জিজ্ঞাসু : ~ আশ্রমে একজনকে আপনি ‘ছোটমা’ বলেন – তাহলে কি ‘বড় মা’ বা এরকম আরও ‘মা’ আছে আপনার ??
( গুরু মহারাজ প্রথমে হেসে ফেললেন জিজ্ঞাসা করার ধরণ দেখে – তারপর বলতে শুরু করলেন – )
গুরু মহারাজ : ~ তোমরা এক একটি এমন ‘যন্ত্র’ – আমি না হয়ে অন্য কোন ‘সাধুবাবা’ হোলে তোমাদের জন্য বড় ডান্ডা রাখতো হাতে – আর এইসব উল্টাপাল্টা জিজ্ঞাসার জন্য লাগাতো দু-চারটে ঘা !
“আপনার আরও ‘মা’ আছে”– বলতে কি বলতে চাইছো ? আমার সবাই ‘মা’ । সব নারীশরীর-ই আমার ‘মা’ ৷ আমার গর্ভধারিনী রয়েছেন , এছাড়া রায়নার জগাদার মা , চক্ষণজাদীর টগরের মা – এরা সবাই আমার গর্ভধারিনী মায়ের মতোই ৷ ‘ছোটমা’ – নামে যাকে এখন দেখছো আশ্রমে – উনি খুব বড় ঘরের বউ । ওনাদের বাড়ি ধামাসে (বর্ধমান জেলা) , দাশরথি তা-দের family-র লোক (দাশরথি তা কংগ্রেস আমলের একজন বর্ধমানের নেতা ছিল , ওরা বড় ব্যবসাদারও বটে !) ।
ছোটমার সাথে আমার প্রথম যখন আলাপ হয়, তখন আমি Rural Electrification-এ কাজ করি ৷ তখন ধামাসে কাজ চলছিল , স্থানীয় লোকদের সাথে দাশরথির ছেলে গোপী তা-ও ছিল কাজের ওখানে। ওরা বিশিষ্ট গ্রামবাসী হিসাবে কাজকর্ম দেখে নিচ্ছিলো ৷ এবার আমি কর্মক্লান্ত হয়ে ঐখানে রাস্তার ধারে একটা তলা বাঁধানো বট/অশ্বত্থ গাছের বেদীতে জুতো পড়ে উঠে বসে পড়েছি । আর যায় কোথায় ! সবাই হাঁ – হাঁ করে উঠলো ৷ ” ওটা ছোটমার প্রতিষ্ঠা করা গাছ – ওখানে জুতো পড়ে উঠে বসলেন – দেখুন এবার আপনার কি হয় ?”
ঘটনা কিছু ঘটার আগেই দু-চারজন কেটে পড়ল , এমনকি গোপী তা-ও পালিয়ে গেল ৷ ইতিমধ্যে একটা মেয়ে গিয়ে ছোটমাকে খবর দিয়ে দিয়েছে ! আমি কিন্তু ওইখানেই বসে থাকলাম –উঠিনি ! কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখি একজন রোগা মত ‘মা’ গালাগালি দিতে দিতে আসছে । আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে পড়ে আমাকে ভালোরকম দেখলো, তারপর কাছে এসে বলল , ” তুমি কাদের বাড়ির গোপাল গো !” আমি উত্তর দিলাম , “আমি তোমার গোপাল !” এই কথাকটি শুনেই উনি এগিয়ে এসে আমার কপাল ধরে কত আদর করলেন ! সেই থেকেই উনি আমার ‘মা’ হলেন _আর আমি ওনার”গোপাল” হ’লাম !
