জিজ্ঞাসু :– আমি অনেকদিন থেকেই এই বনগ্রাম আশ্রমে আসছি । প্রথম প্রথম দেখতাম বেশি লোকজন এখানে আসতো না ৷ কিন্তু যত দিন যাচ্ছে দেখতে পাচ্ছি লোকজনের আসা-যাওয়া দ্রুত হারে বেড়ে চলেছে ! এখানে তো দেখার মতো (মন্দির,স্থাপত্য, প্রাকৃতিক অসাধারণ বিষয়সমূহ যেমন পাহাড়-নদী- সমুদ্র ইত্যাদি) কিছুই নাই (তখন ১৯৯৩/৯৪ সাল), তবুও এত মানুষ আসছে ! উত্তর ভারত, দক্ষিণ ভারত, এমনকি ইউরোপীয়রাও দলে দলে আসছে – এতো মানুষ আসছে কেন ?
*গুরুমহারাজ* :– ভালোবাসা পায় বলে !! আমি সকলকেই ভালোবাসি, তাই তো আসে ! তুই ও তো আসিস সেই কারণেই ! তবে, তুই সেটা feel করতে পারছিস না, তাই যা দেখছিস বা যতোটা দেখছিস___ সেটাই বলছিস । কিন্তু এটা জানবি যে_তোর দেখা জগৎটাই সব নয় ! তোর দেখার বাইরেও অনেক কিছু এখানে ঘটে ! যেমন এই আশ্রমেই তোর দেখার বাইরেও অনেকে আসে ! তাদের মধ্যে যেমন মানুষ রয়েছে তেমনি মনুষ্যেতর প্রাণীরা রয়েছে, আবার মনুষ্যোত্তর-রাও রয়েছে !
স্থূল চেতনা-সম্পন্ন ব্যক্তিরা স্থূলদৃষ্টিতে জগৎ দেখে, কিন্তু যাদের চেতনা সূক্ষ্মস্তরকে স্পর্শ করেছে তারা সূক্ষ্মদৃষ্টির অধিকারী হয় – ফলে তারা এই জগতের অনেক সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বস্তু বা বিষয়সমূহকে ধরতে পারে ৷ তোরা তো আমার কথামতো এখন অনেকেই ধ্যান-জপ করিস –ফলে তোদেরও চেতনার উন্মেষ ঘটছে ! তাই তোদেরকে এই কথাগুলো বলতে পারছি__দেখবি কোনো কোনোদিন হয়তো সকাল থেকেই ভাবছিস ‘আজকের দিনটা যেন একটু অন্যরকম’– আর সেদিনই কোনো একটা অঘটন বা দুর্ঘটনা ঘটে গেল ! কিংবা হয়তো স্বপ্নে কোনো একটা বিষয় দেখলি – পরে দেখলি বাস্তবে সেটাই ঘটে যাচ্ছে ! এমন সব ব্যাপার আকছার প্রথম প্রথম ঘটে সাধকের জীবনে ! কিন্তু চেতনার এই উন্নতি যখন একটা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায় বা চেতনা একটা স্থানে(আজ্ঞাচক্র বা তারও ঊর্দ্ধে) স্থিতিলাভ করে, তখন তাঁর প্রতি ‘কাল’ প্রসন্ন হন ! অর্থাৎ তখন ওই ব্যক্তি শুধু বর্তমান-ই নয়, অতীত বা ভবিষ্যৎতেরও ঘটনাসমূহ বলে দিতে পারেন ৷
তবে, তুই যে অর্থে দেখছিস যে অনেক মানুষ এখন আশ্রমে আসছে, ওই যে বললাম __এটা আসছে ভালবাসার টানে ! মানুষকে কিসের দ্বারা বাঁধা যায় বলতো – একমাত্র প্রেমের দ্বারা, ভালোবাসার দ্বারা ! শাসন-বারণ (নিষেধ), বিধি-নিষেধ, নিয়ম-আদর্শ ইত্যাদি দ্বারা কখনোই মানুষকে ধরে রাখা যায় না, বেঁধে রাখা যায় না । রাজতন্ত্রের সময়ে রাজারা শাসন-বারণ দ্বারা চেষ্টা করেছিল প্রজাদের বশে আনতে, কিন্তু ইতিহাস ঘেঁটে দেখলে দেখতে পাবি __বহু স্থানে বারবার রাজার বিরুদ্ধে প্রজাবিদ্রোহ হয়েছে । পরবর্ত্তীকালের পৃথিবীতে, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে একনায়কতন্ত্রের আবির্ভাব ঘটেছিল । তারাও চেষ্টা করেছিল বিধিনিষেধ বা কোনো না কোনো দর্শনের দ্বারা বা কোনো মনীষীর আদর্শ প্রতিষ্ঠার দ্বারা__ তার দেশবাসীকে একছাতার তলায় আনতে ! কিন্তু দেখা গেছে, সেই দেশের _সেই দেশনায়কের মৃত্যুর সাথে সাথেই সে দেশের System বদলে যেতে শুরু করেছে !
