[ আগের সংখ্যায় আমরা দেখেছিলাম যে, একজন ব্যক্তি সে নিজে ”হিন্দু’ বা ভারতীয় হিসাবে গর্ববোধ করে এবং সকলেরই তা করা উচিত__এই প্রসঙ্গে গুরু মহারাজ উত্তর দিচ্ছিলেন । আগে বিভিন্ন ভাবে সাধারণ মানুষের কত লাঞ্ছনা হয়েছে সেই সব কথা উনি আলোচনা করছিলেন! আজ পরবর্তী অংশ]
ভারতে উচ্চবর্ণের অত্যাচারে এবং অনাচারে দলে দলে সাধারণ মানুষ ধর্মান্তরিত হয়েছে ৷ স্বেচ্ছায় ধর্মান্তরিত হয়েছে – শুধুমাত্র চরম অবজ্ঞা আর অবহেলার নির্যাতন থেকে বাঁচতে । হয়তো অনেকে সুবিধা ভোগের জন্যও ধর্মান্তরিত হয়েছে কিন্তু বেশিরভাগ প্রথম দলেই পড়ে ৷ ইসলাম বা খ্রিস্টান ধর্মমতও খুবই গোঁড়া – এদেরও খারাপ দিক রয়েছে কিন্তু Brotherhood ব্যাপারটা থাকায়,নিম্নজাতি-উচ্চজাতি sentiment না থাকায় পদে পদে তাদেরকে অপমান সহ্য করে সমাজে টিকে থাকতে হোতো না ! শুধুমাত্র এই কারণেই দলে দলে সাধারণ দরিদ্র, নিচুতলার মানুষ এইসব ধর্মমত গ্রহণ করেছিল ।
তাছাড়া দ্যাখো, আমরা বলে থাকি ইসলামীয় বা খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষেরা গোঁড়া, কিন্তু তাদের কি আর গোঁড়ামি ? So called হিন্দুদের মধ্যে গোঁড়ামি নাই – যথেষ্ট রয়েছে ! সনাতনী উচ্চবর্ণের মধ্যে ছোঁওয়া-ছুঁয়ি , জাতিভেদ ইত্যাদিগুলি তো গোঁড়ামি থেকেই এসেছে !
ভারতবর্ষে বহু মহাপুরুষ সংকল্প করে শরীর ধারণ করেছেন শুধুমাত্র ব্রাহ্মণ্যধর্ম বা উচ্চবর্ণের লোকেদের নিম্নবর্ণের মানুষের প্রতি অবজ্ঞা আর অবহেলার বিরোধিতা করতে ! কেউ কেউ তো আবার নিম্নবর্ণের সমাজেই শরীর নিতে বাধ্য হয়েছেন ! এই সমস্ত মহাপুরুষেরা সমাজের বিভেদ ভাঙতে নানাভাবে কাজও করেছেন কিন্তু পানা পুকুরে যেমন খানিকটা জল পরিষ্কার করে দিলেও আবার কিছুক্ষণ পর তা পানায় ঢাকা পড়ে যায় – তেমনি ভারতীয়রাও মহাপুরুষদের উপদেশ-নির্দেশ সাময়িক ভাবে মানলেও, পরে তাঁর শিক্ষাকে উপেক্ষা করে বা ভুলে গিয়ে__সেই পূর্বের অবস্থাতেই থেকে গেছে !
ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তে কত মহাজন , মহাপুরুষ , যোগী , সাধক , ভক্ত , তান্ত্রিক , বৈষ্ণব , বাউল , ফকির বিভিন্ন নামে _ বিভিন্নভাবে মানুষের জয়গান করেছেন, জীবনের জয়গান গেয়েছেন ! তাঁরা মানুষকে বুঝিয়েছেন __জাত মানুষের সৃষ্টি , সামাজিক বৈষম্য – অর্থনৈতিক বৈষম্য মানুষের সৃষ্টি _ এগুলি ঈশ্বর-সৃষ্ট নয়! ঈশ্বরের কাছে কোনো ছোট বড় হয় না ! সূর্য যেমন সকল জায়গায় সমানভাবে কিরণ দেয় – কোনো কৃপণতা করে না __তেমনি ঈশ্বরও তদ্রুপ ! সমাজের উচ্চশ্রেণীতে জন্মানো, শিক্ষিত হওয়া, ধনবল-জনবলের অধিকারী হওয়া –এগুলি পূর্ব পূর্ব জন্মের কর্মফল ছাড়া আর কিছুই নয়! এই জন্মে যে ধনী, পরজন্মে সেই ব্যক্তিই গরীব ঘরে জন্মাতে পারে , এই জন্মের অন্তজঃশ্রেণীর লোকও যদি হরিভক্তিপরায়ণ হয় _ তাহলে সে সমাজে ব্রাহ্মণ অপেক্ষাও শ্রেষ্ঠ আসন পেতে পারে !
