স্থান ~ পরমানন্দ মিশন, বনগ্রাম । সময় ~ ১৯৯০ সাল । উপস্থিত ব্যক্তিগণ ~ পঙ্কজবাবু, আশ্রমের কয়েকজন মহারাজ ও উপস্থিত ভক্তজন ৷
জিজ্ঞাসু :– আজকাল পৃথিবীতে অনেক ‘সাধুর’ কথা শােনা যায়, যারা লােকঠকানাে ব্যবসা কোরে লক্ষ লক্ষ টাকা রােজগার করে এবং বিলাস-ব্যসনে দিন কাটায় –তবু তো বহু মানুষ তাদের শিষ্য হয় বা তাকেই গুরু বলে মানে ?
গুরুমহারাজ :– প্রথমেই তুই ‘সাধু’ বললি, তার পর আবার ‘লােক ঠকায়’ বলছিস–তাের কথাটাই তো self contradictory ! যিনি সৎ চিন্তন ও আচরণ করেন অর্থাৎ ‘বহু জন হিতায়’ ও ‘বহুজন সুখায়’ যার জীবন, তিনিই সাধু । এবার যে নিজের ইন্দ্রিয় সুখের জন্য–যশ-খ্যাতি লাভের জন্যলােক ঠকায়, সে আর যাই হােকপ্রকৃত অর্থে “সাধু” সে নয় !
যাইহােক, কথা হচ্ছে –বলা হয় ত্রিগুণ প্রপঞ্চ । দেখা যাচ্ছে, সত্ত্ব, রজঃ, তমঃ –এই তিন প্রকার গুণবিশিষ্ট এই জগৎ। ফলে বৈচিত্র্য বা ভেদ তাে থাকবেই। কখনোই ভাবা উচিত নয় যে, একজন ব্যক্তি যে রকম ভাবেঅন্যজন ঠিক সেইরকমই ভাববে অথবা একজন ব্যক্তি যেমন জগৎ সংসারকে দেখে বা বিচার করে অন্যজনও ঠিক সেইরকমই দেখবে বা বিচার করবে । সাধারণত কোন ব্যক্তি নিজস্বার্থের অনুকূলে কোন ভাবনা বা ভাবকে গ্রহণ করতে চায় এবং সেই অনুযায়ী প্রচলিত কোন মত বা কোন ব্যক্তির উপদেশ গ্রহণ করতে চায়যাতে করে তার নিজের অভীষ্ট সিদ্ধ হয়। প্রাণীজগতেও দেখা যায় জঙ্গলে বিভিন্নপ্রজাতির প্রাণী রয়েছে, সেখানে শক্তিশালী বুদ্ধিমান প্রাণীও আছে, দুর্বল নিরীহ প্রাণীরাও আছে–কিন্তু কোন দুর্বল প্রজাতির প্রাণী কি তাদের দলনেতা নির্বাচনের সময় শক্তিমান-বুদ্ধিমান প্রজাতির কাউকে নির্বাচন করে ? ছাগলদের নেতা তাে একটা হৃষ্টপুষ্ট পাঁঠাই হয় অথবা গরুদের নেতা একটা হৃষ্টপুষ্ট ষাঁড়—তাই নয়কি ?
কাজেই দেখা যাচ্ছে যে, প্রাণীজগতের সহজ ধর্মই এই—নিজ নিজ ভাবনা অনুযায়ী কোন মতকে মেনে নেওয়া এবং সেই মতের কোন নেতাকেই আদর্শ হিসাবে নেওয়া! কিন্তু যদি কেউ সত্যম-শিবম্-সুন্দরম্ কে অভীষ্ট করে, ইষ্টলাভই যদি জীবনের উদ্দেশ্য হয় তাহলে তার অনিষ্ট হবে কেন ? ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ বলেছিলেন – ঈশ্বরই সদগুরুরূপে আবির্ভূত হন। এটা সত্য জানবে! সেই অমূর্তই মূর্তিমান হন, অরূপই রূপ পরিগ্রহ করেন —অধরাই ধরা দেন ধূলার ধরণীতে সমকালীন মুমুক্ষু মানুষদের মোক্ষের পথ দেখানোর জন্য। তাই আমি তোমাদের সবাইকেই বলছি__ অযথা সমালোচনায় বা অপরের দোষ দেখে কোন লাভ নেই। জগতের বৈচিত্র্য দেখে বিচলিত হয়াে না, এর থেকে রস আস্বাদন করাে—বৈচিত্র্যের মধ্যে যে ঐক্যতান রয়েছে তার অনুসন্ধান করাে, আর পরম অভীষ্ট প্রাপ্ত হও।
জিজ্ঞাসু:— পৃথিবীতে আদিম অবস্থার এখনও অনেক মানুষ আছে শুনেছি, এটা কি সত্য?
