শ্রীশ্রী গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দের সন্ন্যাসী সন্তান স্বামী অখন্ডানন্দ (মানিক মহারাজ) সম্বন্ধে আলোচনা আজকেই শেষ ! আমার কাছে যা material ছিল, তাতে হয়তো আরো দু’তিনটি এপিসোড দেওয়া যেত ! কিন্তু অনেক নবীন প্রজন্মের পাঠকেরই এই আলোচনা ভালো লাগছে না । তাদের ধারণা₹_ ইচ্ছে করে কিছু ভুল ভাল তথ্য এখানে পরিবেশিত হোচ্ছে ! তারা reaction করছে ! তাই এই সিদ্ধান্ত !
তবে দেখুন, “পুরোনো সেই বনগ্রামের কথা”– গুরুমহারাজ কেন্দ্রিক আলোচনা ! আর তাঁর আলোচনা করতে গেলেই তাঁর ভক্ত, শিষ্য, পার্ষদদের কথা এসেই যাবে । তাছাড়া গুরুমহারাজ বলেছিলেন, তাঁর শিক্ষা, তাঁর কর্মপ্রবাহ – বেশ কয়েক হাজার বছর থেকে যাবে ! সেই অর্থে, তাঁর ত্যাগী, সন্ন্যাসী ভক্তদের নামও থেকে যাবে । পরবর্তীকালে বহু গবেষক, বহু লেখক এঁদের সবাইকে নিয়ে গবেষণা করবেন, বই লিখবেন ! “পুরোনো সেই বনগ্রামের কথা”– সেই উদ্যেশ্যই সিদ্ধ করার প্রচেষ্টা ! এখানে এইজন্যেই ছোটো ছোটো করে বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ থাকে, বা পয়েন্ট করা থাকে !
গুরুমহারাজ কেন্দ্রিক আলোচনায় কোনো মিথ্যা কথা লিখে কোনো মহারাজকে maline করা হবে কেন ? ওনারা সকলেই তো গুরুমহারাজের এক একটা অঙ্গ । কোথাও ব্যাথা লাগলে তো তাঁরই লাগবে !! তবে, এবার গুরু মহারাজের লীলা বড়ো সাংঘাতিক লীলা! এবার তাঁর সঙ্গী-সাথীরা এক একটা ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকের ! তাঁদেরকে বোঝা বা তাঁদের কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করা খুবই মুস্কিল ! তাই শুধু স্থুল চোখে দেখা ঘটনারই উল্লেখ করা হোচ্ছে !
পুরোনো লোকেরা অনেকেই এখনো শরীরে রয়েছেন, যেমন স্থানীয়ভাবে – বিশ্বনাথ ক্ষেত্রপাল, জনার্দন সিং, বাসনা মা, পূর্ণিমা মা, স্বপন ডাক্তার এবং তাঁর পরিবারের সদস্যবৃন্দ, স্বামী অভয়ানন্দ (অমূল্য মহারাজ), আবার বনগ্রাম আশ্রমে রয়েছেন মুরারী মহারাজ (স্বামী নিস্কামানন্দ মহারাজ), তৃষাণ মহারাজ (স্বামী পরমেশ্বরানন্দ), হরি মহারাজ (স্বামী সহজানন্দ) প্রমুখেরা, এছাড়া অন্যান্য শাখা আশ্রমের মহারাজরাও রয়েছেন – যেমন রায়না আশ্রমের পূর্ণানন্দ মহারাজ, হারাধন ঘোষ প্রমুখেরা এবং অন্যান্য আশ্রমেও পুরোনো মহারাজগণ রয়েছেন ! তাছাড়া রয়েছেন গঙ্গাবাবু (গঙ্গা নারায়ন বন্দোপাধ্যায়), রমেন