শ্রী শ্রী গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দের সাথে তাঁর অন্তরঙ্গজন, ভক্তবৃন্দ, লীলা-সহচর ইত্যাদির যে মধুর সময়গুলি কেটেছিল – তার মধ্যে আমরা যেটুকু প্রত্যক্ষ করেছি – সেইগুলিই এখানে বলার চেষ্টা করা হোচ্ছে ! আজকে আমরা রায়নার জগাদার সম্বন্ধে কিছু কথা আলোচনা করব। জগাদার মা বা রায়নার মা সম্বন্ধে কিছু কথা আগেই বলা হয়েছিল। জগাদা (জগন্নাথ দত্ত) সম্বন্ধেও কিছু কিছু কথা বলা হয়ে গিয়েছে এবং আমার মনে হয় পরমানন্দ ভক্তমন্ডলী (পুরোনো) রায়নার জগাদাকে চেনে না বা তাঁর সম্বন্ধে কিছু শোনেনি – এমনটা প্রায় সংখ্যায় নাই বললেই চলে। আসলে জগাদা নিজেও তার সঙ্গে গুরুমহারাজের ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলির স্মৃতিচারণ করতেও ভালোবাসেন এবং ওনার বলার ভঙ্গিমাটিও চমৎকার ! আমি তো You tube-এ দু-একটি জগাদার Video-ও দেখেছি যেখানে জগাদা গুরুজীর সাথে তার কোনো না কোনো ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনা করছেন।
জগাদার মুখেই শুনেছিলাম যে, গুরুমহারাজ (রবীন) যখন রায়নায় রুরাল ইলেক্ট্রিফিকেশনের কাজে স্কুলের কাছে প্রথম ক্যাম্পটি করেন (পাকা রাস্তার ধারে), তখন জগাদাদের পৈতৃক একটি কামারশালা ছিল এবং জগাদা ও ওনার ভাই ওই কামারশালাটি চালিয়েই সংসার প্রতিপালন করতেন। রায়নার হারুদা (হারাধন ঘোষ, বর্তমানে ব্রহ্মচারী), মিহিরদা (স্বামী প্রজ্ঞানন্দ), দিলীপদা (সোনার দোকানের মালিক), অচ্যুৎ দা (ডক্টর বিদ্যুৎ বড়ুয়ার দাদা) প্রমুখরা জগাদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল ! ফলে ‘রবীন দা’ নামে একজন সুন্দর দেখতে ছেলে (ওরা তখন ধরে নিয়েছিল রবীনদা একজন খ্রীষ্টান ছেলে, কারণ গুরুজী সেইসময় যীশুর ভাবে থাকতেন ! ওনার বড় বড় চুল ছিল, উনি ইংরেজি কথা বেশি ব্যবহার করতেন, ভগবান যীশুর কথা বলতেন, এমনকি নিজের নামও বলতেন “রবিনসন ক্রুসো” বা “রবার্ট ডি ক্রুজ” ৷) যে ইলেকট্রিকের নতুন ক্যাম্পে এসেছে – সেই খবরটা জগাদা আগেই পেয়েছিলেন, কিন্তু দু-একদিন কেটে গেলেও মুখোমুখি সাক্ষাৎ হয় নি।
ওনাদের মুখোমুখি সাক্ষাৎ হয়েছিল – মাঠের ধারে যে পুকুরটিতে সকলে দুপুরে স্নান করতে আসতো সেইখানে স্নানের ঘাটে ! প্রথম সাক্ষাতেই গুরুমহারাজ জগাদাকে তবলা বাজানোর কথা বলে চমকে দেন ! কারণ জগাদা যে তবলা বাজাতে জানেন – সেটা সদ্য গ্রামের ক্যাম্পে আসা একজন পরদেশীর পক্ষে জানা সম্ভব ছিল না। জগাদার বিস্ময় কাটাতে উনি (গুরুজী) উত্তর দিয়েছিলেন – ” আমি মানুষের কপাল বা অন্যান্য অঙ্গলক্ষণ দেখে বুঝতে পারি, তার কি প্রকৃতি ?” জগাদা তখন রায়নার একজন নামকরা কুখ্যাত ব্যক্তি, ওনার গায়ে অসম্ভব জোর ছিল, সারাদিন লোহা পিটিয়ে হাতগুলোও লোহার মতো শক্ত ছিল – তাই উনি চট্ করে বাইরের কাউকে অতটা বেশি পাত্তা দিতে রাজি ছিলেন না। তবু অসম্ভব সুন্দর দেখতে একটি তরুণ যুবকের দিকে বারবার দৃষ্টিটা তার চলেই যাচ্ছিলো। ফলস্বরূপ রায়নার সন্ধ্যামা (যিনি গার্লস স্কুলের শিক্ষয়িত্রী ছিলেন এবং গুরুজীর একনিষ্ঠ ভক্ত ও সেবিকা ছিলেন)-র বাড়িতে সেই রাত্রিতেই গান-বাজনার আসর বসেছিল এবং গুরুজী সেখানে অংশগ্রহণ করে সকলকে আনন্দ দিয়েছিলেন।
