শ্রী শ্রী গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দের বিভিন্ন আলোচনা থেকে এখানে এখন ‘উপাসনা’- প্রসঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছিলো। এবারে দেখা যাক্ গুরুমহারাজ “মূর্তিপূজা” সম্বন্ধে কি কি কথা বলেছেন। প্রথম কথা হোলো – যেহেতু পরমেশ্বর সর্বব্যাপক বা সর্বত্রই রয়েছেন – তাহলে তিনি মূর্তিতেও রয়েছেন, এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ থাকারই কথা নয় ! এই ব্যাপারে বিরোধ তারাই করে যাদের সর্বব্যাপক পরমেশ্বর সম্বন্ধে এখনো ধারণা হয়নি ! যদি সেই ধারণা থাকতো তাহলে কোনো বিরোধ থাকতো না, হয়তো কৌতুহল থাকতো ! আর সেই কৌতুহল বা অনুসন্ধিৎসু মন মূর্তি বা প্রতিমা অথবা প্রতীকের রহস্য সম্বন্ধে অবগত হওয়ার প্রয়াস পেতো !
ভারতীয় শাস্ত্রে “যোগ” কথাটির অর্থ হলো আত্মার সাথে পরমাত্মার যোগ, ভক্তের সাথে ভগবানের যোগ, জীবের সাথে অদ্বৈত ব্রহ্মের যোগ ইত্যাদি। সেই হিসাবে জ্ঞানযোগ, রাজযোগ, ভক্তিযোগ, কর্মযোগ – ইত্যাদি বিভিন্ন প্রকার যোগের উল্লেখ রয়েছে এবং বিভিন্ন প্রকার যোগপদ্ধতির মধ্যে দিয়েই ভিন্ন ভিন্ন প্রকৃতির সাধকেরা সাধন-ভজন করে আধ্যাত্মিক উন্নতি লাভ করেন। ‘মূর্তিপূজা’ ব্যাপারটা_ ভক্তিযোগীদের সাধন-পদ্ধতির মধ্যে পড়ে। যারা জ্ঞানযোগী বা রাজযোগী অথবা কর্মযোগী – তাদের মূর্তিপূজার প্রয়োজন হয় না। সুতরাং হিন্দু মতাবলম্বী বা সনাতনী হোলেই যে সকলেই মূর্তিপূজা করে থাকে – তা কিন্তু নয় ! তবে, যাদের common sense আছে, আধ্যাত্মবিষয়ে খানিক ধারণা রয়েছে, তারা নিজে পূজা না করলেও মূর্তিপূজার বিরোধ করে না। করে না – কারন তারা এটা জানে যে, রাজযোগ যেমন ‘যোগ’ (অর্থাৎ আত্মার সাথে পরমাত্মার মিলনের যোগাযোগ পদ্ধতি), জ্ঞানযোগ যেমন ‘যোগ’, কর্মযোগ যেমন ‘যোগ’ – তেমনি ভক্তিযোগও ‘যোগ’। এই পথে সাধন-ভজন করলেও আধ্যাত্মিক উন্নতি সম্ভব। এই যোগমার্গীরাও নিষ্ঠার সাথে সাধন পথে আগালে, একদিন না একদিন ভগবানের সাথে মিলিত হতে পারে !
