স্থান ~ বনগ্রাম পরমানন্দ মিশন । সময় ~ ১৯৯২ খ্রীঃ । উপস্থিত ব্যক্তিগণ ~ স্বামী স্বরূপানন্দ, জয়দীপ, পবিত্রপ্রাণা ইত্যাদি ।

জিজ্ঞাসু:– স্বামী বিবেকানন্দের সময়ে ভারতবর্ষ অশিক্ষার অন্ধকারে ছিল বলে তিনি খুবই দুঃখ করতেন এবং চেষ্টাও করেছিলেন যাতে সমাজে শিক্ষার বিস্তার হয়। এখন তাে সে তুলনায় অনেক মানুষ শিক্ষিত, এটা কি একটা গৌরবের ব্যাপার নয় ?

গুরুমহারাজ:—কি শিক্ষা যে তােরা লাভ করছিস তা জানি না বাবা! আমি তােদের মত তথাকথিত লেখাপড়া শিখিনি। আমার পূর্বাশ্রমের তখন যা অবস্থা ছিল তাতে আমাকে পড়াশােনা করানাের ক্ষমতাও অভিভাবকদের ছিল না। স্বরূপানন্দও জানে সেসব কথা। যাইহােক শিক্ষার গৌরব যে করছিস—তা যদি শুধু চাকুরী পাবার জন্য হয় তাহলে অন্য কথা কিন্তু মানবিক গুণসমূহ বিকাশের ক্ষেত্রে তার কি দাম রে ! বিবেকহীন, মনুষ্যত্বহীন মানুষ যদি নিজেকে শিক্ষিত বলে গৌরব করে–তাহলে সেটা লজ্জার কথা নয় কি ! ভাব দেখি আজও তথাকথিত শিক্ষিতরা পণ নিয়ে বিবাহ করে–এটা কি ? এতে আবার তারা লজ্জিত তো হয়ই না বরং বন্ধুদের কাছে গর্ব করে ‘এটা পেয়েছি, ওটা পেয়েছি’ বলে! বেশীর ভাগ সময় অবশ্য আবার কন্যার পিতা-মাতারাও পণ দেবার ব্যাপারে উৎসাহ দেখায়। এই যে মাষ্টারমশাই বসে আছেন– উনিও ছেলের বিয়েতে বেশ কয়েক হাজার টাকা পণ নিয়েছেন। আমি জিজ্ঞাসা করায় কারণ হিসাবে বললেন, ‘মেয়ের বিয়েতে আমিও তো পণ দিয়েছি–তাহলে নেব না কেন?’ এই তো তোদের মত শিক্ষিত ছেলে বা শিক্ষিত ভদ্রলােকেদের মানসিকতা !

বিবাহ ব্যাপারটা তো একটা সামাজিক বন্ধনের অনুষ্ঠানমাত্র। পশুজগৎ, পক্ষী জগৎ ইত্যাদি সমস্ত জগতেই সঙ্গী নির্বাচনের ব্যাপার রয়েছে অর্থাৎ এটা একটা প্রাকৃতিক (Natural) ব্যাপার! মানুষ উন্নত জীব, সমাজবদ্ধ জীব, তাই সে এই সঙ্গী নির্বাচনের ব্যাপারটাকে একটা সামাজিক স্বীকৃতি বা গুরুত্ব দেবার জন্য অনুষ্ঠান করে। পরস্পর পরস্পরের উপর সহযােগিতা, সহমর্মিতা, বিশ্বস্ততা বজায় রাখার জন্য_ অগ্নি সাক্ষী করে অথবা নিজ নিজ ধর্মাচার মাফিক শপথ বাক্য পাঠ করে সংসারজীবনে প্রবেশ করে। এর মধ্যে টাকা-পয়সা, গয়না-গাঁটি, আসবাবপত্র নিতেই হবে অথবা দিতেই হবে এসব ব্যাপার আসছে কোথা থেকে ? আমার এখানেও অনেক শিক্ষিত যুবক ছেলেরা আসে,তারা আমার নানা কথা শুনে হয়তো এঅটু-আধটু উদারমনা হবার চেষ্টাও করে_ কিন্তু দেখেছি বিয়ের আগে পণের টাকাটা গুণে নেয়! আর সেই তােরা আবার শিক্ষিত বলে গর্ব করছিস ! যে কোন সরকারি Office-এ যা, দেখবি সেখানে কর্মরত শিক্ষিত মানুষেরা বেশীরভাগ সময়টাই হয় সিনেমা, নাহয় খেলা অথবা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি অথবা বিশ্ব-পরিস্থিতি নিয়ে আলােচনায় ব্যস্ত যেন Office-এর কাজটা গৌণ । সরকারী কর্মী, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার employee-রা, এমন কি শিক্ষকরা যারা ট্রেনে, বাসে নিত্যযাত্রী হিসাবে যাতায়াত করে_তাদেরও দেখেছি নিত্যদিনের আলোচনার বিষয়বস্তু থাকে ঐগুলিই ! ঐসব আলোচনায় মজা না পেলেআলোচনার বিষয়বস্তু হয়_ কার D.A. কতটা বাড়লো অথবা কখন Arrear-টা পাওয়া যাবে_ এইসব । তাঁদের কাজের ক্ষেত্রটি কি করলে আরও উন্নত হবে অথবা ছাত্ররা কি করলে আরও সুশিক্ষিত হয়ে উঠবে – এই নিয়ে কোনো আলোচনা প্রায় শোনা যায় না ।