গুরুমহারাজ :– পৃথিবীর দরকার কি – তােমার দেশেই তাে রয়েছে! উড়িষ্যা, অন্ধ্রপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশের সীমান্ত বরাবর যে বিরাট জঙ্গল রয়েছে ওটাকে ছত্রিশগড়ের ‘বস্তারে’র জঙ্গল বলে(বস্তার-একটা জেলার ও নাম) সেখানে ঐ রকম আদিবাসীরা বাস করে। শহরাঞ্চলের কাছাকাছি অর্থাৎ জঙ্গলের সামনের দিককার আদিবাসীরা নিম্নাঙ্গে বস্ত্র ব্যবহার করে, কারণ প্রয়ােজনে লােকালয়ে আসা-যাওয়া করতে হয় বলে, কিন্তু জঙ্গলের ভিতরের দিকের বাসিন্দারা একদমই উলঙ্গ থাকে এবং নগর সভ্যতার সাথে তাদের কোন যােগাযােগ এমনকি পরিচয়ই নেই! এত দুর্ভেদ্য জঙ্গলে ওরা বসবাস করে যে, বস্তার জেলার ম্যাজিষ্ট্রেটও জানেন না—জঙ্গলে ওদের বাসস্থান ঠিক কোথায় কোথায় রয়েছে বা সেইসব স্থানে কতজন করে লােক বাস করে ! বনের ফলমূল-কন্দ সংগ্রহ করে এবং মাছ ও পশু শিকার করেই ওরা জীবনধারণ করে।
মধ্যভারতের বিস্তীর্ণ বনাঞ্চলে, বিশেষ করে ছত্রিশগড়ে আছে গােডবা, বোণ্ডা ইত্যাদি আদিবাসীরা। আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে রয়েছে জারোয়া, সেন্টিনিয়ানরা !সাধারণতঃ ওরা লােকালয়ে আসেই না, এমনকি সাধারণ Civilian-রা ওদের ওখানে গেলেই ওরা তাদের মেরে ফেলে। ফলে বর্তমানে এইরকম দুর্ঘটনা এড়াতে সরকারীভাবে ওদের আস্তানার চারিদিকটা ভালভাবে ঘিরে দেওয়া হয়েছে, যাতে ওরাও বাইরে না আসতে পারে আবার অন্যরাও ভেতরে না ঢুকতে পারে। তবে কোন কোন সময় রাতের অন্ধকারে ওরা লােকালয়ে ঢােকে, চুরি করার জন্য। না-না টাকা-পয়সা নয় ! ওরা নেয় বাড়ীর বাইরে পড়ে থাকা লােহার বালতি বা এই ধরণের পাতলা লােহার পাতের দ্রব্য। ওগুলো থেকে ওর ঘষে ঘষে তীরের ফলা বানায় । আর তৈরী করে মােক্ষম বিষ। তীরের ফলায় ঐ বিষ মাখিয়ে শুকিয়ে Ready করে রাখে ওরা। আর তা লক্ষ বস্তুতে আঘাত হানার সাথে সাথেই নিশ্চিত মৃত্যু ৷
ইন্দিরা গান্ধী প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন একবার বনদপ্তরকে আদেশ দিয়ে একজন জারোয়া আদিবাসীকে ধরে নিয়ে যান দিল্লীতে। সেখানে যে-কদিন তাকে রাখা হয় লােহার খাঁচায় –একদিনও খাদ্যদ্রব্য সে মুখে তােলেনি। তখন বাধ্য হয়ে মানবতার খাতিরে দিনসাতেক পর আবার উড়ােজাহাজে চাপিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় জঙ্গলে। কিন্তু ঘটনা ঘটেছিল কি জানো, লোকটিকে পরের দিন জঙ্গলের বাইরে মৃত অবস্থায়পাওয়া যায়। অর্থাৎ ঐ আদিবাসীরাই ওকে মেরে ফেলেছে! এর কারণ হচ্ছে যেহেতু লােকটি সভ্য-সমাজে ৭ দিন ছিল, সেই সমাজের কলুষ থাকতে পারে ওর মধ্যে, অতএব মৃত্যুদণ্ড !পশুসমাজেও এই একই নিয়ম কার্যকরী! ব্যাপারটা শুনতে অদ্ভুত লাগলেও ওদের সমাজে ওরা কিন্তু প্রাকৃতিক ভাবে এবং সহজভাবে আছে । অসভ্য যতই বলা হােক —ওদের মধ্যে কিন্তু যৌনরােগ নেই, যা সভ্য সমাজের একটা জ্বলন্ত সমস্যা। কিন্তু বর্তমানে প্রধান সমস্যা হচ্ছে–ওদের মধ্যে জনসংখ্যা প্রচণ্ডভাবে কমে যাচ্ছে ; তাই সরকারীভাবে নানান চেষ্টা চালানাে হচ্ছে, যাতে ওদের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়। অনেক প্রকৃতি-প্রেমিক বা প্রতিষ্ঠানও এই ব্যাপারে অনেকটাই এগিয়েছেন।
জিজ্ঞাসু :— গত কুম্ভমেলায় আপনি গিয়েছিলেন শুনলাম, আচ্ছা গুরুদেব _কুম্ভমেলা কিজন্য হয়–কেনই বা মানুষ সেখানে যায় ?
