পরমপ্রিয় শ্রীশ্রীগুরুমহারাজ (স্বামী পরমানন্দ) বলেছিলেন, ‘লেখায় কখনো অহংবুদ্ধি আরোপ করবি না। Active-ও নয়, Inactive-ও নয়, Passive হয়ে কাজ করতে হয় আর তাতেই ঘটে কার্যসিদ্ধি।’ আরও বলেছিলেন, ‘আমার জীবন এবং আমার কথা তো ষোলআনা কখনই মানুষ জানতে পারবে না, তবে যদি একআনাও পরিবেশিত হয়, তাহলেই জগৎকল্যাণ হবে।’ সুতরাং মানুষের কাছে তাঁর কথাকে পৌঁছে দেবার জন্যই এই সংকলন। সংকলনে যদি কোথাও কোন ত্রুটি থেকে থাকে, তা সম্পূর্ণই আমার ব্যক্তিগত ত্রুটি আর যদি কোন গুরুভ্রাতা বা ভক্তমণ্ডলীর কেউ অজ্ঞাতসারে হওয়া কোন ত্রুটি সংশোধন করতে সাহায্য করেন তা সাদরে গ্রহণ করা হবে। কারণ আমাদের সমবেত চেষ্টা হওয়া উচিত তার যথা যতটা চিনি করা। যতটা সম্ভব নির্ভুলভাবে পরিবেশন
যাইহোক পরমানন্দ মিশনের বর্তমান অধ্যক্ষ স্বামী পরমেশ্বরানন্দ (তৃষাণ মহারাজ)-এর নির্দেশে এবং বর্তমান সম্পাদক স্বামী নিষ্কামানন্দ মহারাজ ও শ্রদ্ধেয় ন’কাকা (শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী)-র অনুপ্রেরণায় এই সংকলন-গ্রন্থটির কাজ শুরু হয়। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা গেল সংকলন করা গুরুমহারাজের আশীর্বাদ থাকলে হয়তো সহজ কিন্তু তাকে গ্রন্থাকারে রূপ দেওয়া সত্যিই অত্যন্ত দুরূহ কাজ। এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে এগিয়ে এলেন মিশনের ‘চরৈবেতি’ পত্রিকার সম্পাদক—স্বামী স্বরূপানন্দ মহারাজ। আশ্রমস্থ ব্যক্তিবৃন্দ বা মহারাজরা দেখেছেন যে, দিন-রাত কি অসাধারণ নিষ্ঠা, ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের পরিচয় দিয়েছেন তিনি এই গ্রন্থটির পিছনে। এক হাতে মূল পাণ্ডুলিপি ও প্রুফ কপির সংশোধন, সংযোজন ও পরিমার্জন করে গুরুমহারাজের কথাগুলিকে যেমন যতটা সম্ভব ত্রুটিমুক্ত করার চেষ্টা করেছেন, তেমনি গ্রন্থের প্রারম্ভে একটি মনোজ্ঞ মুখবন্ধ লিখে গ্রন্থটির গুরুত্ব বৃদ্ধি করেছেন। এককথায় তাঁর নিরলস পরিশ্রম ও প্রয়াসের ফসল এই সংকলন গ্রন্থ। এছাড়া আশ্রমস্থ আবাসিক প্রেসকর্মীবৃন্দ ও রাইণ্ডিং (বাঁধাই) সেকশনের কর্মীবৃন্দের কথা অবশ্যই উল্লেখ করতে হয়, যাঁদের নিরলস পরিশ্রম ও নিষ্ঠা ছাড়া এ কাজ সম্পন্ন হওয়া সম্ভব ছিল না।
পরিশেষে শ্রীশ্রীগুরুমহারাজের চরণে এই সংকলন গ্রন্থটি নিবেদন করে এবং ভক্তবৃন্দের শুভেচ্ছা ও আশীর্বাদ প্রার্থনা করে প্রসঙ্গের ইতি টানলাম ।
বিনীত—
সংকলক—শ্রীধর বন্দ্যোপাধ্যায়
