদি দল থাকে _ তাহলে তারা আগে থাকতে planing করে আগে-পিছে, আশেপাশে বিভিন্ন স্থানে এক একজন position নিয়ে নেয়। তারপর পশুর দলকে কেউ একজন সামনাসামনি হয়ে বা গর্জন করে (হরিণ, গরু বা মহিষ) বিভ্রান্ত করে দেয় _ এরপর ওঁত পেতে থাকা সিংহরা দৌড়ে তাদের পিছনে ছুটে তাকে শিকার করে ! কখনোই অতর্কিত ভাবে আক্রমণ করে না। তবে সাধারণত সিংহীরাই শিকার করে – সিংহের শিকার করার প্রয়োজন হয় না ! সিংহীরা কিন্তু পশুর দলের নারী ও শিশুদেরকেও মেরে ফেলে – যেটা সিংহ কদাচ করে না !
শিকার হয়ে গেলে সিংহী শিকারের চামড়া ফাটিয়ে -বুক চিঁড়ে ready করে দেয় এবং সিংহ সেই শিকারটির মৃত শরীরের বিশেষ বিশেষ অঙ্গগুলো (কিডনি, লিভার, হৃদপিণ্ড ইত্যাদি) আগে খায় – তারপর দলের বাচ্চাসহ অন্য সদস্যরা খাবার সুযোগ পায় ! সিংহ বিশ্রামের সময় নাসিকা গর্জন করে, আর এই সময় এবং খাবার সময় কারো disturb সে সহ্য করতে চায় না ! যদি তার ছোট বাচ্চারাও বিরক্ত করে – তাহলেও এক থাবা মেরে তাকে আহত করে দেয়। মা সিংহী এগুলো বোঝে – তাই সেইসময় সে বাচ্চাদেরকে একটু দূরে নিয়ে গিয়ে তাদের সাথে খেলা করে।
আফ্রিকার সিংহ-শিকারী বনবাসী জাতিরা রয়েছে। এদের কাছে সিংহ শিকার করা ছাগল বা হরিণ শিকারের মতোই আমােদের ! ওরা দলবল বেঁধে শুধুমাত্র বড় ছোরা এবং লম্বা লম্বা বিশেষভাবে তৈরি বর্শার সাহায্যে পূর্ণবয়স্ক সিংহকে তাড়া করে মেরে ফেলে। এদেরকে দলবেঁধে বেরোতে দেখলেই সিংহের পালও পালাতে পথ পায় না ! ওরাও জানে – এরা ওদেরকে মেরে ফেলবে। সিংহ মারার জন্য অসম সাহস এবং প্রচন্ড ক্ষিপ্রতা দরকার। সিংহকে তাড়া করলে একসময় সিংহ রেগে গিয়ে যেই তেড়ে এসে মানুষগুলিকে মারার জন্য লাফ মারে – তখন ঐ আদিবাসীরা ওদের বিশেষ বর্শা (যার ডগার দিকে তরোয়ালের মতো বড় এবং ধারালো ফলা লাগানো থাকে। তাছাড়া ওই বর্শাগুলি ডান্ডাসমেত কমপক্ষে ৯/১০ ফুট লম্বা হয়!)-র এক প্রান্ত মাটিতে support দিয়ে ধারালো ফলার অংশটা আড়াআড়ি শক্ত করে ধরে থাকে ! ফলে সিংহটা ১০/১২ ফুট থেকে প্রচন্ড গতিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে ঐ ফলার উপর ! লোকটা দ্রুত সরে যেতেই ফলাটায় সিংহের শরীর একেবারে এফোঁড়-ওফোঁড় হয়ে যায় ! এই অবস্থায় বাকিরা আরও ফলা গেঁথে দেয় বা চপারের মত বড় বড় ছোরার আঘাতে সিংহটাকে একেবারেই কাবু করে দেয়। এইভাবেই আফ্রিকার সিংহ-শিকারীরা আগ্নেয়াস্ত্র ছাড়াই অনায়াসে সিংহদের মেরে ফেলতে পারে।৷(ক্রমশঃ)