ভারতবর্ষের বাইরে থেকে আসা ধর্মমতগুলির followers-দের এই ধারণাটারই অভাব ! তাদের ধারণায় রয়েছে – তাদের ধর্মমতের শিক্ষাই সর্বশ্রেষ্ঠ — বাকি সবই নিকৃষ্ট !! ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণদেব এদেরকে উদ্দেশ্য করেই বলেছিলেন – ” আমার ঘড়িটাই ঠিক চলছে, আর বাকি সবার ভুল – এ মত ভালো নয় ! এইজন্য মাঝেমাঝে সূর্যঘড়ির সঙ্গে নিজের ঘড়িকে মিলিয়ে নিতে হয়।” এখানে সূর্যঘড়ি অর্থাৎ পূর্ব পূর্ব মহাত্মা-মহাজনগণ ! যাঁরা উত্তরসূরিদের জন্য চিরন্তন-শাশ্বত-সত্যকে “বাণী” আকারে রেখে গেছেন – সেইগুলির সাথে আমার বর্তমান activities-টা মিলিয়ে নিতে হয়। যাইহোক, আমাদের যে বিষয়ে কথা হচ্ছিলো – আমরা সেখানেই ফিরে যাই। গুরুমহারাজ বলেছিলেন, যারা জানে যে ঈশ্বর সর্বব্যাপী কিন্তু সেই সম্বন্ধে তাদের সম্যক ধারণা হয়নি – তারাই মূর্তিপূজা করবে। প্রকৃতপক্ষে প্রতিমা বা প্রতীক উপাসনাও তো সেই পরমেশ্বরেরই উপাসনা ! পার্থক্য এই যে, এই উপাসনার মাধ্যম হলো প্রতীক, প্রতিমা বা মূর্তি।
গুরুমহারাজ এই ব্যাপারে আরও বলেছিলেন যে, ঈশ্বরের সর্বব্যাপকতা যে স্বীকার করে, সে জানে মূর্তিতেও তিনি বিরাজিত। তাই মূর্তিপূজা এখানে উপলক্ষ্য – লক্ষ্য পরমেশ্বরের আরাধনা বা উপাসনা ! এই প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে গুরুমহারাজ বলেছিলেন – ” মূর্তিপূজা উদারচিত্ত মনেরই প্রকাশ – সংকীর্ণচিত্ত মনের কল্পনাপ্রসূত নয়।” পরমেশ্বর সর্বব্যাপী হওয়ায় তিনি মানুষের মধ্যেও প্রকাশিত ! তাই বিভিন্ন শক্তিপুজোয় কুমারীপূজা হয়, যেখানে কোনো স্থূলশরীরের অষ্টমবর্ষীয়া বালিকাকে দেবীজ্ঞানে পূজা করা হয় !
ভারতীয় শাস্ত্রাদিতে প্রতিটি প্রতীক এবং প্রতিমা বা মূর্তির রহস্য বর্ণনা রয়েছে ! প্রতিটি বিগ্রহই প্রকৃতপক্ষে ভাবাত্মক ! প্রতিটি মূর্তির রহস্য বর্ণনায় দেখা যায় সেগুলি গভীর ভাবব্যঞ্জক – রূপকাকারে সেই পরমেশ্বরেরই প্রতীক।
গুরু মহারাজের কথায়__ “এই ভাবাত্মক মূর্তিকে অবলম্বন করে এবং লঙ্ঘন করে যেতে হবে সেই অসীমে। আর অসীমে যাওয়াই সাধকের লক্ষ্য বা কর্তব্য !” কিন্তু বর্তমানে সনাতনী হিন্দু সমাজে মূর্তিপূজার নামে বিচারবিহীন আচার-সর্বস্বতা প্রকাশ পাচ্ছে। বিচারবোধ এবং বুদ্ধিমত্তার স্থানে অজ্ঞান এবং নির্বুদ্ধিতা স্থান করে নিচ্ছে – আর এরফলেই জন্ম নিচ্ছে শ্রেণি-চেতনা, সম্প্রদায়-চেতনা, গোষ্ঠী-চেতনা ইত্যাদি সংকীর্ণ চেতনার।
এইজন্যেই এই আলোচনার উপসংহারে গুরুমহারাজ বলেছিলেন – ” প্রিয় আত্মন্। জীবন তাঁর জীবন্ত বিগ্রহ ! তাঁকে জানো–তাঁকে ভালবাসো–তাঁকে সেবা করো ! মস্তিষ্ক দিয়ে তাঁকে জানো, হৃদয় দিয়ে তাঁকে ভালোবাসো ও শরীর দিয়ে তাঁকে সেবা করো !” পূর্ণত্ব লাভের জন্য head, heart এবং muscle – মানব শরীরের এই ত্রিবিধ important অঙ্গেরই highest manifestation ঘটাবার কথা বললেন গুরুমহারাজ ! যে কোনো একটাকে প্রাধান্য দেওয়া মানেই অন্যগুলি দুর্বল হয়ে যাওয়া। এইটা আধ্যাত্মিকতা নয় ! পরিপূর্ণ আধ্যাত্মিক হোতে গেলে প্রয়োজন – ‘বেদান্তের মস্তিষ্ক বৈষ্ণবের হৃদয় এবং শাক্তের শক্তপোক্ত শরীর’ !”
