জিজ্ঞাসু : ~ আমরা আগে ধারাপাত বই-এ পড়েছি “নয়-এ নবগ্রহ” । এখন শুনছি বিজ্ঞানীরা আরও একটা গ্রহ আবিষ্কার করেছে ? তাহলে আমরা কি ভূল শিক্ষা করেছি?
গুরু মহারাজ : ~ দ্যাখো, প্রকৃতপক্ষে পৃথিবী গ্রহ যে সৌরমন্ডলে অবস্থিত সেই সৌরমন্ডলে পৃথিবীসহ মোট ১৪ টি গ্রহ বা গ্রহসদৃশ বিষয় রয়েছে ! পরে পরে দেখবে, মহাকাশ বিজ্ঞানীরা এগুলি আবিষ্কার করবে ৷ এখন এই সৌরমন্ডলের গ্রহগুলির Orbit প্রসারিত হোচ্ছে । এর ফলে পৃথিবীর আবর্তনের সময়কাল বেড়ে বেড়ে যাচ্ছে ৷ সূর্যকে কেন্দ্র করে পৃথিবীর এই আবর্তন 360 দিন থেকে 390 দিনের মধ্যে হয় । বর্তমানে আবর্তনের সময়কাল 365 দিন 6½ ঘণ্টা মতো । ধীরে ধীরে এই সময় বাড়ছে আর তা বাড়তে বাড়তে একসময় তা 390 দিন হবে ।
এই সৌরমন্ডলে পৃথিবীর অবস্থান সূর্য থেকে এমন একটি নির্দিষ্ট দুরত্বে যে, একমাত্র এখানেই প্রাণ (জীবন) ধারণের উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে । কিন্তু এটি সরে গেলে তখন এই গ্রহটির অবস্থা কি হবে ? সূর্য থেকে দূরে সরে যাবার কারণে তখন এই পৃথিবী গ্রহে আর জীবনধারণের অনুকূল পরিবেশ থাকবে না ! ফলে, এখন যে সমস্ত জীবকুল রয়েছে, তারা তো অবলুপ্ত হবেই, নতুন কোনো প্রজাতির জীবও আর জন্মাতেও পারবে না !
পৃথিবীতে এইরকম পরিস্থিতি যখন হবে, ঠিক তখনই মঙ্গলের সঙ্গে পৃথিবীর কক্ষপথের একটা sudden বিনিময় ঘটে যাবে এবং তখন ঐ গ্রহে আবার বৃষ্টি শুরু হবে এবং ওখানে জীবন ধারণের উপযুক্ত পরিবেশের সূচনা হবে ! বৃষ্টিপাত শুরু হলেই জলভাগের বিস্তৃতি বাড়বে, সেখানকার বহিঃপ্রকৃতি ঠান্ডা হবে (হটাৎ কক্ষপথ পরিবর্তন ব্যাপারটাও একটা বিশাল মহাজাগতিক ঘটনা। এর ফলে ঐ দুটি গ্রহেরই উপরের অংশে এবং অভ্যন্তরে বিরাট বিরাট কান্ড ঘটে যায়!) । ফলে, ঐ জলভাগে প্রাণের স্পন্দন দেখা দেবে । ‘পিড়িক’ ‘পিড়িক’ করে জীবানু-বীজানু-কীটানু-দের নড়াচড়া শুরু হবে !
ঠিক একই রকমভাবে শুক্র গ্রহে আগে জীবন ধারণের উপযোগী পরিবেশ ছিল, সেখানকার Course complete হবার পর পৃথিবীতে প্রাণের সঞ্চার হয়েছিল । আবার পৃথিবীর বিবর্তন শেষ হয়ে গেলেই মঙ্গলে শুরু হবে প্রাণের খেলা !
