শ্রী শ্রী গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দের কথা এবং তাঁর ভক্ত-পার্ষদসমূহের কথা এখানে আলোচনা করা হচ্ছিলো। সেইটার রেশ ধরেই আরো অনেক কথা এসে যাচ্ছে, ফলে সেইগুলো সম্বন্ধেও একটু-আধটু আলোকপাত করা হোচ্ছে ! আর এইভাবেই এগিয়ে চলেছে আমাদের “পুরোনো সেই বনগ্রামের কথা”!
শেষ যেদিন বনগ্রাম আশ্রমে গেছিলাম (অতি সম্প্রতি, ২৩-শে জুন, ২০২১ ; যদিও লকডাউন থাকার আশ্রমের ভিতরে খুব একটা বেশি ঘোরাঘুরি করার বা যেখানে সেখানে যাবার অতটা অনুমতি ছিল না ! তাই আমার যেটুকু কাজ ছিল তা করেই চলে এসেছিলাম৷), সেদিন বনগ্রাম আশ্রম অপেক্ষা_ গ্রামের ভিতরে অর্থাৎ নগেনদের বাড়ি, ন’কাকার বাড়ি এবং নবুমাস্টারের বাড়িতেই বেশি সময় কাটিয়েছিলাম৷ নবুমাস্টার বা রঞ্জিত দাস সম্বন্ধে আগে অনেকটাই আলোচনা করা হয়েছে। কিন্তু সবটা তো আর কখনোই আলোচনা করা সম্ভব হয় না, অনেকটাই ফাঁক থেকে যায়। সেই ফাঁকগুলোই মাঝে মাঝে repair করার চেষ্টাও করা যেতে পারে।
যাইহোক, সেদিন যখন (২৩-শে জুন, ২০২১) ন’কাকার বাড়িতে বসেছিলাম তখনই নবুমাস্টারের ছেলে জয়চন্দ্রের স্ত্রী ‘কবি’ (কবিতা দাস, কৃষ্ণদেবপুর।গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দের নিজের ভাইঝি) পূজার সামগ্রী নিয়ে ওখানে এসেছিল। ও-ই আমন্ত্রণ করলো – “আমাদের বাড়ি (নবুমাস্টারের বাড়ি) একবার যাবেন !” জয়(গুরুমহারাজ জয়-কে ‘জয়চন্দ্র’ বলে ডাকতেন)-এর মা সম্প্রতি মারা গেছেন, উনি আমাদের খুবই ভালবাসতেন। অভিজিৎ (অভিজিৎ সামন্ত, আমাদের আশ্রমের ছেলে, ও বর্তমানে civil-এর ডিগ্রী নিয়ে, কর্নাটকে Road Construction Co.-তে উচ্চপদে চাকরি করে। অভিজিৎ আবার গুরুমহারাজের ছোট ভাইঝি ‘দোলন’-কে বিবাহ করেছে। ‘দোলন’ও আমাদের খুবই স্নেহের ! কারণ গুরুমহারাজের ভাই গৌতমের সাথে বহুবার কৃষ্ণদেবপুরের বাড়িতে গেছি, থেকেছি ! তখন দোলন কত ছোট্ট !)__ একটা গাড়ি ভাড়া করে ওর family এবং জয়-এর family-র প্রায় সবাইকে নিয়ে একবার কাটোয়ার কাছে বারেন্দা আশ্রমে এবং আমাদের রশুই গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে নিয়ে এসেছিল। সেইসময় জয়-এর মা(আমাদেরও মাতৃস্থানীয়া)-ও এসেছিলেন। ওনার মৃত্যুসংবাদ পেয়েছিলাম, কিন্তু তখন আসা হয় নি ! এইসব বিভিন্ন কারনেই ওদের বাড়িতে একবার গেছিলাম৷
নগেন, হর্ষ আর আমি জয়চন্দ্রের বাড়ি পৌঁছাতেই ‘জয়’ আমাদেরকে খুবই আপ্যায়ন করে বাড়ির ভিতরে নিয়ে গেল ! বাবার (নবুমাস্টার) কথা, মায়ের কথা হোলো – হোলো গুরুমহারাজের কথা ! আমরা অনেক আগে এই পেজে আলোচনা করেছিলাম যে, নবুমাস্টার খুব সুন্দর গুছিয়ে কথা বলতে পারতেন। তৎকালীন সময়ের গ্রামের একজন সাধারন প্রাথমিক স্কুল শিক্ষক হয়েও ওনার বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান খুব প্রখর ছিল। উনি খুব ভাল বক্তৃতা করতে বা প্রবন্ধ লিখতেও পারতেন। যাইহোক, ওনার বা বাড়ির মায়ের মধুর ব্যবহারেই হোক, বা ওনার সাথে আলোচনা করে সন্তুষ্ট হয়েই হোক – একেবারে বনগ্রাম পরমানন্দ মিশনের শুরুর দিকে (যখন আশ্রমে ব্রহ্মচারীদের থাকার ব্যবস্থাও হয়নি, তাই সকলে ন’কাকাদের কালীমন্দিরের কাছে থাকতো) খোকন মহারাজ (আত্মানন্দ), মানিক মহারাজ (অখন্ডানন্দ), মিহির মহারাজ (প্রজ্ঞানন্দ), অমূল্য মহারাজ (অভয়ানন্দ), নীলমণি মহারাজ (চিদানন্দ) প্রমুখরা দিনের অধিকাংশ সময় নবুমাস্টারের বাড়িতেই কাটাতো ! ওখানে অবসর যাপনের জন্য অনেক সময় একটু লুডো খেলা হতো ঠিকই কিন্তু জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা, বেদ-বেদান্ত আলোচনা, গুরুমহারাজের বক্তব্যগুলির ব্যাখ্যা – এসবও খুবই হোতো !