ঐ আলাপ ! আর সেই আলাপ-ই কখন যেন ওনাদেরকে পরস্পরকে কাছে এনে একেবারে অন্তরঙ্গ করে তুলেছিল। তবে এটা সম্ভব হওয়ার পিছনে জগাদার মায়ের ভূমিকাই ছিল অপরিসীম ! জগাদার স্ত্রীও ছিলেন সাক্ষাৎ অন্নপূর্ণা – কখনও গুরুমহারাজ বা গুরুমহারাজের ভক্তবৃন্দকে খাওয়াতে উনি (এবং মা) কখনও কসুর করেন নি ! বাড়িতে চরম অভাব – কিন্তু কারুকে বুঝতে না দিয়ে ভক্তজনের সেবার যোগাড় করে দিয়েছেন ! এই কাজ করতে গিয়ে হয়তো একে একে ঐ মহীয়সী মহিলার গায়ের সোনার গহনা “বাঁধা” পড়েছে বা বিক্রি হয়েছে, পিতল-কাঁসার বাসন “বাঁধা” পড়েছে – কিন্তু কখনোই গুরুজীকে জানতে দেন নি (যদিও অন্তর্যামী ভগবান সবই জানতে পারতেন ! ওইটা ছিল জগন্নাথ দত্ত পরিবারের প্রতি ওনার বিরাট পরীক্ষার period ! সেই পরীক্ষায় পরিবারটি সসম্মানে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন, ফলে পরবর্তীতে পরিবারটিকে আর কোনো সমস্যার সম্মুখীন হোতে হয় নি !)।
জগাদা (জগন্নাথ দত্ত) যখন থেকে গুরুজীকে ‘ভগবান’ হিসাবে মেনে নিয়েছিলেন, তারপর থেকে উনি আর পিছু ফিরে তাকান নি ! চেষ্টা করেছেন গুরুজীর সাথে দিনে-রাতে সবসময় কাটানোর ! গুরুজী গভীর রাত্রে বেশিরভাগই শ্মশানে বা কোনো নির্জন স্থানে চলে যেতেন – জগাদাও পিছু ধরতেন ! সেইসব রাতগুলিতে কত লৌকিক-অলৌকিক-অতিলৌকিক ঘটনার যে জগাদা সাক্ষী – সেইসব কথা একমাত্র উনিই বলতে পারেন ! আমাদের আশ্রমের বহু ভক্ত রায়নায় (রায়নার তপোবন আশ্রম হবার পর) যেতো – শুধুমাত্র জগাদার মুখ থেকে গুরুজীর কথা শুনবে বলেই। আর বলাই বাহুল্য__তারা সকলে সন্তুষ্ট হয়েই ফিরে আসতো !! [ক্রমশঃ]
জগাদার মুখেই শুনেছিলাম যে, গুরুমহারাজ (রবীন) যখন রায়নায় রুরাল ইলেক্ট্রিফিকেশনের কাজে স্কুলের কাছে প্রথম ক্যাম্পটি করেন (পাকা রাস্তার ধারে), তখন জগাদাদের পৈতৃক একটি কামারশালা ছিল এবং জগাদা ও ওনার ভাই ওই কামারশালাটি চালিয়েই সংসার প্রতিপালন করতেন। রায়নার হারুদা (হারাধন ঘোষ, বর্তমানে ব্রহ্মচারী), মিহিরদা (স্বামী প্রজ্ঞানন্দ), দিলীপদা (সোনার দোকানের মালিক), অচ্যুৎ দা (ডক্টর বিদ্যুৎ বড়ুয়ার দাদা) প্রমুখরা জগাদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল ! ফলে ‘রবীন দা’ নামে একজন সুন্দর দেখতে ছেলে (ওরা তখন ধরে নিয়েছিল রবীনদা একজন খ্রীষ্টান ছেলে, কারণ গুরুজী সেইসময় যীশুর ভাবে থাকতেন ! ওনার বড় বড় চুল ছিল, উনি ইংরেজি কথা বেশি ব্যবহার করতেন, ভগবান যীশুর কথা বলতেন, এমনকি নিজের নামও বলতেন “রবিনসন ক্রুসো” বা “রবার্ট ডি ক্রুজ” ৷) যে ইলেকট্রিকের নতুন ক্যাম্পে এসেছে – সেই খবরটা জগাদা আগেই পেয়েছিলেন, কিন্তু দু-একদিন কেটে গেলেও মুখোমুখি সাক্ষাৎ হয় নি।
