( পূর্বের প্রকাশিতের পর)

পরমেশ্বর পরমানন্দ আমাদের গুরুজী – তাঁর কুটিরের দক্ষিণ দিকে বারান্দার ইজি চেয়ারে বসে , তাঁর বেশ কয়েক বছররের হিমালয় ভ্রমণের (বাল্য লীলা ) কথা বলছেন আর আমরা কয়েকজন ভাগ্যবান শোতা সেই বাল্যলীলা শুনে , দিব্য আনন্দ উপভোগ করছি !

কৈলাস পরিক্রমা শেষ করে কৈলাসনাথ শিবকে প্রণাম করে ভারতে ফেরার জন্য চলতে শুরু করলাম।

ভুল পথ ধরে হাঁটাতে – আমরা ভারত চীন বর্ডারের চিনা সৈন্যদের হাতে ধরা পড়লাম। চীনা সেনারা চীন সীমান্ত অতিক্রম করে আমাদের ভারতে প্রবেশ করতে দিল না।

বলল চীন সীমা অতিক্রম করলে আমরা গুলি করতে বাধ্য থাকব।আমাদের বলল ভিসা-পাসপোর্ট দেখাও মাহাত্মজী বললেন – “আমরা কৈলাস দর্শনের জন্য এসেছিলাম আমরা নাঙ্গা সাধু , হিমালয়ের জঙ্গলে থাকি । আমরা সর্বদা চলতে থাকি ,আমাদের কোনো স্থায়ী ঠিকানা নেই । আমাদের ভিসা-পাসপোর্ট কেমন করে হবে। আমাদের আধ্যাত্বিক রাজ্যে দেশকালের কোন সীমা নেই ” ।

অবশেষে চিনা অফিসারটি মহাত্মাজীর কথা শুনে আমাদের বসতে বলল এবং খাবার খাওয়ার জন্য বলল।
নাঙ্গা সাধু দুইজন কিছু খেলো না। বেশ কয়েকদিন খাবার না খাওয়া হওয়াই –খাবার দেখে আমার খুবই খিদে পাচ্ছিল ! আমি চীনা সৈন্যদের দেয়া খাবার এবং মগে করে এক মগ চা খেলাম।

খাওয়ার খাবার পরে কিছুক্ষণ ভালো লাগছিল কিন্তু পরে শরীর অস্বস্তি বোধ করছিল এবং বেশ কষ্ট হচ্ছিল। আসলে অনেকদিন পরে খাবার খাওয়ায় শরীরে কষ্টের সৃষ্টি হয়েছিল। মহাত্মজী ঝোলা থেকে একটি গাছের শিকড় দিয়ে খেয়ে নেওয়ার জন্য বললেন খাবার কিছু পরে আমার শরীরের অস্বস্তি কমে গেল ।

চীনা অফিসারটি মহাত্মাজী কে বললেন – আপনারা এদিকে বর্ডার পেরিয়ে গেলে —এখবর উপরের অফিসারদের কাছে চলে যাবে। তখন আমাদের পানিশমেন্ট হবে। আপনারা তিব্বতের মধ্যে অন্য রাস্তা দিয়ে যান !

মহাত্মাজীর এবার হিমালয়ের গভীর জঙ্গলে প্রবেশ করে চলতে শুরু করলেন , উনাকে অনুসরণ করে আরেক নাঙ্গা সাধু এবং আমি চলতে শুরু করলাম ।

চলতে চলতে হিমালয় পর্বতের এত উচ্চতায় উঠলাম যে চারিদিকে বরফ ছাড়া আর কিছু নাই । এত উচ্চতায় চীনা সৈন্যরা পর্যন্ত এখানে নেই আন্দাজে এইভাবে পথ চলতে গিয়ে আমরা কারাকোরাম পর্বতমালা হয়ে হিন্দুকুশ পর্বতমালা প্রবেশ করলাম। বিরামহীন বহু কষ্টের মধ্যে দিয়ে চলা জানিনা মা মহামায়া কি ইচ্ছা । তিনি যেমন নিয়ে যাচ্ছেন সে রকম ই যাচ্ছি। এরপর আফগানিস্তান হয় মরুভূমি পার হয়ে মাসের-পর-মাস চলতে চলতে ইরাক হয়ে ইরানের বসরা বন্দরে পৌছালাম ।

এর পর ফেরার সময় পাহাড় জঙ্গল দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে ভুল করে পাকিস্তানি বর্ডারে ঢুকে পড়ায় পাকিস্তানি সেনাদের হাতে ধরা পড়লাম । মহাত্মজী অনেক বুঝালেন কিন্তু কোন কথায় কর্ণপাত না করে , ভারতীয় গুপ্তচর ভেবে নিয়ে পাকিস্তানি সেনারা– আমাদের পাকিস্তানের জেলে ভরে দিল ।

গুপ্তচর ভেবে আমাদের উপরে খুবই টর্চারিং হল দিনের পর দিন । অবশেষে হায়দ্রাবাদের জেল সুপার , মহাত্মাজীর সাথে কথা বলে, সব বুঝতে পেরে তিন সপ্তাহ পরে– জেল থেকে মুক্ত করে দিলেন।

তারপর গভীর জঙ্গল দিয়ে চলার সময় এক প্রেমিক সুফি সাথে দেখা হলো ।তার সাথে ঈশ্বরীয় প্রসঙ্গ হল , এই প্রেমী সুফি সাধক আমাদের রাতে রাতে জঙ্গলের ভিতর দিয়ে চলে পাকিস্তান বর্ডার পার করে দিয়ে আমাদের কাছে বিদায় নিল । আমরা ভারতের পাঞ্জাবের গুরুদাসপুরে প্রবেশ করলাম । এখন থেকে আমরা চলতে চলতে অমৃতসর মন্দিরে প্রবেশ করলাম ! এখানকার মন্দির কর্তৃপক্ষের অনুরোধে স্বর্ণ মন্দিরের অতিথি শালায় দুদিন বিশ্রাম নিলাম ।

দুদিন বিশ্রাম নিবার পড় আমরা আবার পাহাড় জঙ্গল নদী পেড়িয়ে হাঁটতে লাগলাম । বেশ কয়েকদিন হাঁটার পর লেংটারা আমাকে যে স্থান থেকে মানস সরোবর কৈলাস দর্শনের জন্য নিয়ে গিয়েছিলেন , সেইখানেই নিয়ে এলেন ।

মহাত্মা জী বললেন–” বেশ কয়েকদিন একভাবে হাঁটাতে , শরীরের বেশ পরিশ্রম হয়েছে । আমরা এখানে কয়েক দিন বিশ্রাম নিব। আজকে আরাম করে ঘুমানো যাক ।

                ক্রমশ - - -