কিন্তু কে শুনল বল সেইসব কথা ! স্বামী বিবেকানন্দ প্রচন্ড শক্তি প্রয়োগ করে ভারতের মেরুদন্ড ধরে সজোরে নাড়া দেবার পর থেকে তবু ভারত যেন সুপ্তাবস্থা কাটিয়ে একটু জেগে বসেছে । তারপর থেকে ভারতবর্ষ আবার তার হৃতগৌরব ফিরে পাবার জন্য অনেকটাই সচেষ্ট হয়েছে ৷ কিন্তু যেহেতু কালের স্রোতে ভাটিতে অনেকটা পথ চলে আসা হয়েছে __আবার উজান পথে সেই পথ অতিক্রম করে, তবে জাতিটির অগ্রগতি করা সম্ভব হবে ! এই কারণেই দেরি লাগছে । মানুষের চেতনার Level এখনও উন্নত হয়নি । লেখাপড়ার চল হয়েছে দেশে অর্থাৎ শিক্ষার হার বেড়েছে , অর্থনৈতিক উন্নতি হয়েছে সাধারণ মানুষের , সামাজিক মর্যাদাও অনেকাংশে বেড়েছে সাধারণ আমজনতার , কিন্তু সে তুলনায় আধ্যাত্মিক মানুষ বা চেতনায় উন্নত মানুষের সংখ্যা বাড়েনি ৷ আর এই দেশে যতদিন পর্যন্ত অধ্যাত্মচেতনায় উন্নত মানুষের সংখ্যা না বাড়ছে, ততদিন বিরাট আকারে দেশটির কোনো মঙ্গল হবে না ৷
তবে আশার কথা এই যে ২০০২ সালের পর থেকে পৃথিবীর গুরুশক্তি ভারতবর্ষের উন্নতির ভার নিজেরা নিয়ে নিয়েছে – তাই দ্রুত এই দেশটির পরিবর্তন হবে এবং ধীরে ধীরে এই দেশ প্রকৃত অর্থেই ‘যা ছিল’_তাই হয়ে উঠবে ! অর্থাৎ ভারতবর্ষ যেহেতু সমগ্র বিশ্বের মস্তিষ্ক-স্বরূপ অর্থাৎ এই দেশের স্থান পৃথিবীতে সর্বোচ্চস্থানে থাকা উচিত – এবার সেটাই হবে ।৷
ভারতে উচ্চবর্ণের অত্যাচারে এবং অনাচারে দলে দলে সাধারণ মানুষ ধর্মান্তরিত হয়েছে ৷ স্বেচ্ছায় ধর্মান্তরিত হয়েছে – শুধুমাত্র চরম অবজ্ঞা আর অবহেলার নির্যাতন থেকে বাঁচতে । হয়তো অনেকে সুবিধা ভোগের জন্যও ধর্মান্তরিত হয়েছে কিন্তু বেশিরভাগ প্রথম দলেই পড়ে ৷ ইসলাম বা খ্রিস্টান ধর্মমতও খুবই গোঁড়া – এদেরও খারাপ দিক রয়েছে কিন্তু Brotherhood ব্যাপারটা থাকায়,নিম্নজাতি-উচ্চজাতি sentiment না থাকায় পদে পদে তাদেরকে অপমান সহ্য করে সমাজে টিকে থাকতে হোতো না ! শুধুমাত্র এই কারণেই দলে দলে সাধারণ দরিদ্র, নিচুতলার মানুষ এইসব ধর্মমত গ্রহণ করেছিল ।
তাছাড়া দ্যাখো, আমরা বলে থাকি ইসলামীয় বা খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষেরা গোঁড়া, কিন্তু তাদের কি আর গোঁড়ামি ? So called হিন্দুদের মধ্যে গোঁড়ামি নাই – যথেষ্ট রয়েছে ! সনাতনী উচ্চবর্ণের মধ্যে ছোঁওয়া-ছুঁয়ি , জাতিভেদ ইত্যাদিগুলি তো গোঁড়ামি থেকেই এসেছে !
