জিজ্ঞাসু :— জগতে বর্তমানে অন্যায়কারী মানুষের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে, এর ফলে সমাজের ক্ষতি হচ্ছে – এর কি কোন প্রতিকার হবে না ?

গুরু মহারাজ :— এই একই জিজ্ঞাসার সম্মুখীন আমাকে বহু জায়গাতেই হতে হয় ৷ ‘ন্যায়’, ‘অন্যায়’ এই শব্দদুটো তো আপেক্ষিক । কোন চিরন্তন ন্যায় বা চিরন্তন অন্যায় কি আছে ? দেশ-কাল-পাত্র ভেদে ন্যায় এবং অন্যায় কথা-দুটো চলে আসছে ভিন্ন ভিন্ন রূপে, ভিন্ন ভিন্ন ভাবে । উদাহরণ হিসেবে বলা যায় ইউরোপে Sex-free Life কাটায় ওখানকার নর-নারীরা ; কিন্তু ওই ঘটনাটাই ভারতবর্ষে চরম অন্যায় হিসেবে পরিগণিত হবে ৷ আবার দেখুন ওদেশে বেশিরভাগ মামলা হয় স্বামীর বিরুদ্ধে, স্ত্রীরা করে ধর্ষণের মামলা – যেটা আমাদের দেশে শতকরা একটাও পাবেন কিনা সন্দেহ । এই অর্থে দেশ-কাল-পাত্র ভেদে সামাজিক ন্যায় বা অন্যায়ের চেহারাটা পৃথক হয়ে যায় না কি ?

প্রকৃতপক্ষে সাধারণ মানুষ কতটুকু অন্যায় করে, আর তার অন্যায় করার ক্ষমতাই বা কতটা ? যে মানুষের ভালো কিছু করার ক্ষমতা নেই তার মন্দ করার ক্ষমতা থাকে কি করে ? সমাজের বিরাট ক্ষতি করতে পারে ক্ষমতাশালী মানুষেরা, সাধারণ মানুষ নয় ৷ এই ক্ষমতাশালী লোকেরা বেশিরভাগই আধ্যাত্মিক শক্তিসম্পন্ন । তারা সাধনার দ্বারা আগে শক্তি অর্জন করে তারপর ভ্রান্তিবশতঃ অন্যায়-পথে পা বাড়ায় – এরাই সমাজের বৃহত্তর ক্ষতি করে । সে কথায় পরে আসছি আগে সাধারণ মানুষের দিকটা দেখা যাক্ ।

একজন দুষ্কৃতি বা অন্যায়কারী সারাজীবনে বড়জোর গোটাকয়েক Murder, গোটা কয়েক ধর্ষণ বা এইধরনের কিছু অমানবিক কাজ করে থাকে যা আমাদের চোখে অন্যায় ৷ কিন্তু দেখুন পৃথিবীর গ্রহের নিরিখে তা কতটুকু ? সমকালীন মানুষই তা ভুলে যায়, মহাকালের বুকে তার কতটুকু আঁচ লাগে ? হ্যাঁ সেই মানুষটি ওই অন্যায় কর্ম বা অপকর্মের ফলভোগ করে হয় সেই জন্মেই না হয় পরবর্তী জন্মগুলিতে । কিন্তু একটা প্রাকৃতিক বিপর্যয় কত লক্ষ মানুষকে মেরে ফেলতে পারে – কত ক্ষয়ক্ষতি সাধন করতে পারে – তার হিসাব করেছেন কি ?

এক-একটা সামাজিক Revolution-এ এক-একজন রাষ্ট্রনায়ক যে পরিমাণ লোক মেরেছে তা এক-একটা বিশ্বযুদ্ধেও মরেনি ৷ পৌরাণিক যুগে আমরা দেখি রাবণ, কংস ইত্যাদি অত্যাচারী মানুষেরা মহাসাধক ছিল ৷ তারা সাধনার দ্বারা শক্তি সঞ্চয়ের পর শক্তির অপব্যবহার করেই সমকালীন সমাজের চরম ক্ষতিসাধন করেছিল ৷ হিটলারকে নিয়ে সম্প্রতি যেসব তথ্য বের হচ্ছে তাতে দেখা যাচ্ছে যে, তিনি পাহাড়ের উপর ‘ঈগল’ নামক গুহায় আফ্রিকার ‘ভুডু’ এবং ভারতীয় তন্ত্রের সংমিশ্রণে তৈরি এক ধরনের সাধনা করতেন এবং তাঁর ভৈরবী ছিল, যদিও হিটলার নিরামিষাশী ছিলেন এবং বিয়ে করেন নি, এমনকি তিনি নাকি নিজের হাতে একটা পিঁপড়েও মারতে পারতেন না ।

