[আগের দিন একেবারে প্রথম দিকের ভক্তদের মধ্যে প্রশান্ত (স্বামী সচ্চিদানন্দ এবং দেবেন্দ্রনাথ (স্বামী বিশুদ্ধানন্দ)-এর সম্বন্ধে আলোচনা করা হয়েছিল। আজ তারই পরবর্ত্তী অংশ…!]
….সম্বিত দক্ষিণ কলকাতার ছেলে। ওরা ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের আমলকার কেশব সেনের বংশধর। সম্বিত বরাবরই একটু আলাদা। আসলে ব্যাপারটা হোচ্ছে ওর সংস্কারই হোলো অন্য সৌরমন্ডলের কোনো একটি গ্রহের ! পৃথিবীগ্রহের নয়। তাই ও এখানকার ব্যাপার-স্যাপার ভালো বুঝতেই পারে না। আমার সংস্পর্শে এসে এতদিনে ও অনেকটাই মানিয়ে নিয়েছে। ওকে একমাত্র বোঝে ওর মা, ওর গর্ভধারিনী জননী। সম্বিতের মা-কে আমিও ‘মা’ বলেই ডাকি, উনি সম্বিতকে অনেকটাই আগলে আগলে রাখেন। ‘মা’- চলে যাবার পর হয়তো ওর একটু অসুবিধা হবে । কিন্তু দ্যাখো, মানুষ সবচাইতে কি ভালো পারে বলোতো ? – বাঁচতে, ভালোভাবে বাঁচতে। পৃথিবীর সমস্ত জীব অপেক্ষা মানুষ সবচাইতে ভালো করে বাঁচতে জানে বলেই তো সে জীবকুলের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। জীববিজ্ঞানীরা বলেছে না__ Survival of the fittest ! সুতরাং সম্বিতও তখন (মায়ের অবর্তমানে)ঠিক adjust করে নেবে !
এখানে ও আসে মাঝে মাঝে – আমি পাকাপাকিভাবে থেকে যাবার জন্যও বলি, কিন্তু ও একভাবে এক জায়গায় বেশিদিন স্থায়ীভাবে থাকতে পারে না, কিছুদিন থাকার পর-ই ফের বাড়িতে ফিরে যায়। ওখানে ওদের পারিবারিক ব্যবসা রয়েছে, কিছু কাজকর্মও সম্বিত দেখে – কিন্তু সব সময় সব ব্যাপারগুলো ঠিক রাখতে পারে না ! ওদের পারিবারিক শিপিং ব্যাবসা, দেশ-বিদেশের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলতে হয়_ঐসব কাজ গুলো ওর দাদা অর্ণবই দেখে।
সুব্রত নিয়োগী ওদের সাথেই আসতো, প্রথম আশ্রম হবার পরও বেশ কিছুদিন আসা-যাওয়া করেছিল, কিন্তু পরে আর বিশেষ কোনো যোগাযোগ রাখে নি। তবে আমি খবর রাখি। দিল্লি গেলে যোগাযোগও হয়। বর্তমানে সুব্রত ভালো চাকরি করে, বিয়ে-থা করেছে। হয়তো সে গৃহস্থী হিসাবে রয়েছে, তবে আমার সঙ্গ করেছে তো দীর্ঘদিন – তাই আমাকে ভুলতে পারবে না ! চেষ্টা করলেও ভুলতে পারবে না – যদি না আমি তাকে ভুলিয়ে দিই !!
কিন্তু জানো__আমি নিজে কিছুই করি না ! ‘আমি’ শুধু সমস্ত কিছুর দ্রষ্টাবৎ থাকি, সাক্ষীবৎ থাকি__ব্যস্ এইটুকুই! তুমি এখন ওদের কথা তুললে__তাই এইসব কথা বলছি, নাহলে হয়তো অন্য প্রসঙ্গ হোতো। এবার পরমানন্দের জীবন এইরকমই চলবে_passive অবস্থা ! মা মহামায়া যা করার করে, কেউ আমার প্রতি অন্যায় আচরণষ করলেও আমি reaction করি না, শুধু দ্রষ্টা হয়েই থেকে যাই। পরে হয়তো দেখি সেই ব্যক্তি কর্মফল ভোগ করছে। এটা মহামায়ার নিয়মের মধ্যে পড়ে।
দ্যাখো, এবার মা (জগদম্বা) আমাকে বলে দিয়েছে “তোকে এবার (পরমানন্দ লীলায়) ছাগল দিয়ে যব মাড়াই করতে হবে।” আমি তাই করে যাচ্ছি। মা আমাকে অনেক “ভালো ভালো সংস্কার আছে”– এমন ছেলেমেয়েদের দিয়েছেন, কিন্তু দেখছি তাদের সবাই আমার কাজে যোগদান করছে না – বাইরে বাইরেই থেকে যাচ্ছে। আবার হয়তো তেমন উন্নত সংস্কার নেই, তেমন উন্নত আধারও নয়__ তারা দেখছি আমার কাজে খুবই সাহায্য করছে ! তবে একটা কথা ঠিক__আমার যে কাজ, সে কাজ অবশ্য কোনো কারণেই আটকে থাকবে না ! এটা জগন্নাথের রথ, পথে যখন নেমে পড়েছে_তখন চলতেই থাকবে_নির্দিষ্ট লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত আর থামবে না। এখন যারা রথের রশি টানছে_তারা যদি টানা বন্ধও করে দেয়, তাহলেও কেউ না কেউ এসে ঠিক রশিতে হাত লাগাবে এবং রথ সামনের দিকে এগিয়ে চলবে।