ভারতবর্ষে বহু মহাপুরুষ সংকল্প করে শরীর ধারণ করেছেন শুধুমাত্র ব্রাহ্মণ্যধর্ম বা উচ্চবর্ণের লোকেদের নিম্নবর্ণের মানুষের প্রতি অবজ্ঞা আর অবহেলার বিরোধিতা করতে ! কেউ কেউ তো আবার নিম্নবর্ণের সমাজেই শরীর নিতে বাধ্য হয়েছেন ! এই সমস্ত মহাপুরুষেরা সমাজের বিভেদ ভাঙতে নানাভাবে কাজও করেছেন কিন্তু পানা পুকুরে যেমন খানিকটা জল পরিষ্কার করে দিলেও আবার কিছুক্ষণ পর তা পানায় ঢাকা পড়ে যায় – তেমনি ভারতীয়রাও মহাপুরুষদের উপদেশ-নির্দেশ সাময়িক ভাবে মানলেও, পরে তাঁর শিক্ষাকে উপেক্ষা করে বা ভুলে গিয়ে__সেই পূর্বের অবস্থাতেই থেকে গেছে !
ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তে কত মহাজন , মহাপুরুষ , যোগী , সাধক , ভক্ত , তান্ত্রিক , বৈষ্ণব , বাউল , ফকির বিভিন্ন নামে _ বিভিন্নভাবে মানুষের জয়গান করেছেন, জীবনের জয়গান গেয়েছেন ! তাঁরা মানুষকে বুঝিয়েছেন __জাত মানুষের সৃষ্টি , সামাজিক বৈষম্য – অর্থনৈতিক বৈষম্য মানুষের সৃষ্টি _ এগুলি ঈশ্বর-সৃষ্ট নয়! ঈশ্বরের কাছে কোনো ছোট বড় হয় না ! সূর্য যেমন সকল জায়গায় সমানভাবে কিরণ দেয় – কোনো কৃপণতা করে না __তেমনি ঈশ্বরও তদ্রুপ ! সমাজের উচ্চশ্রেণীতে জন্মানো, শিক্ষিত হওয়া, ধনবল-জনবলের অধিকারী হওয়া –এগুলি পূর্ব পূর্ব জন্মের কর্মফল ছাড়া আর কিছুই নয়! এই জন্মে যে ধনী, পরজন্মে সেই ব্যক্তিই গরীব ঘরে জন্মাতে পারে , এই জন্মের অন্তজঃশ্রেণীর লোকও যদি হরিভক্তিপরায়ণ হয় _ তাহলে সে সমাজে ব্রাহ্মণ অপেক্ষাও শ্রেষ্ঠ আসন পেতে পারে !
কিন্তু কে শুনল বল সেইসব কথা ! স্বামী বিবেকানন্দ প্রচন্ড শক্তি প্রয়োগ করে ভারতের মেরুদন্ড ধরে সজোরে নাড়া দেবার পর থেকে তবু ভারত যেন সুপ্তাবস্থা কাটিয়ে একটু জেগে বসেছে । তারপর থেকে ভারতবর্ষ আবার তার হৃতগৌরব ফিরে পাবার জন্য অনেকটাই সচেষ্ট হয়েছে ৷ কিন্তু যেহেতু কালের স্রোতে ভাটিতে অনেকটা পথ চলে আসা হয়েছে __আবার উজান পথে সেই পথ অতিক্রম করে, তবে জাতিটির অগ্রগতি করা সম্ভব হবে ! এই কারণেই দেরি লাগছে । মানুষের চেতনার Level এখনও উন্নত হয়নি । লেখাপড়ার চল হয়েছে দেশে অর্থাৎ শিক্ষার হার বেড়েছে , অর্থনৈতিক উন্নতি হয়েছে সাধারণ মানুষের , সামাজিক মর্যাদাও অনেকাংশে বেড়েছে সাধারণ আমজনতার , কিন্তু সে তুলনায় আধ্যাত্মিক মানুষ বা চেতনায় উন্নত মানুষের সংখ্যা বাড়েনি ৷ আর এই দেশে যতদিন পর্যন্ত অধ্যাত্মচেতনায় উন্নত মানুষের সংখ্যা না বাড়ছে, ততদিন বিরাট আকারে দেশটির কোনো মঙ্গল হবে না ৷
তবে আশার কথা এই যে ২০০২ সালের পর থেকে পৃথিবীর গুরুশক্তি ভারতবর্ষের উন্নতির ভার নিজেরা নিয়ে নিয়েছে – তাই দ্রুত এই দেশটির পরিবর্তন হবে এবং ধীরে ধীরে এই দেশ প্রকৃত অর্থেই ‘যা ছিল’_তাই হয়ে উঠবে ! অর্থাৎ ভারতবর্ষ যেহেতু সমগ্র বিশ্বের মস্তিষ্ক-স্বরূপ অর্থাৎ এই দেশের স্থান পৃথিবীতে সর্বোচ্চস্থানে থাকা উচিত – এবার সেটাই হবে ।৷