এইভাবে এই সৌরমন্ডলে প্রাণের খেলা, জীবনের উদবর্তন হয়ে চলেছে ! জড় বিজ্ঞানীরা এখনও মহাপ্রকৃতির অনেক রহস্য জেনে উঠতে পারেনি । আধুনিক বিজ্ঞানের গবেষণা আরও গভীরে গেলে এবং আরও উন্নত প্রযুক্তির সাহায্য পেলে – পরে পরে দেখবে এই ধরনের আরো অনেক রহস্য উন্মোচিত হবে ।
পৃথিবী গ্রহ ছাড়া এই সৌরমণ্ডলে শুক্র আর মঙ্গল গ্রহদুটি পাথর, মাটি ইত্যাদি Material দিয়ে তৈরি ! এখন মঙ্গলে জলের সন্ধান পাবার চেষ্টা চলছে ৷ শুক্র গ্রহ নিয়েও বিজ্ঞানীরা নানান resech করে এইসব তথ্য পেয়েছে ! কিন্তু Murcury বা বুধগ্রহ সূর্যের কাছাকাছি থাকায়, অতিরিক্ত উত্তাপে এটি গ্যাসীয় অবস্থায় রয়েছে । আবার সূর্য থেকে দূরবর্তী গ্রহগুলি( ইউরেনাস, নেপচুন ইত্যাদি) এতো কম তাপ পায় যে, এগুলির উপরিভাগ বরফে আচ্ছন্ন ! তাহলে ঐগুলির আভ্যন্তরীন ঘনত্ব কি মারাত্মক ধরনের বেশি হোতে পারে__তা একবার ভেবে দেখেছো !!
কিন্তু এতো গেল–এই সৌরমন্ডলের কথা ! এবার__ এই মহাবিশ্বে এই ধরনের সৌরমন্ডল কত রয়েছে, তার কি ইয়ত্তা আছে ? তাহলে ভাবো, কেন আমি তোমাদের বলি যে, পৃথিবী গ্রহের চেতনার Level এখনও শৈশব অবস্থায় রয়েছে ! যতই তোমরা প্রযুক্তি বা বিজ্ঞানের উন্নতি নিয়ে কথা বলো – কিন্তু বিজ্ঞান কি এখনও ওতোটা উন্নত হয়েছে ? যেটূকু উন্নতি দেখছো__তার দ্বারা শুধু এই সৌরমণ্ডলের সব রহস্য-ই এখনো ভেদ করা সম্ভব হয়নি, তাহলে ব্রহ্মাণ্ডের অন্য অন্য সৌরমন্ডলগুলির খবর তারা কি করে পাবে ? সেই সব সৌরমন্ডলগুলির নক্ষত্রদের বিভিন্ন গ্রহেও যে প্রাণের স্পন্দন রয়েছে তা তারা নিজেরাই জানতে পারছে না, তো কি করে পৃথিবীর মানুষকে জানাতে পারবে ?
আমার সাথেই অনেক নক্ষত্রমণ্ডলীর গ্রহগুলির জীবনধারণকারীদের সাথে যোগাযোগ হয়েছে !! দেখেছি__সেই সমস্ত গ্রহের জীবেদের অনেকেই পৃথিবী গ্রহের চেতনার Level-এর তুলনায় অনেক উন্নত Level-এ রয়েছে। আবার দেখেছি__ অনেক গ্রহ রয়েছে, যেখানকার জীবেরা খুবই অনুন্নত ! এককথায় বলতে গেলে বলতে হয়__ সবরকম-ই রয়েছে ! সেইজন্যই বলছিলাম যে, আমি জ্যোতিঃপ্রভায় উজ্জ্বল সুউন্নত সত্তাদেরও দেখেছি, আবার ঘন অন্ধকারের মধ্যে পড়ে থাকা চরম অনুন্নত জীবসমূহকেও দেখেছি !
সুতরাং বাবা, জ্ঞানীরা কখনও জ্ঞানের অহংকার প্রদর্শন করেন না ৷ কারণ তাঁরা জগতের রহস্য জানেন, জীবনের রহস্য জানেন । তাঁরা আরও জানেন যে পৃথিবীর মানুষ যে শিক্ষার বড়াই করে, গৌরব করে ___তা দিয়ে এই বিরাট বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ডের রহস্য ধরা পড়তে এখনও বহু দেরি ! তাই তাঁরা সাধারণ মানুষের আলোচনা বা সমালোচনাকে কোনো গুরুত্ব দেন না বা বলা যায় পাত্তাই দেন না ৷ তাঁরা জানেন __ ‘লোক না পোক ‘! অজ্ঞানী মানুষ, স্বার্থমগ্ন মানুষ, সংকীর্ণ মানসিকতার মানুষ দু’চারটে ডিগ্রী পকেটে পুড়ে আর দু’চারটে দেশী বিদেশী বই পড়ে মনে মনে ভাবে__’ আমিও অনেক কিছু জানি ‘। কিন্তু সেই জানাটা এই বিশাল বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের জ্ঞানের কাছে যে একেবারে তুচ্ছ বা নগণ্য সেটা কিন্তু তারা বেশিক্ষণ মনে করতে পারে না !
ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের লেখাপড়া না শেখার তাৎপর্য এটাই ! উনি যাদেরকে নিয়ে কাজ করলেন তাদের একমাত্র লাটু (অদ্ভুতানন্দ) ছাড়া সবাই কম-বেশি শিক্ষিত । আর এখন তো কমপক্ষে graduate ছাড়া রামকৃষ্ণ মিশন কারুকেই ব্রহ্মচর্য বা সন্ন্যাস দিচ্ছে না ।
যাইহোক, আমার বেলাতেও মা এটাই আমাকে বোঝালেন যে, ‘So called’ শিক্ষা বা কতকগুলি ডিগ্রী লাভ এগুলো ‘Academic qualifications’– এটা প্রকৃত অর্থে education নয় । প্রকৃত education হচ্ছে মানুষের নিজের মধ্যে অন্তর্নিহিত যে শক্তি রয়েছে তার বিকাশ সাধন । আর Academic degree যেন মেয়েদের গায়ে পড়ার গহনা বা অলংকার !
এবার মানুষের জীবন যদি ত্যাগ, সংযম, সত্যনিষ্ঠা ও ভালোবাসা দিয়ে পরিপূর্ণ হয়, একমাত্র তাহলে সেই “জীবন” হয় “মহাজীবন” ৷ মানুষের চরিত্র বলতেও ঠিক এটাকেই বোঝায় !
দ্যাখো, একজন মানুষ যখন মানুষ তাহলে তার মধ্যে থাকুক মনুষ্যত্ব ৷ ঠিক ঠিক মনুষ্যত্ব কি বলোতো ? মানবের জীবনে মনুষ্যত্বের পরিচায়ক হোচ্ছে মানবিক গুণাবলী (অর্থাৎ দয়া, মায়া, ক্ষমা, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, করুণা, ধৈর্য, সহানুভূতি ইত্যাদি)-র প্রকাশ ঘটানো ৷ মনুষ্যত্বহীন শিক্ষিত, ডিগ্রীধারী মানুষ যেন উলঙ্গ নারী —গায়ে গোটাকয়েক (ডিগ্রীরূপ) অলংকার পড়েছে ! কি বিশ্রী দেখায় না ? অথচ তথাকথিত ডিগ্রী নাই কিন্তু স্বচ্ছ-পবিত্র জীবনের অধিকারী, যার মধ্যে মানবিক গুণগুলি বিদ্যমান – সেই মানুষ কত ভালো বলো তো ? উদাহরণ হিসাবে বলবো__একটি গ্রাম্যবধূ গায়ে কোনো অলঙ্কার নাই ঠিকই কিন্তু সভ্যভাবে শাড়িটি পড়েছে ! প্রথমটি অপেক্ষা দ্বিতীয়টি সুন্দর নয় কি ? সমাজের জন্য প্রথম প্রকারের মানুষ অপেক্ষা দ্বিতীয় প্রকারের মানুষ যত বেশি বেশি থাকবে __ সমাজ ততই উন্নত হবে । এবার ধরো কারো ডিগ্রীও রয়েছে আবার মানবিক গুণগুলিও বিদ্যমান, তাহলে জানবে __তিনি আর মানব নন তিনি দেবত্বের পর্যায়ে চলে গেছেন! সমাজের মঙ্গলের জন্য তিনি কাজে লেগে গেছেন ! নিজের উন্নত চেতনা দিয়ে সাধারণ মানুষের চেতনাকেও উন্নত করার চেষ্টা করছেন । এঁরাই যথার্থ সমাজ সেবক ! ভগবান এঁদের মাধ্যমেই জগৎকল্যাণের বিভিন্ন কাজ করিয়ে নেন । কথাগুলো বুঝতে পারলে কি ?
