শ্রী শ্রী গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দের পার্ষদ এবং বিশেষ কিছু ভক্ত ও সাধু-ব্রহ্মচারীদের নিয়ে কথা বলা হচ্ছিলো। এইসব কথা বলতে গিয়ে আগের দিন গুরুমহারাজের বর্ণনা করা “পরমানন্দমন্ডল” নিয়ে আলোচনা হচ্ছিলো। পরমানন্দমন্ডলের একটা চিত্র অঙ্কন করে একজন ইউরোপীয়ান চিত্রশিল্পী বনগ্রাম আশ্রমে পাঠিয়ে দিয়েছিল, সেটা খুব সম্ভবতঃ এখনো চরৈবেতি কার্যালয়ের দেওয়ালে বাঁধানো অবস্থায় রয়েছে। ওই ছবিটা যখন প্রথম চরৈবেতি কার্যালয়ে টাঙ্গানো হয়েছিল – তখন আমি বনগ্রাম আশ্রমে প্রায়ই থাকতাম, ফলে ছবিটাকে নিয়ে অনেকেরই কৌতুহল দেখেছিলাম। সেইসময় ওখানকার একজন ব্রহ্মচারী বলেছিল এটা তন্ত্রোক্ত “সর্বতোভদ্রমন্ডল”-এর চিত্র !
পরে আমরা জানতে পেরেছিলাম যে “সর্বতোভদ্রমন্ডল” ব্যাপারটা পৃথক, ওটি শক্তিপূজায় অঙ্কিত বা ব্যবহৃত “যন্ত্র”বিশেষ ! গুরুমহারাজ বলেছিলেন তন্ত্র-মন্ত্র-যন্ত্র ! তনুর ত্রাণ – তন্ত্র, মনের ত্রাণ – মন্ত্র এবং প্রাণের ত্রাণ – যন্ত্র ! একটি অপেক্ষা অপরটি আরো সূক্ষ্ম, শেষেরটি সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম ! কিন্তু যে কোনো সূক্ষ্মের-ই স্থূলরূপ রয়েছে – তাই স্থূলপূজায় স্থূলে “যন্ত্র” অঙ্কন করে নেওয়া হয় বা নির্মাণ করে নেওয়া হয়। কিন্তু তন্ত্রসাধকের প্রকৃত পূজায় বা প্রকৃত তন্ত্রক্রিয়ায় স্থূলমন্ত্র, সূক্ষ্ম মন্ত্রে রূপ নেয় – আর যখন মনের লয় হয় তখন আর মন্ত্রেরই বা স্থান কোথায় ! “যন্ত্র” তখন সাধকের শরীরে ক্রিয়াশীল হয়ে ওঠে !
ব্রহ্মগ্রন্থি, বিষ্ণুগ্রন্থি ও রুদ্রগ্রন্থি এই তিনটিই শক্তিকেন্দ্র ! সুতরাং তিনটি কেন্দ্রেই পৃথক পৃথক ত্রিমাত্রিকা শক্তি রয়েছে। একেবারে প্রাথমিক স্তরে সাধকের মূলাধার বিন্দু এবং দুটি কিডনির দুইপাশের স্থানকে “বিসর্গ” ধরে অধঃমাত্রা ত্রিকোণমন্ডলে সাধনা শুরু হয়। এছাড়া রয়েছে ঊর্ধ্বমাত্রা ত্রিকোণমন্ডলে – আজ্ঞাচক্র ‘বিন্দু’ এবং নাভির ঊর্ধ্বে দুইপাশে ‘বিসর্গ’ নিয়ে এই field তৈরি হয়। তন্ত্রে ‘ত্রিকোণ’ মানেই সৃষ্টিযন্ত্র বা শ্রীযন্ত্র ! এই ‘যন্ত্রের’ সাধনায় সাধকের মধ্যে শক্তির সঞ্চার হয় – আর সেই শক্তির সহায়তায় শরীরাভ্যন্তরস্থ বিভিন্ন অন্যান্য শক্তিগ্রন্থির উন্মেষ ঘটে যায় এবং এরফলেই সাধকের আত্মিক উত্তরণ ঘটতে থাকে – তাঁর মধ্যে পূর্ণ শক্তির প্রকাশ ঘটে যায়। তবে সাধকের অন্তিম সাধনায়_তখন সহস্রার ‘বিন্দু’ হয় আর দুটি চক্ষুর উপরিভাগ বিসর্গ ধরে অন্তিম বা প্রকৃত ত্রিকোণমন্ডল গঠিত হয়। এই যন্ত্র-সাধনায় সিদ্ধরাই নির্বিকল্প প্রাপ্ত হ’ন। তবে প্রতিটি শক্তিকেন্দ্রেই অধঃমাত্রা এবং ঊর্দ্ধমাত্রা ত্রিকোনমন্ডল রয়েছে।আর এর ফলেই ষট্ কোণ তৈরি হয়। নাহলে শক্তি উৎপাদনের field-টা তৈরি হবে কি করে !
