গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দে জীবনে প্রকাশিত নানা মহিমার কথা বলা হচ্ছিলো। আসলে ওনার জীবনে ঘটে যাওয়া সমস্ত ঘটনাই মহিমায় ভরা – ওনার হাসি, ওনার কথা বলা, ওনার হাঁটাচলা, এককথায় ওনার মাতৃগর্ভে আগমন থেকে ১৯৯৯ সালের ২১-শে নভেম্বর বনগ্রাম থেকে বিদায়ের আগের মুহূর্ত (কলকাতার নামী নার্সিংহোমের শেষ ছয়দিনের কথা আমরা বিশেষ জানতে পারিনি) পর্যন্ত তাঁর সমস্ত কিছুই মহা মহিমময় !
ঐ ১৯৯৯ সালের ২১-শে নভেম্বর রবিবারের কথাই ধরুন না ! সেদিন যারা বনগ্রাম আশ্রমে গিয়েছিল এমন শত শত ভক্তেরা তো প্রত্যক্ষ করেছে – গুরুমহারাজ কতটা fresh, কতটা উচ্ছল-প্রাণবন্তভাবে সকালে এবং বিকেলে সিটিং করেছেন ! যদিও তপিমা-র কাছে শুনেছিলাম (তখন তপিমা-ই গুরুমহারাজের দেখভাল করতেন) যে, ঐদিন সকাল থেকেই গুরুমহারাজের শরীরটা ভাল ছিল না ! শারীরিকভাবে উনি খুবই দুর্বলবোধ করছিলেন ! তপিমা’রা ওনাকে সেদিন সিটিংয়ে বসতে বারণও করেছিলেন। কিন্তু করুণারসাগর গুরুমহারাজ সেদিন বলেছিলেন – ” বাইরে থেকে এতো ভক্তরা এসেছে – ওদেরকে আমি বঞ্চিত করি কি করে বল্ !” তারপর উনি বাইরে এসেছিলেন এবং সিটিং-এ বসার পর উপস্থিতজনেরা কেউ ধরতেই পারে নি যে উনি এতোটা অসুস্থ ! তিনি সবার সব জিজ্ঞাসার উত্তর দিয়েছিলেন – সবার সাথে আর পাঁচটা দিনের মতোই মজা-হাসি-আনন্দ করেছিলেন। উপস্থিত সবার মন-প্রাণ পরমানন্দে ভরিয়ে দিয়েছিলেন।
সেইদিন সকালে এবং বিকালে যে সমস্ত ভক্তেরা উপস্থিত ছিল, তাদের অনেকের সাথে আমার কথা হয়েছিল। তারা প্রায় প্রত্যেকেই বলেছিল – ” আমরা তেমন কিছুই বুঝতে পারিনি !” তবে দুপুরের সময়ে ঘরে যারা একান্তে দেখা করতে গিয়েছিল – এমন দু-একজনের কাছে উনি কিছু ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বলেছিলেন, যেগুলো তারা পরে মনে করতে পেরেছিল। উদাহরণ হিসাবে বলছি – যেমন একজন গুরুমহারাজকে তার বাড়ি যাবার জন্য অনুরোধ করায় গুরুমহারাজ বলেছিলেন – ” দেখছিস তো আমার অবস্থা-এখানে কতো মানুষজনের সাথে communicationকরতে হয় ! কি করে সব জায়গায় যাই বল্ তো ! তবে আমি না গেলেও আমার সন্তানেরা (বনগ্রাম আশ্রমের সাধু-সন্তরা) তোর বাড়ি যাবে, আর ওরা গেলেই আমার যাওয়া হবে। এই নিয়ে তুই মনে কোনো দুঃখ রাখিস না – কেমন ?”