চক্রবর্তী –(শ্রুতি গ্রন্থের লেখক) তাঁদের কাছেও অনেক পুরোনো স্মৃতি রয়েছে, অনেক ঘটনা-অঘটনের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে ! তাই যেকোনো নতুন ভক্তরা এখানে আলোচ্য ঘটনাগুলিকে তাঁদের কাছে মিলিয়ে নিতে পারেন, সত্যতা যাচাই করে নিতে পারেন ! তবুও যদি কোথাও কোনো অনিচ্ছাকৃত তথ্য বিকৃতি ঘটে থাকে_বলে মনে হয়, তাহলে তা নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করলে সংশোধন করে নেওয়া যেতেই পারে । ফেসবুকের এই লেখাগুলোতে সংশোধনের প্রচুর সুযোগ রয়েছে । এখনই করা যাবে, তাছাড়া এই লেখাগুলি ultimately বনগ্রাম আশ্রমে মুরারী মহারাজের কাছে জমা থাকবে(“পুরোনো সেই বনগ্রামের কথা”–র ১৩০/১৪০-A-4পাতার ছ’টি খন্ড already জমা রাখা আছে) – ওখানেও ঠিক করে নেওয়া যাবে । পরে যদি চরৈবেতি কার্যালয়ে ছাপা হয়__তখন প্রুফ সংশোধন করার সময় ঠিক করা যাবে । …তাই সমবেত প্রচেষ্টায় “সঠিক তথ্য” পরিবেশিত হোক্, অকারণ ভুল-বোঝাবুঝির অবসান হোক্ । আমরা সকলেই মহাগুরু পরমপ্রেমময় স্বামী পরমানন্দের চরণের দাস বৈ তো কিছু নয় ! পরমানন্দের কৃপা লাভের জন্যই তো আমাদের পথ চলা ! তাঁর কৃপা ও করুণা সকলের উপর বর্ষিত হোক্ – সেই পরম প্রেমময়ের কাছে এই প্রার্থনা করি !
ধরমপুর আশ্রমের একেবারে গোড়ার দিকে পূর্ণিমা মায়ের অবদান এবং অসাধারণ সেবার কথা, স্বপন ডাক্তারদের পরিবারের সকলের ( নানকু দা, স্বপন ডাক্তার, পবনদা ও ওনাদের ছোটো ভাই)– বিশেষতঃ স্বপনদার স্নেহময়ী জননীর কথা একটু বলার ইচ্ছা ছিল ! ঐ আশ্রমের প্রথম ঠিকমতো সেবামূলক কাজ স্বপন ডাক্তারের হাত ধরেই ! আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার ব্যাপারটা অনেক পরে এসেছিল ধরমপুরে আসার পর ! স্বপন ডাক্তার তখন সপ্তাহে দুদিন আসতেন ব্যাগভর্তি বাজার নিয়ে, সেই বাজারের সব্জী দিয়েই তখন তরকারি হোতো । দুয়ারীপালে থাকাকালীন মহারাজদেরকে দুবেলা ভালোভাবে খাওয়ানোর সঙ্গতি পূর্ণিমা মায়ের ছিলনা বললেই চলে ! কোনোক্রমে খাওয়াতেন । একবার অন্নকষ্ট এমন চরমে পৌঁছায় যে, কাঁচা অবস্থায় ধান কেটে নিয়ে এসে তা ঝরিয়ে সেই ধান সিদ্ধ করে চাল বের করতে হয়েছিল। স্বপনদার স্নেহময়ী জননী – বাড়িতে কোনো ভালো কিছু রান্না হোলেই কাউকে দিয়ে মহারাজদের জন্য পাঠিয়ে দিতেন । এইসব কথা না বললে অনেকটাই বাকি থেকে যায় !
