স্থান ~ বনগ্রাম পরমানন্দ মিশন । সময় ~ ১৯৮৫ সাল । উপস্থিত ব্যক্তিগণ ~ পঙ্কজবাবু, নগেন ও কিছু ভক্তজনেরা ।
জিজ্ঞাসু:– তারাপীঠ নাকি এখন খারাপ লোকের বেড়াবার জায়গায় পরিণত হয়েছে – তাহলে বামদেবের মত একজন মহাপুরুষের সিদ্ধ পীঠস্থানেও কি এমনটি হয়?
গুরুমহারাজ :– পীঠস্থানের আর দোষ কি? ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ বলতেন না একই প্রদীপের আলোয় কেউ দলিল নকল করছে, কেউ ভাগবৎ পাঠ করছে ! এখানে রয়েছে ব্যক্তির ভূমিকা, আলো নির্বিকার। তেমনি পীঠস্থানকে কারা কিভাবে ব্যবহার করছে সেটাই ঘটনা – এ দিয়ে স্থানের মাহাত্ম বিচার হবে না। কারণ যে সিদ্ধপীঠকে কেন্দ্র করে মানবকল্যাণ হবে সেখানে positive field কমে গেলেই কোন না কোন মহাপুরুষ সেখানে উপস্থিত হয়ে আবার স্থানটিকে charged করে দেবেন। আবার যে স্থান থেকে আর মানবকল্যানের কাজ হবে না সেখান থেকে charge withdraw করে নেবেন – এটাই মহামায়ার জগতের নিয়ম।
তাই তারাপীঠ বা যে কোন দেব-দেবীর স্থানে অথবা সিদ্ধপীঠে শুধু খারাপ লোকেরাই যাবে কেন – সব ধরণের মানুষেরাই যায়! বিশেষ বিশেষ তিথি-নক্ষত্রে দূর-দূরান্ত থেকে সাধক-সাধিকারা আসেন, বিভিন্ন অভিচার ক্রিয়া করেন, যাগ-যজ্ঞ করেন, সাধনা করেন, তুমি এসবের খোঁজ রাখনা_তাই দুম্ করে বলে দিলে শুধু খারাপ লোকেরাই যায় – এমনটা হয় না।
আমিও বেশ কয়েকবার গেছি! ছোটবেলায় গেছিলাম,পরে ন’কাকাকে নিয়ে একবার গেছিলাম। কিছুদিন আগে সব্য-র সাথে যখন গেছিলাম _তখন শংকর খ্যাপা বলে একজন উন্নত সাধকের সাথে দেখা হয়েছিল, পরে খবর পেয়েছিলাম সে মারা গেছে। দীর্ঘ দিনের সাধনার ফলে ও একটা বিশেষ অবস্থা প্রাপ্ত হয়েছিল, তবে উন্নত গুরুলাভ না হওয়ায় ও ঐ জায়গায় আটকে গিয়েছিল। আমরা দেখলাম সারাক্ষণ সেবীরভূমের লাল মোরাম মাটি খেয়ে চলেছে, আর মুখে সবসময় গালিগালাজ করছে! তখন অনেকটাই বয়স – লোলচর্ম বৃদ্ধ হয়ে গেছে। সব্য (সব্যসাচী মান্না) ছিল আমার সঙ্গে। আমি সামনে দাঁড়াতেই ও ঐ অবস্থাতেও স্থির হয়ে গেল – মাটি খাওয়া বা বকবকানি সব বন্ধ হয়ে গেল! কিছুক্ষণ পর আমরা ওখান থেকে সরে আসতেই ও আবার পূর্ববৎ হয়ে গেল।