  সুতরাং দেখা যাচ্ছে, আজকের বেশীর ভাগ শিক্ষিত ছেলেরাই শিক্ষার প্রয়ােজনীয়তা অনুভব করছে একটা চাকরী পাবার জন্য, আর সেইটা show করে পাত্রীর অভিভাবকের কাছ থেকে একটা মােটা পণ নেবার জন্য। এর ব্যতিক্রম যে নেই তা বলছি না। তবে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই এই কথাটা খাটে। তথাকথিত শিক্ষিত সমাজের এই চিত্র দেখে আমি ব্যথিত হই আবার বিস্মিতও হই!  আমার সবচাইতে খারাপ লাগে যখন দেখি অভিভাবকেরা তাদের ছেলেদের ছােটবেলা থেকেই ঐরকম একটা মানসিকতা তৈরী করেই বড় করছে। ছেলেরা সৎ হােক, সুন্দর হােক, মানুষের মতো মানুষ হােক – এটা চাইছে না। দুটোর জায়গায় পাঁচটা Tutor রেখে, গাদা গাদা বই মুখস্থ করিয়ে ছেলেকে হয় ডাক্তার নয় ইঞ্জিনীয়ার করতে পারাটাই যেন বড় কথা ! পুত্রের প্রতি পিতার এর চেয়ে বড় কর্তব্য যেন আর হয় না ! কত অভিভাবক ছেলের result ভাল করতে বা ভবিষ্যৎ ভাল করতে বাঁকাপথে Question কিনে নেয় বা অন্য কোন অসৎ পথ অবলম্বন করে এবং এর জন্য হয়তো লক্ষ টাকা ব্যয়‌ও করে বসে! তােমরা তাে এখানেই অনেক অভিভাবক আছো, বলোতাে_তােমাদের মধ্যে কজন রয়েছো_ যে তার ছেলেকে  ছোট থেকে শিক্ষা দিয়েছে _ 'তােকে নেতাজী সুভাষের মতাে দেশপ্রেমিক হতে হবে’ বা ‘তােকে বিদ্যাসাগরের ন্যায় বিদ্বান ও দয়ার সাগর হতে হবে' অথবা 'স্বামিজীর মতাে ত্যাগের মূর্ত প্রতীক হয়ে উঠতে হবে।' –একজনও না!       

    অপরপক্ষে ছেলে-মেয়েদের শেখাচ্ছো, 'তােকে ডাক্তার হতে হবে, ইঞ্জিনীয়ার হতে হবে_নিদেনপক্ষে একটা মাষ্টারী জোগাড় করে নিতেই হবে।' এতেই পিতা-মাতার satisfaction !