একেবারে প্রথম দিকে যখন প্রহ্লাদ শবর আকস্মিক দুর্ঘটনায় মারা গেলেন, তখন অখন্ডানন্দ মহারাজ বনগ্রামে। খবর পৌঁছানোর পর গুরুমহারাজের সে কি বকুনি(তখন প্রহ্লাদ শবরের পুড়ে যাওয়া সুক্ষ শরীর, মুক্তি লাভের জন্য গুরু মহারাজের কাছেই ছিল, সমস্ত ঘটনাবলি সে-ই গুরু মহারাজকে বলেছিল)! গুরু মহারাজ বলেছিলেন_”আমি ক্ষমা করলেও, প্রারব্ধের হাত থেকে তুই রেহাই পাবি না”।গুরুমহারাজের পা-দুটি ধরে মহারাজ প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে, তিনি আর কখনো তাঁর অবাধ্য হবেন না ! এই ঘটনার কথা তৎকালীন বনগ্রাম আশ্রমে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের সকলেরই জানা। কারণ গুরু মহারাজ open sitting-এই এই সমস্ত কথা আলোচনা করেছিলেন। এই ঘটনার পর আমাদের মতো যে কোনো ভক্তরা আশ্রমে গেলে(সেইসময় অনেকদিন মহারাজ বনগ্রামে ছিলেন,ডাক্তারখানায় দীপ্তি মহারাজকে সাহায্য করতেন) মানিক মহারাজ আমাদের হাত দুটো ধরে বলতেন__”ভাই! তোমরা যেন কেউ ঐ লোকটার (গুরুমহারাজের) কথার অবাধ্য হোয়ো না ! ঐ মানুষটা সাংঘাতিক! উনি কাউকে চরম শাস্তিও দিতে পারেন, আবার কাউকে চরম সংকট থেকে বাঁচাতেও পারেন ! ওঁর কথা না শুনে আমার যে কি অবস্থা–তা আমি হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি! এই যন্ত্রণা যেন আর কাউকে ভোগ করতে না হয়!”
যাইহোক, প্রহ্লাদ শবর মারা যাবার পর ওখানকার পরিবেশ, আশ্রম গড়ে তোলার ব্যাপারে খুবই প্রতিকূল হয়ে উঠেছিল । সেই চরম দুঃসময়ে গুরুমহারাজ বনগ্রাম থেকে নবু মাস্টার (রঞ্জিত দাস) এবং পরবর্তীতে গঙ্গাবাবু (গঙ্গা নারায়ন বন্দোপাধ্যায়, “পরমানন্দম্” বইয়ের লেখক)-কে বারবার পাঠিয়েছিলেন । ওনারা দুজনে ওখানকার মানুষজনের কাছে গুরুমহারাজের কথা বলে – অনেকটাই আশ্রমমুখী বা গুরুমুখী করতে সমর্থ হয়েছিলেন। গঙ্গাবাবু বরাবরই একটু “বাবু ক্লাসে”-র লোক, একথা গুরুমহারাজ নিজের মুখেই বলেছিলেন – সেই হেন গঙ্গাবাবু, পূর্ণিমা মায়ের বাড়িতে অল্প কিছু সব্জী ও মোটা চালের ভাত খেয়ে এবং ভাঙ্গা দড়ির খাটিয়ায় শুয়ে রাতের পর কাটিয়েছেন, আশ্রমের জন্য কম্বল কাপড় ইত্যাদি বয়ে নিয়ে গেছেন, বড় বড় মানুষের কাছ থেকে টাকা পয়সা জোগাড় করে দিয়েছেন। এনারা ছাড়াও আরো কতো মানুষের কতো রকম অবদানে ধীরে ধীরে আশ্রমটির রূপের বিকাশ ঘটেছে – এইসব ব্যাপারগুলিও আরো একটু বিস্তারিত লেখা যেত ! বিশেষতঃ অখণ্ডানন্দ মহারাজের সমাধিদানের ব্যাপারটাও(যেহেতু এই ব্যাপারটা পরমানন্দ ভক্তদের কাছে নতুন, কিভাবে ওনার শরীরে ঘি মাখিয়ে, দুধে ও জলে স্নান করিয়ে, নতুন বস্ত্র পড়িয়ে, ৪/৫ বস্তা নুন ব্যবহার করে –ওনাকে সমাধি দেওয়া হয়েছিল) বিস্তারিত লেখার ইচ্ছা ছিল ! কিন্তু ঈশ্বরের ইচ্ছার উপর আর কার হাত আছে ? তাঁর ইচ্ছাতেই তো সব হোচ্ছে ! তাই ‘এটাও তাঁর ইচ্ছা’ মেনে নিয়েই এই প্রসঙ্গের এখানেই ইতি টানা হচ্ছে ! পরমানন্দ চরণে সকলের মতি হোক, সকলে পরমানন্দ কৃপা লাভ করুক– এই প্রার্থনা করি !!