এখনও অনেক দেশ রাজনৈতিকভাবে, ধর্মনৈতিকভাবে পৃথিবীর মানুষের উপর Control আনতে চাইছে – কিন্তু তারা কখনোই Successful হবে না ! কারণ প্রথম উল্লেখিত প্রচেষ্টাটা অর্থাৎ নিয়ম, শাসন ইত্যাদির দ্বারা বাঁধার চেষ্টা__ এগুলো দেখবে সবসময় একটা ক্ষুদ্র গন্ডির মধ্যে আবদ্ধ ! এই নিয়ম কখনই সার্বজনীন হোতে পারে না ! তাই এই নিয়মে কখনোই সমগ্র বিশ্ব একমতে আসবে না !
দ্বিতীয়ত যেটা বলছিলাম অর্থাৎ কোনো না কোনো দর্শন বা একটা অপেক্ষাকৃত উন্নত আদর্শ দিয়ে বাঁধার চেষ্টা করা__এটা যেন পরিধিটা আর একটু বাড়ানো ! কিন্তু এটাও সার্বজনীন বা বিশ্বজনীন হবে না ! কেন হবে না__এবার সেটাই আলোচনা করছি !
বিশ্বজনীন হোতে গেলে মুশকিলটা কোথায় আসছে জানো __ মানুষ এটা বুঝতে পারছে না যে, ‘নিয়ম’ হলেই সেখানে ‘বেনিয়ম’ এসে যাবে ! আইন থাকলেই সেখানে আইন ভাঙার প্রবণতা তৈরি হবে ! জোর করে শৃংখলাবদ্ধ করতে চাইলেই সেখানে বিশৃংখলার জন্ম নেবে !
তাই মানুষকে জয় করতে হলে অর্থাৎ মানুষের মনোজগৎ-কে জয় করতে গেলে___কোনোপ্রকার শাসন-নিয়ম-আদর্শ বা দর্শন দিয়ে নয়__ মানুষকে জয় করা যাবে একমাত্র প্রেমের দ্বারা ! এটা ঋষিদের উপলব্ধ সত্য ! তাঁরা দেখেছেন যে, মানুষের একদম Core of the heart যে জায়গাটা __সেটা খুবই কোমল ! সেই স্থানে এই পৃথিবী গ্রহের কোনো কিছুই পৌঁছাতে পারে না –একমাত্র প্রেম ছাড়া ! শুধু প্রেম-ই সেই স্থানকে স্পর্শ করতে পারে ! এমনকি প্রেমের গভীরতা থাকলে মানুষের ঐ কোমল স্থানটি __অধিকারও করা যেতে পারে ! আর মহাপুরুষরা সেটাই করেন ।
তাই সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ক্ষণভঙ্গুর হোলেও মহাপুরুষের ভালোবাসা দীর্ঘস্থায়ী হয় ৷ তাঁদের শরীর চলে যাবার পরেও সেই অপার্থিব প্রেমের প্রবাহ থেকে যায় – আন্তরিক হোলেই যে কোনো মানুষ তার স্পর্শ পায় ! আজও হাজার হাজার মানুষ দক্ষিণেশ্বরে যায়, লক্ষ লক্ষ মানুষ ঠাকুরকে হৃদয়ে রেখে স্মরণ-মনন করে মনে আরাম পায়, অন্তরে শান্তি পায় ৷ ঠিক তেমনি অন্যান্য অবতার পুরুষ বা মহাপুরুষদেরকে কেন্দ্র করেও হয়!