সব্যর ইচ্ছামতো গভীর রাতে আমরা শ্মশানে গেলাম। সেখানে বিভিন্ন তান্ত্রিকেরা থাকেন, সাধনা করেন, কেউ কেউ এমনিই থাকেন। যাইহোক, ঘুরতে ঘুরতে আমরা একজনের কুঠিয়ার সামনে এলাম – তার নাম ‘কালা’। গায়ের রঙ খুব ফর্সা নয়, পাঞ্জাবী শরীর। সে অনেকটা আধপোড়া নরমাংস পাশের শ্মশান থেকে যোগাড় করে নিয়ে এসেছে _আর ‘কারণ’ সহযোগে একটু একটু করে সেগুলো খাচ্ছে আর খুব কথা বলছে। সামনে কয়েকজন ছিল তাদেরকে নানারকম বলছে – ‘আট বোতল পিওঙ্গে, দশ বোতল পিওঙ্গে’, এছাড়াও কি কি করতে পারে সেইসব কথাও বলছিল। আমরা দাঁড়াতেই আমাদেরকেও বলল – ‘কারণ লে আও।’ সব্য বাইরে বেরিয়ে গিয়ে দোকান থেকে(তারাপীঠে তান্ত্রিকেরা সাধন করে বলে, ওখানে মদ বিক্রি বৈধ) এক বোতল কারণ এনে দিতেই বলল, ভৈরব প্রকট করানোর ক্ষমতা আছে ওর, সেটা দেখাবে।
আমি একটু আড়ালে ছিলাম – সব্যই কথা বলছিল। লোকটি ভৈরব নামানোর জন্য বিভিন্ন মন্ত্র উচ্চারণ করে করে ধুনিতে আহুতি দিচ্ছিল। ওর যেমন চেহারা তেমনি একমুখ বড় বড় দাড়ি, বড় বড় চুল আর গলার আওয়াজও বেশ ভরাট। ঐরকম করতে করতেই হঠাৎ একটা বিরাট আওয়াজ হল – আওয়াজটা এমন ভয়ংকর ছিল যে, শ্মশানের কুকুরগুলো সুদ্ধু চিৎকার করতে করতে পালাল, গাছগুলোয় বিশ্রামরত পাখীরাও আচমকা ঝটপট করে বাসা ত্যাগ করল, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে কিছু লোক ছিল_ তারাও পালিয়ে গেল। এদিকে ঐ ভয়ংকর শব্দের পরই দেখি সাধুটা ধুনির উপর হুমড়ি খেয়ে পড়েছে, তার চুল-দাড়িতে আগুন লেগে পটপট্ করে পুড়ছে। আমি একলাফে উপরে উঠে গিয়ে চুলের মুঠি ধরে তাকে আগুন থেকে সরিয়ে নিয়ে চুল দাড়ির আগুন নেভালাম। ঘটনার আকস্মিকতায় ও বিহ্বল হয়ে কাঁদতে লাগল।
একটু সুস্থ হলে ওকে জিজ্ঞাসা করা হল – ব্যাপারটা কি হ’ল? ও বলল, ভৈরব প্রকট হয়ে নাকি ওর উপরেই চড়াও হয়েছিল। কারণটা আর বলছি না – সে সব সব্যর কাছে শুনে নিও। সামনে বসে থাকা লোকগুলিও পালিয়ে গিয়েছিল।এরপর ওর সঙ্গে অনেক কথা হল। শেষে কালা কাঁদতে লাগলোও যাতে সাধন-সিদ্ধ হোতে পারেতারজন্য প্রার্থনা করল। আমি ওকে বললাম __ঐ স্থান ত্যাগ করে বারাণসীর কাছে একটি স্থানে গিয়ে সাধন-ভজন করতে। ও আমার কথা রেখেছে, পরে দেখবে সিদ্ধ হয়ে বনগ্রামে আসবে।
ঐ সময় আমাদের সঙ্গে আরও কিছু লোকের দেখা হয়েছিল - তাদের মধ্যে শংকর খ্যাপাই খানিকটা সঠিক "পাগল", বাকীরা কেউ অতটা উন্নত নয়। দেখলাম ওখানে বিভিন্ন তন্ত্রমতে বিভিন্ন মানুষ সাধনা করে। তবে বর্তমানে ওখানে অনেক হোটেল-লজ তৈরী হয়েছে - বহু tourist-রা weekend কাটাতে ওখানে যাচ্ছে। এর একটা কারণ কি জানো - খুব কম খরচায় কলকাতা থেকে তারাপীঠ ট্রেনে যাওয়া-আসা করা