ওনাদের মুখোমুখি সাক্ষাৎ হয়েছিল – মাঠের ধারে যে পুকুরটিতে সকলে দুপুরে স্নান করতে আসতো সেইখানে স্নানের ঘাটে ! প্রথম সাক্ষাতেই গুরুমহারাজ জগাদাকে তবলা বাজানোর কথা বলে চমকে দেন ! কারণ জগাদা যে তবলা বাজাতে জানেন – সেটা সদ্য গ্রামের ক্যাম্পে আসা একজন পরদেশীর পক্ষে জানা সম্ভব ছিল না। জগাদার বিস্ময় কাটাতে উনি (গুরুজী) উত্তর দিয়েছিলেন – ” আমি মানুষের কপাল বা অন্যান্য অঙ্গলক্ষণ দেখে বুঝতে পারি, তার কি প্রকৃতি ?” জগাদা তখন রায়নার একজন নামকরা কুখ্যাত ব্যক্তি, ওনার গায়ে অসম্ভব জোর ছিল, সারাদিন লোহা পিটিয়ে হাতগুলোও লোহার মতো শক্ত ছিল – তাই উনি চট্ করে বাইরের কাউকে অতটা বেশি পাত্তা দিতে রাজি ছিলেন না। তবু অসম্ভব সুন্দর দেখতে একটি তরুণ যুবকের দিকে বারবার দৃষ্টিটা তার চলেই যাচ্ছিলো। ফলস্বরূপ রায়নার সন্ধ্যামা (যিনি গার্লস স্কুলের শিক্ষয়িত্রী ছিলেন এবং গুরুজীর একনিষ্ঠ ভক্ত ও সেবিকা ছিলেন)-র বাড়িতে সেই রাত্রিতেই গান-বাজনার আসর বসেছিল এবং গুরুজী সেখানে অংশগ্রহণ করে সকলকে আনন্দ দিয়েছিলেন।
ঐ আলাপ ! আর সেই আলাপ-ই কখন যেন ওনাদেরকে পরস্পরকে কাছে এনে একেবারে অন্তরঙ্গ করে তুলেছিল। তবে এটা সম্ভব হওয়ার পিছনে জগাদার মায়ের ভূমিকাই ছিল অপরিসীম ! জগাদার স্ত্রীও ছিলেন সাক্ষাৎ অন্নপূর্ণা – কখনও গুরুমহারাজ বা গুরুমহারাজের ভক্তবৃন্দকে খাওয়াতে উনি (এবং মা) কখনও কসুর করেন নি ! বাড়িতে চরম অভাব – কিন্তু কারুকে বুঝতে না দিয়ে ভক্তজনের সেবার যোগাড় করে দিয়েছেন ! এই কাজ করতে গিয়ে হয়তো একে একে ঐ মহীয়সী মহিলার গায়ের সোনার গহনা “বাঁধা” পড়েছে বা বিক্রি হয়েছে, পিতল-কাঁসার বাসন “বাঁধা” পড়েছে – কিন্তু কখনোই গুরুজীকে জানতে দেন নি (যদিও অন্তর্যামী ভগবান সবই জানতে পারতেন ! ওইটা ছিল জগন্নাথ দত্ত পরিবারের প্রতি ওনার বিরাট পরীক্ষার period ! সেই পরীক্ষায় পরিবারটি সসম্মানে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন, ফলে পরবর্তীতে পরিবারটিকে আর কোনো সমস্যার সম্মুখীন হোতে হয় নি !)।
জগাদা (জগন্নাথ দত্ত) যখন থেকে গুরুজীকে ‘ভগবান’ হিসাবে মেনে নিয়েছিলেন, তারপর থেকে উনি আর পিছু ফিরে তাকান নি ! চেষ্টা করেছেন গুরুজীর সাথে দিনে-রাতে সবসময় কাটানোর ! গুরুজী গভীর রাত্রে বেশিরভাগই শ্মশানে বা কোনো নির্জন স্থানে চলে যেতেন – জগাদাও পিছু ধরতেন ! সেইসব রাতগুলিতে কত লৌকিক-অলৌকিক-অতিলৌকিক ঘটনার যে জগাদা সাক্ষী – সেইসব কথা একমাত্র উনিই বলতে পারেন ! আমাদের আশ্রমের বহু ভক্ত রায়নায় (রায়নার তপোবন আশ্রম হবার পর) যেতো – শুধুমাত্র জগাদার মুখ থেকে গুরুজীর কথা শুনবে বলেই। আর বলাই বাহুল্য__তারা সকলে সন্তুষ্ট হয়েই ফিরে আসতো !! [ক্রমশঃ]
