জিজ্ঞাসু:– আপনি ঠিকই বলেছেন গুরুজী! বর্তমানে মানুষের ‘চরিত্র’ বলে আর কিছু নাই!
গুরু মহারাজ:— আমাদের আলোচনা চলছিল বোধের জগৎ-এর, সেখান থেকে তুমি আবার আলোচনাটাকে কোথায়
নিয়ে এসে ফেললে_ বাবা ! তুমি চরিত্র বা character নিয়ে কথা বলছো তো !! কিন্তু character বলতে তুমি কি বোঝো? তুমি কি character-এর সংজ্ঞা দিতে পারবে? পারবে না! এটা ঠিকই যে, ঠিক ঠিক চরিত্রের সংজ্ঞা দেওয়াও মুশকিল! সাধারনভাবে মানুষ কিভাবে বিশ্লেষণ করে বলোতো_ যেমন ধরো, কোনো নারীর যদি বিবাহের পূর্বে chastity নষ্ট হয়ে যায় অথবা বিবাহের পর স্বামী ভিন্ন অন্য পুরুষের সাথে মেলামেশা করে তাহলে ভারতীয় সমাজের মানুষ বলে মেয়েটি “loose character” বা নষ্ট চরিত্রের মহিলা! পুরুষের ক্ষেত্রে যদি পুরুষটি বহুগামী হয় বা নানারকম নেশা-ভাঙের অভ্যাস থাকে __তাহলেও তাকে “চরিত্রহীন” আখ্যা দেয়া হয়! কিন্তু প্রকৃতপক্ষে “চরিত্র”-এর বিচার এতটা স্থূল অর্থে করা উচিত নয়!
বিবেকবান এবং শ্রদ্ধাবান ব্যক্তিগণই চরিত্রবান ব্যক্তি! আর এর বাইরে যারাই রয়েছে_ তারা সবাই চরিত্রহীন ! এটাই চরিত্রবান এবং চরিত্রহীন-এর সঠিক সংজ্ঞা হওয়া উচিৎ!
নর-নারীর মেলামেশা বিচার করে বা কারো নেশা-ভাঙ করা দিয়ে কখনো চরিত্র বিচার করা যায় না ! অবশ্য তুমি এটা বলতেই পারো যে, বিবেকহীন এবং শ্রদ্ধাহীনদের দ্বারাই বহুগামিতা বা নেশা-ভাঙ করার প্রবণতা বেশি হয়ে থাকে! কিন্তু এই দিয়ে চরিত্রবান অথবা চরিত্রহীণের বিচার করতে গেলে ভুল হয়ে যাবে! দ্যাখো_ সামাজিক মানুষ কাকে কি মর্যাদা দিল বা মূল্য দিল__ এটা বড় কথা নয়! অনেক অনৈতিক-অবিবেকী ব্যক্তিরাও সমাজের উঁচু উঁচু পদ দখল করে বসে আছে! সামাজিক মানুষ তাদেরকেই নেতা বানায়, তাদেরকে আদর্শ বলে মনে করে, তাদেরকেই ভজন-পূজন করে!