আগের দিন বলা হচ্ছিলো – জঙ্গলের আদিম অধিবাসীরা (এখনও এইরকম জনজাতি আফ্রিকা ও এশিয়া মহাদেশে রয়েছে) কিভাবে বনের হিংস্র পশু বাঘকে কব্জা করে ধরে নিয়ে যেতো – সেই কাহিনী ! গুরুমহারাজ একবার বলেছিলেন – ” কঠিন কোনো কাজকে যদি কঠিন ভেবে নেওয়া হয় – তাহলে সেই কাজ করা কখনোই সম্ভব হবে না। ‘বাঘ’কে যদি ‘বিড়াল’ ভাবতে পারা যায় – তবেই বাঘের সঙ্গে লড়াই করা যায় বা তাকে মেরে ফেলাও যায়। তেমনি যে কোনো কঠিন কাজকে সম্পন্ন করতে হলে প্রথমেই সেই কাজটিকে আগে সহজ ভেবে নিতে হবে।” আদিবাসীরা বা জঙ্গলের অধিবাসীরাও এই রহস্যটি জানে – ওরাও বাঘকে ভয়ঙ্কর হিংস্র জন্তু না ভেবে আর পাঁচটা সাধারণ জীবের মতোই ভাবে – আর সেভাবেই ওরা বাঘকে কাবু করে ভালোভাবে বেঁধে নিজেদের মহল্লায় নিয়ে যায় !
আদিবাসীরা বাঘ ধরেই বা কেন ? বিভিন্ন সার্কাস কোম্পানি (এখন অবশ্য আইন করে সার্কাস কোম্পানির বাঘ-সিংহ রাখা বন্ধ হয়ে গেছে), চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ, আগেকার দিনের রাজা-জমিদারেরা সরাসরি ওদের কাছ থেকে বাঘ কিনে নিয়ে যেতো ! তাছাড়া ওরা খুবই আনন্দ করে বাঘের মাংস খায় ! বাঘের নখ, জিভ, চামড়া এগুলিরও মার্কেটে খুবই চাহিদা রয়েছে। প্রচুর দামে এগুলি বিক্রি হয় – এইসব কারনেই ওরা আগে বাঘকে ঐভাবে ফাঁদে ফেলে জ্যান্ত ধরে নিয়ে যেতো। ওই পদ্ধতিতে বাঘটির শরীরের কোন আঘাত লাগত না – শুধুমাত্র ২০/২৫ মিনিট একটা ‘ঘোরে’ থাকতো – নড়াচড়া করতেও ভয় পেতো ! আর সেই সুযোগেই আদিবাসীরা বাঘটিকে ভালোভাবে বেঁধে নিজেদের কব্জায় নিয়ে নিতো !
গুরুমহারাজ সিংহের কথাও বলেছিলেন। সিংহের চাল-চলন, হাবভাব, রুচি-স্বভাব সমস্ত পশুদের থেকে আলাদা, সবকিছুই যেন রাজকীয় – তাই সিংহকে পশুরাজ বলা হয়। উদাহরণ হিসাবে উনি বলেছিলেন, সিংহ কখনোই শিশু-শাবক বা স্ত্রী-জাতীয় পশুর শিকার করে না ! বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সিংহ, হরিণ বা গরু-মহিষের দলের মধ্যে সেরাটাকেই শিকার করতে চায় ! সেটাকে ধরতে যদি ব্যর্থ হয় _তাহলেও সচরাচর কোনো দুর্বল পশুকে আঘাত করতে চায় না ! বাঘ-ভাল্লুক যেমন পিছন থেকেই অন্য কাউকে attack করতে ভালোবাসে, সিংহ কিন্তু তা করেনা ! সিংহের যদি দল থাকে _ তাহলে তারা আগে থাকতে planing করে আগে-পিছে, আশেপাশে বিভিন্ন স্থানে এক একজন position নিয়ে নেয়। তারপর পশুর দলকে কেউ একজন সামনাসামনি হয়ে বা গর্জন করে (হরিণ, গরু বা মহিষ) বিভ্রান্ত করে দেয় _ এরপর ওঁত পেতে থাকা সিংহরা দৌড়ে তাদের পিছনে ছুটে তাকে শিকার করে ! কখনোই অতর্কিত ভাবে আক্রমণ করে না। তবে সাধারণত সিংহীরাই শিকার করে – সিংহের শিকার করার প্রয়োজন হয় না ! সিংহীরা কিন্তু পশুর দলের নারী ও শিশুদেরকেও মেরে ফেলে – যেটা সিংহ কদাচ করে না !