জয়চন্দ্র বলছিল সেইসব দিনের অভিজ্ঞতার কাহিনী ! ও তখন খুবই ছোট, হয়তো সেভেন-এইটে পড়ে। একদিন ওর ছোটবোন মনি (গুরুমহারাজ বলতেন ‘ডাবরী’ ! পরে ওর সাথে আশ্রমের ডাক্তার রায়নার বিদ্যুৎ বড়ুয়ার বিবাহ হয়েছিল।)-র প্রচন্ড শরীর খারাপ, বাঁচে কি মরে অবস্থা ! গুরুমহারাজ বেশ কিছুদিন আশ্রমে ছিলেন না – সেই দিনই সদ্য ফিরেছেন ! মা আকুল ক্রন্দন করছেন, নবুমাস্টারও বিচলিত – বালক জয় ছুটে গেলেন স্বয়ং বৈদ্যনাথ-এর কাছে আশ্রমে–গুরুজীর কাছে গিয়েই বলল, ” ডাবরীর খুব শরীর খারাপ, মা তোমাকে একবার যেতে বললো !” গুরুমহারাজ তখনও ভালোভাবে fresh হ’ননি – সদ্য আশ্রমে এসে পৌঁছেছেন ! আশ্রমিকরাও (তৎকালীন হয়তো দু-পাঁচজন) ওনাকে অনেকদিন পরে পেয়ে একটু সঙ্গ পেতে চাইছে, ওনার একটু বিশ্রামের কথা ভাবছে ! তাই তারা জয়ের আগমনে একটু অস্বস্তি বোধ করছিল ।কিন্তু গুরুমহারাজ প্রায় সাথে সাথেই ready হয়ে বেরিয়ে পড়েছিলেন ! রাস্তায় বেরিয়ে উনি জয়-কে বলেছিলেন – ” আজকে একটা মজা করবো !তুই আমাকে ধর্ ! আমরা রাস্তা দিয়ে গেলেও – কেউ আজ আমাদের দেখতে পাবে না !”