এমনও দেখা যায়_ শুধু যশ-প্রতিপত্তি বা অর্থের জন্য বর্তমানের পিতা-মাতারা ছেলেমেয়েদেরকে ছোটবেলা থেকেই ওই রকমই(অবিবেকী, অনৈতিক অথচ অর্থে, প্রতিপত্তিতে, শক্তিতে সমৃদ্ধ) হোতে শেখায়__ "বড় ডাক্তার হবি", "বড় নেতা হবি", "বড় ব্যবসাদার হবি"! আর এতেই সমাজের সর্বনাশটা হয়ে চলেছে। বড় হয়ে চরিত্রবান হতে, শ্রদ্ধাবান হতে বা নীতি পরায়ণ-সত্যবাদী হতে কজন পিতামাতা তার সন্তানকে শেখায় বলো? যদিও কেউ কেউ শেখায়__ তাহলে জানবে তাদের সংখ্যা খুবই কম! কিন্তু এটা জেনে রাখবে যে, অনৈতিক-অবিবেকী মানুষদের জীবনে কিন্তু কখনোই আনন্দ বা শান্তি থাকে না।
অথচ দ্যাখো, জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতসারে আমরা সবাই তো সেই শাশ্বত আনন্দ এবং শান্তি-রূপ পরশপাথরই খুঁজছি_আর যা প্রত্যেককে পেতেই হবে ! তাই কে কত তাড়াতাড়ি সেই লক্ষ্যে উপনীত হতে পারবে এই দিয়েই মানুষকে বিচার করতে হয়, কাদের আচরিত কর্ম কতটা ঠিক_ আর কতটা ভুল__সেইটা দিয়ে নয়! মানুষ নিজের নিজের স্বভাব এবং সংস্কার অনুযায়ী কর্মসকল করে থাকে। জ্ঞানী বা আধ্যাত্মিক ব্যক্তিরাই সঠিক কর্ম করতে পারেন। তাঁরা ছাড়া সঠিক টা বুঝবেই বা কে? কারণ একমাত্র জ্ঞানীরাই জানেন যে সমাজের চোখে কোনো চরিত্রহীন ব্যক্তিও সুযোগ পেলে চরম আধ্যাত্মিক উন্নতি লাভ করতে পারে! যেমনটা ঘটেছিল_ বিল্বমঙ্গল এর ক্ষেত্রে! অবশ্যই এইরকম অনেক উদাহরণ রয়েছে।
অপরপক্ষে সমাজের চোখে গুনী মানুষ, খ্যাতি সম্পন্ন মানুষ বলে বিবেচিত কোনো ব্যক্তি_জ্ঞানীর চোখে বা আধ্যাত্মিক দৃষ্টিতে দেখলে দেখা যাবে হয়তো এ ব্যক্তি খুবই নিচু স্তরে রয়েছে! কারণ তারমধ্যে এখন বিষয়-বাসনা-মোহ-মোহ দূরীভূত হয়নি এবং আত্মজ্ঞান লাভের জন্য কোন প্রচেষ্টা তৈরি হয়নি। তারমধ্যে শ্রদ্ধা-ভালোবাসা-প্রেম ইত্যাদি মানবিক গুণাবলির বিকাশ ঘটেনি!
এইজন্যই ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ বলতেন_ "লোক না পোক"! এই কথার অর্থ করলে দাঁড়াবে বেশিরভাগ মানুষই যেন কীটের ন্যায় কিলবিল করছে! তাই সাধারণ মানুষের বিচারের খুব একটা তেমন দাম নাই। সেইজন্যই কোনো দৃঢ়চেতা আধ্যাত্মিক মানুষ সমাজের আর পাঁচজন মানুষ কি বললো বা তাকে নিয়ে কি ভাবলো__ এই নিয়ে কোনো তোয়াক্কা করে না! তাঁর সামনে যে নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকে, তিনি সেই লক্ষ্যে অবিচল থেকে সামনের দিকে এগিয়ে যান এবং অভীষ্ট পূরণ করেন।
জিজ্ঞাসু:—আজকাল দেখছি লোকে পুজাপাঠের পিছনে,সাধুসন্তদের পিছনে অযথা অর্থব্যয় করছে_এসব না করে গরীব মানুষদের উন্নতিতে অর্থ ব্যয় করা উচিত নয় কি?
গুরু মহারাজ:---- Theory হিসাবে তোমার এই কথাগুলো শুনতে বেশ ভালোই লাগছে, কিন্তু তুমি যদি তোমার নিজের জীবনে এই কথাগুলিকে practical করতে পারো, তাহলে তা আরো ভালো হবে ! কিন্তু আমার মনে হয়, তুমি এখানে এসে 'কিছু কথা বলার জন্য' এই কথাগুলো বলছো ! সত্যি করে বলোতো _তুমি নিজে গরীব মানুষদের উন্নতি করার জন্য কতটা চেষ্টা করো ? শুধু অলসভাবে বসে বসে এটা-ওটা চিন্তা করে লাভই বা কি ? অবশ্য এটা বলা যায় যে, আজেবাজে চিন্তা করা অপেক্ষা ভালো কিছু ভাবা ভালোই ! কিন্তু অযথা চিন্তা করে বৃথা সময় ব্যয় করে যাওয়াটাও কোনো কাজের কথা নয় ! মানুষের ভালো করার জন্য _কিছু না কিছু কাজে নেমে পড়ো দেখি ! আমাদের বনগ্রাম আশ্রমে সেবামূলক কাজই হয়। মানব কল্যাণে ব্রতী হয়ে অনেক ত্যাগী ছেলে ওখানে তাদের জীবন পাত কোরে কাজ
করে চলেছে। তুমি একবার বনগ্রাম আশ্রমে চলে যাবে, সেখানে গিয়ে দেখে আসবে, মানুষের সর্বাঙ্গীণ কল্যাণের জন্য কত রকম ভাবে কাজ হয়ে চলেছে। তোমার মত যুবকেরা এসব দেখে উৎসাহ পাবে এবং তারাও তাদের নিজ নিজ এলাকায় মানুষের জন্য কিছু কিছু সেবামূলক কাজ করতে পারবে _এইসব কারনেই তো আশ্রমগুলি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে !
তবে জেনে রাখবে_ কারো কল্যাণ করতে গেলে যে তার কল্যাণ হবেই, এমনটা ভাবার কোনো কারণ নাই । আর সকলেই যে মানুষের কল্যাণ করতে পারবে_ তাও কিন্তু নয় ! মানবের ক্ষেত্রে প্রকৃত কল্যাণ বলতে বোঝায় তার মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটানো ! আর এটি তিনিই করতে পারেন যিনি অধ্যাত্মবিজ্ঞানী অর্থাৎ যিনি নিজে আধ্যাত্মিক জগতের রহস্যের চাবিকাঠি পেয়ে গেছেন ! তাই তিনি অন্যদেরকেও আধ্যাত্মিক উন্নতি ঘটাতে পারেন। স্বামী বিবেকানন্দও এই ধরনের কথাই বলেছিলেন যে, মানুষের প্রকৃত কল্যাণ হচ্ছে তার আধ্যাত্মিক উন্নতি করা !
বর্তমানে ভারতবর্ষে, প্রচণ্ড অলস ব্যক্তি এবং পরিবার থেকে বহিষ্কৃত বৃদ্ধ-অসুস্থ ইত্যাদি লোকেরা ছাড়া দুবেলা দুমুঠো খেতে পায়না এমন অবস্থায় প্রায় কেউই আর নেই । স্থানীয় ভাবে কোথাও হয়তো কল-কারখানা বন্ধ হয়ে মানুষ খুব সংকটে পড়েছে কিংবা চা বাগান অথবা তাদের কর্মক্ষেত্রের কোন গন্ডগোলের জন্য কর্মসংস্থান নেই বলে অভাব সৃষ্টি হয়েছে__ এইগুলোকে বাদ দিলে ভারতবর্ষের সব মানুষেরই খাদ্যের সংস্থান বা ব্যবস্থা রয়েছে!
বর্তমানে (1991 সালে) রাশিয়ায় নিদারুণ খাদ্য সংকট চলছে! আমি মস্কোয় দেখেছি রুটির দোকানে, রেশন-শপে দীর্ঘ লাইন ! চীনে এখন সাইকেল-বিপ্লব করার চেষ্টা চলছে অর্থাৎ বাড়ি পিছু একটা করে সাইকেল যেন থাকে_সেই চেষ্টা চলছে! সেই বিচারে ভারতবর্ষে মানুষের খাদ্য সংকট নেই এবং মোটামুটি একটা economic standard-এ বেশিরভাগ মানুষই পৌঁছে গেছে, এবং দেখবে ভবিষ্যতে ভারতবর্ষের মানুষের economic standard- আরো বাড়বে !