তবে দেখুন, “পুরোনো সেই বনগ্রামের কথা”– গুরুমহারাজ কেন্দ্রিক আলোচনা ! আর তাঁর আলোচনা করতে গেলেই তাঁর ভক্ত, শিষ্য, পার্ষদদের কথা এসেই যাবে । তাছাড়া গুরুমহারাজ বলেছিলেন, তাঁর শিক্ষা, তাঁর কর্মপ্রবাহ – বেশ কয়েক হাজার বছর থেকে যাবে ! সেই অর্থে, তাঁর ত্যাগী, সন্ন্যাসী ভক্তদের নামও থেকে যাবে । পরবর্তীকালে বহু গবেষক, বহু লেখক এঁদের সবাইকে নিয়ে গবেষণা করবেন, বই লিখবেন ! “পুরোনো সেই বনগ্রামের কথা”– সেই উদ্যেশ্যই সিদ্ধ করার প্রচেষ্টা ! এখানে এইজন্যেই ছোটো ছোটো করে বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ থাকে, বা পয়েন্ট করা থাকে !
গুরুমহারাজ কেন্দ্রিক আলোচনায় কোনো মিথ্যা কথা লিখে কোনো মহারাজকে maline করা হবে কেন ? ওনারা সকলেই তো গুরুমহারাজের এক একটা অঙ্গ । কোথাও ব্যাথা লাগলে তো তাঁরই লাগবে !! তবে, এবার গুরু মহারাজের লীলা বড়ো সাংঘাতিক লীলা! এবার তাঁর সঙ্গী-সাথীরা এক একটা ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকের ! তাঁদেরকে বোঝা বা তাঁদের কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করা খুবই মুস্কিল ! তাই শুধু স্থুল চোখে দেখা ঘটনারই উল্লেখ করা হোচ্ছে !
পুরোনো লোকেরা অনেকেই এখনো শরীরে রয়েছেন, যেমন স্থানীয়ভাবে – বিশ্বনাথ ক্ষেত্রপাল, জনার্দন সিং, বাসনা মা, পূর্ণিমা মা, স্বপন ডাক্তার এবং তাঁর পরিবারের সদস্যবৃন্দ, স্বামী অভয়ানন্দ (অমূল্য মহারাজ), আবার বনগ্রাম আশ্রমে রয়েছেন মুরারী মহারাজ (স্বামী নিস্কামানন্দ মহারাজ), তৃষাণ মহারাজ (স্বামী পরমেশ্বরানন্দ), হরি মহারাজ (স্বামী সহজানন্দ) প্রমুখেরা, এছাড়া অন্যান্য শাখা আশ্রমের মহারাজরাও রয়েছেন – যেমন রায়না আশ্রমের পূর্ণানন্দ মহারাজ, হারাধন ঘোষ প্রমুখেরা এবং অন্যান্য আশ্রমেও পুরোনো মহারাজগণ রয়েছেন ! তাছাড়া রয়েছেন গঙ্গাবাবু (গঙ্গা নারায়ন বন্দোপাধ্যায়), রমেন চক্রবর্তী –(শ্রুতি গ্রন্থের লেখক) তাঁদের কাছেও অনেক পুরোনো স্মৃতি রয়েছে, অনেক ঘটনা-অঘটনের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে ! তাই যেকোনো নতুন ভক্তরা এখানে আলোচ্য