কাছাকাছি কোনো আশ্রমে (যে সব শাখায় গুরুমহারাজ প্রতিবছর যেতেন) উনি সেইবছর কখন যাবেন – সেটা একজন জিজ্ঞাসা করেছিল। গুরুমহারাজ তাকে বলেছিলেন – “এবার বোধহয় তোদের ওদিকে যাওয়া হবে না !” এইরকম কিছু কথা গুরুমহারাজ ১৯৯৯ সালের ২১-শে নভেম্বর বলেছিলেন – যেগুলি আমরা পরে শুনতে পেয়েছিলাম।
যাইহোক, সেই শেষের দিনের আলোচনায় আমরা বেশিক্ষণ থাকবো না – কারণ আমরা জানি গুরুমহারাজ এখনো সেইভাবেই রয়েছেন, সেইভাবেই সিটিং করছেন, সেইভাবেই ভক্তজনেদের করুণা করে যাচ্ছেন ! আর তিনি এইভাবেই ভক্তহৃদয়ে চিরকাল বিরাজিত থাকবেন সদাজাগ্রত হয়ে, নিত্য বর্তমান হয়ে ! আমরা ফিরে যাই আমাদের আগের আলোচনায় – যেখানে আমরা পশু-পাখির সাথে গুরুমহারাজের communication করার কথা বলছিলাম ! আমরা আগে একবার আলোচনা করেছিলাম – তবুও আর একবার উল্লেখ করবো গুরুমহারাজের জীবনে ঘটে যাওয়া একটা বিশেষ ঘটনা – যার পর থেকেই উনি গাছপালা এবং পশুপাখির ভাষা সহজেই বুঝতে পারতেন এবং তাদের সাথে communication-ও করতে পারতেন !
গুরুমহারাজ বলেছিলেন – ” একদিন গভীর রাত্রে বনগ্রাম আশ্রমে আমার ঘরের বারান্দায় বসে আছি, আমার দৃষ্টি ছিল আকাশেরই দিকে। রাত্রির নক্ষত্রখচিত আকাশের দিকে তাকিয়ে থেকে আমার জীবনের কত রাত কেটে গেছে – তার ঠিক নাই ! সেইরকমই তাকিয়ে ছিলাম,– হঠাৎ দেখি একটা উজ্জ্বল নীল রঙের কিছু একটা আকাশ থেকে নিচের দিকে নেমে আসছে এবং আশ্রমের গাছপালা, ঘর-বাড়ি সবকিছু সেই তীব্র নীলাভ আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে উঠছে ! আমি ভালো করে কিছু বুঝে ওঠার আগেই সেই নীলাভ/সবুজ আলো একটা উজ্জ্বল জ্যোতিঃর্বলয়ের আকারে আমার সামনে এসে স্থির হয়ে গেল ! আমি আমার শরীরের দিকে দৃষ্টিপাত করে দেখলাম – শরীরটা একেবারে স্থির হয়ে গেছে এবং শরীরের সমস্ত গ্রন্থিগুলো যেন খটাখট্ শব্দ করে এমনভাবে নিজেকে Set করে নিল যাতে অজানা কোনো শক্তির সঙ্গে শরীরটা মোকাবিলা করতে পারে।
তারপর শুরু হোল আলোর খেলা ! ঐ অদ্ভুত জ্যোতিঃর্বলয় ধীরে ধীরে মনুষ্যাকৃতি ধারণ করেছিল। আর ঐ আকৃতির নাভিপ্রদেশ থেকে বেরোতে লাগলো বিচিত্র বর্ণের আলোক শক্তি, আর আমার শরীরের নাভিদেশ থেকেও বিভিন্ন আলোক রশ্মির ন্যায় শক্তি নির্গত হতে থাকলো ! এইভাবে বিচিত্র দুই ধরনের আলোক শক্তির বিনিময় হোতে লাগল, আর আমি শুধু দ্রষ্টাবৎ বসে-ই থাকলাম – কারণ আমার হাত-পা সহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এমনভাবে set হয়ে গেছিলো যে, আমার নড়াচড়া করার কোন উপায়-ই ছিল না ! তাই যতক্ষণ পর্যন্ত না ওই অদ্ভুত মনুষ্যাকৃতি শরীর থেকে আলোকতরঙ্গের ন্যায় শক্তি নিঃসরণ বন্ধ হলো – ততক্ষণ আমি চুপচাপ বসে থাকতে বাধ্য হয়েছিলাম।” গুরুমহারাজ বলেছিলেন – “এই ঘটনার পর-ই দেখেছিলাম আমার মধ্যে গাছপালা এবং পশুপাখির সঙ্গে communication করার শক্তি এসে গিয়েছিল।”
আসলে আলোক তরঙ্গ বা জ্যোতিঃতরঙ্গের মাধ্যমে অনেক কিছুর আদান-প্রদান হয়েছিল সেদিন! [ক্রমশঃ]
ঐ ১৯৯৯ সালের ২১-শে নভেম্বর রবিবারের কথাই ধরুন না ! সেদিন যারা বনগ্রাম আশ্রমে গিয়েছিল এমন শত শত ভক্তেরা তো প্রত্যক্ষ করেছে – গুরুমহারাজ কতটা fresh, কতটা উচ্ছল-প্রাণবন্তভাবে সকালে এবং বিকেলে সিটিং করেছেন ! যদিও তপিমা-র কাছে শুনেছিলাম (তখন তপিমা-ই গুরুমহারাজের দেখভাল করতেন) যে, ঐদিন সকাল থেকেই গুরুমহারাজের শরীরটা ভাল ছিল না ! শারীরিকভাবে উনি খুবই দুর্বলবোধ করছিলেন ! তপিমা’রা ওনাকে সেদিন সিটিংয়ে বসতে বারণও করেছিলেন। কিন্তু করুণারসাগর গুরুমহারাজ সেদিন বলেছিলেন – ” বাইরে থেকে এতো ভক্তরা এসেছে – ওদেরকে আমি বঞ্চিত করি কি করে বল্ !” তারপর উনি বাইরে এসেছিলেন এবং সিটিং-এ বসার পর উপস্থিতজনেরা কেউ ধরতেই পারে নি যে উনি এতোটা অসুস্থ ! তিনি সবার সব জিজ্ঞাসার উত্তর দিয়েছিলেন – সবার সাথে আর পাঁচটা দিনের মতোই মজা-হাসি-আনন্দ করেছিলেন। উপস্থিত সবার মন-প্রাণ পরমানন্দে ভরিয়ে দিয়েছিলেন।
সেইদিন সকালে এবং বিকালে যে সমস্ত ভক্তেরা উপস্থিত ছিল, তাদের অনেকের সাথে আমার কথা হয়েছিল। তারা প্রায় প্রত্যেকেই বলেছিল – ” আমরা তেমন কিছুই বুঝতে পারিনি !” তবে দুপুরের সময়ে ঘরে যারা একান্তে দেখা করতে গিয়েছিল – এমন দু-একজনের কাছে উনি কিছু ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বলেছিলেন, যেগুলো তারা পরে মনে করতে পেরেছিল। উদাহরণ হিসাবে বলছি – যেমন একজন গুরুমহারাজকে তার বাড়ি যাবার জন্য অনুরোধ করায় গুরুমহারাজ বলেছিলেন – ” দেখছিস তো আমার অবস্থা-এখানে কতো মানুষজনের সাথে communicationকরতে হয় ! কি করে সব জায়গায় যাই বল্ তো ! তবে আমি না গেলেও আমার সন্তানেরা (বনগ্রাম আশ্রমের সাধু-সন্তরা) তোর বাড়ি যাবে, আর ওরা গেলেই আমার যাওয়া হবে। এই নিয়ে তুই মনে কোনো দুঃখ রাখিস না – কেমন ?”