তাহলে এইতাে গেল তােদের শিক্ষার পরিণতি আর শিক্ষিতদের চিন্তার সর্বাধিক বিকাশের বাস্তব রূপ। কাজেই তােরা শিক্ষা নিয়ে অযথা গর্ব করিস্ না। শিক্ষিত কোন ব্যক্তির যদি সমাজের উন্নতির জন্য_ মানুষের কল্যাণের জন্য কোন contribution না থাকে, যদি সে শুধু নিজের পরিবারের সুখ-সমৃদ্ধির জন্য সদা সচেষ্ট হয় এবং নানাপ্রকার অনৈতিক কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাহলে সে কিসের শিক্ষিত ?

স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন, “Education is the manifestation of perfection already in man.’- মানুষের মধ্যে যে পূর্ণত্ব প্রথম হতেই বিদ্যমান—তারই প্রকাশ-সাধনকে বলে শিক্ষা। অনেক লেখাপড়াশিখেও যদি মানুষের অন্তরচেতনা নিম্নগামী হয়, সে যদি অবিবেকী হয়–অত্যাচারী, অনাচারী বা ব্যভিচারী হয়_ তাহলে জানবি সে যতই academic হােক না কেন, সে educated নয়।

প্রকৃতপক্ষে education বলতে কি বোঝায় তা বলছি! উপনিষদে রয়েছে_ “ওঁ পূর্ণমদঃ পূর্ণমিদং পুর্ণাৎ পূর্ণমুদচ্যতে । / পূর্ণস্য পূর্ণমাদায় পূর্ণমেবাবশিষ্যতে ।।” এর প্রথম কথা দুটির অর্থ হোল– পরব্রহ্ম পূর্ণ এবং নাম-রূপধারী ব্ৰহ্ম(জীব)ও পূর্ণ … এই অর্থে মানুষ পূর্ণই রয়েছে, কিন্তু তার নিজের মধ্যে পূর্ণত্বকে আবিষ্কার করতে শেখাটাই ‘প্রকৃতশিক্ষা’ আর এই কাজে যিনি সাহায্য করেন তিনিই ‘প্রকৃত শিক্ষক’ । এইজন্যই বলা হয়েছে অন্নদান, প্রাণদান অপেক্ষাও জ্ঞানদান শ্রেষ্ঠ। কিন্তু যে অর্থে তুই শিক্ষিত সমাজকে দেখছিস, চেতনার স্তরের উন্নতি দিয়ে বিচার করলে নিরক্ষরদের সঙ্গে ওদের কোন পার্থক্যই চোখে পড়বে না! হয়তাে চাকরিবাকরি করার সুবাদে খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রার মানের পার্থক্য পরিলক্ষিত হবে কিন্তু উন্নত জীবনবোধের কোন পরিচয় সেখানেও মিলবে না। আমি এটাও লক্ষ্য করে দেখেছি—যে দু’চার জন academic ব্যক্তি অন্তঃশ্চেতনার উন্নতি ঘটিয়েছে __সেটা হয় সে উন্নত চিন্তার অধিকারী পিতামাতার কাছ থেকে পেয়েছে অথবা কোন আধ্যাত্মিক ব্যক্তির সংস্পর্শে ও সান্নিধ্যে সেটা লাভ করেছে !

শুধু গতানুগতিক লেখাপড়া শিখলেই বিবেকের জাগরণ বা চেতনার উত্তরণ ঘটে না। কারণ কোন academic শিক্ষাই মানুষের মানবিক গুণসমূহ অর্থাৎ দয়া, করুণা, ভক্তি, শ্রদ্ধা, বিশ্বাস, ভালােবাসা, ধৈর্য, সংযম ইত্যাদির বিকাশ-সাধন করতে পারে না। আর এই গুণগুলি কোন মানুষের মধ্যে না জাগা পর্যন্ত সে কি করে “মানুষ” পদবাচ্য হতে পারে। এই ভাবে এক গাদা ডিগ্রী লাভ করা অবিবেকী মানুষ যেন এক গা গহনাপরা উলঙ্গ নারীর ন্যায়, আভরণ আছে কিন্তু আবরণ নাই। সুতরাং কোন ব্যক্তির অনেক ডিগ্রী বা গুণ থাকা সত্ত্বেও তার চরিত্র যদি ঠিক না থাকে তাহলে সমস্তই বৃথা ! তােমরা যারা এখানে আছো_ তারা মানুষকে এই শিক্ষাই দাও যে, তারা যেন প্রথমে মানুষ হতে চেষ্টা করে,এর সাথে তারা academic ডিগ্রী লাভ করুক। তাতে আর কোন অসুবিধাই হবে না বরং তখন সে প্রকৃত শিক্ষা লাভ করতে পারবে। আর এরূপ সুশিক্ষিত মানুষই সমাজের জন্য কিছু করে রায়! এঁরাই কালের বুকে দাগ কাটতে পারেন ! এঁরাই রামমােহন, বিদ্যাসাগরের মতো মহামানব হয়ে উঠতে পারেন ৷ ব্যাপারটা ধরতে পারলে!!