ঘটনাগুলিকে তাঁদের কাছে মিলিয়ে নিতে পারেন, সত্যতা যাচাই করে নিতে পারেন ! তবুও যদি কোথাও কোনো অনিচ্ছাকৃত তথ্য বিকৃতি ঘটে থাকে_বলে মনে হয়, তাহলে তা নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করলে সংশোধন করে নেওয়া যেতেই পারে । ফেসবুকের এই লেখাগুলোতে সংশোধনের প্রচুর সুযোগ রয়েছে । এখনই করা যাবে, তাছাড়া এই লেখাগুলি ultimately বনগ্রাম আশ্রমে মুরারী মহারাজের কাছে জমা থাকবে(“পুরোনো সেই বনগ্রামের কথা”–র ১৩০/১৪০-A-4পাতার ছ’টি খন্ড already জমা রাখা আছে) – ওখানেও ঠিক করে নেওয়া যাবে । পরে যদি চরৈবেতি কার্যালয়ে ছাপা হয়__তখন প্রুফ সংশোধন করার সময় ঠিক করা যাবে । …তাই সমবেত প্রচেষ্টায় “সঠিক তথ্য” পরিবেশিত হোক্, অকারণ ভুল-বোঝাবুঝির অবসান হোক্ । আমরা সকলেই মহাগুরু পরমপ্রেমময় স্বামী পরমানন্দের চরণের দাস বৈ তো কিছু নয় ! পরমানন্দের কৃপা লাভের জন্যই তো আমাদের পথ চলা ! তাঁর কৃপা ও করুণা সকলের উপর বর্ষিত হোক্ – সেই পরম প্রেমময়ের কাছে এই প্রার্থনা করি !
ধরমপুর আশ্রমের একেবারে গোড়ার দিকে পূর্ণিমা মায়ের অবদান এবং অসাধারণ সেবার কথা, স্বপন ডাক্তারদের পরিবারের সকলের ( নানকু দা, স্বপন ডাক্তার, পবনদা ও ওনাদের ছোটো ভাই)– বিশেষতঃ স্বপনদার স্নেহময়ী জননীর কথা একটু বলার ইচ্ছা ছিল ! ঐ আশ্রমের প্রথম ঠিকমতো সেবামূলক কাজ স্বপন ডাক্তারের হাত ধরেই ! আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার ব্যাপারটা অনেক পরে এসেছিল ধরমপুরে আসার পর ! স্বপন ডাক্তার তখন সপ্তাহে দুদিন আসতেন ব্যাগভর্তি বাজার নিয়ে, সেই বাজারের সব্জী দিয়েই তখন তরকারি হোতো । দুয়ারীপালে থাকাকালীন মহারাজদেরকে দুবেলা ভালোভাবে খাওয়ানোর সঙ্গতি পূর্ণিমা মায়ের ছিলনা বললেই চলে ! কোনোক্রমে খাওয়াতেন । একবার অন্নকষ্ট এমন চরমে পৌঁছায় যে, কাঁচা অবস্থায় ধান কেটে নিয়ে এসে তা ঝরিয়ে সেই ধান সিদ্ধ করে চাল বের করতে হয়েছিল। স্বপনদার স্নেহময়ী জননী – বাড়িতে কোনো ভালো কিছু রান্না হোলেই কাউকে দিয়ে মহারাজদের জন্য পাঠিয়ে দিতেন । এইসব কথা না বললে অনেকটাই বাকি থেকে যায় !