এই জন্যই বলছিলাম যে, প্রেম ছাড়া অন্য কোনো বাঁধনে মানুষকে বাঁধা যায় না – মানুষ সে বাঁধন কেটে বেরোতে চাইবেই । কারণ এটাই মানবের Instinct ! মানুষ যখনই জীবনে প্রথম কোনো অনিয়ম করে -শৃঙ্খলা ভাঙে, সে ভাবে তাকে সমাজের অন্য কেউ বোধয় দেখতে পাচ্ছে না বা কেউই বুঝতে পারছে না। তুই দ্যাখ্ না – তুই কি তোর জীবনে কোনো অন্যায় করিস নি ? করেছিস তো !! আর অন্যায় করার সময় ভেবেছিস যে, __’অন্য কেউ তো দেখছে না – সুতরাং ওটা করেই ফেলি ‘৷ কিন্তু এবার যদি তোর অন্তঃকরণে আমি বসে থাকি – আর সেটা যদি তুই জানিস যে, গুরুদেব সবসময় আমার সাথেই রয়েছে__ তাহলে কি পারবি জীবনে আর কোনো অন্যায় করতে ? কারণ তখন তো তুই আমার আড়ালে কিছুই করতে পারবি না ! সবসময় তোকে Alart থাকতে হবে । আর ঠিক ঠিক সাধকের ক্ষেত্রে, ভক্তের ক্ষেত্রে এটাই হয় !
বিবেক “জাগ্রত” বলতে এটাকেই বোঝায় ! যার বিবেক জাগ্রত, তার দ্বারা আর যাই হোক_ কোনো অন্যায় কাজ আর হবে না, অর্থাৎ তার দ্বারা অপরের কোনো অনিষ্ট বা অমঙ্গল হবে না । আর তা যদি না হয়, তাহলে সেই ব্যক্তি মনুষ্য-সমাজের এমন একজন কার্যকরী Member – যে সমাজের কখনোই কোনো ‘অহিত’ করে না ৷ এবার তাকে একটু Motivate করতে পারলেই __সেই ব্যক্তি সমাজের পক্ষে আরো হিতকর হবে, সে সমাজকল্যাণে ব্রতী হয়ে সমাজের অন্যান্য Member-দেরকেও অন্ধকার থেকে আলোর দিকে আনার চেষ্টা করবে । এইভাবে, এই ধরনের ব্যক্তিদেরকে সহযোগী করেই যুগপুরুষরা সমাজের মঙ্গল সাধন করে থাকেন !
উত্তরকালের মানুষেরা এঁদেরকেও বহুকাল মনে রাখে ! এদের জীবনের ত্যাগ ও সাধনার কথা, তাদের কৃতকর্মের কথা স্মরণ করে মানুষ জীবনপথে এগিয়ে চলার অনুপ্রেরণা পায় ।(ক্রমশঃ)
*গুরুমহারাজ* :– ভালোবাসা পায় বলে !! আমি সকলকেই ভালোবাসি, তাই তো আসে ! তুই ও তো আসিস সেই কারণেই ! তবে, তুই সেটা feel করতে পারছিস না, তাই যা দেখছিস বা যতোটা দেখছিস___ সেটাই বলছিস । কিন্তু এটা জানবি যে_তোর দেখা জগৎটাই সব নয় ! তোর দেখার বাইরেও অনেক কিছু এখানে ঘটে ! যেমন এই আশ্রমেই তোর দেখার বাইরেও অনেকে আসে ! তাদের মধ্যে যেমন মানুষ রয়েছে তেমনি মনুষ্যেতর প্রাণীরা রয়েছে, আবার মনুষ্যোত্তর-রাও রয়েছে !