তোমরা যারা পিতা হয়েছ, তােমাদের ছেলেমেয়েদের এই আদর্শে বড় করো। দেখবে_ তারা কখনোই তোমাদের কাছে দুঃখের কারণ হবে না , বৃদ্ধাবস্থায় তোমাদের বোঝা ভেবে বৃদ্ধাশ্রমে দেবে না, আবার কখনোই এরা নিজেরা সমাজের কাছেও বোঝা হবে না । বরং সমাজ এদেরকে পেয়ে আরও সভ্যতার দিকে, উন্নতির দিকে এগিয়ে যাবে ৷এরা এক একজন মানবসমাজের ‘গৌরব’ হয়ে উঠবে!

জিজ্ঞাসু :— ২/৩ পুরুষ আগের লোকেরা তো এখনকার মতোই খাদ্য খেতো, তাহলে তাদের যে সুন্দর শরীর-স্বাস্থ্য ছিল এখন তা হচ্ছে না কেন?

গুরুমহারাজ :— খাদ্যের খাদ্যগুণ অনেকাংশে নষ্ট হয়ে গেছে বলেই এই অবস্থা! ভারতবর্ষে অতিরিক্ত জনসংখ্যার জন্য সবার মুখে খাবার তুলে দিতে গিয়ে সরকারিভাবে সবুজ বিপ্লব ঘটাতে হয়েছে। ফলে উন্নত উচ্চফলনশীল সংকরজাতীয় শস্যবীজসমূহ আমদানি বা সৃষ্টি করতে হয়েছে ! সংকরায়ন করা মানেই এদের অভ্যন্তরস্থ জেনেটিক ফ্যাক্টরের বা জিনবিন্যাসের পরিবর্তন ঘটাতে হচ্ছে। আর কৃত্রিম উপায়ে বিন্যস্ত জিনসম্বলিত খাদ্যগ্রহনের ফলে মানুষের শরীরের অভ্যন্তরীণ system-গুলিকেও ধন্দে ফেলে দিচ্ছে! উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া পুরোনো system-এর শরীরের সঙ্গে _নতুন system-এর খাদ্যের মধ্যেচলছে এক সাংঘাতিক আভ্যন্তরীণ লড়াই! এর ফলেই শরীরের immunity powerকমে যাচ্ছে মানুষের।

  আর দ্বিতীয় factor-টা হল খাদ্যশস্যে রাসায়নিক সার এবং বিষপ্রয়োগ। উচ্চফলনশীল শস্যসমূহের ফলন বেশি, আরো বেশি করতে গিয়ে প্রচুর পরিমাণে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ঔষধ প্রয়োগ করা হচ্ছে বর্তমানে, আগে যা একদমই ছিল না। এগুলি বিভিন্নভাবে খাদ্যশস্যের অভ্যন্তরে থেকে যাচ্ছে এবং মানবশরীরে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করছে! তাছাড়া এইগুলি(সায়নিক সার ও কীটনাশক )শুধু মানবশরীরকেই নয়, কীট-পতঙ্গ, পশু-পাখি ইত্যাদি অনেক কিছুকেই হয় মেরে ফেলছে নয় এদের মারাত্মক ক্ষতিসাধন করছে। দূষিত হচ্ছে জল, মাটি ও বায়ুমণ্ডল। জীবজগতের Echo-system-এ একটা crisis দেখা দিচ্ছে। আর এর ফলে দেখছো তো__ প্রাকৃতিক বিপর্যয়সমূহ কেমন হঠাৎ হঠাৎ আছড়ে পড়ছে মানবসমাজের বুকে! প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করলে মহাপ্রকৃতির reaction-টাও তো সহ্য করতে হবে মনুষ্যসমাজকেই। এই reaction-এ অন্যান্য জীবের মতো হাজার হাজার মানুষও মারা যাচ্ছে।