যাইহোক এসব কথা, এখন ব্যাপার হচ্ছে জন্মান্তরের পূর্ব পূর্ব সাধনা বা অভিজ্ঞতাই পরবর্তী জীবনে অধিক ক্ষমতাশালী হতে সাহায্য করে ৷ সাধনা ব্যতীত শক্তিলাভ সম্ভব হয় না । জগৎ সংসার যা কিছু দেখছেন সবই মা জগদম্বার শক্তির প্রকাশ, শক্তিরই খেলা ঘটে চলেছে নিরন্তর । মাকে প্রসন্ন করতে পারলে শক্তি লাভ সম্ভব হয় কিন্তু সেটা জগৎকল্যাণে নিয়োজিত হবে না আপন ইচ্ছা পূরণের জন্য ব্যয়িত হবে সেটা আপনার নিজস্ব ব্যাপার । আর এইখানেই যত গন্ডগোল বাধে ৷ বিভিন্ন সাধক সাধন জীবনে সাধনায় সিদ্ধিলাভ করেন, শক্তিলাভ হয়, উচ্চ উচ্চ অবস্থাও প্রাপ্ত হ’ন তাঁরা, কিন্তু মহামায়ার ভুবনমোহিনী মায়ায় কখন যেন আপন ইচ্ছাকেই দৈবী-ইচ্ছা বলে বোধ করতে শুরু করেন, তা তাঁরা নিজেই বুঝতে পারেন না । এইভাবে কেউ কেউ নিজেকেই গুরু, জগদগুরু, ভগবান, অবতার অথবা অন্য কোন মহাপুরুষের Re-incarnation এসব ভাবতে শুরু করেন এবং তাঁর শিষ্যরাও এটাই প্রচার করতে থাকেন । এইভাবে বিভিন্ন গুরু, বিভিন্ন বাবা, বিভিন্ন অবতার-মহাপুরুষেরা ভিন্ন ভিন্ন দল, ভিন্ন ভিন্ন মতবাদ, ভিন্ন ভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান সৃষ্টি করে ফেলেন ৷

এখন কথা হচ্ছে ব্রহ্মা হওয়া সহজ অর্থাৎ নিজের মনগড়া কিছু সৃষ্টি করা তো ব্রহ্মগ্রন্থির অন্তর্গত জীবেরা সবাই করে থাকে, কিন্তু সেটিকে লালন-পালন করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া পূর্ণত্বের দিকে অর্থাৎ বিষ্ণু হয়ে ওঠা অথবা অন্তিমে তার লয় করা বা রুদ্রগ্রন্থি ভেদ করে শিব হয়ে ওঠা এবং উত্তরসূরিদের শিব হয়ে উঠতে সাহায্য করা আর হয় না । – এখানেই বিপর্যয় । আধ্যাত্মিক জগতের বিচিত্র বিধান । এই সমস্ত ক্ষমতাশালী মানুষেরা বিভিন্ন মত সৃষ্টি করে কিছুকাল স্থায়ীভাবে বহুসংখ্যক মানুষকে স্বমতে আনতে বাধ্য করেন – যা ঈশ্বরের বিধান বা Universal Principle অনুযায়ী ঠিক নয় । এটাই মানবজীবনের অগ্রগতির ক্ষেত্রে বা উৎকর্ষতার পক্ষে বিরাট বাধাস্বরূপ । এগুলিও ধর্মের গ্লানি ।

