জিজ্ঞাসু : ~ আশ্রমের নানান ঘর-বাড়ি হচ্ছে – এতেই তো যা খরচ , খাওয়া দাওয়ার জন্য আর কি এমন খরচ হয় ? Development-এর খরচের কাছে রান্নাঘরের খরচ নগণ্য নয় কি ?
গুরু মহারাজ : ~ তাই নাকি ? রান্নাঘরের খরচ নগণ্য ? তাহলে রান্নাঘরের ভারটা একবার নাও তো , বেশি দিনের জন্য নয় দু-তিন বছরের জন্য –নাও! তাহলেই এখানকার (বনগ্রাম আশ্রমের) devolopment-এর সমস্ত কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে ৷ এখানে আমার যেটুকু project, সেটা complete হয়ে যাবে ।
তবে বনগ্রাম পরমানন্দ মিশন বহুদিন থাকবে – আশ্রমের devolopment-এর কাজও চলতে থাকবে – সেগুলো পরবর্তীর কথা ! আমি বলতে চাইলাম_ আশ্রমের কাজে আমার যেটুকু ভূমিকা, সেটা আমি ২/১ বছরের মধ্যেই সেরে ফেলবো __যদি ঐ সময়টুকুর জন্য রান্না-খাওয়ার খরচ আমাকে চালাতে না হয় !
দ্যাখো, এবার তো আমি বাইরে থেকে মহালয়ার আগে (1993 , September) আশ্রমে ফিরেছি ৷ আমার ফেরার পর থেকে মুরারী (স্বামী নিষ্কমানন্দ) দূর্গাপূজা পর্যন্ত খাওয়া-দাওয়ার খরচ বাবদ, আমার কাছ থেকে নিয়েছে ১৪০০০/-(চোদ্দ হাজার) টাকা , দুর্গাপূজা থেকে লক্ষ্মী পূজা পর্যন্ত ৪৩০০০/- (তেতাল্লিশ হাজার) টাকা , লক্ষ্মী পূজা থেকে কালীপূজা পর্যন্ত ৩৭০০০/- (সাঁইত্রিশ হাজার) টাকা । এগুলো শুধুই রান্না ঘরের খরচ বা খাওয়া-দাওয়ার খরচ !
আমি জানি ঈশ্বরের ইচ্ছাতেই সবকিছু চলে – তাই এখানেও সমস্ত কাজকর্ম এইভাবেই চলে যাচ্ছে । আমি মা-য়ের (মা জগদম্বা) খাই , মা-য়ের নির্দেশে সব কাজ করি – তাই মা (জগদম্বা)-ই এগুলো দেখেন !
এখন এখানে অতি দ্রুত কাজের পরিসর বাড়ছে , আশ্রমের স্কুল building-এর কাজ শুরু হয়েছে , আশ্রম আশ্রমিক বালকের সংখ্যা বাড়ছে , আশ্রমে আসা ভক্তের সংখ্যা বাড়ছে – তাহলে এতো খরচ সামাল দেওয়া হবে কোথা থেকে ? সবাই উদ্বিগ্ন হয় – কিন্তু আমি উদ্বিগ্ন হই না ! আশ্রমের কোনো কোনো কাজ হয়তো তৃষাণ বা মুরারি __আমার অনুপস্থিতিতেই শুরু করে দিয়েছে – আমি এসে যখন জানতে পারি, তখন ওদেরকে বলি _’দ্যাখো,এইটা এইটা হবে , ওইটা কিন্তু হবে না ৷’ ওরা হয়তো ভাবে গুরুদেবের ইচ্ছা নয় – কিন্তু তা নয় ! আমি মা-য়ের নির্দেশ অনুযায়ী চলি , মা – বলে দেন কোনটা হবে আর কোনটা হবে না – আমিও সেই অনুযায়ী ওদের নির্দেশ দিই বা সেই অনুযায়ী কাজ করতে বলি ।
আশ্রমের একটা fund-এর টাকা থেকে আলু কিনে হিমঘরে রাখা হয়েছিল ! এসব লাভজনক ব্যবসা এখানে(বনগ্রাম আশ্রমে) হবে না, সেটা আমি আগে থেকেই জানতাম । তবু ওরা রেখেছিল ! আমি তখন বাইরে , ‘মা’ (জগদম্বা) আমাকে বললেন , ” আশ্রমের টাকা নষ্ট হয়ে যাবে – আলু বিক্রি করে দাও ।” আমি সঙ্গে সঙ্গে ওখান থেকে ফোন করে তৃষাণদের বললাম , ” আলু বিক্রি করে দাও ।” ওরা শুনল না আমার কথা । বিভিন্ন ব্যবসাদারেরা বলেছে _’আলুর পরে আরো দাম হবে ।’ কিন্তু তা হোলো না । পুরো টাকাটাই Loss হোল ৷ হিমঘর মালিক পরিচিত এবং আশ্রমের ব্যাপার-স্যাপার জানে, তাই হয়তো কিছু পাওয়া গেছিল ।
সুতরাং বুঝতে পারছো তো কিভাবে চলে আশ্রম ? আজেবাজে টাকায় নয়, শুধুমাত্র মানুষের ভালোবাসার টাকায় এই আশ্রম চলে । আমাদের আশ্রমের ব্রহ্মচারী সন্ন্যাসীরা গ্রামে-গ্রামে , বিভিন্ন শহরের কোনায় কোনায় যায় , মানুষকে আশ্রমের কথা বলে, অনেকে এখানে এসে এখানকার কর্মপদ্ধতি দেখে যায় – ফলে তাদের অনেকেই সাহায্য করে । তাছাড়া আমাদের আশ্রমের মুখপত্র রয়েছে ‘চরৈবেতি’ – এটাকে মানুষের কাছে কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় , এর মাধ্যমেও মানুষের কাছে আশ্রমের বার্তা পৌঁছে যায় ৷ অনেক মানুষ এই আদর্শকে ভালবেসে আশ্রমে আসে এবং আমাদের সাহায্য করে । এইসব করেই চলে যাচ্ছে _বাবা ৷ ভেবোনা কালো টাকায় আশ্রম চলে, অথবা বিদেশি সাহায্যে ! বিদেশি ভক্তরা অবশ্যই কিছু দেয় ব‌ই কি– তবে এখানকার মানুষের ভালোবাসাতেই বনগ্রাম আশ্রমের কাজ চলছে!