শিকার হয়ে গেলে সিংহী শিকারের চামড়া ফাটিয়ে -বুক চিঁড়ে ready করে দেয় এবং সিংহ সেই শিকারটির মৃত শরীরের বিশেষ বিশেষ অঙ্গগুলো (কিডনি, লিভার, হৃদপিণ্ড ইত্যাদি) আগে খায় – তারপর দলের বাচ্চাসহ অন্য সদস্যরা খাবার সুযোগ পায় ! সিংহ বিশ্রামের সময় নাসিকা গর্জন করে, আর এই সময় এবং খাবার সময় কারো disturb সে সহ্য করতে চায় না ! যদি তার ছোট বাচ্চারাও বিরক্ত করে – তাহলেও এক থাবা মেরে তাকে আহত করে দেয়। মা সিংহী এগুলো বোঝে – তাই সেইসময় সে বাচ্চাদেরকে একটু দূরে নিয়ে গিয়ে তাদের সাথে খেলা করে।
আফ্রিকার সিংহ-শিকারী বনবাসী জাতিরা রয়েছে। এদের কাছে সিংহ শিকার করা ছাগল বা হরিণ শিকারের মতোই আমােদের ! ওরা দলবল বেঁধে শুধুমাত্র বড় ছোরা এবং লম্বা লম্বা বিশেষভাবে তৈরি বর্শার সাহায্যে পূর্ণবয়স্ক সিংহকে তাড়া করে মেরে ফেলে। এদেরকে দলবেঁধে বেরোতে দেখলেই সিংহের পালও পালাতে পথ পায় না ! ওরাও জানে – এরা ওদেরকে মেরে ফেলবে। সিংহ মারার জন্য অসম সাহস এবং প্রচন্ড ক্ষিপ্রতা দরকার। সিংহকে তাড়া করলে একসময় সিংহ রেগে গিয়ে যেই তেড়ে এসে মানুষগুলিকে মারার জন্য লাফ মারে – তখন ঐ আদিবাসীরা ওদের বিশেষ বর্শা (যার ডগার দিকে তরোয়ালের মতো বড় এবং ধারালো ফলা লাগানো থাকে। তাছাড়া ওই বর্শাগুলি ডান্ডাসমেত কমপক্ষে ৯/১০ ফুট লম্বা হয়!)-র এক প্রান্ত মাটিতে support দিয়ে ধারালো ফলার অংশটা আড়াআড়ি শক্ত করে ধরে থাকে ! ফলে সিংহটা ১০/১২ ফুট থেকে প্রচন্ড গতিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে ঐ ফলার উপর ! লোকটা দ্রুত সরে যেতেই ফলাটায় সিংহের শরীর একেবারে এফোঁড়-ওফোঁড় হয়ে যায় ! এই অবস্থায় বাকিরা আরও ফলা গেঁথে দেয় বা চপারের মত বড় বড় ছোরার আঘাতে সিংহটাকে একেবারেই কাবু করে দেয়। এইভাবেই আফ্রিকার সিংহ-শিকারীরা আগ্নেয়াস্ত্র ছাড়াই অনায়াসে সিংহদের মেরে ফেলতে পারে।৷(ক্রমশঃ)
