জিজ্ঞাসু : আচ্ছা, এই সব আশ্রম প্রতিষ্ঠা করার ব্যাপারে আপনার কি মা জগদম্বার কাছে কোন সংকল্প ছিল ?
গুরুমহারাজ : কোন কাজ আমি করবো এই ধরণের আত্মাভিমান আমার কখনই ছিল না। তবু বলার জন্য অনেক কথা তোমাদের বলেছি। অনাথ আশ্রমের সংকল্প ছিল এমন কথা হয়তো আমার মুখে তোমরা শুনেছ। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আমার কি সংকল্প ছিল জান তো ? আশ্রম যখন শুরু হয় মা জগদম্বার নির্দেশে তখনই আমি জানতাম যে, আশ্রম করতে শুরু করলেই এই কাজের সহযোগী প্রচুর ছেলেরা আসবে। তাই আমি সংকল্প করেছিলাম আমার কর্মে যারা বিরোধিতা করবে বা বাধা দেবে তাদের যেন আমার দিক থেকে কোন ক্ষতি না হয়। কাজের শুরুতেই এই ছিল আমার সংকল্প। আমি সকলকে ভালোবাসার জন্য শরীর নিয়েছি, ভালোবাসা আমার স্বভাব, আমৃত্যু আমি মানুষকে ভালোবেসে যাবো। কে আমাকে আঘাত দিল, কে আমার কথা মানল না, আমি ওসব দেখবো না তো –তোমরা মিলিয়ে নিও আমার কথা।
তবে আমি পরে দেখেছি মায়ের জগৎ-তো, মহাপ্রকৃতির একটা অমোঘ নিয়ম আছে। আমার দ্বারা কারও কোন ক্ষতি না হলেও মায়ের জগতের নিয়মে আশ্রমের কাজের বিরোধিতা করলে মা শাস্তি দেয়। তাছাড়া আর একটা কথা আছে, সন্তান যদি চিমটি কাটে বা খোঁচা মারে এগুলো অনেক সময় বাবা-মা সহ্য করে যায়, কিন্তু সন্তান যদি বাবার বুকে দড়াম করে একটা ঘুষি মারে–বাবা কি সহ্য করবে? আর মা সন্তানের অনেক আবদার, অত্যাচার, অনাচার সহ্য করে মেনে নেয়, বদ ছেলেটাকে মা বরং বেশী করে ঢেকে-ঢুকে রাখে। বাড়ীর অন্য Member-দের বলে, ‘জান তো ও একটু ঐরকমই, ওর কথা ধরো না।’ বড় মাছের খানাটাই বদ ছেলেটাকে দেয়, অন্যদের বলে “জানিস তো ও ঐরকম, ও বড়টা খাক্, তোরা ঝগড়া করিস না”,
কিন্তু সেই সন্তান যদি কোনদিন মায়ের সামনে বাবাকে অত্যাচার করে বা অপমান করে তখন কিন্তু মায়ের আর স্নেহময়ী মূর্তি থাকে না, ভৈরবী মূর্তিতে মা সন্তানের বুকে পা দিয়ে বলে, “তোর এত আস্পর্ধা! আমার সামনে তুই নিজের পিতাকে অপমান করিস, তোর জিভ আমি টেনে ছিঁড়ে নেবো, বেরো, দূর হ তুই সামনে থেকে !” এখানেও ব্যাপারটা খানিকটা সে রকমই হয়।