জানবে, মহাপ্রকৃতির' ইচ্ছাতেই কোনো দেশের সর্বাঙ্গীন উত্থান বা পতন হয় ! এইজন্য জ্ঞানীরা বা যোগীরা অকারণ চিন্তা করেন না বা দুঃখ করেন না ! তাঁরা হয় এসব ব্যাপারে চুপচাপ থাকেন অথবা যখন যেখানে থাকেন__ সেখানকার মানুষের দুঃখ মোচনের জন্য কাজে লেগে পড়েন! এটাই proper action ! একজন মহাপুরুষ যখনই সমাজে জন-কল্যানমূলক কোনো কাজ করেন_ তাঁকে আদর্শ কোরে উত্তরসূরীরা সেই কাজটিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান। এই ভাবেই সমাজসেবামূলক কাজ বা মানবকল্যাণমূলক কাজের ধারাটি অব্যাহত থাকে।
তবে দ্যাখো, ভারতবর্ষের সঙ্গে অন্যান্য দেশের উন্নতির তুলনা করতে যেও না ! সেটা করতে গেলে চরম বোকামী হয়ে যাবে। কারণ বহু প্রাচীনকাল থেকেই ভারতবর্ষের যারা উন্নত মানুষ অর্থাৎ যোগী-ঋষি-মহাপুরুষ ইত্যাদিরা কখনোই ভারতের materialistic উন্নতির ব্যাপারে কোনো আগ্রহ প্রদর্শন করেননি। তাঁরা সবসময় চেয়েছেন এখানকার মানুষের আত্মিক উন্নতি করতে ! অপরপক্ষে বিশ্বের অন্যান্য দেশ শুধুমাত্র স্থূল উন্নতির জন্যই মাথা কোটা-কুটি করেছে, আজও করছে ! সমগ্র পৃথিবী জুড়ে যত হিংসা, যুদ্ধ রক্তের প্লাবন, ধ্বংস_সে সব শুধু তো এই জন্যই ! গভীরভাবে চিন্তা করে দেখবে __তাহলে আমার কথার সত্যতা অনুভব করতে পারবে ! এটা জেনে রাখবে যে, অতিরিক্ত materialistic উন্নতির অবশ্যম্ভাবী ফল _সেই উন্নতির ধ্বংস ! পৃথিবীতে এর আগে বহুবার এই ধরনের উন্নতি এসেছিল, প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটিয়ে একাধিক নগর সভ্যতাও গড়ে উঠেছিল। কিন্তু অতিরিক্ত materialistic উন্নতি __সেই সভ্যতাগুলির ধ্বংসের কারণ হয়েছিল ! সেইসব ইতিহাস বর্তমানে বিভিন্ন দেশে লোকগাথা, পুরাণকথা, মহাকাব্য ইত্যাদিতে শুধু গল্পকথা হয়ে বেঁচে আছে।
জানো, মানুষ যেদিন বুঝতে পারবে যে struggle for existence কথাটি মনুষ্যেতর প্রাণীদের জন্য_ মানুষের জন্য struggle for wisdom _ সেদিন আর এই পৃথিবীতে হিংসা থাকবে না ! তখন শুধু প্রেম, প্রেম আর প্রেম রাজত্ব করবে এক শান্তিময় পৃথিবীতে ! In search of peace-- যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, সেটা লাভ করতে হলে চাই প্রজ্ঞা বা wisdom ! এইটাই একমাত্র পথ জেনে রাখবে ! তাই, এখানে যারা রয়েছো_ তোমাদের সকলকে বলছি, শুধু theorytical নয়, practical হও __দেখবে তোমাদের জীবনে আনন্দ এবং শান্তি বিরাজ করবে, তোমার জীবনে আধ্যাত্মিক উন্নতি ঘটবে। আর নিজে আধ্যাত্মিকভাবে উন্নত হোলে, তখনই তুমি অপরের উন্নতিসাধন করতে পারবে । তখন তোমার দ্বারা যে শুধু গরিবদের উন্নতি হবে _তা নয়, সমগ্র সমাজের তথা সমগ্র বিশ্বের উন্নতি সাধন হবে।
জিজ্ঞাসু:---ভারতবর্ষে প্রাচীনকাল থেকে এত জ্ঞানী, যোগী থাকা সত্ত্বেও ভারতবর্ষকে বহুদিন ধরে বিদেশীদের কাছে লাঞ্ছিত হতে হোল কেন অথবা পদানত হয়েই বা থাকতে হোল কেন?
