জিজ্ঞাসু :– শিখ সম্প্রদায়ের মধ্যেও তো এই ধরনেরই(সুমেরিয়দের মতো) গোঁড়ামি রয়েছে?
গুরুমহারাজ :– গুরু নানকের প্রতিষ্ঠিত পরম্পরাকেই ‘শিখ’ সম্প্রদায়’ বলছো তো ? কিন্তু জেনে রাখবে, গুরু নানক আধ্যাত্মিকভাবে অনেক উন্নত মহামানব ছিলেন ! তাই গোঁড়ামি, সাম্প্রদায়িকতা __এগুলো যদি ওদের মধ্যে খুব প্রকট হয়ে দেখা দেয়, তাহলে জানবে এগুলো পরে এসেছে! নানক সেভাবে শিক্ষা দেন নি। প্রকৃতপক্ষে, গুরু নানক Plus World -এর লোক ছিলেন অর্থাৎ অবতরিত মহামানব! কথিত আছে, ভারতীয় মহাপুরুষদের মধ্যে (যদিও আরো কয়েকজন সাধু-মহাত্মাও গিয়েছিলেন)গুরু নানক, মক্কার কাবাশরীফেও বেশ কয়েকদিন ছিলেন ! ওখানকার Record-এ রয়েছে যে, ‘Non-muslim হোলেও একজন উন্নত ভারতীয় মহাত্মা এখানে কয়েকদিন কাটিয়েছিলেন’ ৷
দশমগুরু (শেষ গুরু) গোবিন্দ সিংও খুবই উন্নত মহাত্মা ছিলেন । একটু আগে তোমাদের ‘কাল’ বা ‘মহাকাল’ নিয়ে বলছিলাম । দ্যাখো, কালতত্ত্ব না জানা থাকলে জগতের অনেক ঘটনাকেই অঘটন মনে হবে I আর ‘কাল’কে জানলে বোঝা যাবে যে, যেগুলি অঘটন বলে মনে হোচ্ছে– সেগুলি আসলে ‘অবশ্যম্ভাবী ঘটনা’ ছাড়া আর কিছুই নয় !
গুরু নানক যে সময় পশ্চিম ভারতে “শিখ” (বা শিষ্য ) পরম্পরা তৈরি করেছিলেন__ তখন ওই অঞ্চলের পরিস্থিতি ছিল খুবই ভয়ঙ্কর ! সাগরের ঢেউয়ের মতো মরুভূমির যাযাবর দস্যুবাহিনীর আক্রমণে সমগ্র পশ্চিমাঞ্চল তখন বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে । বিভিন্ন যাযাবর গোষ্ঠীর নেতারা দলবল নিয়ে এসে ওইসব অঞ্চলে লুটপাট, নারী নির্যাতন, হত্যালীলা, ধর্মস্থান ধ্বংসের মতো ঘৃণ্য কাজ করে চলে যাচ্ছে । সেইরকম একটা কঠিন পরিস্থিতিতে ওই অঞ্চলে তখন একজন শক্তিশালী নৃপতি অথবা শক্তিশালী ধর্মীয় নেতার প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল ৷ তাই সেই সময়ে গুরু নানক ওই অঞ্চলে শরীর নিয়ে – ভারতবর্ষের সনাতন আদর্শকে রক্ষা করেছিলেন ৷
নানকের পরম্পরার সব গুরুরাই উন্নত ছিলেন ৷একটু আগেই বলছিলাম_ দশম গুরু গোবিন্দ সিংহও খুব উন্নত ছিলেন । খুব কম বয়সে(মাত্র ১০/১২-বছর বয়সে) তিনি গুরুপদে অভিষিক্ত হ’ন – তবু সেই বয়স থেকে আমৃত্যু তিনি সুন্দরভাবে নিজের পরম্পরাকে টেনে নিয়ে গিয়েছিলেন ৷ শিখদের ধর্মগ্রন্থ ‘গ্রন্থ সাহিব’ হোল নানকের শিক্ষা বা উপদেশাবলী । শিখ পরম্পরায় ‘গ্রন্থ সাহিব’ -কে ‘গুরু’ হিসাবেই মর্যাদা দেওয়া হয় । ওই জন্য যেকোন গুরুদ্বারে দেখবে ___সুসজ্জিত খাট বা পালঙ্কে ‘গ্রন্থ সাহিব’ রাখা আছে, আর সেখানে অনেকেই পাখার হাওয়া করছে -কেউ খাটের পায়াগুলো টিপছে– ইত্যাদি নানা ভাবে ওরা যেন গুরুর-ই সেবা করছে ! শিখ পরম্পরায় গুরুসেবা সাধনার অন্যতম অঙ্গ। “গুরু-ই দ্বার” তাই ধর্মস্থানের নাম “গুরুদ্বার” । ঈশ্বরের কাছে যেতে হলে গুরু যেন ‘দ্বার’-স্বরূপ, যে দুয়ার খুলে ঈশ্বরের কাছে যাওয়া যায় !