প্রকৃতপক্ষে, যেটাকে আপনি সমাজের ক্ষতি বলতে চাইছেন, সেই ক্ষতিটার ভয়ঙ্কর রূপ – এখানে । ব্যক্তিগতভাবে সাধারণ মানুষ দু’চারটে চুরি-ছিনতাই করল, কি খুন করল অথবা তথাকথিত অন্যায় করল, এগুলো এমন কিছু ব্যাপার নয় । যুগপ্রভাবে সাধারণ মানুষের মনোজগতে নানারকম প্রতিক্রিয়া হয় এবং সেই অনুযায়ী সে চলতেও চায়, এটা খুব একটা অসহজতা নয় । এদেরকে কোন শক্তিশালী মহাপুরুষ খুব সহজেই আবার সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারেন । কিন্তু কোনো উন্নত সাধক যখন নিজের মতকেই Universal Principle বলে উত্তরসূরিদের কাছে প্রতিষ্ঠা করে ফেলেন, তখন দীর্ঘস্থায়ীভাবে বহু সাধারণ মানুষ এই ভুলের শিকার হয় । বেচারারা মা জগদম্বা কি অথবা ঈশ্বর কি তা জানতে পারে না, কারণ সে ত্যাগ,সংযম, সাধনা কোনটাই তাদের জীবনে নেই । শুধু ‘গুরুদেব’ বা ‘অমুক বাবা’ বলেছেন অতএব এটাই ঠিক আর সব ভুল’ – এই ধারণা পোষণ করে, প্রয়োজনে অন্যদের সাথে ঝগড়াঝাঁটি করে, খুনোখুনিও করে ৷ এছাড়া বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ আবার তাদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন বাবার ভিন্ন ভিন্ন মতের আচার পালন করতে করতে সহস্র নিয়মের নিগড়ে বাঁধা পড়ে যায় । আবার যখন ভগবান স্বয়ং অবতীর্ণ হ’ন ধরণীর ধূলায়, মানুষের রূপে, মানুষের কাছে, তখন তিনি সমাধান দেন – সহজ ভাষায়, সহজভাবে । সেই শাশ্বত-সত্যকে প্রকাশ করে যান সাধারণ মানুষের কাছে । মুনি-ঋষি-সাধু-সন্তদের কাছে তিনি না থেকে সাধারণ মানুষের মাঝে নেমে আসেন, তাদের সুখ-দুঃখের খবর নেন, সুখ-দুঃখের ভাগও নেন । সাধারণের সঙ্গে অতিসাধারন, অতিসহজভাবে মিশে যেন তাদেরই একজন হয়ে যান, আর এইভাবে মিশতে মিশতে সেই সহজতত্ত্ব তথা সহজতা বা প্রেমের শিক্ষা দিয়ে ধর্মের গ্লানি থেকে ধর্মকে মুক্ত করার বীজবপন করে একদিন হঠাৎ চলে যান । ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ বলেছেন – ‘বাউলের দল হঠাৎ এল, নাচলে, গান গাইলে আবার হঠাৎ চলে গেল । এলো গেল কেউ চিনলো না’। অধরা – অধরাই ছিলেন, সাময়িকভাবে ধরার বুকে ধরা দিয়েছিলেন, কিন্তু পরে যে ধরতে পারল তার হলো, আর যে না পারলো তার কাছে তিনি অধরাই থেকে গেলেন ৷

এইভাবে সমগ্র মানবজাতিকে এমনকি বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সবকিছুকে ঈশ্বরই রক্ষা করেন ৷ তাই শাস্ত্রে তাকে সৃষ্টি-স্থিতি-প্রলয়ের অধীশ্বর বলা হয়েছে । ব্যাপারটা বোঝার চেষ্টা করবেন তাহলেই দেখবেন অনেক জিজ্ঞাসা মীমাংসা হয়ে যাবে ।

জিজ্ঞাসু :— তাহলে তো সাধনা করে সিদ্ধিলাভ করা বেশ গোলমেলে ব্যাপার ?