ভারতীয় শাস্ত্রে “যোগ” কথাটির অর্থ হলো আত্মার সাথে পরমাত্মার যোগ, ভক্তের সাথে ভগবানের যোগ, জীবের সাথে অদ্বৈত ব্রহ্মের যোগ ইত্যাদি। সেই হিসাবে জ্ঞানযোগ, রাজযোগ, ভক্তিযোগ, কর্মযোগ – ইত্যাদি বিভিন্ন প্রকার যোগের উল্লেখ রয়েছে এবং বিভিন্ন প্রকার যোগপদ্ধতির মধ্যে দিয়েই ভিন্ন ভিন্ন প্রকৃতির সাধকেরা সাধন-ভজন করে আধ্যাত্মিক উন্নতি লাভ করেন। ‘মূর্তিপূজা’ ব্যাপারটা_ ভক্তিযোগীদের সাধন-পদ্ধতির মধ্যে পড়ে। যারা জ্ঞানযোগী বা রাজযোগী অথবা কর্মযোগী – তাদের মূর্তিপূজার প্রয়োজন হয় না। সুতরাং হিন্দু মতাবলম্বী বা সনাতনী হোলেই যে সকলেই মূর্তিপূজা করে থাকে – তা কিন্তু নয় ! তবে, যাদের common sense আছে, আধ্যাত্মবিষয়ে খানিক ধারণা রয়েছে, তারা নিজে পূজা না করলেও মূর্তিপূজার বিরোধ করে না। করে না – কারন তারা এটা জানে যে, রাজযোগ যেমন ‘যোগ’ (অর্থাৎ আত্মার সাথে পরমাত্মার মিলনের যোগাযোগ পদ্ধতি), জ্ঞানযোগ যেমন ‘যোগ’, কর্মযোগ যেমন ‘যোগ’ – তেমনি ভক্তিযোগও ‘যোগ’। এই পথে সাধন-ভজন করলেও আধ্যাত্মিক উন্নতি সম্ভব। এই যোগমার্গীরাও নিষ্ঠার সাথে সাধন পথে আগালে, একদিন না একদিন ভগবানের সাথে মিলিত হতে পারে !
ভারতবর্ষের বাইরে থেকে আসা ধর্মমতগুলির followers-দের এই ধারণাটারই অভাব ! তাদের ধারণায় রয়েছে – তাদের ধর্মমতের শিক্ষাই সর্বশ্রেষ্ঠ — বাকি সবই নিকৃষ্ট !! ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণদেব এদেরকে উদ্দেশ্য করেই বলেছিলেন – ” আমার ঘড়িটাই ঠিক চলছে, আর বাকি সবার ভুল – এ মত ভালো নয় ! এইজন্য মাঝেমাঝে সূর্যঘড়ির সঙ্গে নিজের ঘড়িকে মিলিয়ে নিতে হয়।” এখানে সূর্যঘড়ি অর্থাৎ পূর্ব পূর্ব মহাত্মা-মহাজনগণ ! যাঁরা উত্তরসূরিদের জন্য চিরন্তন-শাশ্বত-সত্যকে “বাণী” আকারে রেখে গেছেন – সেইগুলির সাথে আমার বর্তমান activities-টা মিলিয়ে নিতে হয়। যাইহোক, আমাদের যে বিষয়ে কথা হচ্ছিলো – আমরা সেখানেই ফিরে যাই। গুরুমহারাজ বলেছিলেন, যারা জানে যে ঈশ্বর সর্বব্যাপী কিন্তু সেই সম্বন্ধে তাদের সম্যক ধারণা হয়নি – তারাই মূর্তিপূজা করবে। প্রকৃতপক্ষে প্রতিমা বা প্রতীক উপাসনাও তো সেই পরমেশ্বরেরই উপাসনা ! পার্থক্য এই যে, এই উপাসনার মাধ্যম হলো প্রতীক, প্রতিমা বা মূর্তি।