গুরুমহারাজ :– পৌরাণিক ঘটনা রয়েছে তাে– এসব জানো না ? সমুদ্রমন্থনের সময় যে অমৃতকুম্ভ উঠেছিল তার দখল নিয়ে দেবাসুরে সংগ্রাম হয় । তখন নারায়ণ মােহিনী মূর্ত্তিতে প্রকট হন এবং সেই অমৃতকুম্ভ বিবাদস্থল থেকে সরিয়ে কৌশলে অন্যত্রে নিয়ে যান। এবার যাবার সময় মর্ত্যলােকের চারটি স্থানে ঐ কুম্ভ থেকে অমৃত চলকে পড়ে যায়। ঐ স্থান চারটি হল—প্রয়াগ, হরিদ্বার, নাসিক এবং উজ্জয়িনী। বর্তমানে ঐ চারটি স্থানে পরপর কুম্ভমেলা হয়ে থাকে। ৬ বৎসর অন্তর অর্ধকুম্ভ এবং ১২ বৎসর অন্তর পূর্ণকুম্ভ হয়। গতবৎসর পূর্ণকুন্তে হরিদ্বারে আমরা গিয়েছিলাম । আমরা বলতে সব্য, পূৰ্ণানন্দ এরাও সব ছিল। মেলায় লক্ষ লক্ষ লােকের ভিড়, কিন্তু আমার একা ঘােরার প্রকৃতি, সুতরাং আমি ওদের সঙ্গে থেকেও দরকার মতো মাঝে-মাঝেই একা হয়ে যেতাম।
তবে, “অমৃতকুম্ভ”_ ব্যাপারটা প্রকৃতপক্ষে আধ্যাত্মিকভাবে দেহতত্ত্বের ব্যাপার। দেহেই চারটি স্থানে স্নানের কথা যােগবিজ্ঞানে রয়েছে। প্রকৃত সাধকেরা এসব রহস্য জানেনসাধারনে অবশ্য জানে না। তবে সাধারণভাবে কুম্ভমেলার ব্যাপারটা অর্থাৎ বিশেষ তিথিনক্ষত্রের যােগে ঐ স্থানগুলিতে যেখানে একাধিক নদীর সঙ্গমস্থল রয়েছে সেখানে স্নানে এক বিশেষ পুণ্যফল লাভ হয়– একথা পুরাণকারের বর্ণনা করেছেন। ব্যস্ আর যায় কোথায় ! লক্ষ লক্ষ পুণ্য-লােভাতুর লােকের স্নান করার হিড়িক পড়ে যায় ঐ সময়, তাই এত ভিড়! রাজ্য সরকাররা তো হিমসিম খেয়ে যায় ঐ ভিড় সামলাতে। অত লােককে খাওয়ানাে, রাখা, পায়খানা-প্রস্রাব করানাের ব্যবস্থা করা কি সােজা কথা ! তারপর আছে চোর বদমায়েশদের উৎপাত! আন্তর্জাতিক অপরাধ জগতের লােকেরাও উপস্থিত থাকে ওখানে! ভেবােনা সবাই ওখানে পুণ্য করতে যায়পয়সা কামাতেও বহু মানুষই রায় ! তবে, প্রথম দিকে ঐ স্থানগুলিতে শুধু সাধুরাই যেতো! এখনও প্রচুর সাধু-সন্তরা যায়, এতে ঐ স্থানের আধ্যাত্মিকতার একটাfield তৈরি হয়। আর মহাত্মা-মহাপুরুষেরা ওখানে যান কারণছয় বৎসর বা বারো বৎসর অন্তর সাধুসমাজ ওখানে মিলিত হন বিশ্বশান্তি ও ধর্মজগতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রূপায়ণ করার জন্য! হিমালয় থেকেও অতি উন্নত মহাত্মারা আসেন স্থূল অথবা সূক্ষ শরীরে। বিশেষ বিশেষ সাধুর সাথে তাঁদের যােগাযােগ এবং কথাবার্তা হয়, তারপর সকলে চলে যান যে যার ডেরায়! সাধারণ মানুষ লক্ষ লোকের ভীড়ে এঁদের নাগাল পায়না! সৌভাগ্যবান হলে হয়তাে দর্শন পায় কিন্তু চিনতে পারবে কি করে ! উন্নত গুরু সঙ্গে থাকলে তিনি হয়তাে শিষ্যদের চিনিয়ে দেন। বিজয়কৃষ্ণ গােস্বামী প্রায়ই যেতেন কুম্ভে, তিনি তাঁর সঙ্গের লােকদের অনেক সময়ই এইরকম মহাত্মাদের চিনিয়ে দিতেন ।