যন্ত্রে অঙ্কিত ত্রিকোণকে ঘিরে যে সমস্ত চতুঃস্কোন, পদ্মকর্ণিকা ইত্যাদি দেখা যায় – সেগুলি হয় শরীরের অভ্যন্তরস্থ বিভিন্ন field অথবা শক্তির বিকাশের অবস্থা_বোঝানো হয়েছে ! সাধারণ মানুষ মনে করে এগুলি নিছক কল্পনামাত্র বা রঙচঙে কোন decoration – কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা নয় ! একমাত্র যাঁরা সাধনা করেন, তাঁরা সাধনার গভীরে গিয়ে ঐ চিত্ররূপ প্রত্যক্ষ করেন __তাঁরা তখন নিজের মধ্যেই সৃষ্টির সমস্ত রহস্য অবগত হ’ন। ইচ্ছা করলেই তাঁরা তখন কোনো কিছু সৃষ্টিও করতে পারেন, আবার ধ্বংসও করতে পারেন ! এককথায় তাঁদের মধ্যে তখন ভগবৎ-শক্তির প্রকাশ ঘটে যায় এবং তাঁরা তখন মানুষের কাছে ‘ভগবান’ হিসাবেই পূজিত হোতে থাকেন !
তবে আমাদের কথা হচ্ছিল পরমানন্দ-পার্ষদমন্ডল বা গুরু মহারাজ বর্ণিত ‘পরমানন্দমন্ডল’ নিয়ে ! পরমানন্দ মন্ডলের গঠন অনেকটাই সর্বতোভদ্রমন্ডলের মতো – তাই হয়তো ওই ব্রহ্মচারী ভেবেছিল যে – চরৈবেতি কার্যালয়ের ইউরোপীয় ভক্তটির আঁকা চিত্রটি বোধহয় ঐটির-ই প্রতিকৃতি ! পরে একদিন গুরুমহারাজ চরৈবেতি কার্যালয়ে এসে ওই চিত্রটির ব্যাখ্যা করেন এবং পরপর cycle-গুলির বর্ণনা করেন। আর তখন থেকেই সকলে সমগ্র ব্যাপারটা জানতে পেরেছিল। গুরুমহারাজ যা বলেছিলেন, তাতে – ওনাকে কেন্দ্র করে প্রথম circle-এ যে তিনজন ত্রিকোণাত্মক মণ্ডল তৈরি করেছিলেন তাঁরা মাতৃকাশক্তি স্বরূপা ! তাঁদের স্থূলশরীর নারীশরীরও হোতে পারে আবার পুরুষশরীরও হোতে পারে – কিন্তু তাঁরা সকলেই পূর্ণশক্তির আধার এবং তাঁরা এক একজন বিশাল শক্তির field সৃষ্টি করে রাখেন ! আর তা করে রাখেন বলেই ঈশ্বরের অবতার বা স্বয়ং ভগবানের শক্তিকে তাঁরা আটকে রাখতে পারেন ! এঁরা বড় একটা নিজেদেরকে প্রকাশিত করেন না , তবে যেটুকু করেন – তাতেও বহু মানুষ তাঁদের দ্বারা মুক্তিলাভ করে থাকে।