একেবারে প্রথম দিকে যখন প্রহ্লাদ শবর আকস্মিক দুর্ঘটনায় মারা গেলেন, তখন অখন্ডানন্দ মহারাজ বনগ্রামে। খবর পৌঁছানোর পর গুরুমহারাজের সে কি বকুনি(তখন প্রহ্লাদ শবরের পুড়ে যাওয়া সুক্ষ শরীর, মুক্তি লাভের জন্য গুরু মহারাজের কাছেই ছিল, সমস্ত ঘটনাবলি সে-ই গুরু মহারাজকে বলেছিল)! গুরু মহারাজ বলেছিলেন_”আমি ক্ষমা করলেও, প্রারব্ধের হাত থেকে তুই রেহাই পাবি না”।গুরুমহারাজের পা-দুটি ধরে মহারাজ প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে, তিনি আর কখনো তাঁর অবাধ্য হবেন না ! এই ঘটনার কথা তৎকালীন বনগ্রাম আশ্রমে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের সকলেরই জানা। কারণ গুরু মহারাজ open sitting-এই এই সমস্ত কথা আলোচনা করেছিলেন। এই ঘটনার পর আমাদের মতো যে কোনো ভক্তরা আশ্রমে গেলে(সেইসময় অনেকদিন মহারাজ বনগ্রামে ছিলেন,ডাক্তারখানায় দীপ্তি মহারাজকে সাহায্য করতেন) মানিক মহারাজ আমাদের হাত দুটো ধরে বলতেন__”ভাই! তোমরা যেন কেউ ঐ লোকটার (গুরুমহারাজের) কথার অবাধ্য হোয়ো না ! ঐ মানুষটা সাংঘাতিক! উনি কাউকে চরম শাস্তিও দিতে পারেন, আবার কাউকে চরম সংকট থেকে বাঁচাতেও পারেন ! ওঁর কথা না শুনে আমার যে কি অবস্থা–তা আমি হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি! এই যন্ত্রণা যেন আর কাউকে ভোগ করতে না হয়!”
যাইহোক, প্রহ্লাদ শবর মারা যাবার পর ওখানকার পরিবেশ, আশ্রম গড়ে তোলার ব্যাপারে খুবই প্রতিকূল হয়ে উঠেছিল । সেই চরম দুঃসময়ে গুরুমহারাজ বনগ্রাম থেকে নবু মাস্টার (রঞ্জিত দাস) এবং পরবর্তীতে গঙ্গাবাবু (গঙ্গা নারায়ন বন্দোপাধ্যায়, “পরমানন্দম্” বইয়ের লেখক)-কে বারবার পাঠিয়েছিলেন । ওনারা দুজনে ওখানকার মানুষজনের কাছে গুরুমহারাজের কথা বলে – অনেকটাই আশ্রমমুখী বা গুরুমুখী করতে সমর্থ হয়েছিলেন। গঙ্গাবাবু বরাবরই একটু “বাবু ক্লাসে”-র লোক, একথা গুরুমহারাজ নিজের মুখেই বলেছিলেন – সেই হেন গঙ্গাবাবু, পূর্ণিমা মায়ের বাড়িতে অল্প কিছু সব্জী ও মোটা চালের ভাত খেয়ে এবং ভাঙ্গা দড়ির খাটিয়ায় শুয়ে রাতের পর কাটিয়েছেন, আশ্রমের জন্য কম্বল কাপড় ইত্যাদি বয়ে নিয়ে গেছেন, বড় বড় মানুষের কাছ থেকে টাকা পয়সা জোগাড় করে দিয়েছেন। এনারা ছাড়াও আরো কতো মানুষের কতো রকম অবদানে ধীরে ধীরে আশ্রমটির রূপের বিকাশ ঘটেছে – এইসব ব্যাপারগুলিও আরো একটু বিস্তারিত লেখা যেত ! বিশেষতঃ অখণ্ডানন্দ মহারাজের সমাধিদানের ব্যাপারটাও(যেহেতু এই ব্যাপারটা পরমানন্দ ভক্তদের কাছে নতুন, কিভাবে ওনার শরীরে ঘি মাখিয়ে, দুধে ও জলে স্নান করিয়ে, নতুন বস্ত্র পড়িয়ে, ৪/৫ বস্তা নুন ব্যবহার করে –ওনাকে সমাধি দেওয়া হয়েছিল) বিস্তারিত লেখার ইচ্ছা ছিল ! কিন্তু ঈশ্বরের ইচ্ছার উপর আর কার হাত আছে ? তাঁর ইচ্ছাতেই তো সব হোচ্ছে ! তাই ‘এটাও তাঁর ইচ্ছা’ মেনে নিয়েই এই প্রসঙ্গের এখানেই ইতি টানা হচ্ছে ! পরমানন্দ চরণে সকলের মতি হোক, সকলে পরমানন্দ কৃপা লাভ করুক– এই প্রার্থনা করি !!