যেহেতু গোপী তা-রা ওনাকে ‘ছোট মা’ (ওনাদের ছোট কাকীমা) বলতো , তাই আমিও ‘ছোট মা’ বলতাম , আর এখন আশ্রমেও সবাই ‘ছোট মা’ বলে ৷
আমি যাকেই ‘মা’ বলে ডাকি , আমি তার ভার নিই । সেই ঘটনার পর কতদিন কেটে গেছে_আমাদের সম্পর্ক কিন্তু রয়েই গেছে। পরবর্তীকালে আমাদের এখানে(বনগ্রামে) আশ্রম হয়েছে ৷ ছোট মা-ও বৃদ্ধা হয়েছে , ওখানকার বাড়িতে নানান অসুবিধা ! কারণ ছেলেপুলে নেই – কে দেখবে বৃদ্ধ বয়সে ! তার উপরে কিছুদিন আগে ওনার কঠিন ব্যধি হয়েছিল ৷ তাই ছোটমা চলে এলো আশ্রমে ! আর আসবেই তো_ছেলের কাছে মা সবসময় নিঃসংকোচে আসবে !
সেই থেকে ছোটমা এখানেই রয়েছে ! এখন রোগ মুক্তিও ঘটেছে – এবার মনের রোগ মুক্তি হলেই মুক্তি ঘটবে ।
রায়নার জগাদার সাথে যখন আমার আলাপ হ’ল তখন জগাদার সাথে ওদের বাড়িতে গিয়ে জগাদার গর্ভধারিনী মা-কে দেখলাম ৷ বাড়িতে ঢুকেই ‘মা’ বলে ডাকলাম, উনিও ‘ছেলে’ –বলে আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন । ব্যস্ , সেই থেকেই রায়নার জগাদার মা আমার ‘মা’ হয়ে গেল ।
Rural Electrification -এর কাজ যখন চক্ষণজাদীতে চলছিল অর্থাৎ ঐ অঞ্চলে তখন প্রথম বিদ্যুতের খুঁটি পোঁতা , তার টাঙানো – এইসব কাজ চলছিলো_তখন একদিন টগরের মা-য়ের সাথে দেখা হয়েছিল ৷ তখন ঐসব গ্রামের প্রান্তে Camp বা তাঁবু টাঙানো হোতো , সেখানেই আমরা সব কর্মীরা থাকতাম । যাইহোক, তখন গ্রীষ্মকাল ছিল ! একদিন বিভিন্ন field পরিদর্শন করে প্রচন্ড গ্রীষ্মের মধ্যেই সাইকেল চালিয়ে ক্যাম্পে ফিরছি _ এত রোদ্দুর আর গরম যে অসহ্য হয়ে যাচ্ছিলো , আর তেষ্টায় আমার ছাতি ফেটে যাবার উপক্রম হচ্ছিলো । চক্ষণজাদী গ্রামে ঢুকেই এক জায়গায় একটু ছায়া দেখে দাঁড়িয়েছি আর ভাবছি একটু জল পেলে বেশ হয় ৷ দেখি সামনের বাড়ির Main দরজায় একজন ‘মা’ দাঁড়িয়ে আমাকে ঘর্মাক্ত আর পরিশ্রান্ত দেখে ডাকছেন , ” ওখানে কেন বাপ্ , এখানটায় এসো ।” চক্ষণজাদীর মা-কে দেখেছো_ চোখ দুটো উপর দিকে তোলা – আধ্যাত্মিক মহিলার লক্ষণ !
যাইহোক , আমি তো ওনার এক কথায় রাজি ! ঢুকে পড়লাম বাড়ির ভিতর । মা জিজ্ঞাসা করলেন , ” পানি খাবে বাবা !” আমি বললাম , ” হ্যাঁ – মা , খাবো ।” ব্যস , ঐ যে “মা” বললাম _তো উনি ‘মা’ হয়ে গেলেন ৷ ওনার স্বামী ছাত্তার (সাত্তার ?) সাহেব বাড়িতেই ছিলেন , বাইরে এসে আমাকে দেখে ডেকে নিয়ে গেলেন ভিতরে । বললেন ” বাড়িতে ডাব আছে তো , ছেলেকে ডাব কেটে দাও ৷” ছাত্তার সাহেব খুবই জমাটি মানুষ ছিলেন , ফলে আমার সাইকেল বাইরেই পড়ে থাকলো , জমে গেল গল্প । নানা গল্পগুজব সেরে মা-য়ের হাতে খেয়ে সেদিন ছাড়া পেলাম । সেই থেকেই উনিও ‘মা’ ![টগরদার কাছে শুনেছিলাম–ঐ ঘটনার আগেই– ওদের সাথে রবীনদার বা গুরু মহারাজের দেখা হয়েছিল] ….. [ক্রমশঃ]
( গুরু মহারাজ প্রথমে হেসে ফেললেন জিজ্ঞাসা করার ধরণ দেখে – তারপর বলতে শুরু করলেন – )
গুরু মহারাজ : ~ তোমরা এক একটি এমন ‘যন্ত্র’ – আমি না হয়ে অন্য কোন ‘সাধুবাবা’ হোলে তোমাদের জন্য বড় ডান্ডা রাখতো হাতে – আর এইসব উল্টাপাল্টা জিজ্ঞাসার জন্য লাগাতো দু-চারটে ঘা !