দ্যাখো, ভারতীয় সনাতন পরম্পরাতেও তুমি এই একই কথাই পাবে। গুরু প্রসন্ন হোলেই মানুষের অজ্ঞান-অন্ধকার কেটে যায় এবং মানুষের দশমদ্বার উন্মোচিত হয় অর্থাৎ আজ্ঞাচক্রে সাধক স্থিত হয় । আর তারপরেই অধ্যাত্মজগতের পথে চলা শুরু ! সেই পথে চলতে চলতে সহস্রারে হয় আত্মার সঙ্গে পরমাত্মার মিলন ৷৷
তাহলে বুঝতে পারছো তো_ গুরু নানক ভারতের সুপ্রাচীন সনাতন পরম্পরার শিক্ষাই তাঁর শিষ্যদেরকে দিয়ে গেছেন__পরবর্তীকালের অনুগামীরা যদি সেখান থেকে বিচ্যুত হয় __তাহলে জানবে সেটা ‘কালের ধর্মে’ হয়েছে। প্রায় সকল পরম্পরাতে এটাই হয়ে থাকে। ‘কাল’ বা সময় পরিবর্তনের সাথে সাথে _followers-রা পরম্পরার মূল শিক্ষা থেকে সরতে সরতে বহুদূরে চলে যায়! আর এতো দূরে চলে যায় যে, আর কোনোভাবেই মূল জায়গায় ফিরে আসা সম্ভব হয় না! তখন আবার কোনো মহাপুরুষ এসে তাদেরকে নতুন কোনো স্রোতে ফেলার ভার নেন–যাতে করে আবার তারা গতিশীল হোতে পারে!
এইভাবেই আমাকেও বারবার যাওয়া আসা করতে হোচ্ছে বাবা! এই পরমানন্দ শরীরেই কত পথভ্রষ্ট পরম্পরার ভার নিতে হয়েছে _তা আর তোমাদেরকে বললে কি তোমরা বুঝতে পারবে !!ওসব আমার নিজের কথা _ আমার কাছেই থাক্ !(ক্রমশঃ)
গুরুমহারাজ :– গুরু নানকের প্রতিষ্ঠিত পরম্পরাকেই ‘শিখ’ সম্প্রদায়’ বলছো তো ? কিন্তু জেনে রাখবে, গুরু নানক আধ্যাত্মিকভাবে অনেক উন্নত মহামানব ছিলেন ! তাই গোঁড়ামি, সাম্প্রদায়িকতা __এগুলো যদি ওদের মধ্যে খুব প্রকট হয়ে দেখা দেয়, তাহলে জানবে এগুলো পরে এসেছে! নানক সেভাবে শিক্ষা দেন নি। প্রকৃতপক্ষে, গুরু নানক Plus World -এর লোক ছিলেন অর্থাৎ অবতরিত মহামানব! কথিত আছে, ভারতীয় মহাপুরুষদের মধ্যে (যদিও আরো কয়েকজন সাধু-মহাত্মাও গিয়েছিলেন)গুরু নানক, মক্কার কাবাশরীফেও বেশ কয়েকদিন ছিলেন ! ওখানকার Record-এ রয়েছে যে, ‘Non-muslim হোলেও একজন উন্নত ভারতীয় মহাত্মা এখানে কয়েকদিন কাটিয়েছিলেন’ ৷
দশমগুরু (শেষ গুরু) গোবিন্দ সিংও খুবই উন্নত মহাত্মা ছিলেন । একটু আগে তোমাদের ‘কাল’ বা ‘মহাকাল’ নিয়ে বলছিলাম । দ্যাখো, কালতত্ত্ব না জানা থাকলে জগতের অনেক ঘটনাকেই অঘটন মনে হবে I আর ‘কাল’কে জানলে বোঝা যাবে যে, যেগুলি অঘটন বলে মনে হোচ্ছে– সেগুলি আসলে ‘অবশ্যম্ভাবী ঘটনা’ ছাড়া আর কিছুই নয় !