যায়। ছা-পোষা বাঙালী মানসিকতায় "বেড়ানো" ব্যাপারটা রয়েছে, কিন্তু দূর-দূরান্তে সাধ থাকলেও সাধ্য নেই। তাই হাতের কাছে তারাপীঠ,অন্যতম একটা ভরসার জায়গা! এখানে প্রকৃতির নিসর্গ শোভা, রাঙামাটির দেশ, আবার একান্ন পীঠের একটি সিদ্ধপীঠ _তায় বামদেবের জায়গা! এই সমস্ত কারণে বাড়ির গিন্নীকে convince করিয়ে ছেলে-মেয়েকে নিয়ে শনিবার বেরিয়ে পড়া আর রাতটুকু লজে কাটিয়ে, রবিবার ভোরে মায়ের আসল মূর্তির স্নান দেখে _সকাল সকাল খেয়ে সন্ধ্যে নাগাদ বাড়ি ফিরে আসা! এই ব্যাপারটা চাকুরীজীবী মহলে খুব রটে গেছে, সস্তায় বাড়িতে শান্তি রাখার এটা একটা প্রকৃষ্ট উপায়! ঐ জন্যই তোtourist-দের ভিড় বাড়ছে। লোকে কি তন্ত্র-সাধনা করতে যায় না কি?
তবে এই যে যাচ্ছে_ এটা তো ভালই! এতে স্থানীয় মানুষের উন্নতি হবে। ঐ যে বললে বামদেবের মত মহাপুরুষের কথা, তা ওঁর মতো মানুষ ঐ স্থানে জন্মেছেন, সাধনা করেছেন – কাজেই স্থানীয় মানুষেরা আজও এভাবে তার সুফল পাচ্ছে। তাই মহাপুরুষ যে স্থানে থাকেন – সেখানকার মানুষেরা যে কতভাবে উপকৃত হয় তা আর একজন মহাপুরুষ ছাড়া সাধারণ মানুষ কি করে জানবে ?
জিজ্ঞাসু:– শোনা যায় ভগবান কৃষ্ণ বাঁশি বাজিয়ে গরু চরাতো, আবার বলা হচ্ছে সে নন্দরাজার ছেলে_ তাহলে ঠিক ঠিক ব্যাপারটি কি?
গুরুমহারাজ :– এ বাঁশী সে বাঁশী নয় বাবা! সে বাঁশি সদাসর্বদাই বেজে চলেছে, যার শোনার ক্ষমতা আছে সে আজও শুনতে পাবে! দ্যাখোনা বৃন্দাবনের সহস্র সহস্র মানুষের মধ্যে শুধু রাধা সেটা শুনতে পেয়েছিলেন, আর তাছাড়া মাঝে মাঝে বা বিশেষ বিশেষ সময়ে গোপিনীরা শুনতে পেতেন। তাৎপর্যটা বোঝার চেষ্টা করো _সাধক যখন ধ্যানের গভীরতায় ডুব দেন তখন কুলকুন্ডলিনী শক্তি মূলাধার থেকে সহস্রারের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এইসময় প্রাণবায়ু এবং অপাণবায়ু ক্রিয়াশীলতা হারায় এবং সমানবায়ু সুষুম্নায় প্রবেশ করে। তখনই সাধক তার অন্তর্জগতে মৃদু অথচ সুতীক্ষ্ণ প্রনবধ্বনি শুনতে পায়যেটার উৎস সহস্রার(কদমগাছের কৃষ্ণ)! যার সাধন-ভজন করা অভ্যাস নেই সে এসব কথার মর্মোদ্ধার করতে পারবে না_তবে এই পথের পথিক তারা তারা নিশ্চয়ই বুঝবে।