তিনজন ত্রিমাত্রিকাশক্তিকে ঘিরে যে ছ’জন দিকপাল মহাগুরুদের কথা বলা হয়েছিল – এঁনাদের সম্বন্ধে গুরুমহারাজ বলেছিলেন __তাঁর স্থূলশরীরের সংস্পর্শে এঁদের ২/৩ জন এসেছে এবং সরাসরি তাঁরা (পরমানন্দ মিশনের) কাজ করছে। বাকিরা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে রয়েছে – তাঁদের সাথে গুরুজীর সূক্ষ্মে যোগাযোগ রয়েছে ! ১৬ জন পার্ষদের কথা আগেই বলা হয়েছে। ছত্রিশজন কলাসিদ্ধদের সম্বন্ধে বলতে গিয়ে গুরুজী বলেছিলেন – এঁরা পৃথিবীগ্রহের মানুষের মানসিকতার level-কে উপরে তোলার জন্যই শরীর ধারণ করেছেন। ফলে এঁরা শিল্পে, সাহিত্যে, ধর্মজগতে, রাজনীতিতে ইত্যাদি যেখানেই কাজ করুন না কেন _ এঁরা মানুষকে গোষ্ঠী চেতনা, শ্রেণী চেতনা, সাম্প্রদায়িক চেতনা, বর্ণ-জাতি বা ধর্মীয় ভেদবুদ্ধি ইত্যাদি থেকে মুক্ত করার কাজে ব্রতী থাকবেন। সমস্ত প্রকারের সংকীর্ণতা থেকে মানুষের মনোজগৎকে বের করে আনার কাজ করবেন।
চুয়ান্নজন প্রাজ্ঞের কথাও আগের দিন মোটামুটি আলোচনা হয়েছে , তবে চৌষট্টিজন গুরুর কথা বলতে গিয়ে গুরুমহারাজ বলেছিলেন – এঁদের অনেকেই আমার চারিপাশে (পরমানন্দ মিশনের সাথে যুক্ত) রয়েছে। এঁরা সরাসরি সাধারণ মানুষের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করবে, তাদেরকে দীক্ষা দেবে এবং ”আপনি আচরি ধর্ম জীবেরে শেখায়”– এই কাজটি করবে তাঁরা। তাঁদেরকে দেখে মানুষ উদ্বুদ্ধ হবে, তাঁদের জীবনচর্যা দেখে সাধারণ মানুষ তাদের জীবন গঠন করবে। এটাই হবে ঐ চৌষট্টি জন গুরুর __গুরুজীর সঙ্গে আগমনের সার্থকতা !!! (ক্রমশঃ)
পরে আমরা জানতে পেরেছিলাম যে “সর্বতোভদ্রমন্ডল” ব্যাপারটা পৃথক, ওটি শক্তিপূজায় অঙ্কিত বা ব্যবহৃত “যন্ত্র”বিশেষ ! গুরুমহারাজ বলেছিলেন তন্ত্র-মন্ত্র-যন্ত্র ! তনুর ত্রাণ – তন্ত্র, মনের ত্রাণ – মন্ত্র এবং প্রাণের ত্রাণ – যন্ত্র ! একটি অপেক্ষা অপরটি আরো সূক্ষ্ম, শেষেরটি সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম ! কিন্তু যে কোনো সূক্ষ্মের-ই স্থূলরূপ রয়েছে – তাই স্থূলপূজায় স্থূলে “যন্ত্র” অঙ্কন করে নেওয়া হয় বা নির্মাণ করে নেওয়া হয়। কিন্তু তন্ত্রসাধকের প্রকৃত পূজায় বা প্রকৃত তন্ত্রক্রিয়ায় স্থূলমন্ত্র, সূক্ষ্ম মন্ত্রে রূপ নেয় – আর যখন মনের লয় হয় তখন আর মন্ত্রেরই বা স্থান কোথায় ! “যন্ত্র” তখন সাধকের শরীরে ক্রিয়াশীল হয়ে ওঠে !