আমাকে তোমাদের বোঝার উপযোগী করে কথা বলতে হয় _ যাতে তোমরা সকলে আমার কথা বুঝতে পারো ! আসলে পৃথিবী গ্রহের মানুষের চেতনার Level এখনও অতোটা উন্নতই তো হয়নি – যখন এই Level আরো উন্নত হবে, তখন সব রহস্যই তোমরা নিজেরাই জানতে পারবে ৷৷(ক্রমশঃ)
গুরু মহারাজ : ~ দ্যাখো, প্রকৃতপক্ষে পৃথিবী গ্রহ যে সৌরমন্ডলে অবস্থিত সেই সৌরমন্ডলে পৃথিবীসহ মোট ১৪ টি গ্রহ বা গ্রহসদৃশ বিষয় রয়েছে ! পরে পরে দেখবে, মহাকাশ বিজ্ঞানীরা এগুলি আবিষ্কার করবে ৷ এখন এই সৌরমন্ডলের গ্রহগুলির Orbit প্রসারিত হোচ্ছে । এর ফলে পৃথিবীর আবর্তনের সময়কাল বেড়ে বেড়ে যাচ্ছে ৷ সূর্যকে কেন্দ্র করে পৃথিবীর এই আবর্তন 360 দিন থেকে 390 দিনের মধ্যে হয় । বর্তমানে আবর্তনের সময়কাল 365 দিন 6½ ঘণ্টা মতো । ধীরে ধীরে এই সময় বাড়ছে আর তা বাড়তে বাড়তে একসময় তা 390 দিন হবে ।
এই সৌরমন্ডলে পৃথিবীর অবস্থান সূর্য থেকে এমন একটি নির্দিষ্ট দুরত্বে যে, একমাত্র এখানেই প্রাণ (জীবন) ধারণের উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে । কিন্তু এটি সরে গেলে তখন এই গ্রহটির অবস্থা কি হবে ? সূর্য থেকে দূরে সরে যাবার কারণে তখন এই পৃথিবী গ্রহে আর জীবনধারণের অনুকূল পরিবেশ থাকবে না ! ফলে, এখন যে সমস্ত জীবকুল রয়েছে, তারা তো অবলুপ্ত হবেই, নতুন কোনো প্রজাতির জীবও আর জন্মাতেও পারবে না !
পৃথিবীতে এইরকম পরিস্থিতি যখন হবে, ঠিক তখনই মঙ্গলের সঙ্গে পৃথিবীর কক্ষপথের একটা sudden বিনিময় ঘটে যাবে এবং তখন ঐ গ্রহে আবার বৃষ্টি শুরু হবে এবং ওখানে জীবন ধারণের উপযুক্ত পরিবেশের সূচনা হবে ! বৃষ্টিপাত শুরু হলেই জলভাগের বিস্তৃতি বাড়বে, সেখানকার বহিঃপ্রকৃতি ঠান্ডা হবে (হটাৎ কক্ষপথ পরিবর্তন ব্যাপারটাও একটা বিশাল মহাজাগতিক ঘটনা। এর ফলে ঐ দুটি গ্রহেরই উপরের অংশে এবং অভ্যন্তরে বিরাট বিরাট কান্ড ঘটে যায়!) । ফলে, ঐ জলভাগে প্রাণের স্পন্দন দেখা দেবে । ‘পিড়িক’ ‘পিড়িক’ করে জীবানু-বীজানু-কীটানু-দের নড়াচড়া শুরু হবে !
ঠিক একই রকমভাবে শুক্র গ্রহে আগে জীবন ধারণের উপযোগী পরিবেশ ছিল, সেখানকার Course complete হবার পর পৃথিবীতে প্রাণের সঞ্চার হয়েছিল । আবার পৃথিবীর বিবর্তন শেষ হয়ে গেলেই মঙ্গলে শুরু হবে প্রাণের খেলা !