“আপনার আরও ‘মা’ আছে”– বলতে কি বলতে চাইছো ? আমার সবাই ‘মা’ । সব নারীশরীর-ই আমার ‘মা’ ৷ আমার গর্ভধারিনী রয়েছেন , এছাড়া রায়নার জগাদার মা , চক্ষণজাদীর টগরের মা – এরা সবাই আমার গর্ভধারিনী মায়ের মতোই ৷ ‘ছোটমা’ – নামে যাকে এখন দেখছো আশ্রমে – উনি খুব বড় ঘরের বউ । ওনাদের বাড়ি ধামাসে (বর্ধমান জেলা) , দাশরথি তা-দের family-র লোক (দাশরথি তা কংগ্রেস আমলের একজন বর্ধমানের নেতা ছিল , ওরা বড় ব্যবসাদারও বটে !) ।
ছোটমার সাথে আমার প্রথম যখন আলাপ হয়, তখন আমি Rural Electrification-এ কাজ করি ৷ তখন ধামাসে কাজ চলছিল , স্থানীয় লোকদের সাথে দাশরথির ছেলে গোপী তা-ও ছিল কাজের ওখানে। ওরা বিশিষ্ট গ্রামবাসী হিসাবে কাজকর্ম দেখে নিচ্ছিলো ৷ এবার আমি কর্মক্লান্ত হয়ে ঐখানে রাস্তার ধারে একটা তলা বাঁধানো বট/অশ্বত্থ গাছের বেদীতে জুতো পড়ে উঠে বসে পড়েছি । আর যায় কোথায় ! সবাই হাঁ – হাঁ করে উঠলো ৷ ” ওটা ছোটমার প্রতিষ্ঠা করা গাছ – ওখানে জুতো পড়ে উঠে বসলেন – দেখুন এবার আপনার কি হয় ?”
ঘটনা কিছু ঘটার আগেই দু-চারজন কেটে পড়ল , এমনকি গোপী তা-ও পালিয়ে গেল ৷ ইতিমধ্যে একটা মেয়ে গিয়ে ছোটমাকে খবর দিয়ে দিয়েছে ! আমি কিন্তু ওইখানেই বসে থাকলাম –উঠিনি ! কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখি একজন রোগা মত ‘মা’ গালাগালি দিতে দিতে আসছে । আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে পড়ে আমাকে ভালোরকম দেখলো, তারপর কাছে এসে বলল , ” তুমি কাদের বাড়ির গোপাল গো !” আমি উত্তর দিলাম , “আমি তোমার গোপাল !” এই কথাকটি শুনেই উনি এগিয়ে এসে আমার কপাল ধরে কত আদর করলেন ! সেই থেকেই উনি আমার ‘মা’ হলেন _আর আমি ওনার”গোপাল” হ’লাম !
যেহেতু গোপী তা-রা ওনাকে ‘ছোট মা’ (ওনাদের ছোট কাকীমা) বলতো , তাই আমিও ‘ছোট মা’ বলতাম , আর এখন আশ্রমেও সবাই ‘ছোট মা’ বলে ৷
আমি যাকেই ‘মা’ বলে ডাকি , আমি তার ভার নিই । সেই ঘটনার পর কতদিন কেটে গেছে_আমাদের সম্পর্ক কিন্তু রয়েই গেছে। পরবর্তীকালে আমাদের এখানে(বনগ্রামে) আশ্রম হয়েছে ৷ ছোট মা-ও বৃদ্ধা হয়েছে , ওখানকার বাড়িতে নানান অসুবিধা ! কারণ ছেলেপুলে নেই – কে দেখবে বৃদ্ধ বয়সে ! তার উপরে কিছুদিন আগে ওনার কঠিন ব্যধি হয়েছিল ৷ তাই ছোটমা চলে এলো আশ্রমে ! আর আসবেই তো_ছেলের কাছে মা সবসময় নিঃসংকোচে আসবে !