ব্রহ্মগ্রন্থি, বিষ্ণুগ্রন্থি ও রুদ্রগ্রন্থি এই তিনটিই শক্তিকেন্দ্র ! সুতরাং তিনটি কেন্দ্রেই পৃথক পৃথক ত্রিমাত্রিকা শক্তি রয়েছে। একেবারে প্রাথমিক স্তরে সাধকের মূলাধার বিন্দু এবং দুটি কিডনির দুইপাশের স্থানকে “বিসর্গ” ধরে অধঃমাত্রা ত্রিকোণমন্ডলে সাধনা শুরু হয়। এছাড়া রয়েছে ঊর্ধ্বমাত্রা ত্রিকোণমন্ডলে – আজ্ঞাচক্র ‘বিন্দু’ এবং নাভির ঊর্ধ্বে দুইপাশে ‘বিসর্গ’ নিয়ে এই field তৈরি হয়। তন্ত্রে ‘ত্রিকোণ’ মানেই সৃষ্টিযন্ত্র বা শ্রীযন্ত্র ! এই ‘যন্ত্রের’ সাধনায় সাধকের মধ্যে শক্তির সঞ্চার হয় – আর সেই শক্তির সহায়তায় শরীরাভ্যন্তরস্থ বিভিন্ন অন্যান্য শক্তিগ্রন্থির উন্মেষ ঘটে যায় এবং এরফলেই সাধকের আত্মিক উত্তরণ ঘটতে থাকে – তাঁর মধ্যে পূর্ণ শক্তির প্রকাশ ঘটে যায়। তবে সাধকের অন্তিম সাধনায়_তখন সহস্রার ‘বিন্দু’ হয় আর দুটি চক্ষুর উপরিভাগ বিসর্গ ধরে অন্তিম বা প্রকৃত ত্রিকোণমন্ডল গঠিত হয়। এই যন্ত্র-সাধনায় সিদ্ধরাই নির্বিকল্প প্রাপ্ত হ’ন। তবে প্রতিটি শক্তিকেন্দ্রেই অধঃমাত্রা এবং ঊর্দ্ধমাত্রা ত্রিকোনমন্ডল রয়েছে।আর এর ফলেই ষট্ কোণ তৈরি হয়। নাহলে শক্তি উৎপাদনের field-টা তৈরি হবে কি করে !
যন্ত্রে অঙ্কিত ত্রিকোণকে ঘিরে যে সমস্ত চতুঃস্কোন, পদ্মকর্ণিকা ইত্যাদি দেখা যায় – সেগুলি হয় শরীরের অভ্যন্তরস্থ বিভিন্ন field অথবা শক্তির বিকাশের অবস্থা_বোঝানো হয়েছে ! সাধারণ মানুষ মনে করে এগুলি নিছক কল্পনামাত্র বা রঙচঙে কোন decoration – কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা নয় ! একমাত্র যাঁরা সাধনা করেন, তাঁরা সাধনার গভীরে গিয়ে ঐ চিত্ররূপ প্রত্যক্ষ করেন __তাঁরা তখন নিজের মধ্যেই সৃষ্টির সমস্ত রহস্য অবগত হ’ন। ইচ্ছা করলেই তাঁরা তখন কোনো কিছু সৃষ্টিও করতে পারেন, আবার ধ্বংসও করতে পারেন ! এককথায় তাঁদের মধ্যে তখন ভগবৎ-শক্তির প্রকাশ ঘটে যায় এবং তাঁরা তখন মানুষের কাছে ‘ভগবান’ হিসাবেই পূজিত হোতে থাকেন !