তেমনটাই হয়েছিল ! জয় দেখেছিল গ্রামের অনেকেই ওদের গা ঘেঁষে pass হয়ে যাচ্ছে কিন্তু কেউ কিছুই বলছে না অর্থাৎ ওরা গুরুমহারাজ বা জয়কে দেখতে পাচ্ছে না ! বাড়ি পৌঁছে গুরুমহারাজের ওইসব সন্তানেরা (আত্মানন্দ, প্রজ্ঞানন্দ, অখন্ডানন্দ, চিদানন্দ-রা) সামনেটায় বসেছিল। গুরুমহারাজ বাড়িতে ঢুকে ওদের ফাঁকে ফাঁকে পা দিয়ে ঘরের ভিতরে (যে ঘরে অসুস্থ ডাবরী ছিল) ঢুকে গেছিলেন ! ডাবরীর কপালের মাঝখানে হাত দিয়ে ওকে শক্তিসঞ্চার করে সারিয়েও তুলেছিলেন।
কিছুক্ষণ পর জয়কে দেখে জয়ের বাবা সহ ব্রহ্মচারীরা জানতে পেরেছিল যে, গুরুমহারাজ বাড়িতে অনেক আগেই এসে গেছেন ! এসেছেন, যে কাজে এসেছেন_তাও সম্পন্ন করেছেন, অথচ সবার অজ্ঞাতে ! [ক্রমশঃ]
শেষ যেদিন বনগ্রাম আশ্রমে গেছিলাম (অতি সম্প্রতি, ২৩-শে জুন, ২০২১ ; যদিও লকডাউন থাকার আশ্রমের ভিতরে খুব একটা বেশি ঘোরাঘুরি করার বা যেখানে সেখানে যাবার অতটা অনুমতি ছিল না ! তাই আমার যেটুকু কাজ ছিল তা করেই চলে এসেছিলাম৷), সেদিন বনগ্রাম আশ্রম অপেক্ষা_ গ্রামের ভিতরে অর্থাৎ নগেনদের বাড়ি, ন’কাকার বাড়ি এবং নবুমাস্টারের বাড়িতেই বেশি সময় কাটিয়েছিলাম৷ নবুমাস্টার বা রঞ্জিত দাস সম্বন্ধে আগে অনেকটাই আলোচনা করা হয়েছে। কিন্তু সবটা তো আর কখনোই আলোচনা করা সম্ভব হয় না, অনেকটাই ফাঁক থেকে যায়। সেই ফাঁকগুলোই মাঝে মাঝে repair করার চেষ্টাও করা যেতে পারে।
যাইহোক, সেদিন যখন (২৩-শে জুন, ২০২১) ন’কাকার বাড়িতে বসেছিলাম তখনই নবুমাস্টারের ছেলে জয়চন্দ্রের স্ত্রী ‘কবি’ (কবিতা দাস, কৃষ্ণদেবপুর।গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দের নিজের ভাইঝি) পূজার সামগ্রী নিয়ে ওখানে এসেছিল। ও-ই আমন্ত্রণ করলো – “আমাদের বাড়ি (নবুমাস্টারের বাড়ি) একবার যাবেন !” জয়(গুরুমহারাজ জয়-কে ‘জয়চন্দ্র’ বলে ডাকতেন)-এর মা সম্প্রতি মারা গেছেন, উনি আমাদের খুবই ভালবাসতেন। অভিজিৎ (অভিজিৎ সামন্ত, আমাদের আশ্রমের ছেলে, ও বর্তমানে civil-এর ডিগ্রী নিয়ে, কর্নাটকে Road Construction Co.-তে উচ্চপদে চাকরি করে। অভিজিৎ আবার গুরুমহারাজের ছোট ভাইঝি ‘দোলন’-কে বিবাহ করেছে। ‘দোলন’ও আমাদের খুবই স্নেহের ! কারণ গুরুমহারাজের ভাই গৌতমের সাথে বহুবার কৃষ্ণদেবপুরের বাড়িতে গেছি, থেকেছি ! তখন দোলন কত ছোট্ট !)__ একটা গাড়ি ভাড়া করে ওর family এবং জয়-এর family-র প্রায় সবাইকে নিয়ে একবার কাটোয়ার কাছে বারেন্দা আশ্রমে এবং আমাদের রশুই গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে নিয়ে এসেছিল। সেইসময় জয়-এর মা(আমাদেরও মাতৃস্থানীয়া)-ও এসেছিলেন। ওনার মৃত্যুসংবাদ পেয়েছিলাম, কিন্তু তখন আসা হয় নি ! এইসব বিভিন্ন কারনেই ওদের বাড়িতে একবার গেছিলাম৷
নগেন, হর্ষ আর আমি জয়চন্দ্রের বাড়ি পৌঁছাতেই ‘জয়’ আমাদেরকে খুবই আপ্যায়ন করে বাড়ির ভিতরে নিয়ে গেল ! বাবার (নবুমাস্টার) কথা, মায়ের কথা হোলো – হোলো গুরুমহারাজের কথা ! আমরা অনেক আগে এই পেজে আলোচনা করেছিলাম যে, নবুমাস্টার খুব সুন্দর গুছিয়ে কথা বলতে পারতেন। তৎকালীন সময়ের গ্রামের একজন সাধারন প্রাথমিক স্কুল শিক্ষক হয়েও ওনার বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান খুব প্রখর ছিল। উনি খুব ভাল বক্তৃতা করতে বা প্রবন্ধ লিখতেও পারতেন। যাইহোক, ওনার বা বাড়ির মায়ের মধুর ব্যবহারেই হোক, বা ওনার সাথে আলোচনা করে সন্তুষ্ট হয়েই হোক – একেবারে বনগ্রাম পরমানন্দ মিশনের শুরুর দিকে (যখন আশ্রমে ব্রহ্মচারীদের থাকার ব্যবস্থাও হয়নি, তাই সকলে ন’কাকাদের কালীমন্দিরের কাছে থাকতো) খোকন মহারাজ (আত্মানন্দ), মানিক মহারাজ (অখন্ডানন্দ), মিহির মহারাজ (প্রজ্ঞানন্দ), অমূল্য মহারাজ (অভয়ানন্দ), নীলমণি মহারাজ (চিদানন্দ) প্রমুখরা দিনের অধিকাংশ সময় নবুমাস্টারের বাড়িতেই কাটাতো ! ওখানে অবসর যাপনের জন্য অনেক সময় একটু লুডো খেলা হতো ঠিকই কিন্তু জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা, বেদ-বেদান্ত আলোচনা, গুরুমহারাজের বক্তব্যগুলির ব্যাখ্যা – এসবও খুবই হোতো !
