জিজ্ঞাসু:—[ একজন ভক্ত সেদিন বনগ্রাম আশ্রমে গুরু মহারাজের সামনে সিটিং শুনতে শুনতে চোখ বুজে ধ্যান করতে শুরু করে দিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঐ ব্যক্তির শরীর যেন হঠাৎ হঠাৎ করে ঝাঁকরে ঝাঁকরে উঠছিল ! ফলে অচিরেই ব্যক্তিটির ধ্যান ভেঙে গেল। তখন গুরুমহারাজ নিজেই তাকে এমনটা কেন হোচ্ছে_ তা জিজ্ঞেস করলেন ! ওই ব্যক্তি উত্তরে বললেন_”গুরুজী ! আমি যখনই ধ্যান করতে বসি, তখনই আমার শরীর ‘থেকে থেকে’ এইরকম ভাবে জোরে কম্পিত হয় ! তখন আমি নিজেকে control-ই করতে পারি না__ কিন্তু আমার এমনটা কেন হয় গুরুজী ? সবাই বলে এটা কুলকুন্ডলিনীর করিয়া, কুলকুন্ডলিনী জাগলে নাকি এমনটাই হয় !!!
গুরু মহারাজ:—-[গুরু মহারাজ প্রথমেই ওই ব্যক্তিকে মৃদু একটা ধমক লাগালেন ! তারপর বলতে শুরু করলেন_]___তুমি যখনই ধ্যান করতে বসো_তখনই কি এইরকমটা হয় ? এখন এই যে তুমি আমার সামনে বসে আছো, সেই সময়েও তোমার শরীর হঠাৎ করে কেঁপে উঠছে !! কিন্তু_ধ্যান করার সময় এমনটা হবে কেন ? তুমি কি এটাকে কুলকুন্ডলিনীর ক্রিয়া অথবা এটাকে উচ্চ কোনো ‘ভাব’-অবস্থা বলে মনে করছো নাকি ?
জেনে রাখবে–এটা কিন্তু ‘ভাব’ নয়, এটা ‘ভাবে’-র বিকৃত অবস্থা ! ঠিক ঠিক ভাবস্থ অবস্থায় শরীর কাঁপে না_শরীর দৃঢ় হয় ! ধ্যান করতে বসে শরীরের বাহ্য অঙ্গগুলি আলুথালুই বা হবে কেন অথবা কাঁপাকাঁপিই বা করবে কেন ? তোমার অন্তঃকরণ কম্পিত হোক্ ! অন্তঃকরণ কম্পনের উপযোগী শরীর নাহলে এইরকম ভাবের বিকৃতি হয় ! সেজন্যই যোগশাস্ত্রে বলা হয়েছে_”শরীরম্ আদ্যম্, খলুধর্মসাধনম্”। যোগশাশ্ত্রে শরীরকে_ সাধনার উপযুক্ত করে গড়ে তোলার উপর, এইজন্যই জোর দেওয়া হয়েছে।
দ্যাখো, তুমি তোমার এই কাঁপাকাঁপি ব্যাপারটাকে একদম পাত্তা দিও না ! দৃঢ় হয়ে আসনে বসে ধ্যান-জপ করবে, মনঃসংযোগ করার চেষ্টা করবে ! এর ফলে দেখবে, শরীরের সাথে সাথে তোমার মনেরও দৃঢ়তা বাড়বে । আর দৃঢ় শরীর এবং একাগ্র মনেই শক্তির ক্রিয়া ঠিকমতো খেলে ! ধ্যান-জপে গভীরভাবে মনসংযোগ হোলেই কুলকুন্ডলিনীর ঊর্ধ্বমুখী ক্রিয়া ঘটতে থাকে এবং শরীরে শক্তির খেলা শুরু হয়ে যায় ! ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ বলেছিলেন, __”এ যেন কুঁড়েঘরে হাতি ঢোকার মতো অবস্থা !”– অর্থাৎ শরীর অপটু থাকলে কুলকুন্ডলিনী শক্তির ক্রিয়ার প্রভাব শরীরের বাহ্য অংশে পড়ে ! আর এটাই তোমার ক্ষেত্রে ঘটছে ! কিন্তু ঘর যদি পাকা হয় মজবুত হয়, তাহলে সেখানে দু-দশটা হাতি বেঁধে রাখলেও ঘরের কোনো ক্ষতি হয় না, তেমনি মজবুত শরীরে__ সাধনকালীন উদ্ভুত নানাবিধ শক্তির ক্রিয়া হজম হয়ে যায়, বাইরে তার কোনোরকম প্রকাশ ঘটে না ! যা হয় ভিতরে ভিতরেই হয় ! এই জন্যই দেখবে বাউলগানের মধ্যে রয়েছে __”কাঁচা হাঁড়িতে গো হাঁড়িতে, রাখিতে নারিলি প্রেমজল !”
