জিজ্ঞাসু : – ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের সঙ্গে আপনার কিন্তু অনেক মিল রয়েছে !
গুরুমহারাজ : – তাই নাকি ! ঠিক কী রকম ? বলো তো শুনি! বলতে পারবে না, আসলে সেরকম কোনো মিল-ই খুঁজে পাবে না ! এবার সম্পূর্ণ অন্যরকম ! অন্যান্য যেকোনো মহাপুরুষদের নানা রকম প্লাস পয়েন্ট ছিল – যেমন তাঁরা হয়তো উচ্চ কূলে জন্মেছিলেন, অনেকেরই যে পরিবারে জন্ম হয়েছিল সেখানে তাঁদের বংশমর্যাদা,ধন, মান,বিদ্যা __ইত্যাদি ছিল, অর্থাৎ তাঁদের বংশপরম্পরাতে গর্ব করার মতো কিছু ছিল । এবার কিন্তু সেসব কিছুই নাই ! এবার একেবারে অখ্যাত পরিবারে, সমাজের বিচারে অনেকটাই নিচু কুলবংশে শরীর গ্রহণ এবং শিশু বয়সটা চরম অভাব দারিদ্র্য দেখেই বেড়ে ওঠা ! তারপরের জীবন প্রায় নিরক্ষর, নিরন্ন,নিরাশ্রয় অবস্থায় ভ্রাম্যমান বাউল জীবন ! সেই অবস্থাতেই শরীরের বড় হ‌ওয়া ! আসলে এরকমই এবার divine plan !
স্বামী বিবেকানন্দের কথার বাস্তব রূপ বলা যায় ৷ উনি বলেছিলেন – ” মহাপুরুষরা আসুক দরিদ্রের পর্ণকুটির থেকে, সমাজে অবহেলিতদের মধ্য থেকে ৷”
ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের সাথে আমার একটা বিষয়ে মিল পেতে পারো – Academic দিকটায়! ঠাকুরের‌ও পাঠশালার পাঠ, আর আমারো লেখাপড়া প্রাইমারীর বেশি আর হোলো না ! কোনরকম প্রচলিত academic শিক্ষাই নাই ৷ শুধু Rural Electrification -এ কাজ করার সময় হাতে কলমে ইলেক্ট্রিকের কাজ কিছু শিখেছিলাম, ফলে চাকরি করাকালীন সময়ে সেই শিক্ষাটাই কাজে এসেছিল ৷
তাছাড়া আর প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার আর কি শিখেছি বলো ? প্রথাগত আর কোনো শিক্ষা আমার নাই। আমার যেটুকু শিক্ষা__তা সব‌ই মহাপ্রকৃতির কাছ থেকে পাওয়া ! এই শিক্ষায় আমাকে সুশিক্ষিত বলতে পারো ! তবে জানো, ✓রী মা জগদম্বা আমাকে বলেছেন__এই শিক্ষাটাই জগতে আদর্শ হবে ! কোনো class-এর শিক্ষা নয়, কোনো ব্যাপারে কোনো class- sentiment-ও নয় ! এবারকার আদর্শ হবে class-less হ‌ওয়া ৷৷
এবার ✓রী মা, পৃথিবীর ভালো ভালো কোনো জিনিসই আমার জন্য বরাদ্দ রাখেন নি ! এমনকি পৃথিবীর অধ্যাত্ম সম্পদও আমি পাইনি ! ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ পৃথিবীর সঞ্চিত সমস্ত আধ্যাত্মিক ভাবরাশি নিয়ে শরীর ধারণ করেছিলেন, স্থুল শরীর ছেড়ে যাবার আগে, তা তিনি ছড়িয়ে দিয়ে গেলেন সমাজে ৷ কিন্তু সমাজ তো এই এতোদিনেও কোনো Return দেয়নি ! ঠাকুরের (শ্রীরামকৃষ্ণ) শরীর গ্রহণের প্রায় ১০০ বছরের বেশি সময় পরেও হিমালয়ের বিভিন্ন Spritual Pocket-গুলিতে আধ্যাত্মিক ভাবরাশি এতই অল্প ছিল যে, আমার এবার যে ধরনের Project, তা ঐ শক্তি দিয়ে fulfil হোত না ৷ ওটা দিয়ে হয়তো অল্পস্বল্প কাজ চালিয়ে নেওয়া যেতো – কিন্তু এবার আমার রয়েছে প্রায় সারা পৃথিবীব্যাপী কাজের পরিধি ! ফলে– সেটা ঐ পরিমাণ ভাবরাশিতে সম্ভব হোতো না ৷
সেইজন্য আমাকে কুম্ভরাশির নীহারিকাপুঞ্জ থেকে আধ্যাত্মিক ভাবরাশি গ্রহণ করতে হোল !