গুরুমহারাজ এই ব্যাপারে আরও বলেছিলেন যে, ঈশ্বরের সর্বব্যাপকতা যে স্বীকার করে, সে জানে মূর্তিতেও তিনি বিরাজিত। তাই মূর্তিপূজা এখানে উপলক্ষ্য – লক্ষ্য পরমেশ্বরের আরাধনা বা উপাসনা ! এই প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে গুরুমহারাজ বলেছিলেন – ” মূর্তিপূজা উদারচিত্ত মনেরই প্রকাশ – সংকীর্ণচিত্ত মনের কল্পনাপ্রসূত নয়।” পরমেশ্বর সর্বব্যাপী হওয়ায় তিনি মানুষের মধ্যেও প্রকাশিত ! তাই বিভিন্ন শক্তিপুজোয় কুমারীপূজা হয়, যেখানে কোনো স্থূলশরীরের অষ্টমবর্ষীয়া বালিকাকে দেবীজ্ঞানে পূজা করা হয় !
ভারতীয় শাস্ত্রাদিতে প্রতিটি প্রতীক এবং প্রতিমা বা মূর্তির রহস্য বর্ণনা রয়েছে ! প্রতিটি বিগ্রহই প্রকৃতপক্ষে ভাবাত্মক ! প্রতিটি মূর্তির রহস্য বর্ণনায় দেখা যায় সেগুলি গভীর ভাবব্যঞ্জক – রূপকাকারে সেই পরমেশ্বরেরই প্রতীক।
গুরু মহারাজের কথায়__ “এই ভাবাত্মক মূর্তিকে অবলম্বন করে এবং লঙ্ঘন করে যেতে হবে সেই অসীমে। আর অসীমে যাওয়াই সাধকের লক্ষ্য বা কর্তব্য !” কিন্তু বর্তমানে সনাতনী হিন্দু সমাজে মূর্তিপূজার নামে বিচারবিহীন আচার-সর্বস্বতা প্রকাশ পাচ্ছে। বিচারবোধ এবং বুদ্ধিমত্তার স্থানে অজ্ঞান এবং নির্বুদ্ধিতা স্থান করে নিচ্ছে – আর এরফলেই জন্ম নিচ্ছে শ্রেণি-চেতনা, সম্প্রদায়-চেতনা, গোষ্ঠী-চেতনা ইত্যাদি সংকীর্ণ চেতনার।
এইজন্যেই এই আলোচনার উপসংহারে গুরুমহারাজ বলেছিলেন – ” প্রিয় আত্মন্। জীবন তাঁর জীবন্ত বিগ্রহ ! তাঁকে জানো–তাঁকে ভালবাসো–তাঁকে সেবা করো ! মস্তিষ্ক দিয়ে তাঁকে জানো, হৃদয় দিয়ে তাঁকে ভালোবাসো ও শরীর দিয়ে তাঁকে সেবা করো !” পূর্ণত্ব লাভের জন্য head, heart এবং muscle – মানব শরীরের এই ত্রিবিধ important অঙ্গেরই highest manifestation ঘটাবার কথা বললেন গুরুমহারাজ ! যে কোনো একটাকে প্রাধান্য দেওয়া মানেই অন্যগুলি দুর্বল হয়ে যাওয়া। এইটা আধ্যাত্মিকতা নয় ! পরিপূর্ণ আধ্যাত্মিক হোতে গেলে প্রয়োজন – ‘বেদান্তের মস্তিষ্ক বৈষ্ণবের হৃদয় এবং শাক্তের শক্তপোক্ত শরীর’ !”