কাঁচা হাঁড়িতে জল রাখলে, দেখা যাবে যে, হাঁড়িটি গলে গেছে ! কিন্তু হাঁড়িকে পুড়িয়ে পুড়িয়ে একবার পাকা করতে পারলে আর কোনো অসুবিধা হয় না, তখন সেই হাঁড়িতে জল রাখাই শুধু নয়, হাঁড়িশুদ্ধ জল উনোনে চাপিয়ে_ফোটানোও রায় ! তখন দ্যাখা যায় যে, ভিতরের জল বাষ্পীভূত হয়ে যাচ্ছে_ কিন্তু হাঁড়ির কোনো ক্ষতি হোচ্ছে না ! তেমনি সাধকের শরীর মজবুত হওয়ার পর সাধন-ভজন করলে __যে অধ্যাত্মশক্তি উৎপন্ন হয়, তাতে নিম্নমুখী negative শক্তিগুলি(কাম,ক্রোধ,লোভ ইত্যাদি) বাষ্পীভূত হয়ে ঊর্ধ্বগামী হয় এবং তা positive-শক্তি(প্রেম)-তে রূপান্তরিত হয়ে যায়।৷
গুরু মহারাজ:—-[গুরু মহারাজ প্রথমেই ওই ব্যক্তিকে মৃদু একটা ধমক লাগালেন ! তারপর বলতে শুরু করলেন_]___তুমি যখনই ধ্যান করতে বসো_তখনই কি এইরকমটা হয় ? এখন এই যে তুমি আমার সামনে বসে আছো, সেই সময়েও তোমার শরীর হঠাৎ করে কেঁপে উঠছে !! কিন্তু_ধ্যান করার সময় এমনটা হবে কেন ? তুমি কি এটাকে কুলকুন্ডলিনীর ক্রিয়া অথবা এটাকে উচ্চ কোনো ‘ভাব’-অবস্থা বলে মনে করছো নাকি ?
জেনে রাখবে–এটা কিন্তু ‘ভাব’ নয়, এটা ‘ভাবে’-র বিকৃত অবস্থা ! ঠিক ঠিক ভাবস্থ অবস্থায় শরীর কাঁপে না_শরীর দৃঢ় হয় ! ধ্যান করতে বসে শরীরের বাহ্য অঙ্গগুলি আলুথালুই বা হবে কেন অথবা কাঁপাকাঁপিই বা করবে কেন ? তোমার অন্তঃকরণ কম্পিত হোক্ ! অন্তঃকরণ কম্পনের উপযোগী শরীর নাহলে এইরকম ভাবের বিকৃতি হয় ! সেজন্যই যোগশাস্ত্রে বলা হয়েছে_”শরীরম্ আদ্যম্, খলুধর্মসাধনম্”। যোগশাশ্ত্রে শরীরকে_ সাধনার উপযুক্ত করে গড়ে তোলার উপর, এইজন্যই জোর দেওয়া হয়েছে।
দ্যাখো, তুমি তোমার এই কাঁপাকাঁপি ব্যাপারটাকে একদম পাত্তা দিও না ! দৃঢ় হয়ে আসনে বসে ধ্যান-জপ করবে, মনঃসংযোগ করার চেষ্টা করবে ! এর ফলে দেখবে, শরীরের সাথে সাথে তোমার মনেরও দৃঢ়তা বাড়বে । আর দৃঢ় শরীর এবং একাগ্র মনেই শক্তির ক্রিয়া ঠিকমতো খেলে ! ধ্যান-জপে গভীরভাবে মনসংযোগ হোলেই কুলকুন্ডলিনীর ঊর্ধ্বমুখী ক্রিয়া ঘটতে থাকে এবং শরীরে শক্তির খেলা শুরু হয়ে যায় ! ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ বলেছিলেন, __”এ যেন কুঁড়েঘরে হাতি ঢোকার মতো অবস্থা !”– অর্থাৎ শরীর অপটু থাকলে কুলকুন্ডলিনী শক্তির ক্রিয়ার প্রভাব শরীরের বাহ্য অংশে পড়ে ! আর এটাই তোমার ক্ষেত্রে ঘটছে ! কিন্তু ঘর যদি পাকা হয় মজবুত হয়, তাহলে সেখানে দু-দশটা হাতি বেঁধে রাখলেও ঘরের কোনো ক্ষতি হয় না, তেমনি মজবুত শরীরে__ সাধনকালীন উদ্ভুত নানাবিধ শক্তির ক্রিয়া হজম হয়ে যায়, বাইরে তার কোনোরকম প্রকাশ ঘটে না ! যা হয় ভিতরে ভিতরেই হয় ! এই জন্যই দেখবে বাউলগানের মধ্যে রয়েছে __”কাঁচা হাঁড়িতে গো হাঁড়িতে, রাখিতে নারিলি প্রেমজল !”
কাঁচা হাঁড়িতে জল রাখলে, দেখা যাবে যে, হাঁড়িটি গলে গেছে ! কিন্তু হাঁড়িকে পুড়িয়ে পুড়িয়ে একবার পাকা করতে পারলে আর কোনো অসুবিধা হয় না, তখন সেই হাঁড়িতে জল রাখাই শুধু নয়, হাঁড়িশুদ্ধ জল উনোনে চাপিয়ে_ফোটানোও রায় ! তখন দ্যাখা যায় যে, ভিতরের জল বাষ্পীভূত হয়ে যাচ্ছে_ কিন্তু হাঁড়ির কোনো ক্ষতি হোচ্ছে না ! তেমনি সাধকের শরীর মজবুত হওয়ার পর সাধন-ভজন করলে __যে অধ্যাত্মশক্তি উৎপন্ন হয়, তাতে নিম্নমুখী negative শক্তিগুলি(কাম,ক্রোধ,লোভ ইত্যাদি) বাষ্পীভূত হয়ে ঊর্ধ্বগামী হয় এবং তা positive-শক্তি(প্রেম)-তে রূপান্তরিত হয়ে যায়।৷