জয়চন্দ্র বলছিল সেইসব দিনের অভিজ্ঞতার কাহিনী ! ও তখন খুবই ছোট, হয়তো সেভেন-এইটে পড়ে। একদিন ওর ছোটবোন মনি (গুরুমহারাজ বলতেন ‘ডাবরী’ ! পরে ওর সাথে আশ্রমের ডাক্তার রায়নার বিদ্যুৎ বড়ুয়ার বিবাহ হয়েছিল।)-র প্রচন্ড শরীর খারাপ, বাঁচে কি মরে অবস্থা ! গুরুমহারাজ বেশ কিছুদিন আশ্রমে ছিলেন না – সেই দিনই সদ্য ফিরেছেন ! মা আকুল ক্রন্দন করছেন, নবুমাস্টারও বিচলিত – বালক জয় ছুটে গেলেন স্বয়ং বৈদ্যনাথ-এর কাছে আশ্রমে–গুরুজীর কাছে গিয়েই বলল, ” ডাবরীর খুব শরীর খারাপ, মা তোমাকে একবার যেতে বললো !” গুরুমহারাজ তখনও ভালোভাবে fresh হ’ননি – সদ্য আশ্রমে এসে পৌঁছেছেন ! আশ্রমিকরাও (তৎকালীন হয়তো দু-পাঁচজন) ওনাকে অনেকদিন পরে পেয়ে একটু সঙ্গ পেতে চাইছে, ওনার একটু বিশ্রামের কথা ভাবছে ! তাই তারা জয়ের আগমনে একটু অস্বস্তি বোধ করছিল ।কিন্তু গুরুমহারাজ প্রায় সাথে সাথেই ready হয়ে বেরিয়ে পড়েছিলেন ! রাস্তায় বেরিয়ে উনি জয়-কে বলেছিলেন – ” আজকে একটা মজা করবো !তুই আমাকে ধর্ ! আমরা রাস্তা দিয়ে গেলেও – কেউ আজ আমাদের দেখতে পাবে না !”
তেমনটাই হয়েছিল ! জয় দেখেছিল গ্রামের অনেকেই ওদের গা ঘেঁষে pass হয়ে যাচ্ছে কিন্তু কেউ কিছুই বলছে না অর্থাৎ ওরা গুরুমহারাজ বা জয়কে দেখতে পাচ্ছে না ! বাড়ি পৌঁছে গুরুমহারাজের ওইসব সন্তানেরা (আত্মানন্দ, প্রজ্ঞানন্দ, অখন্ডানন্দ, চিদানন্দ-রা) সামনেটায় বসেছিল। গুরুমহারাজ বাড়িতে ঢুকে ওদের ফাঁকে ফাঁকে পা দিয়ে ঘরের ভিতরে (যে ঘরে অসুস্থ ডাবরী ছিল) ঢুকে গেছিলেন ! ডাবরীর কপালের মাঝখানে হাত দিয়ে ওকে শক্তিসঞ্চার করে সারিয়েও তুলেছিলেন।
কিছুক্ষণ পর জয়কে দেখে জয়ের বাবা সহ ব্রহ্মচারীরা জানতে পেরেছিল যে, গুরুমহারাজ বাড়িতে অনেক আগেই এসে গেছেন ! এসেছেন, যে কাজে এসেছেন_তাও সম্পন্ন করেছেন, অথচ সবার অজ্ঞাতে ! [ক্রমশঃ]
