স্থান:–আজিমগঞ্জ কনসাস্ স্পিরিচুয়াল সেন্টার। সময়:–2nd-3rd february,1992.
উপস্থিত ব্যক্তিগণ:–মিহির মহারাজ জয়দীপ সব্যসাচী মান্না,ববিনদা, বিজয়দা, বিষ্ণু দা প্রমূখ।
জিজ্ঞাসু:— আচ্ছা গুরু মহারাজ ! আমরা বারবার আপনার কাছে শুনেছি যে, ব্রহ্ম এক কলায় জড়জগৎ রূপে প্রকাশিত এবং এরপর থেকে ব্রহ্ম কলায় কলায় বেড়ে প্রাণীজগতের বিভিন্ন নাম ও রূপে প্রকাশিত হয়েছেন। কিন্তু জড় থেকে জীবে প্রথম প্রাণসঞ্চারটা হোলো কিভাবে?
গুরু মহারাজ:—দ্যাখো, সঠিকভাবে বলতে গেলে বলতে হয়_ জড়েও প্রাণ রয়েছে । তাই ‘হঠাৎ জড় থেকে জীবে প্রাণ সঞ্চারিত হয়েছে’_ সে কথা বলা ঠিক নয় । প্রকৃতপক্ষে এক অখন্ড চৈতন্য সত্তা বা প্রাণ সত্তা সমস্ত জগৎ ব্যাপ্ত হয়ে রয়েছে। যার মধ্যে বা যাদের মধ্যে এই চেতনা(প্রাণ)-র outward ক্রিয়া দেখা যায়, তাদেরকেই আমরা ‘জড়’ আখ্যা দিয়ে থাকি। আবার যার মধ্যে চেতনার inward ক্রিয়া লক্ষিত হয়_তখনআমরা তাকে বলি ‘জীব’।।
চেতনা(প্রাণ)-র outward ক্রিয়ায় অর্থাৎ জড়পদার্থের শুধুই রূপান্তর ঘটে এবং এটা দেখা যায় বা বোঝাও যায়। যেমন ধরো, পদার্থের অবস্থান্তরগুলো অর্থাৎ solid, liquid, gaseous, plasma, space- ইত্যাদি গুলি সবই ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য! আবার গঠনগত রূপান্তর– যেমন মৌল, যৌগ, মিশ্র ইত্যাদি গুলির রূপান্তর বা পরিবর্তনও হয় চোখে দেখা যায় বা বুদ্ধি দিয়ে বোঝা যায়। বেদাদি শাস্ত্রে পঞ্চকোষ বিশিষ্ট শরীরের বর্ণনা রয়েছে । আর সেগুলি হোলো__ অন্নময় কোষ, প্রাণময় কোষ, মনোময় কোষ, বিজ্ঞানময় কোষ এবং আনন্দময় কোষ। শুধু অন্নময় কোষের ক্রিয়া যেখানে পরিলক্ষিত হয় তাকেই আমরা জড় বলে থাকি। প্রাণময় কোষের ক্রিয়া শুরু হোলেই সেখান থেকে জীবনের প্রকাশ হয়ে থাকে অর্থাৎ তাকেই আমরা প্রাণী বলে থাকি। এরপর জীব বিবর্তনের মধ্যে দিয়ে জীব যত উন্নত অবস্থার দিকে এগিয়ে চলে, ততই তার মধ্যে অন্যান্য কোষগুলি অর্থাৎ মনোময়, বিজ্ঞানময় ও আনন্দময় কোষের ক্রিয়া পরিলক্ষিত হয়ে থাকে।
যাইহোক, চেতনার inward ক্রিয়ার ফলেই জীবনের সূত্রপাত হয় এবং তার বিবর্তন ঘটতে থাকে, যার চূড়ান্ত পর্যায়ে হোলো মানুষ । এরপর আর কোনো বাহ্যিক বিবর্তন বা evolution হয় না, এরপর হয় সংবর্তন বা involution ! তবে একটা কথা মাথায় রাখতে হবে যে, জড় আর জীবই শুধু নয়__ এদের মধ্যবর্তী আরও একটা অবস্থা রয়েছে, জড়বিজ্ঞানীরা সেটাকে বলেছে “ভাইরাস” অবস্থা । এইজন্যই ভাইরাসের মধ্যে জড়ের এবং জীবনের উভয়বিধ লক্ষণই বিদ্যমান।