এ সবই মায়ের জগতের লীলা! ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ ভাগবত থেকে উদাহরণ দিয়ে একটা কাহিনীর উল্লেখ করে বলতেন__’ নারদ একজনের জিজ্ঞাসার উত্তরে বলেছিলেন, “ভগবান এখন সুচের ছিদ্রের মধ্যে দিয়ে উট চালনা করছেন।” যার জগৎ সে যা খুশি তাই করতে পারে – এখানে কোনো সূত্র খাটে না। ওস্তাদ director যেমন নতুন নতুন ছেলেমেয়েদের নিয়ে ভালো ভালো যাত্রাপালা বা নাটক মঞ্চস্থ করিয়ে দিতে পারে –ঠিক তেমনি এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের রূপকার বা কারিগর যিনি, তিনি যে কাউকে দিয়ে যা খুশি roll play করিয়ে নিতে পারেন, আবার তিনি মোষের মুখ দিয়ে ‘বেদ’ বলাতেও পারেন !! “মুকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিং”– কথাগুলি মহাজন বাক্য, ফালতু লোকের কথা তো নয়। তবে সবসময় বা সচরাচর এইসব ঘটনা ঘটে না বলে মানুষ বিশ্বাস করে না ! কিন্তু যখন ঘটে-সেখানে উপস্থিত জনগণ অথবা যার জীবনে ঘটে সে-ই ‘ভগবানের লীলা’ সত্য বলে জানতে পারে। আর শুধু সেই ব্যক্তিই বা কেন__এমনকি সেই ব্যক্তির চতুর্পার্শ্বস্থ লোকজনও জানতে পারে ! যখন এই ধরনের ঘটনা বাস্তবে কোথাও ঘটে যায়, তখন এইসব ঘটনাকে কেউ বলে অলৌকিক, কেউ বলে আজগুবি কিন্তু কেউ কেউ একে ‘লীলা’ বলে জানতে পারে। তবে সেই সংখ্যা খুবই কম !
কিন্তু জানবে ‘ভগবানের লীলা’-ও সত্য। পৃথিবীগ্রহে যখন যেখানে যেমনটি প্রয়োজন, তখন সেখানে তেমনই “লীলা” প্রকট হয়ে থাকে।৷
….সম্বিত দক্ষিণ কলকাতার ছেলে। ওরা ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের আমলকার কেশব সেনের বংশধর। সম্বিত বরাবরই একটু আলাদা। আসলে ব্যাপারটা হোচ্ছে ওর সংস্কারই হোলো অন্য সৌরমন্ডলের কোনো একটি গ্রহের ! পৃথিবীগ্রহের নয়। তাই ও এখানকার ব্যাপার-স্যাপার ভালো বুঝতেই পারে না। আমার সংস্পর্শে এসে এতদিনে ও অনেকটাই মানিয়ে নিয়েছে। ওকে একমাত্র বোঝে ওর মা, ওর গর্ভধারিনী জননী। সম্বিতের মা-কে আমিও ‘মা’ বলেই ডাকি, উনি সম্বিতকে অনেকটাই আগলে আগলে রাখেন। ‘মা’- চলে যাবার পর হয়তো ওর একটু অসুবিধা হবে । কিন্তু দ্যাখো, মানুষ সবচাইতে কি ভালো পারে বলোতো ? – বাঁচতে, ভালোভাবে বাঁচতে। পৃথিবীর সমস্ত জীব অপেক্ষা মানুষ সবচাইতে ভালো করে বাঁচতে জানে বলেই তো সে জীবকুলের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। জীববিজ্ঞানীরা বলেছে না__ Survival of the fittest ! সুতরাং সম্বিতও তখন (মায়ের অবর্তমানে)ঠিক adjust করে নেবে !
এখানে ও আসে মাঝে মাঝে – আমি পাকাপাকিভাবে থেকে যাবার জন্যও বলি, কিন্তু ও একভাবে এক জায়গায় বেশিদিন স্থায়ীভাবে থাকতে পারে না, কিছুদিন থাকার পর-ই ফের বাড়িতে ফিরে যায়। ওখানে ওদের পারিবারিক ব্যবসা রয়েছে, কিছু কাজকর্মও সম্বিত দেখে – কিন্তু সব সময় সব ব্যাপারগুলো ঠিক রাখতে পারে না ! ওদের পারিবারিক শিপিং ব্যাবসা, দেশ-বিদেশের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলতে হয়_ঐসব কাজ গুলো ওর দাদা অর্ণবই দেখে।
সুব্রত নিয়োগী ওদের সাথেই আসতো, প্রথম আশ্রম হবার পরও বেশ কিছুদিন আসা-যাওয়া করেছিল, কিন্তু পরে আর বিশেষ কোনো যোগাযোগ রাখে নি। তবে আমি খবর রাখি। দিল্লি গেলে যোগাযোগও হয়। বর্তমানে সুব্রত ভালো চাকরি করে, বিয়ে-থা করেছে। হয়তো সে গৃহস্থী হিসাবে রয়েছে, তবে আমার সঙ্গ করেছে তো দীর্ঘদিন – তাই আমাকে ভুলতে পারবে না ! চেষ্টা করলেও ভুলতে পারবে না – যদি না আমি তাকে ভুলিয়ে দিই !!