গুরু মহারাজ :— আপনি এমন জিজ্ঞাসা করলেন যে – সবাই হেসে ফেললো, কিন্তু কথা হচ্ছে, ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ তো সাধককে সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, সিদ্ধিলাভ সাধকের জীবনের উদ্দেশ্য নয়, উদ্দেশ্য হচ্ছে ঈশ্বরলাভ অর্থাৎ নিজে ঈশ্বরর হয়ে ওঠা । এইজন্য আমি বলি সাধনা হোক সত্যের অনুসন্ধান এবং প্রকৃত জীবনের গভীরে পরম সত্যকে বোধে বোধ করা ৷ তথাকথিত সিদ্ধিলাভ করে কি বিপদে পড়েছিলেন হিমালয়ের এক সাধু যেটা আমার নিজের চোখে দেখা, ঘটনাটা বলছি শুনুন ।

আমি তখন ছোট, কত হবে বয়স ১০/১২ বছর । নেপালের মৎস্যপুছ্ এলাকা দিয়ে একজন নাথযোগীর সঙ্গে আমার হিমালয়ের আরও উচ্চতার দিকে যাচ্ছি । পথে এক জায়গায় যোগীবর আমাকে বললেন “বাছা, অপ্সরা দেখোগে!” ব্যাপারটা কি জিজ্ঞাসা করে আমি জানতে পারলাম কাছাকাছি একটি কুঠিয়ায় এক বৃদ্ধ শৈব সাধু থাকেন, যৌবন বয়সে অপ্সরা সাধনা করে তিনি অপ্সরা-সিদ্ধিলাভ করেন এবং আশ্চর্য ব্যাপার এই যে, অপ্সরা একটি ১৫/১৬ বছরের মেয়ের রূপ ধরে ঐ সাধুটির সেবা করতো । এখন সাধু বৃদ্ধ হয়ে গেছে কিন্তু অপ্সরা সেই একই বয়সের রয়ে গেছে । ওই এলাকার সাধুরা বা ওই পথে যাঁরা হিমালয়ে যাতায়াত করেন সব সাধুরাই এই অপ্সরার কথা জানেন বা তাঁকে দেখতেও যেতেন । এছাড়া সাধুদের ওখানে যাবার অন্য একটা কারণও ছিল ৷ অপ্সরা-মা কেউ গেলে তাকে যত্ন করে খাওয়া-দাওয়া করাতো । হিমালয়ের ঐ উচ্চতায় ভালো খাবার তো এমনিতে মেলা সম্ভব নয় কিন্তু অপ্সরা তার সিদ্ধির প্রভাবে সাধুরা যে কোন খাবার খেতে চাইতেন ও দিয়ে দিতো ৷

যাইহোক, এসব কথা শুনতে শুনতে আমরা শৈব সাধুটির কুঠিয়ার দিকে এগোতে লাগলাম । যোগীবর বলেছিলেন শৈব সাধুটির অধঃপতনের কথা । যৌবন বয়সে সাধনার একনিষ্ঠতায় শৈব সাধুটি ওই সিদ্ধিলাভ করেছিলেন ৷ তারপর নিছক কৌতূহলবশতঃ সিদ্ধির প্রভাব কাজে লাগাতে গিয়েই হোল বিপত্তি । কারণঅপ্সরা প্রকট হবার পর সে শৈব সাধুটিকে আর কখনও বাইরে যেতে দেয়নি ৷ সাধুটির যখন যা প্রয়োজন হয়েছে, অপ্সরা-মা সঙ্গে সঙ্গে তার যোগান দিয়েছে ৷ এইভাবে বর্তমানে বৃদ্ধ হয়ে যাওয়া শৈব সাধুটির আধ্যাত্মিকতা সমস্ত নষ্ট তো হয়েছেই এখন তিনি অপ্সরার হাত থেকে মুক্ত হবার জন্য শিবের নিকট নিরন্তর প্রার্থনা করা সত্ত্বেও ওর হাত থেকে মুক্তি আর পাচ্ছেন না । সাধুটির এই নিদারুণ অবস্থা দেখে অনেক মহাত্মাও আন্তরিকভাবে চাইছিলেন সাধুটির মুক্তি ৷