বিজ্ঞানীরা এমনটাও ধারণা করেছেন যে, কোনো স্থানে খনন কার্য করতে গিয়ে হয়তো দশ হাজার বছরের কোনো পুরোনো ধ্বংসস্তূপ দেখা যায় যে, হয়তো দশ হাজার বছর ধরে তৎকালীন যুগের কোনো ভাইরাস এতোদিন ওই মাটিতেই লুকিয়ে ছিল কিন্তু আবার যদি সে উপযুক্ত পরিবেশ পায়, তাহলে তার মধ্যে জীবনের লক্ষণ প্রকাশ পেয়ে যেতে পারে । এইজন্য যারা প্রত্নতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করে এবং যারা মহাকাশচারী__ তাদেরকে অন্তত ১৫ দিন বা একমাস পৃথকভাবে আলাদা করে ‘কোয়ারেন্টন্’ করে রাখা হয়। যাতে করে_ যদি কোনো কারণে ওই ভাইরাস মানব শরীরের মধ্যে ক্রিয়াশীল হয়, তাহলে ঐ বিশেষ ব্যক্তিটির শরীরে লক্ষণ প্রকাশ পাবে এবং ওর দ্বারা বাইরের জগতে ছড়ানো থেকে রক্ষা পাওয়া যেতে পারে।
তবে, তুমি যে কথা বলছিলে যে, ‘ব্রহ্ম কলায় কলায় বৃদ্ধি পেয়ে প্রকাশিত হবার পরেই সমগ্র এই জড়জগৎ ও প্রাণিজগত সৃষ্টি হয়েছে’_ এটা ঠিকই বলেছো। কারণ ব্রহ্ম এক কলায় জড়জগত রূপে প্রকাশিত যেমন হয়েছেন তেমনি দ্বিতীয় কলায় প্রকাশিত হয়েছেন জীবজগতের প্রথম ধাপ ‘উদ্ভিদজ’ রূপে ! তৃতীয় কলায় ব্রহ্ম ‘স্বেদজ’ বা অণুজীব রূপে অর্থাৎ বিজাণু, জীবাণু এবং কীটাণু’ রূপে প্রকাশিত হ’ন। চতুর্থ কলায় ব্রহ্ম ‘অণ্ডজ’ জীব রূপে অর্থাৎ পক্ষী,সরীসৃপ ইত্যাদি প্রজাতিতে নিজেকে প্রকাশিত করেছেন, ষষ্ঠ কলায় ব্রহ্ম ‘জরায়ুজ’ রূপে অর্থাৎ horizontal প্রাণীসমাজ রূপে প্রকাশিত হ’ন। এরপর ব্রহ্ম ‘নর’ রূপে নিজেকে প্রকাশিত করেছেন অষ্ট কলায়! ‘নর’-এ এসে জীব–এই প্রথম vertical হোলো।…… (ক্রমশঃ)
উপস্থিত ব্যক্তিগণ:–মিহির মহারাজ জয়দীপ সব্যসাচী মান্না,ববিনদা, বিজয়দা, বিষ্ণু দা প্রমূখ।
জিজ্ঞাসু:— আচ্ছা গুরু মহারাজ ! আমরা বারবার আপনার কাছে শুনেছি যে, ব্রহ্ম এক কলায় জড়জগৎ রূপে প্রকাশিত এবং এরপর থেকে ব্রহ্ম কলায় কলায় বেড়ে প্রাণীজগতের বিভিন্ন নাম ও রূপে প্রকাশিত হয়েছেন। কিন্তু জড় থেকে জীবে প্রথম প্রাণসঞ্চারটা হোলো কিভাবে?
গুরু মহারাজ:—দ্যাখো, সঠিকভাবে বলতে গেলে বলতে হয়_ জড়েও প্রাণ রয়েছে । তাই ‘হঠাৎ জড় থেকে জীবে প্রাণ সঞ্চারিত হয়েছে’_ সে কথা বলা ঠিক নয় । প্রকৃতপক্ষে এক অখন্ড চৈতন্য সত্তা বা প্রাণ সত্তা সমস্ত জগৎ ব্যাপ্ত হয়ে রয়েছে। যার মধ্যে বা যাদের মধ্যে এই চেতনা(প্রাণ)-র outward ক্রিয়া দেখা যায়, তাদেরকেই আমরা ‘জড়’ আখ্যা দিয়ে থাকি। আবার যার মধ্যে চেতনার inward ক্রিয়া লক্ষিত হয়_তখনআমরা তাকে বলি ‘জীব’।।
চেতনা(প্রাণ)-র outward ক্রিয়ায় অর্থাৎ জড়পদার্থের শুধুই রূপান্তর ঘটে এবং এটা দেখা যায় বা বোঝাও যায়। যেমন ধরো, পদার্থের অবস্থান্তরগুলো অর্থাৎ solid, liquid, gaseous, plasma, space- ইত্যাদি গুলি সবই ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য! আবার গঠনগত রূপান্তর– যেমন মৌল, যৌগ, মিশ্র ইত্যাদি গুলির রূপান্তর বা পরিবর্তনও হয় চোখে দেখা