তবে এবার দেখলাম মহাকুম্ভে সাধুই এসেছিল কয়েক লক্ষ ! তাঁদের মধ্যে হিমালয়ের গিরি-গুহায় থাকা সাধু, যাঁরা লােকালয়ে প্রায় কখনোই আসেন না_ এমন অনেকেও এসেছিলেন ! "নাঙা"-রা(নাগা নয়)প্রতিবারই অধিক সংখ্যায় আসেন। এবার সন্ন্যাসিনী নাঙারাও প্রায় ১০ হাজার এসেছিলেন, তাঁদের মধ্যে অনেককেই দেখলাম বিদেশিনী।
অনেক ভেকধারী সাধু প্রচারের সুবিধার জন্য কুম্ভমেলাকে বেছে নেয়। দুটো একটা সিদ্ধাই বা ভেলকি দেখিয়ে কিছু রােজগার করে অথবা খবরের কাগজে ছবি ছাপানাের চেষ্টা করে। আবার অনেকে নীরবে বিশ্বশান্তির জন্য কাজ করে চলে যান—সব সময়ই লােকচক্ষুর অন্তরালে থেকে। এইসব মহাত্মাদের সত্যই দেখা পাওয়া কষ্টকর। কথায় বলে না, 'ভগবানের দেখা পাওয়া যায় কিন্তু ভগবানের ভক্তের দেখা পাওয়া কঠিন'—সতিই তাই!
এই মেলায় মাড়ােয়ারীরা বহু লােককে খাওয়ায়—কোথাও তো শুধুই গাওয়া ঘি এর কচুরি, ডাল, লাড্ডু আবার কোথাও খিচুড়ি। ওরা সাধুদেরও কম্বল, কমণ্ডলু ইত্যাদি দান করে। আপনভােলা সাধুরা আবার ওদের ঐ সেবায় প্রসন্ন হয়ে ওদেরকে আশীর্বাদও করেন।
ঠিক ঠিক মাহেন্দ্রযােগে স্নান করার জন্য সমস্ত লােকের হুড়ােহুড়ি পড়ে যায়। এর ফলে নানান Accident-ও হয়। বিশেষতঃ আগে যেটা হােত, নাঙাদের স্নান করা দেখতে বহু মানুষ ভিড় করতো, আর ঠিক “যােগ”- উপস্থিত হলে নাঙারা লােকজন মানতো না, হুড়মুড় করে ছুটতে থাকতো সঙ্গমস্থলের দিকে। এর ফলে কত লােক যে ভিড়ের চাপে মারা পড়তো তার ইয়ত্তা নেই! এখন অবশ্য সরকারীভাবে সাধুদের স্নানের ঘাট আলাদা করে দেওয়ায়_ দুর্ঘটনা অনেকটাই এড়ানাে গেছে।
কত যে পরম্পরার সাধু ভারতবর্ষে রয়েছেন_ তা ওখানে গেলে বুঝতে পারবে । স্নানের সময় সমস্ত মত বা পথের সাধুরা তাদের মণ্ডলেশ্বরকে সিংহাসনে, দোলায়, অথবা হাতিতে চাপিয়ে নিয়ে আসেন স্নানের জন্য! এক-একটা বিশাল শরীরধারী উলঙ্গ মণ্ডলেশ্বর সাধুদের কাঁধে চেপে যাচ্ছেনএ দৃশ্য বড়ই নয়ন মনোহর! আর মজার ব্যাপার হোল ওঁরা উলঙ্গ হলেও ওঁদের গায়ে থাকে প্রচুর সােনার গহনা, তাতে আবার বিভিন্ন দামী দামী পাথরের কাজ করা। এক কথায় বেশ কয়েক লক্ষ টাকার গহনা থাকে এক-একজন মণ্ডলেশ্বরের শরীরে। সােনার সিংহাসনে, রুপাের সিংহাসনে চড়েও অনেক মণ্ডলেশ্বর স্নান করতে যান।
ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ তােতাপুরী (নাঙা সম্প্রদায়ের সন্ন্যাসী) যে সােনা তৈরী করার বিদ্যা (কিমিয়া বিদ্যা) জানতেন, তা একবার উল্লেখ করেছিলেন । ঐ নাঙা পরম্পরার সাধুদের গায়ের গহনা দেখলে সেই কথার বিশ্বাসযােগ্যতা প্রমাণিত হয়।