কিন্তু জানো__আমি নিজে কিছুই করি না ! ‘আমি’ শুধু সমস্ত কিছুর দ্রষ্টাবৎ থাকি, সাক্ষীবৎ থাকি__ব্যস্ এইটুকুই! তুমি এখন ওদের কথা তুললে__তাই এইসব কথা বলছি, নাহলে হয়তো অন্য প্রসঙ্গ হোতো। এবার পরমানন্দের জীবন এইরকমই চলবে_passive অবস্থা ! মা মহামায়া যা করার করে, কেউ আমার প্রতি অন্যায় আচরণষ করলেও আমি reaction করি না, শুধু দ্রষ্টা হয়েই থেকে যাই। পরে হয়তো দেখি সেই ব্যক্তি কর্মফল ভোগ করছে। এটা মহামায়ার নিয়মের মধ্যে পড়ে।
দ্যাখো, এবার মা (জগদম্বা) আমাকে বলে দিয়েছে “তোকে এবার (পরমানন্দ লীলায়) ছাগল দিয়ে যব মাড়াই করতে হবে।” আমি তাই করে যাচ্ছি। মা আমাকে অনেক “ভালো ভালো সংস্কার আছে”– এমন ছেলেমেয়েদের দিয়েছেন, কিন্তু দেখছি তাদের সবাই আমার কাজে যোগদান করছে না – বাইরে বাইরেই থেকে যাচ্ছে। আবার হয়তো তেমন উন্নত সংস্কার নেই, তেমন উন্নত আধারও নয়__ তারা দেখছি আমার কাজে খুবই সাহায্য করছে ! তবে একটা কথা ঠিক__আমার যে কাজ, সে কাজ অবশ্য কোনো কারণেই আটকে থাকবে না ! এটা জগন্নাথের রথ, পথে যখন নেমে পড়েছে_তখন চলতেই থাকবে_নির্দিষ্ট লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত আর থামবে না। এখন যারা রথের রশি টানছে_তারা যদি টানা বন্ধও করে দেয়, তাহলেও কেউ না কেউ এসে ঠিক রশিতে হাত লাগাবে এবং রথ সামনের দিকে এগিয়ে চলবে।
এ সবই মায়ের জগতের লীলা! ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ ভাগবত থেকে উদাহরণ দিয়ে একটা কাহিনীর উল্লেখ করে বলতেন__’ নারদ একজনের জিজ্ঞাসার উত্তরে বলেছিলেন, “ভগবান এখন সুচের ছিদ্রের মধ্যে দিয়ে উট চালনা করছেন।” যার জগৎ সে যা খুশি তাই করতে পারে – এখানে কোনো সূত্র খাটে না। ওস্তাদ director যেমন নতুন নতুন ছেলেমেয়েদের নিয়ে ভালো ভালো যাত্রাপালা বা নাটক মঞ্চস্থ করিয়ে দিতে পারে –ঠিক তেমনি এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের রূপকার বা কারিগর যিনি, তিনি যে কাউকে দিয়ে যা খুশি roll play করিয়ে নিতে পারেন, আবার তিনি মোষের মুখ দিয়ে ‘বেদ’ বলাতেও পারেন !! “মুকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিং”– কথাগুলি মহাজন বাক্য, ফালতু লোকের কথা তো নয়। তবে সবসময় বা সচরাচর এইসব ঘটনা ঘটে না বলে মানুষ বিশ্বাস করে না ! কিন্তু যখন ঘটে-সেখানে উপস্থিত জনগণ অথবা যার জীবনে ঘটে সে-ই ‘ভগবানের লীলা’ সত্য বলে জানতে পারে। আর শুধু সেই ব্যক্তিই বা কেন__এমনকি সেই ব্যক্তির চতুর্পার্শ্বস্থ লোকজনও জানতে পারে ! যখন এই ধরনের ঘটনা বাস্তবে কোথাও ঘটে যায়, তখন এইসব ঘটনাকে কেউ বলে অলৌকিক, কেউ বলে আজগুবি কিন্তু কেউ কেউ একে ‘লীলা’ বলে জানতে পারে। তবে সেই সংখ্যা খুবই কম !
কিন্তু জানবে ‘ভগবানের লীলা’-ও সত্য। পৃথিবীগ্রহে যখন যেখানে যেমনটি প্রয়োজন, তখন সেখানে তেমনই “লীলা” প্রকট হয়ে থাকে।৷