সেই থেকে ছোটমা এখানেই রয়েছে ! এখন রোগ মুক্তিও ঘটেছে – এবার মনের রোগ মুক্তি হলেই মুক্তি ঘটবে ।
রায়নার জগাদার সাথে যখন আমার আলাপ হ’ল তখন জগাদার সাথে ওদের বাড়িতে গিয়ে জগাদার গর্ভধারিনী মা-কে দেখলাম ৷ বাড়িতে ঢুকেই ‘মা’ বলে ডাকলাম, উনিও ‘ছেলে’ –বলে আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন । ব্যস্ , সেই থেকেই রায়নার জগাদার মা আমার ‘মা’ হয়ে গেল ।
Rural Electrification -এর কাজ যখন চক্ষণজাদীতে চলছিল অর্থাৎ ঐ অঞ্চলে তখন প্রথম বিদ্যুতের খুঁটি পোঁতা , তার টাঙানো – এইসব কাজ চলছিলো_তখন একদিন টগরের মা-য়ের সাথে দেখা হয়েছিল ৷ তখন ঐসব গ্রামের প্রান্তে Camp বা তাঁবু টাঙানো হোতো , সেখানেই আমরা সব কর্মীরা থাকতাম । যাইহোক, তখন গ্রীষ্মকাল ছিল ! একদিন বিভিন্ন field পরিদর্শন করে প্রচন্ড গ্রীষ্মের মধ্যেই সাইকেল চালিয়ে ক্যাম্পে ফিরছি _ এত রোদ্দুর আর গরম যে অসহ্য হয়ে যাচ্ছিলো , আর তেষ্টায় আমার ছাতি ফেটে যাবার উপক্রম হচ্ছিলো । চক্ষণজাদী গ্রামে ঢুকেই এক জায়গায় একটু ছায়া দেখে দাঁড়িয়েছি আর ভাবছি একটু জল পেলে বেশ হয় ৷ দেখি সামনের বাড়ির Main দরজায় একজন ‘মা’ দাঁড়িয়ে আমাকে ঘর্মাক্ত আর পরিশ্রান্ত দেখে ডাকছেন , ” ওখানে কেন বাপ্ , এখানটায় এসো ।” চক্ষণজাদীর মা-কে দেখেছো_ চোখ দুটো উপর দিকে তোলা – আধ্যাত্মিক মহিলার লক্ষণ !
যাইহোক , আমি তো ওনার এক কথায় রাজি ! ঢুকে পড়লাম বাড়ির ভিতর । মা জিজ্ঞাসা করলেন , ” পানি খাবে বাবা !” আমি বললাম , ” হ্যাঁ – মা , খাবো ।” ব্যস , ঐ যে “মা” বললাম _তো উনি ‘মা’ হয়ে গেলেন ৷ ওনার স্বামী ছাত্তার (সাত্তার ?) সাহেব বাড়িতেই ছিলেন , বাইরে এসে আমাকে দেখে ডেকে নিয়ে গেলেন ভিতরে । বললেন ” বাড়িতে ডাব আছে তো , ছেলেকে ডাব কেটে দাও ৷” ছাত্তার সাহেব খুবই জমাটি মানুষ ছিলেন , ফলে আমার সাইকেল বাইরেই পড়ে থাকলো , জমে গেল গল্প । নানা গল্পগুজব সেরে মা-য়ের হাতে খেয়ে সেদিন ছাড়া পেলাম । সেই থেকেই উনিও ‘মা’ ![টগরদার কাছে শুনেছিলাম–ঐ ঘটনার আগেই– ওদের সাথে রবীনদার বা গুরু মহারাজের দেখা হয়েছিল] ….. [ক্রমশঃ]