 কিন্তু মনুষ্যেতর অন্যান্য জীবের একটা সুবিধা কি, যেহেতু তারা চিন্তাশীল বা বিচারশীল নয় তাই পরবর্তী Natural Calamities-এ চিন্তিত বা উদ্বিগ্নও নয়! আর মানুষের ক্ষেত্রে দ্যাখো_ দুর্ভাবনা-দুশ্চিন্তার অন্ত নেই! শহরাঞ্চলের বেশিরভাগ শিক্ষিত মানুষই নানান চিন্তায় এখন tension-জনিত বিভিন্ন রোগে ভোগে। সুতরাং এবার বলোতো — মানুষের সুস্বাস্থ্য এখন কি করে থাকবে? সুস্বাস্থ্যের প্রথম শর্ত — সুখাদ্য গ্রহণ, দ্বিতীয় শর্ত হল — মানসিক শান্তি। বর্তমানে এ দুটোই তো নেই_ তাহলে সুস্বাস্থ্য পাবে কোথায়! যতদিন যাচ্ছে ততই দেখছি মানুষ অল্প বয়সেই যেন চিন্তায়-ভাবনায় tension-এ বৃদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। চারিদিকে সমস্যা — পারিবারিক সমস্যা, সামাজিক সমস্যা, রাজনৈতিক সমস্যা, অর্থনৈতিক সমস্যা — কোথাও তো কোন সুশৃঙ্খলা নেই — সুরাহা নেই ! ফলে মানুষ এমনিতেই সমস্যা-জর্জরিত, তার উপর খাদ্য-পানীয় এমন কি নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের বাতাসটুকুও বিষাক্ত হয়ে পড়েছে। এরপর প্রকৃতির রোষানলে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প, বন্যা ইত্যাদি তো আছেই। এসব ছাড়াও রয়েছে রাষ্ট্রবিপ্লব, যুদ্ধ, বিশ্বযুদ্ধ! তাহলে এত সমস্যা নিয়ে, এত tension নিয়ে বুদ্ধিমান শিক্ষিত লোকগুলো যে এখনও বেঁচে আছে এটাই তাদের বাহাদুরি!

 প্রথম বা দ্বিতীয় বিশ্বের দেশগুলো তাদের নাগরিকদের সুস্বাস্থ্য রক্ষার উপর যথেষ্ট নজর রাখে। ওখানকার মানুষও প্রচণ্ড স্বাস্থ্য-সচেতন। প্রায় প্রত্যেকেই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করায়, এ ব্যাপারে সরকারী সহযোগিতাও পায়। ভারতবর্ষের সাধারণ মানুষ একে দরিদ্র, তায় আবার সরকারেরও সেরকম সর্বাত্মক কোন প্রয়াস নেই_ফলে সাধারণ মানুষ নিয়মিত স্বাস্থ্য-পরীক্ষা করানোর স্বপ্ন দেখে, বাস্তবে যা বহুদূর! ভারতবর্ষের প্রধান সমস্যা জনসংখ্যা, আর এটা যেভাবে হু-হু করে বাড়ছে সেক্ষেত্রে সরকারের পক্ষে প্রতিটি জনগণের স্বাস্থ্য-পরীক্ষা করাটাও দুরূহ ব্যাপার। যাইহোক, সমস্ত রকম সমস্যা থেকে যখন ভারতবর্ষ মুক্ত হবে তখন নিশ্চয়ই প্রতিটি নাগরিকের দিকে সরকার নজর রাখতে পারবে। তবে দ্যাখো, "Prevention is better than cure." সুতরাং 'প্রথমে প্রকৃতিকে দূষণ করে তারপর তার প্রভাব থেকে মানুষকে চিকিৎসা করে রোগমুক্ত করা'-র চেয়ে 'প্রকৃতি যাতে কোনমতেই দূষিত না হয়'- তার চেষ্টা করাটাই তো বুদ্ধিমানের কাজ। সহজ দূষণমুক্ত প্রকৃতিতে মানুষও স্বাভাবিকভাবে, সহজভাবে বেঁচে থাকতে পারবে।