এইভাবে এই সৌরমন্ডলে প্রাণের খেলা, জীবনের উদবর্তন হয়ে চলেছে ! জড় বিজ্ঞানীরা এখনও মহাপ্রকৃতির অনেক রহস্য জেনে উঠতে পারেনি । আধুনিক বিজ্ঞানের গবেষণা আরও গভীরে গেলে এবং আরও উন্নত প্রযুক্তির সাহায্য পেলে – পরে পরে দেখবে এই ধরনের আরো অনেক রহস্য উন্মোচিত হবে ।
পৃথিবী গ্রহ ছাড়া এই সৌরমণ্ডলে শুক্র আর মঙ্গল গ্রহদুটি পাথর, মাটি ইত্যাদি Material দিয়ে তৈরি ! এখন মঙ্গলে জলের সন্ধান পাবার চেষ্টা চলছে ৷ শুক্র গ্রহ নিয়েও বিজ্ঞানীরা নানান resech করে এইসব তথ্য পেয়েছে ! কিন্তু Murcury বা বুধগ্রহ সূর্যের কাছাকাছি থাকায়, অতিরিক্ত উত্তাপে এটি গ্যাসীয় অবস্থায় রয়েছে । আবার সূর্য থেকে দূরবর্তী গ্রহগুলি( ইউরেনাস, নেপচুন ইত্যাদি) এতো কম তাপ পায় যে, এগুলির উপরিভাগ বরফে আচ্ছন্ন ! তাহলে ঐগুলির আভ্যন্তরীন ঘনত্ব কি মারাত্মক ধরনের বেশি হোতে পারে__তা একবার ভেবে দেখেছো !!
কিন্তু এতো গেল–এই সৌরমন্ডলের কথা ! এবার__ এই মহাবিশ্বে এই ধরনের সৌরমন্ডল কত রয়েছে, তার কি ইয়ত্তা আছে ? তাহলে ভাবো, কেন আমি তোমাদের বলি যে, পৃথিবী গ্রহের চেতনার Level এখনও শৈশব অবস্থায় রয়েছে ! যতই তোমরা প্রযুক্তি বা বিজ্ঞানের উন্নতি নিয়ে কথা বলো – কিন্তু বিজ্ঞান কি এখনও ওতোটা উন্নত হয়েছে ? যেটূকু উন্নতি দেখছো__তার দ্বারা শুধু এই সৌরমণ্ডলের সব রহস্য-ই এখনো ভেদ করা সম্ভব হয়নি, তাহলে ব্রহ্মাণ্ডের অন্য অন্য সৌরমন্ডলগুলির খবর তারা কি করে পাবে ? সেই সব সৌরমন্ডলগুলির নক্ষত্রদের বিভিন্ন গ্রহেও যে প্রাণের স্পন্দন রয়েছে তা তারা নিজেরাই জানতে পারছে না, তো কি করে পৃথিবীর মানুষকে জানাতে পারবে ?
আমার সাথেই অনেক নক্ষত্রমণ্ডলীর গ্রহগুলির জীবনধারণকারীদের সাথে যোগাযোগ হয়েছে !! দেখেছি__সেই সমস্ত গ্রহের জীবেদের অনেকেই পৃথিবী গ্রহের চেতনার Level-এর তুলনায় অনেক উন্নত Level-এ রয়েছে। আবার দেখেছি__ অনেক গ্রহ রয়েছে, যেখানকার জীবেরা খুবই অনুন্নত ! এককথায় বলতে গেলে বলতে হয়__ সবরকম-ই রয়েছে ! সেইজন্যই বলছিলাম যে, আমি জ্যোতিঃপ্রভায় উজ্জ্বল সুউন্নত সত্তাদেরও দেখেছি, আবার ঘন অন্ধকারের মধ্যে পড়ে থাকা চরম অনুন্নত জীবসমূহকেও দেখেছি !
সুতরাং বাবা, জ্ঞানীরা কখনও জ্ঞানের অহংকার প্রদর্শন করেন না ৷ কারণ তাঁরা জগতের রহস্য জানেন, জীবনের রহস্য জানেন । তাঁরা আরও জানেন যে পৃথিবীর মানুষ যে শিক্ষার বড়াই করে, গৌরব করে ___তা দিয়ে এই বিরাট বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ডের রহস্য ধরা পড়তে এখনও বহু দেরি ! তাই তাঁরা সাধারণ মানুষের আলোচনা বা সমালোচনাকে কোনো গুরুত্ব দেন না বা বলা যায় পাত্তাই দেন না ৷ তাঁরা জানেন __ ‘লোক না পোক ‘! অজ্ঞানী মানুষ, স্বার্থমগ্ন মানুষ, সংকীর্ণ মানসিকতার মানুষ দু’চারটে ডিগ্রী পকেটে পুড়ে আর দু’চারটে দেশী বিদেশী বই পড়ে মনে মনে ভাবে__’ আমিও অনেক কিছু জানি ‘। কিন্তু সেই জানাটা এই বিশাল বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের জ্ঞানের কাছে যে একেবারে তুচ্ছ বা নগণ্য সেটা কিন্তু তারা বেশিক্ষণ মনে করতে পারে না !
ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের লেখাপড়া না শেখার তাৎপর্য এটাই ! উনি যাদেরকে নিয়ে কাজ করলেন তাদের একমাত্র লাটু (অদ্ভুতানন্দ) ছাড়া সবাই কম-বেশি শিক্ষিত । আর এখন তো কমপক্ষে graduate ছাড়া রামকৃষ্ণ মিশন কারুকেই ব্রহ্মচর্য বা সন্ন্যাস দিচ্ছে না ।
যাইহোক, আমার বেলাতেও মা এটাই আমাকে বোঝালেন যে, ‘So called’ শিক্ষা বা কতকগুলি ডিগ্রী লাভ এগুলো ‘Academic qualifications’– এটা প্রকৃত অর্থে education নয় । প্রকৃত education হচ্ছে মানুষের নিজের মধ্যে অন্তর্নিহিত যে শক্তি রয়েছে তার বিকাশ সাধন । আর Academic degree যেন মেয়েদের গায়ে পড়ার গহনা বা অলংকার !
এবার মানুষের জীবন যদি ত্যাগ, সংযম, সত্যনিষ্ঠা ও ভালোবাসা দিয়ে পরিপূর্ণ হয়, একমাত্র তাহলে সেই “জীবন” হয় “মহাজীবন” ৷ মানুষের চরিত্র বলতেও ঠিক এটাকেই বোঝায় !
দ্যাখো, একজন মানুষ যখন মানুষ তাহলে তার মধ্যে থাকুক মনুষ্যত্ব ৷ ঠিক ঠিক মনুষ্যত্ব কি বলোতো ? মানবের জীবনে মনুষ্যত্বের পরিচায়ক হোচ্ছে মানবিক গুণাবলী (অর্থাৎ দয়া, মায়া, ক্ষমা, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, করুণা, ধৈর্য, সহানুভূতি ইত্যাদি)-র প্রকাশ ঘটানো ৷ মনুষ্যত্বহীন শিক্ষিত, ডিগ্রীধারী মানুষ যেন উলঙ্গ নারী —গায়ে গোটাকয়েক (ডিগ্রীরূপ) অলংকার পড়েছে ! কি বিশ্রী দেখায় না ? অথচ তথাকথিত ডিগ্রী নাই কিন্তু স্বচ্ছ-পবিত্র জীবনের অধিকারী, যার মধ্যে মানবিক গুণগুলি বিদ্যমান – সেই মানুষ কত ভালো বলো তো ? উদাহরণ হিসাবে বলবো__একটি গ্রাম্যবধূ গায়ে কোনো অলঙ্কার নাই ঠিকই কিন্তু সভ্যভাবে শাড়িটি পড়েছে ! প্রথমটি অপেক্ষা দ্বিতীয়টি সুন্দর নয় কি ? সমাজের জন্য প্রথম প্রকারের মানুষ অপেক্ষা দ্বিতীয় প্রকারের মানুষ যত বেশি বেশি থাকবে __ সমাজ ততই উন্নত হবে । এবার ধরো কারো ডিগ্রীও রয়েছে আবার মানবিক গুণগুলিও বিদ্যমান, তাহলে জানবে __তিনি আর মানব নন তিনি দেবত্বের পর্যায়ে চলে গেছেন! সমাজের মঙ্গলের জন্য তিনি কাজে লেগে গেছেন ! নিজের উন্নত চেতনা দিয়ে সাধারণ মানুষের চেতনাকেও উন্নত করার চেষ্টা করছেন । এঁরাই যথার্থ সমাজ সেবক ! ভগবান এঁদের মাধ্যমেই জগৎকল্যাণের বিভিন্ন কাজ করিয়ে নেন । কথাগুলো বুঝতে পারলে কি ?
আমাকে তোমাদের বোঝার উপযোগী করে কথা বলতে হয় _ যাতে তোমরা সকলে আমার কথা বুঝতে পারো ! আসলে পৃথিবী গ্রহের মানুষের চেতনার Level এখনও অতোটা উন্নতই তো হয়নি – যখন এই Level আরো উন্নত হবে, তখন সব রহস্যই তোমরা নিজেরাই জানতে পারবে ৷৷(ক্রমশঃ)