আর গরু চরানোর কথা যা বলছো, বিভিন্ন অবতারকল্প পুরুষের জীবনের সঙ্গে এই কথার সাদৃশ্য পাবে। যেমন যীশু ছোটবেলায় ভেড়া চরাতেন। এরকম ফটোও দেখবে বিভিন্ন গির্জায় বা অনেক স্থানে যে, যীশুর সামনে একপাল ভেড়া, তিনি একটা বাচ্ছা ভেড়াকে আদর করছেন। হজরত মহম্মদও ছোটবেলায় ছাগল বা ভেড়া চরাতেন। যাইহোক, এসব সম্পর্কে বিভিন্ন পণ্ডিতদের বিভিন্ন রকম ব্যাখ্যা রয়েছে। একটা মতে বলে_ছাগল বা ভেড়া মালিকের দ্বারাই সম্পূর্ণরূপে পরিচালিত হয় — সেখানে ছাগল বা ভেড়ার কোন স্বাধীন ইচ্ছা খাটে না। তেমনি এ সব মহাপুরুষদের অনুগামী যাঁরা, তাঁরা শুধুমাত্র ওনাকেই follow করবেন — ওনার কথাই শেষ কথা, সেখানে অন্যদের কোন স্বাধীন ইচ্ছা থাকবে না — ইত্যাদি। তবে এর যদি ঐতিহাসিক বা সামাজিক ব্যাখ্যা করতে চাও, তাহলে দেখবে যে, আজ থেকে দেড় বা দুহাজার বছর আগে অথবা কৃষ্ণের সময় — মানে আরও কয়েক হাজার বছর আগেকার সমাজব্যবস্থায় পশুপালন এবং কৃষিকার্য এদুটোই ছিল সমাজে কর্মসংস্থান, অন্নসংস্থান বা আয়ের উৎস। ফলে যাঁরা তৎকালীন সমাজের আদর্শ মানুষ, তাঁরা এই ব্যাপারগুলিকে মর্যাদা দিয়েছেন — জীবনকে বাদ দিয়ে তো ধর্ম নয়। স্বামী বিবেকানন্দ বলতেন — খালিপেটে ধর্ম হয় না। এইজন্যই দেখবে কৃষ্ণ গরু চরাচ্ছেন, আর হলধারী বলরাম হলকর্ষণ করছেন। এইভাবে প্রাচীন কোন পৌরাণিক বা ঐতিহাসিক ঘটনা থেকে সেই সেই স্থানের বা তৎকালীন যুগের সমাজ-জীবন, অর্থনৈতিক পরিকাঠামো, পরিবেশ-পরিস্থিতি, রাজনৈতিক ব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থা — সবকিছুরই একটা চিত্র পাওয়া যায়। তবে এর জন্য প্রয়োজন হয় ঘটনাগুলির উপর সুগভীর মনন করা। কিন্তু আজকাল আর মানুষের সেসব করার সময় কই! পড়াশুনা করার সময় কতকগুলো Note মুখস্থ করে ঝপাঝপ্ পরীক্ষায় পাশ করছে, তারপর চাকরীর জন্য Competitive পরীক্ষা আর চাকরি একটা পেয়ে গেলেই আয়েশী জীবন — শুধু খবরের কাগজ আর দু-একটা Magazine পড়ে লেকচার দেওয়াএটাই যেন জীবনের মূল উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এছাড়াও বাঁশী বাজানোর সাথে গোপালনের আর একটা দিক আছে। দেখা গেছে সংগীতের প্রভাব শুধু মানুষের উপরেই ক্রিয়াশীল নয়, বৃক্ষলতা-পশুপাখি সকলেরই উপর সুর বা সংগীতের প্রভাব রয়েছে।বিভিন্ন বোটানিক্যাল গার্ডেনে বা ল্যাবরেটরিতে এই নিয়ে রিসার্চ করে সুফল মিলছে। সুরের প্রয়োগে গাছের বৃদ্ধি তাড়াতাড়ি হচ্ছে বা গাছ ফল দিচ্ছে বেশি–ফসল বা ফলের Quality ভাল হচ্ছে, হিংস্র-পশুদেরকেও হিংসা ভুলিয়ে আনতে সাহায্য করছে সংগীত। আর গরুর ক্ষেত্রে তো সংগীতের প্রভাব খুবই কার্যকরী। গাভী দোহন করার সময় সুরেলা