গুরু নানক যে সময় পশ্চিম ভারতে “শিখ” (বা শিষ্য ) পরম্পরা তৈরি করেছিলেন__ তখন ওই অঞ্চলের পরিস্থিতি ছিল খুবই ভয়ঙ্কর ! সাগরের ঢেউয়ের মতো মরুভূমির যাযাবর দস্যুবাহিনীর আক্রমণে সমগ্র পশ্চিমাঞ্চল তখন বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে । বিভিন্ন যাযাবর গোষ্ঠীর নেতারা দলবল নিয়ে এসে ওইসব অঞ্চলে লুটপাট, নারী নির্যাতন, হত্যালীলা, ধর্মস্থান ধ্বংসের মতো ঘৃণ্য কাজ করে চলে যাচ্ছে । সেইরকম একটা কঠিন পরিস্থিতিতে ওই অঞ্চলে তখন একজন শক্তিশালী নৃপতি অথবা শক্তিশালী ধর্মীয় নেতার প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল ৷ তাই সেই সময়ে গুরু নানক ওই অঞ্চলে শরীর নিয়ে – ভারতবর্ষের সনাতন আদর্শকে রক্ষা করেছিলেন ৷
নানকের পরম্পরার সব গুরুরাই উন্নত ছিলেন ৷একটু আগেই বলছিলাম_ দশম গুরু গোবিন্দ সিংহও খুব উন্নত ছিলেন । খুব কম বয়সে(মাত্র ১০/১২-বছর বয়সে) তিনি গুরুপদে অভিষিক্ত হ’ন – তবু সেই বয়স থেকে আমৃত্যু তিনি সুন্দরভাবে নিজের পরম্পরাকে টেনে নিয়ে গিয়েছিলেন ৷ শিখদের ধর্মগ্রন্থ ‘গ্রন্থ সাহিব’ হোল নানকের শিক্ষা বা উপদেশাবলী । শিখ পরম্পরায় ‘গ্রন্থ সাহিব’ -কে ‘গুরু’ হিসাবেই মর্যাদা দেওয়া হয় । ওই জন্য যেকোন গুরুদ্বারে দেখবে ___সুসজ্জিত খাট বা পালঙ্কে ‘গ্রন্থ সাহিব’ রাখা আছে, আর সেখানে অনেকেই পাখার হাওয়া করছে -কেউ খাটের পায়াগুলো টিপছে– ইত্যাদি নানা ভাবে ওরা যেন গুরুর-ই সেবা করছে ! শিখ পরম্পরায় গুরুসেবা সাধনার অন্যতম অঙ্গ। “গুরু-ই দ্বার” তাই ধর্মস্থানের নাম “গুরুদ্বার” । ঈশ্বরের কাছে যেতে হলে গুরু যেন ‘দ্বার’-স্বরূপ, যে দুয়ার খুলে ঈশ্বরের কাছে যাওয়া যায় !
দ্যাখো, ভারতীয় সনাতন পরম্পরাতেও তুমি এই একই কথাই পাবে। গুরু প্রসন্ন হোলেই মানুষের অজ্ঞান-অন্ধকার কেটে যায় এবং মানুষের দশমদ্বার উন্মোচিত হয় অর্থাৎ আজ্ঞাচক্রে সাধক স্থিত হয় । আর তারপরেই অধ্যাত্মজগতের পথে চলা শুরু ! সেই পথে চলতে চলতে সহস্রারে হয় আত্মার সঙ্গে পরমাত্মার মিলন ৷৷
তাহলে বুঝতে পারছো তো_ গুরু নানক ভারতের সুপ্রাচীন সনাতন পরম্পরার শিক্ষাই তাঁর শিষ্যদেরকে দিয়ে গেছেন__পরবর্তীকালের অনুগামীরা যদি সেখান থেকে বিচ্যুত হয় __তাহলে জানবে সেটা ‘কালের ধর্মে’ হয়েছে। প্রায় সকল পরম্পরাতে এটাই হয়ে থাকে। ‘কাল’ বা সময় পরিবর্তনের সাথে সাথে _followers-রা পরম্পরার মূল শিক্ষা থেকে সরতে সরতে বহুদূরে চলে যায়! আর এতো দূরে চলে যায় যে, আর কোনোভাবেই মূল জায়গায় ফিরে আসা সম্ভব হয় না! তখন আবার কোনো মহাপুরুষ এসে তাদেরকে নতুন কোনো স্রোতে ফেলার ভার নেন–যাতে করে আবার তারা গতিশীল হোতে পারে!
এইভাবেই আমাকেও বারবার যাওয়া আসা করতে হোচ্ছে বাবা! এই পরমানন্দ শরীরেই কত পথভ্রষ্ট পরম্পরার ভার নিতে হয়েছে _তা আর তোমাদেরকে বললে কি তোমরা বুঝতে পারবে !!ওসব আমার নিজের কথা _ আমার কাছেই থাক্ !(ক্রমশঃ)