এবার আমার সংস্কার শতভিষা নক্ষত্রের যে মহাজাগতিক গ্রহের, সেখানে যখন শিশু জন্মায়, তখন তাদের 95% Brain cell-ই জাগ্রত থাকে ৷ পাঁচ বছরের শিশুর মেধা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীদের সমান (নিউটন,আইনস্টাইন ইত্যাদি) ৷ Three dimension -এ আলোর গতিতে গেলে দশ হাজার কোটি বছর সময় লাগবে ঐ নীহারিকার গ্রহটিতে পৌঁছাতে ! 4th dimension বা 5th dimension -এ কয়েক শত বছর লাগতে পারে ৷ কিন্তু 7th dimension -এ সময়ের কোনো ভেদ নাই, কোনো দূরত্বভেদ‌ও নাই । ফলে 7th dimension-এ ওখানে যাওয়া__মানে হোলো, এই এঘর, আর ঐ ওঘর ! এসব কথা তোমাদের বলছি বটে, কিন্তু এই রহস্য সাধারণ মানুষ কোনো কিছুর দ্বারাই কোনোদিনই জানতে পারবে না ! একমাত্র যখনই কোনো মহাপুরুষের আবির্ভাব ঘটবে, তখন তখনই কিছু মানুষ সাক্ষাৎ তাঁর শ্রীমুখ থেকে সরাসরি এই মহাবিশ্ব জগতের বিভিন্ন রহস্যের কথা অবগত হবে । পরে এঁদের কাছ থেকে আবার অন্যান্যরা কিছু কিছু জানতে পারবে। এই ভাবেই পরম্পরাগত ভাবে জ্ঞানের ধারা যুগে যুগে বয়ে চলে !
কিন্তু এই “জ্ঞান” যখনই সেকেন্ড Hand, থার্ড Hand হয়ে যায়__ তখনই তাতে বিকৃতি আসে । আরও পরে পরে ব্যাপারটা এমন দাঁড়ায় যে, আসল কথাটাই লুপ্ত হয়ে যায় ! সেই রাজার দুধের পুকুর করতে যাওয়ার মতো – সেখানে সবাই ভাবলো, “অন্যেরা তো দুধ আনবেই, আমি বরং এক ঘটি জল নিয়ে যাই ।” এই ভাবনা সবার মধ্যে ক্রিয়া করায় পুকুরটিতে শুধু জলই পড়লো – দুধ আর পড়লো না ! এক্ষেত্রেও ব্যাপারটা প্রায় সেইরকম‌ই হয় ৷ কোনো মহাপুরুষের পর তিন generation পর্যন্ত আধ্যাত্মিকতার মূল সুরটি ঠিক‌ই অব্যাহত থাকে। কিন্তু পাঁচ থেকে ছয় generation পর, পরম্পরা সৃষ্টিকারী সেই মহান মানুষটির কথায় জল মিশে যায় ! যেহেতু পরবর্তী generation-গুলির সকলেই মহাপুরুষটির কথা__ তার নিজের মতো করে বলতে শুরু করে দেয় ___তখন সেখানে মহাপুরুষের কথা আর থাকে না, শুধুই নিজের কথা চলে আসে !
বিভিন্ন পরম্পরায় এমনটাই হয় ! পরে মহাজাগতিক নিয়মে আবার ভগবানকে কোনো না কোনো রূপে আসতে হয়, আবার এইসব বিশৃঙ্খলাকে শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসতে হয় ৷ এই ভাবেই চলছে _বাবা ! চলবেও আরো বেশ কিছুদিন !(ক্রমশঃ)