কাছাকাছি কোনো আশ্রমে (যে সব শাখায় গুরুমহারাজ প্রতিবছর যেতেন) উনি সেইবছর কখন যাবেন – সেটা একজন জিজ্ঞাসা করেছিল। গুরুমহারাজ তাকে বলেছিলেন – “এবার বোধহয় তোদের ওদিকে যাওয়া হবে না !” এইরকম কিছু কথা গুরুমহারাজ ১৯৯৯ সালের ২১-শে নভেম্বর বলেছিলেন – যেগুলি আমরা পরে শুনতে পেয়েছিলাম।
যাইহোক, সেই শেষের দিনের আলোচনায় আমরা বেশিক্ষণ থাকবো না – কারণ আমরা জানি গুরুমহারাজ এখনো সেইভাবেই রয়েছেন, সেইভাবেই সিটিং করছেন, সেইভাবেই ভক্তজনেদের করুণা করে যাচ্ছেন ! আর তিনি এইভাবেই ভক্তহৃদয়ে চিরকাল বিরাজিত থাকবেন সদাজাগ্রত হয়ে, নিত্য বর্তমান হয়ে ! আমরা ফিরে যাই আমাদের আগের আলোচনায় – যেখানে আমরা পশু-পাখির সাথে গুরুমহারাজের communication করার কথা বলছিলাম ! আমরা আগে একবার আলোচনা করেছিলাম – তবুও আর একবার উল্লেখ করবো গুরুমহারাজের জীবনে ঘটে যাওয়া একটা বিশেষ ঘটনা – যার পর থেকেই উনি গাছপালা এবং পশুপাখির ভাষা সহজেই বুঝতে পারতেন এবং তাদের সাথে communication-ও করতে পারতেন !
গুরুমহারাজ বলেছিলেন – ” একদিন গভীর রাত্রে বনগ্রাম আশ্রমে আমার ঘরের বারান্দায় বসে আছি, আমার দৃষ্টি ছিল আকাশেরই দিকে। রাত্রির নক্ষত্রখচিত আকাশের দিকে তাকিয়ে থেকে আমার জীবনের কত রাত কেটে গেছে – তার ঠিক নাই ! সেইরকমই তাকিয়ে ছিলাম,– হঠাৎ দেখি একটা উজ্জ্বল নীল রঙের কিছু একটা আকাশ থেকে নিচের দিকে নেমে আসছে এবং আশ্রমের গাছপালা, ঘর-বাড়ি সবকিছু সেই তীব্র নীলাভ আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে উঠছে ! আমি ভালো করে কিছু বুঝে ওঠার আগেই সেই নীলাভ/সবুজ আলো একটা উজ্জ্বল জ্যোতিঃর্বলয়ের আকারে আমার সামনে এসে স্থির হয়ে গেল ! আমি আমার শরীরের দিকে দৃষ্টিপাত করে দেখলাম – শরীরটা একেবারে স্থির হয়ে গেছে এবং শরীরের সমস্ত গ্রন্থিগুলো যেন খটাখট্ শব্দ করে এমনভাবে নিজেকে Set করে নিল যাতে অজানা কোনো শক্তির সঙ্গে শরীরটা মোকাবিলা করতে পারে।
তারপর শুরু হোল আলোর খেলা ! ঐ অদ্ভুত জ্যোতিঃর্বলয় ধীরে ধীরে মনুষ্যাকৃতি ধারণ করেছিল। আর ঐ আকৃতির নাভিপ্রদেশ থেকে বেরোতে লাগলো বিচিত্র বর্ণের আলোক শক্তি, আর আমার শরীরের নাভিদেশ থেকেও বিভিন্ন আলোক রশ্মির ন্যায় শক্তি নির্গত হতে থাকলো ! এইভাবে বিচিত্র দুই ধরনের আলোক শক্তির বিনিময় হোতে লাগল, আর আমি শুধু দ্রষ্টাবৎ বসে-ই থাকলাম – কারণ আমার হাত-পা সহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এমনভাবে set হয়ে গেছিলো যে, আমার নড়াচড়া করার কোন উপায়-ই ছিল না ! তাই যতক্ষণ পর্যন্ত না ওই অদ্ভুত মনুষ্যাকৃতি শরীর থেকে আলোকতরঙ্গের ন্যায় শক্তি নিঃসরণ বন্ধ হলো – ততক্ষণ আমি চুপচাপ বসে থাকতে বাধ্য হয়েছিলাম।” গুরুমহারাজ বলেছিলেন – “এই ঘটনার পর-ই দেখেছিলাম আমার মধ্যে গাছপালা এবং পশুপাখির সঙ্গে communication করার শক্তি এসে গিয়েছিল।”
আসলে আলোক তরঙ্গ বা জ্যোতিঃতরঙ্গের মাধ্যমে অনেক কিছুর আদান-প্রদান হয়েছিল সেদিন! [ক্রমশঃ]