তবে আমাদের কথা হচ্ছিল পরমানন্দ-পার্ষদমন্ডল বা গুরু মহারাজ বর্ণিত ‘পরমানন্দমন্ডল’ নিয়ে ! পরমানন্দ মন্ডলের গঠন অনেকটাই সর্বতোভদ্রমন্ডলের মতো – তাই হয়তো ওই ব্রহ্মচারী ভেবেছিল যে – চরৈবেতি কার্যালয়ের ইউরোপীয় ভক্তটির আঁকা চিত্রটি বোধহয় ঐটির-ই প্রতিকৃতি ! পরে একদিন গুরুমহারাজ চরৈবেতি কার্যালয়ে এসে ওই চিত্রটির ব্যাখ্যা করেন এবং পরপর cycle-গুলির বর্ণনা করেন। আর তখন থেকেই সকলে সমগ্র ব্যাপারটা জানতে পেরেছিল। গুরুমহারাজ যা বলেছিলেন, তাতে – ওনাকে কেন্দ্র করে প্রথম circle-এ যে তিনজন ত্রিকোণাত্মক মণ্ডল তৈরি করেছিলেন তাঁরা মাতৃকাশক্তি স্বরূপা ! তাঁদের স্থূলশরীর নারীশরীরও হোতে পারে আবার পুরুষশরীরও হোতে পারে – কিন্তু তাঁরা সকলেই পূর্ণশক্তির আধার এবং তাঁরা এক একজন বিশাল শক্তির field সৃষ্টি করে রাখেন ! আর তা করে রাখেন বলেই ঈশ্বরের অবতার বা স্বয়ং ভগবানের শক্তিকে তাঁরা আটকে রাখতে পারেন ! এঁরা বড় একটা নিজেদেরকে প্রকাশিত করেন না , তবে যেটুকু করেন – তাতেও বহু মানুষ তাঁদের দ্বারা মুক্তিলাভ করে থাকে।
তিনজন ত্রিমাত্রিকাশক্তিকে ঘিরে যে ছ’জন দিকপাল মহাগুরুদের কথা বলা হয়েছিল – এঁনাদের সম্বন্ধে গুরুমহারাজ বলেছিলেন __তাঁর স্থূলশরীরের সংস্পর্শে এঁদের ২/৩ জন এসেছে এবং সরাসরি তাঁরা (পরমানন্দ মিশনের) কাজ করছে। বাকিরা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে রয়েছে – তাঁদের সাথে গুরুজীর সূক্ষ্মে যোগাযোগ রয়েছে ! ১৬ জন পার্ষদের কথা আগেই বলা হয়েছে। ছত্রিশজন কলাসিদ্ধদের সম্বন্ধে বলতে গিয়ে গুরুজী বলেছিলেন – এঁরা পৃথিবীগ্রহের মানুষের মানসিকতার level-কে উপরে তোলার জন্যই শরীর ধারণ করেছেন। ফলে এঁরা শিল্পে, সাহিত্যে, ধর্মজগতে, রাজনীতিতে ইত্যাদি যেখানেই কাজ করুন না কেন _ এঁরা মানুষকে গোষ্ঠী চেতনা, শ্রেণী চেতনা, সাম্প্রদায়িক চেতনা, বর্ণ-জাতি বা ধর্মীয় ভেদবুদ্ধি ইত্যাদি থেকে মুক্ত করার কাজে ব্রতী থাকবেন। সমস্ত প্রকারের সংকীর্ণতা থেকে মানুষের মনোজগৎকে বের করে আনার কাজ করবেন।
চুয়ান্নজন প্রাজ্ঞের কথাও আগের দিন মোটামুটি আলোচনা হয়েছে , তবে চৌষট্টিজন গুরুর কথা বলতে গিয়ে গুরুমহারাজ বলেছিলেন – এঁদের অনেকেই আমার চারিপাশে (পরমানন্দ মিশনের সাথে যুক্ত) রয়েছে। এঁরা সরাসরি সাধারণ মানুষের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করবে, তাদেরকে দীক্ষা দেবে এবং ”আপনি আচরি ধর্ম জীবেরে শেখায়”– এই কাজটি করবে তাঁরা। তাঁদেরকে দেখে মানুষ উদ্বুদ্ধ হবে, তাঁদের জীবনচর্যা দেখে সাধারণ মানুষ তাদের জীবন গঠন করবে। এটাই হবে ঐ চৌষট্টি জন গুরুর __গুরুজীর সঙ্গে আগমনের সার্থকতা !!! (ক্রমশঃ)