স্থূল চেতনা-সম্পন্ন ব্যক্তিরা স্থূলদৃষ্টিতে জগৎ দেখে, কিন্তু যাদের চেতনা সূক্ষ্মস্তরকে স্পর্শ করেছে তারা সূক্ষ্মদৃষ্টির অধিকারী হয় – ফলে তারা এই জগতের অনেক সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বস্তু বা বিষয়সমূহকে ধরতে পারে ৷ তোরা তো আমার কথামতো এখন অনেকেই ধ্যান-জপ করিস –ফলে তোদেরও চেতনার উন্মেষ ঘটছে ! তাই তোদেরকে এই কথাগুলো বলতে পারছি__দেখবি কোনো কোনোদিন হয়তো সকাল থেকেই ভাবছিস ‘আজকের দিনটা যেন একটু অন্যরকম’– আর সেদিনই কোনো একটা অঘটন বা দুর্ঘটনা ঘটে গেল ! কিংবা হয়তো স্বপ্নে কোনো একটা বিষয় দেখলি – পরে দেখলি বাস্তবে সেটাই ঘটে যাচ্ছে ! এমন সব ব্যাপার আকছার প্রথম প্রথম ঘটে সাধকের জীবনে ! কিন্তু চেতনার এই উন্নতি যখন একটা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায় বা চেতনা একটা স্থানে(আজ্ঞাচক্র বা তারও ঊর্দ্ধে) স্থিতিলাভ করে, তখন তাঁর প্রতি ‘কাল’ প্রসন্ন হন ! অর্থাৎ তখন ওই ব্যক্তি শুধু বর্তমান-ই নয়, অতীত বা ভবিষ্যৎতেরও ঘটনাসমূহ বলে দিতে পারেন ৷
তবে, তুই যে অর্থে দেখছিস যে অনেক মানুষ এখন আশ্রমে আসছে, ওই যে বললাম __এটা আসছে ভালবাসার টানে ! মানুষকে কিসের দ্বারা বাঁধা যায় বলতো – একমাত্র প্রেমের দ্বারা, ভালোবাসার দ্বারা ! শাসন-বারণ (নিষেধ), বিধি-নিষেধ, নিয়ম-আদর্শ ইত্যাদি দ্বারা কখনোই মানুষকে ধরে রাখা যায় না, বেঁধে রাখা যায় না । রাজতন্ত্রের সময়ে রাজারা শাসন-বারণ দ্বারা চেষ্টা করেছিল প্রজাদের বশে আনতে, কিন্তু ইতিহাস ঘেঁটে দেখলে দেখতে পাবি __বহু স্থানে বারবার রাজার বিরুদ্ধে প্রজাবিদ্রোহ হয়েছে । পরবর্ত্তীকালের পৃথিবীতে, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে একনায়কতন্ত্রের আবির্ভাব ঘটেছিল । তারাও চেষ্টা করেছিল বিধিনিষেধ বা কোনো না কোনো দর্শনের দ্বারা বা কোনো মনীষীর আদর্শ প্রতিষ্ঠার দ্বারা__ তার দেশবাসীকে একছাতার তলায় আনতে ! কিন্তু দেখা গেছে, সেই দেশের _সেই দেশনায়কের মৃত্যুর সাথে সাথেই সে দেশের System বদলে যেতে শুরু করেছে !
এখনও অনেক দেশ রাজনৈতিকভাবে, ধর্মনৈতিকভাবে পৃথিবীর মানুষের উপর Control আনতে চাইছে – কিন্তু তারা কখনোই Successful হবে না ! কারণ প্রথম উল্লেখিত প্রচেষ্টাটা অর্থাৎ নিয়ম, শাসন ইত্যাদির দ্বারা বাঁধার চেষ্টা__ এগুলো দেখবে সবসময় একটা ক্ষুদ্র গন্ডির মধ্যে আবদ্ধ ! এই নিয়ম কখনই সার্বজনীন হোতে পারে না ! তাই এই নিয়মে কখনোই সমগ্র বিশ্ব একমতে আসবে না !
দ্বিতীয়ত যেটা বলছিলাম অর্থাৎ কোনো না কোনো দর্শন বা একটা অপেক্ষাকৃত উন্নত আদর্শ দিয়ে বাঁধার চেষ্টা করা__এটা যেন পরিধিটা আর একটু বাড়ানো ! কিন্তু এটাও সার্বজনীন বা বিশ্বজনীন হবে না ! কেন হবে না__এবার সেটাই আলোচনা করছি !
বিশ্বজনীন হোতে গেলে মুশকিলটা কোথায় আসছে জানো __ মানুষ এটা বুঝতে পারছে না যে, ‘নিয়ম’ হলেই সেখানে ‘বেনিয়ম’ এসে যাবে ! আইন থাকলেই সেখানে আইন ভাঙার প্রবণতা তৈরি হবে ! জোর করে শৃংখলাবদ্ধ করতে চাইলেই সেখানে বিশৃংখলার জন্ম নেবে !