যায় বা বুদ্ধি দিয়ে বোঝা যায়। বেদাদি শাস্ত্রে পঞ্চকোষ বিশিষ্ট শরীরের বর্ণনা রয়েছে । আর সেগুলি হোলো__ অন্নময় কোষ, প্রাণময় কোষ, মনোময় কোষ, বিজ্ঞানময় কোষ এবং আনন্দময় কোষ। শুধু অন্নময় কোষের ক্রিয়া যেখানে পরিলক্ষিত হয় তাকেই আমরা জড় বলে থাকি। প্রাণময় কোষের ক্রিয়া শুরু হোলেই সেখান থেকে জীবনের প্রকাশ হয়ে থাকে অর্থাৎ তাকেই আমরা প্রাণী বলে থাকি। এরপর জীব বিবর্তনের মধ্যে দিয়ে জীব যত উন্নত অবস্থার দিকে এগিয়ে চলে, ততই তার মধ্যে অন্যান্য কোষগুলি অর্থাৎ মনোময়, বিজ্ঞানময় ও আনন্দময় কোষের ক্রিয়া পরিলক্ষিত হয়ে থাকে।
যাইহোক, চেতনার inward ক্রিয়ার ফলেই জীবনের সূত্রপাত হয় এবং তার বিবর্তন ঘটতে থাকে, যার চূড়ান্ত পর্যায়ে হোলো মানুষ । এরপর আর কোনো বাহ্যিক বিবর্তন বা evolution হয় না, এরপর হয় সংবর্তন বা involution ! তবে একটা কথা মাথায় রাখতে হবে যে, জড় আর জীবই শুধু নয়__ এদের মধ্যবর্তী আরও একটা অবস্থা রয়েছে, জড়বিজ্ঞানীরা সেটাকে বলেছে “ভাইরাস” অবস্থা । এইজন্যই ভাইরাসের মধ্যে জড়ের এবং জীবনের উভয়বিধ লক্ষণই বিদ্যমান।
বিজ্ঞানীরা এমনটাও ধারণা করেছেন যে, কোনো স্থানে খনন কার্য করতে গিয়ে হয়তো দশ হাজার বছরের কোনো পুরোনো ধ্বংসস্তূপ দেখা যায় যে, হয়তো দশ হাজার বছর ধরে তৎকালীন যুগের কোনো ভাইরাস এতোদিন ওই মাটিতেই লুকিয়ে ছিল কিন্তু আবার যদি সে উপযুক্ত পরিবেশ পায়, তাহলে তার মধ্যে জীবনের লক্ষণ প্রকাশ পেয়ে যেতে পারে । এইজন্য যারা প্রত্নতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করে এবং যারা মহাকাশচারী__ তাদেরকে অন্তত ১৫ দিন বা একমাস পৃথকভাবে আলাদা করে ‘কোয়ারেন্টন্’ করে রাখা হয়। যাতে করে_ যদি কোনো কারণে ওই ভাইরাস মানব শরীরের মধ্যে ক্রিয়াশীল হয়, তাহলে ঐ বিশেষ ব্যক্তিটির শরীরে লক্ষণ প্রকাশ পাবে এবং ওর দ্বারা বাইরের জগতে ছড়ানো থেকে রক্ষা পাওয়া যেতে পারে।
তবে, তুমি যে কথা বলছিলে যে, ‘ব্রহ্ম কলায় কলায় বৃদ্ধি পেয়ে প্রকাশিত হবার পরেই সমগ্র এই জড়জগৎ ও প্রাণিজগত সৃষ্টি হয়েছে’_ এটা ঠিকই বলেছো। কারণ ব্রহ্ম এক কলায় জড়জগত রূপে প্রকাশিত যেমন হয়েছেন তেমনি দ্বিতীয় কলায় প্রকাশিত হয়েছেন জীবজগতের প্রথম ধাপ ‘উদ্ভিদজ’ রূপে ! তৃতীয় কলায় ব্রহ্ম ‘স্বেদজ’ বা অণুজীব রূপে অর্থাৎ বিজাণু, জীবাণু এবং কীটাণু’ রূপে প্রকাশিত হ’ন। চতুর্থ কলায় ব্রহ্ম ‘অণ্ডজ’ জীব রূপে অর্থাৎ পক্ষী,সরীসৃপ ইত্যাদি প্রজাতিতে নিজেকে প্রকাশিত করেছেন, ষষ্ঠ কলায় ব্রহ্ম ‘জরায়ুজ’ রূপে অর্থাৎ horizontal প্রাণীসমাজ রূপে প্রকাশিত হ’ন। এরপর ব্রহ্ম ‘নর’ রূপে নিজেকে প্রকাশিত করেছেন অষ্ট কলায়! ‘নর’-এ এসে জীব–এই প্রথম vertical হোলো।…… (ক্রমশঃ)