গুরু মহারাজ:----এটা হয়েছিল ক্ষাত্রশক্তির দূর্বলতার কারণে। বৌদ্ধ এবং জৈনরা যখন তাদের মূলধারা থেকে সরে এসেছিল, তখন ভারতবর্ষের সমাজে রজঃ প্রভাব কমে গিয়েছিল এবং তার ফলেই ক্ষাত্রশক্তির দুর্বলতা নেমে এসেছিল সমাজে। কোনো শরীরে বাহু দুটি না থাকলে যেমন মস্তিষ্ক তার আঘাত থেকে বাঁচতে পেটের ভিতরে মাথাটা সেঁদিয়ে দিয়ে তাকে রক্ষা করে_ (কাছিমও তার মাথাটি আঘাত থেকে বাঁচাতে তার শরীরের শক্ত খোলের মধ্যে ঢুকিয়ে নেয়) ঠিক তেমন-ই ব্রাহ্মণ্যশক্তিও নিজেকে গিরি-গুহা-অরণ্যের ভেতর ঢুকিয়ে নিয়েছিল। ভারতীয় সমাজ ব্যবস্থার পিঠটা
থাকলো উপরে, ফলে তারা অর্থাৎ পরাজিত অবশিষ্ট দূর্বল ক্ষত্রিয়শ্রেনী এবং বৈশ্যকুল বিদেশীদের হাতে ‘মার’-টা খেলো। ভারতবর্ষের শুদ্রশক্তি আর ব্রাহ্মন্যশক্তি খুব একটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি ! তারা ঠিকই আছে। আবার ভারতীয় সমাজে ক্ষাত্রশক্তির প্রকাশ ঘটলেই ধীরে ধীরে ব্রাহ্মণ্যশক্তির আত্মপ্রকাশ ঘটবে। তৎকালীন ভারতবর্ষের জৈন এবং বৌদ্ধ প্রভাবে প্রভাবান্বিত রাজারা যখন নিজেরা ওইসব ধর্মমত গ্রহণ করেছিল_ তখন প্রজারাও রাজার ধর্ম গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছিল। রাজার ধর্ম গ্রহণ না করা মানেই তখনকার দিনে শাস্তি ছিল মৃত্যু ! কিন্তু সমস্যাটা হোল এই যে, কোনো রাজা, জৈন বা বৌদ্ধ ধর্মমত গ্রহণ করল বটে কিন্তু ঠিক ঠিক ভগবান বুদ্ধের আদর্শ বা মহাবীর জৈনের আদর্শ গ্রহণ করতে পারলো না। মহাবীরের থেকেও বুদ্ধের প্রভাব সম্রাট অশোকের পর থেকে ভারতবর্ষের অনেক রাজার মধ্যে পড়েছিল। ভগবান বুদ্ধকে বুঝতে না পেরে শূধুমাত্র অহিংস আচরণ করতে গিয়ে নির্বোধ রাজারা দেশের চরম সর্বনাশ ডেকে এনেছিল।
মায়ের লাঞ্ছনা__ সন্তানেরা ধর্মের দোহাই দিয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে__ এতটা নির্বুদ্ধিতা ভারতের ঋষিকুল কখনো কি শিখিয়েছিল? বুদ্ধের শিক্ষায়_ আত্মসম্মান হারানোর কথা, কাপুরুষতার কথা তো কোথাও নেই ! কিন্তু আজ থেকে হাজার/বারোশো বছর আগে ভারতবর্ষে এটাই ঘটেছিল । ধার্মিকতার ভান দেখাতে গিয়ে বার বার বিদেশিদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিল ভারত ! লুটতরাজ, খুনখারাপি, অত্যাচারের চরম প্রয়োগ ঘটিয়েছে বিদেশীরা ! তাতেও ভারতবর্ষের রাজাদের শিক্ষা হয়নি।
অবশেষে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের প্রেরণা নিয়ে স্বামী বিবেকানন্দ আত্মপ্রকাশ করলেন ! তিনি এসে যেন এক ধাক্কায় জাগিয়ে দিলেন ঘুমিয়ে যাওয়া ভারতবর্ষকে ! উনি চেষ্টা করলেন সমগ্র ভারত যেন প্রথমে ক্ষাত্রশক্তিতে ভরপুর হয়ে ওঠে ! কারণ মহাপুরুষেরা জানেন_ ক্ষাত্রশক্তি জাগলেই গিরিগুহা থেকে অর্থাৎ যেমন করে কাছিম_বিপদ কেটে গেলে তার বুক-পেটের ভিতর থেকে মাথা বের করে_ঠিক সেইরূপ ব্রাহ্মণ্য শক্তি পুনরায় স্বমহিমায় আত্মপ্রকাশ করবে।
তাঁর (স্বামীজীর) সেই প্রচেষ্টার কাজ হয়েছে ! এটা আমি দেখতে পাচ্ছি, স্বামী বিবেকানন্দের আরব্ধ কাজ খুব দ্রুত সম্পন্ন হচ্ছে! দেখবে_ খুব শীঘ্রই ভারতবর্ষ আবার পৃথিবীর সমস্ত দেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠ স্থান দখল করবে ! (ক্রমশঃ)