তাই মানুষকে জয় করতে হলে অর্থাৎ মানুষের মনোজগৎ-কে জয় করতে গেলে___কোনোপ্রকার শাসন-নিয়ম-আদর্শ বা দর্শন দিয়ে নয়__ মানুষকে জয় করা যাবে একমাত্র প্রেমের দ্বারা ! এটা ঋষিদের উপলব্ধ সত্য ! তাঁরা দেখেছেন যে, মানুষের একদম Core of the heart যে জায়গাটা __সেটা খুবই কোমল ! সেই স্থানে এই পৃথিবী গ্রহের কোনো কিছুই পৌঁছাতে পারে না –একমাত্র প্রেম ছাড়া ! শুধু প্রেম-ই সেই স্থানকে স্পর্শ করতে পারে ! এমনকি প্রেমের গভীরতা থাকলে মানুষের ঐ কোমল স্থানটি __অধিকারও করা যেতে পারে ! আর মহাপুরুষরা সেটাই করেন ।
তাই সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ক্ষণভঙ্গুর হোলেও মহাপুরুষের ভালোবাসা দীর্ঘস্থায়ী হয় ৷ তাঁদের শরীর চলে যাবার পরেও সেই অপার্থিব প্রেমের প্রবাহ থেকে যায় – আন্তরিক হোলেই যে কোনো মানুষ তার স্পর্শ পায় ! আজও হাজার হাজার মানুষ দক্ষিণেশ্বরে যায়, লক্ষ লক্ষ মানুষ ঠাকুরকে হৃদয়ে রেখে স্মরণ-মনন করে মনে আরাম পায়, অন্তরে শান্তি পায় ৷ ঠিক তেমনি অন্যান্য অবতার পুরুষ বা মহাপুরুষদেরকে কেন্দ্র করেও হয়!
এই জন্যই বলছিলাম যে, প্রেম ছাড়া অন্য কোনো বাঁধনে মানুষকে বাঁধা যায় না – মানুষ সে বাঁধন কেটে বেরোতে চাইবেই । কারণ এটাই মানবের Instinct ! মানুষ যখনই জীবনে প্রথম কোনো অনিয়ম করে -শৃঙ্খলা ভাঙে, সে ভাবে তাকে সমাজের অন্য কেউ বোধয় দেখতে পাচ্ছে না বা কেউই বুঝতে পারছে না। তুই দ্যাখ্ না – তুই কি তোর জীবনে কোনো অন্যায় করিস নি ? করেছিস তো !! আর অন্যায় করার সময় ভেবেছিস যে, __’অন্য কেউ তো দেখছে না – সুতরাং ওটা করেই ফেলি ‘৷ কিন্তু এবার যদি তোর অন্তঃকরণে আমি বসে থাকি – আর সেটা যদি তুই জানিস যে, গুরুদেব সবসময় আমার সাথেই রয়েছে__ তাহলে কি পারবি জীবনে আর কোনো অন্যায় করতে ? কারণ তখন তো তুই আমার আড়ালে কিছুই করতে পারবি না ! সবসময় তোকে Alart থাকতে হবে । আর ঠিক ঠিক সাধকের ক্ষেত্রে, ভক্তের ক্ষেত্রে এটাই হয় !
বিবেক “জাগ্রত” বলতে এটাকেই বোঝায় ! যার বিবেক জাগ্রত, তার দ্বারা আর যাই হোক_ কোনো অন্যায় কাজ আর হবে না, অর্থাৎ তার দ্বারা অপরের কোনো অনিষ্ট বা অমঙ্গল হবে না । আর তা যদি না হয়, তাহলে সেই ব্যক্তি মনুষ্য-সমাজের এমন একজন কার্যকরী Member – যে সমাজের কখনোই কোনো ‘অহিত’ করে না ৷ এবার তাকে একটু Motivate করতে পারলেই __সেই ব্যক্তি সমাজের পক্ষে আরো হিতকর হবে, সে সমাজকল্যাণে ব্রতী হয়ে সমাজের অন্যান্য Member-দেরকেও অন্ধকার থেকে আলোর দিকে আনার চেষ্টা করবে । এইভাবে, এই ধরনের ব্যক্তিদেরকে সহযোগী করেই যুগপুরুষরা সমাজের মঙ্গল সাধন করে থাকেন !
উত্তরকালের মানুষেরা এঁদেরকেও বহুকাল মনে রাখে ! এদের জীবনের ত্যাগ ও সাধনার কথা, তাদের কৃতকর্মের কথা স্মরণ করে মানুষ জীবনপথে এগিয়ে চলার অনুপ্রেরণা পায় ।(ক্রমশঃ)
