জিজ্ঞাসু : সাধনা করার পর আবার পতন হয় কেন ?

গুরুমহারাজ : আমি পতন বলি না বলি বিশ্রাম। ধরো কিছু পথিক একসাথে যাত্রা করল একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে। কিছুদূর চলার পর হয়তো কেউ একটু বিশ্রাম করছে, সঙ্গের সাথীরা এগিয়ে গেল, ও পরবর্তী দলের সাথে নাহয় একটু পরে যাবে। তাহলে পতন কেন বলব ? বিশ্রাম—তাই নয় কি ! আর পতন কোথা থেকে কোথায় হবে—সবই তো ঈশ্বরময়। ব্রহ্মের এক কলায় এই জগৎ প্রকাশিত। গীতাতেও ভগবান বলেছেন, ‘মম একাংশেন স্থিতো জগৎ’ । তাহলে কে কোথায় পড়বে আর কোথা থেকেই বা পড়বে। উদাহরণ দিয়ে বোঝানো যায় যে, সমুদ্রেরই বুদবুদ, ফেটে গেলে সমুদ্রেই তো থাকে আর বুদবুদ অবস্থাতেও তাকে সমুদ্রই বলি। এখানে সচ্চিদানন্দ ব্রহ্মকে সচ্চিদানন্দ সাগর বলা হয়েছে, তাতেই জড়-জগৎ, জীব- জগৎ, সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্রাদি সবই ধৃত রয়েছে। নিজেকে পৃথক করে সবকিছুকে পৃথক ভাবা হচ্ছে এইমাত্র। ব্যক্তি অহং আর বিশ্ব অহং —Individual ego আর Universal ego। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণদেব ভক্তদের গঙ্গার ধারে নিয়ে গিয়ে একটা খড় দিয়ে খানিকটা জলকে আলাদা করে দিতেন, দিয়ে বলতেন খড় দ্বারা আবৃত জলটা যেন জীবাত্মা, Individual ego আর গঙ্গার বাকী জল যেন Universal ego। যদি অভিমান-অহংকাররূপ খড়টা তুলে নেওয়া হয়, তাহলেই বিশ্ব-অহং-এর সাথে একাকার। একেই একে একে একাকার বলা হয়েছে। তাহলে নিশ্চয়ই বুঝতে পারলে কেন পতন বলা হচ্ছে না।