জিজ্ঞাসু :– কি করলে ঈশ্বরলাভ হবে ?
গুরুমহারাজ :– এটা ঠিকই যে কিছু করতে হবে ! কারণ, সাধারণতঃ আমরা সবাই জানি যে, কিছু না দিলে বা কিছু না করলে তো আর কিছু পাওয়া বা কিছু লাভ করা যায় না ! তাই কিছু করে, আগে অন্ততঃ দু-একটা বস্তু বা বিষয় (অধ্যাত্ম) লাভ হোক ! তারপরে তো হবে ঈশ্বরলাভ ! কারণ ঈশ্বরলাভ মানেই তো হোল জীবনের চরম পাওয়া ! সেটা পেতে গেলে ‘সম্পূর্ণটা’ দিতে হয় ৷ যাই দেবে – তা যেন সম্পূর্ণ দেওয়া হয় !
অধ্যাত্মপথে এগিয়ে যেতে হোলে অর্থাৎ ঈশ্বরতত্ত্ব অবগত হোতে হোলে _প্রথমেই প্রয়োজন ‘সম্পূর্ণ বিশ্বাস’ ! তারপর প্রয়োজন ঈশ্বরে ‘সম্পূর্ণ ভালোবাসা’ । তুমি যে কোনো মত বা পথের সাধকই হও না কেন – এই দুটো ছাড়া তোমার অগ্রগতি কখনোই সম্ভব হবে না ।
যাইহোক, এবার আমি তোমাকে জিজ্ঞাসা করছি__ তুমি কি আন্তরিকভাবে তোমার জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্যে(ঈশ্বরলাভ করতে) পৌঁছাতে চাইছো ? সত্যিই যদি তা চাও, তাহলে তোমার যেটা ভালো__ তার সম্পূর্ণটা ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে নিবেদন করো । আমায় বলো তো__তোমার সবচাইতে কি করতে ভালো লাগে ? ও-আচ্ছা, তুমি গান খুব ভালবাসো ! তাহলে সংগীতেই তোমার সম্পূর্ণ মন-প্রাণ ঢেলে দাও, কিছুদিনের মধ্যেই দেখবে __সেখান থেকেই তোমার অধ্যাত্মপথে চলা শুরু হয়ে যাবে ।
দ্যাখো,অনন্ত পথ রয়েছে, পদ্ধতি রয়েছে_প্রথমে সেগুলোর মধ্যে একটা কিছুকে ধরতে হবে, আর সেইটাতেই সম্পূর্ণতা বা পরিপূর্ণতা আনতে হবে !
এই যে জগৎ দেখছো–এ সবকিছুই ব্রহ্মেরই প্রকাশ ! তাহলে জাগতিক যে কোনো কিছুকে ধরে, সেই পরম তত্ত্ব রূপ ব্রহ্মের স্বরূপে কেন পৌঁছানো যাবে না ? যাবার-ই তো কথা _তাই নয় কি ? এইবার তোমরা আমাকে জিজ্ঞাসা করতে পারো _ ‘তাহলে আমাদের কেন হোচ্ছে না?’ তোমাদের হোচ্ছে না – কারণ তোমরা কোনো কিছুই পরিপূর্ণভাবে ধরতে বা গ্রহণ করতে পারছো না, কোনোকিছুকেই সম্পূর্ণভাবে বিশ্বাস করতে পারছো না, কোনো বিষয়, বস্তু বা ব্যক্তি অথবা আদর্শের উপর পরিপূর্ণ আস্থা স্থাপন করতে পারছো না ৷ এইখানেই একটা বিরাট ফাঁক থেকে যাচ্ছে, আর তাই তোমরাও পড়ছ ফাঁকিতে !
সুতরাং সত্যিই যদি তুমি আন্তরিক হ‌ও–তাহলে ফাঁকি দিও না, সাধনায় ফাঁক রেখো না! তুমি তো পূর্ব থেকে হয়েই আছো__শুধু সেটাকে আবিস্কার করো, সেটাকেই বোধে বোধ করো !! প্রকৃতপক্ষে, কিছুই লাভ হয়না__শুধু বোধে বোধ হয়! সেই অর্থে, ঈশ্বরলাভ মানে ঈশ্বরত্বে উপনীত হ‍ওয়া ! জীবের শিব হয়ে ওঠা!!!!
(ক্রমশঃ)