ঘটনাটা হয়েছে কি, আমার তখন বালক বয়স হলেও বহু সাধু জানতো যে, আমি হয়তো কোন গুপ্ত যোগী ; বালকের ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়াই ৷ এর পিছনে কারণ ছিল এই – ভ্রমণজীবনে আমি বিভিন্ন পরম্পরার সাধকদের সঙ্গে মিশেছে আর যখনই যেখানে গেছি, দেখেছি তাঁদের কর্মকান্ডের ভিন্নতা কিন্তু জ্ঞানকাণ্ড তো একই । ফলে যে কোন ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দিতে ওই বয়সেই আমার কোনো অসুবিধা হতো না । এইজন্যই বিভিন্ন সাধুরা দু-একদিন মেলামেশার পরই আমাকে বালকবেশী কোন মহাত্মা ঠাউরে নিতেন ৷ নাথযোগীটিরও অপ্সরা দেখাতে আমাকে নিয়ে যাবার পিছনে এটা একটা অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল – যদি আমার উপস্থিতিতে শৈব সাধুটির কোনোপ্রকার কল্যাণ হয় ।

ঘটনাচক্রে কিন্তু সেরকমই একটা ব্যাপার ঘটে গিয়েছিল সেদিন । পুরো ঘটনাটায় যাচ্ছি না তবু শিবের কাছে বৃদ্ধ সাধুটির নিরন্তর প্রার্থনা আর অন্যান্য সাধুদের সহানুভূতি ও শুভেচ্ছার প্রভাবে সেদিন সত্যিই শিব প্রকট হয়েছিলেন সেখানে । যার ফলে আমাদের উপস্থিতিতে অপ্সরার হাত থেকে সাধুটি মুক্তিলাভ করলেন । কি হলো জানেন তো, ধীরে ধীরে তরুণী অপ্সরার শরীর বার্ধক্যের ভারে ন্যুব্জ-কুব্জ হয়ে গেল এবং শেষকালে কালো রঙের একটা পাখির মত আকার নিয়ে সিদ্ধি নিষ্ক্রান্ত হয়ে গেল । বৃদ্ধ সাধুটি ও নাথযোগী আমাকেই এর কারণ ভেবে তাঁরা তাঁদের অন্তরের শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন ৷ বৃদ্ধ সাধুটি তখন আমার কাছে তাঁর জীবনের সমস্ত কথা বললেন ৷ যৌবনের জোয়ারে অপ্সরা-সান্নিধ্য বা সিদ্ধির প্রয়োগ যা অনেক সাধু দেখতে আসতেন এবং অবাক হতেন – এই ব্যাপারটায় তিনি খুবই গর্ব অনুভব করতেন I তারপর প্রৌঢ়ত্ব যতই নেমে এলো শরীরে ততই তাঁর মনে বিবেকযুক্ত চিন্তা ও প্রার্থনা শুরু হলো – “শিবদর্শন বা শিবত্বলাভের আশায় সংসার ত্যাগ করে হিমালয়ে এসে কি লাভ হোল ! প্রথম জীবনের তীব্র ত্যাগ-বৈরাগ্য, সাধনার ফল সমস্ত নষ্ট করে শুধু একটা মেয়ে-লাভ হলো – তাহলে এরজন্য সংসার ত্যাগ করার কি দরকার ছিল ! হে শিব, হে মহাদেব, হে দেবদেব আশুতোষ, হে করুণানিধান, তুমি আমাকে আমারই কৃতকর্মের পাপ থেকে উদ্ধার করো, হে পতিত পাবন আমাকে উদ্ধার করো”। এইভাবে নিরন্তর আত্মসমীক্ষা ও প্রার্থনা করতেন তিনি ৷ তাঁর কাতর প্রার্থনা অবশেষে শিবের কর্ণগোচর হলো আর সেদিনই আমাদের উপস্থিতিতেই সাধুটি অপ্সরার হাত থেকে মুক্তি পেলেন ৷

এরপর ঐ বালক বয়সেই আমাকে তখন ঐ বৃদ্ধ সাধুটিকে দীক্ষা দিতে হয়েছিল, যাক্ সে অনেক ঘটনা – ঐসব আবার পরে কখনও বলা যাবে ।