সঙ্গীত বাজালে গরু শান্ত হয়ে দুধ দেয়। এছাড়া গরুর শরীর ভালো থাকে এতে। ফলে বিভিন্ন ডেয়ারি ফার্মে এখন সংগীতের প্রচলন খুবই শুরু হয়েছে। প্রাচীনকালের ঋষিরা এসব নিয়ে খুব গবেষণা করেছিলেন। তাঁরা দেখেছিলেন শুধু জীব-জগৎ নয়, সুরের প্রভাবে জড়জগতও প্রভাবান্বিত হয়। তানসেন, কবি জয়দেব বা এরকম আরও কত শিল্পী ছিলেন, যাঁরা ‘মেঘমল্লার’ রাগ গেয়ে বৃষ্টি নামাতে পারতেন। Violin বাজিয়ে আগুন নেভানোর ঘটনা ঘটেছিল একবার ইউরোপে। এদেশেও ‘দীপক’ রাগ গেয়ে আগুন জ্বালানোর ঘটনা ঘটেছে।
যাইহোক, এসব থেকে এটা বোঝা যাচ্ছে যে, সুর বা সংগীতের একটা বিরাট প্রভাব রয়েছে সবকিছুর উপর। অবশ্য যদি তার ঠিক ঠিক প্রয়োগ ঘটানো যায়। মুমূর্ষু রোগীর সামনে জোরে মাইক বাজালে তো আর ভালো কিছু হবে না বরং রোগীটা তৎক্ষণাৎ মারা যাবে। সুতরাং প্রয়োগ বিজ্ঞানটাও জানতে হবে তবেই ভালো কিছু করা যাবে। আমি দু-চারজন সংগীতসিদ্ধকে দেখেছি। এঁরা গান ধরলেই শ্রোতারা মন্ত্রমুগ্ধের ন্যায় হয়ে পড়ে। তুমি যদি সংগীত তেমন ভাল নাও বোঝ তবু তুমি স্থান ত্যাগ করতে পারবে না — যতক্ষণ না সংগীত শেষ হচ্ছে।
একবার স্বামীজীর ঐরকম হয়েছিল এক রাজদরবারে কোন নর্তকীর গান শুনে। আমি এসব চিন্তা করে একেবারে মর্মস্থলে পৌঁছে কি দেখলাম জানো — এই বিশ্ব-সংসার, সূর্য, নক্ষত্র, নীহারিকাপুঞ্জ সবই তো সৃষ্টি হয়েছে সুর থেকে। অনাহত এক সুরের মূর্ছনায় এই বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি। সেই সুরের ধারাতেই যা কিছু দেখছ সবই বিধৃত রয়েছে, প্রলয়কালে যখন এসব কিছু ধ্বংস হয়ে যাবে তখনও এক নির্দিষ্ট তালে — নির্দিষ্ট সুরেই হবে। এই জগৎসংসার সুর ছাড়া তো আর কিছু নয়। কিন্তু সুরসৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গেই সৃষ্টি হয়েছে অ-সুরেরও আর সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়েছে দ্বন্দ্ব। এই দ্বন্দ্ব নিয়েই জগতে সৃষ্টি-স্থিতি আর দ্বন্দ্ব শেষ হচ্ছে প্রলয়কালে, কিন্তু সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে। তাই আবার সৃষ্টি আবার সুরাসুরের সংগ্রাম — এই প্রবাহ চলেছে অনাদিকাল থেকে অনন্তকালের দিকে। দ্রষ্টাবৎ হয়ে যদি এই রহস্য কখনও দেখতে পারো তাহলেই সংসার থেকে রস পাবে — লীলা আস্বাদন হবে। অন্যথায় শুধুই জ্বালা, ‘যথা নিম্বফলম’ — উপরটা একটু একটু মিষ্টিভাব, দাঁতটা ভাল মতন বসিয়েছ তো, কি তেঁতো!
