জিজ্ঞাসু : তাহলে হনুমান বা অশ্বত্থামার সাথে আপনার দেখা হয়নি ?

গুরুমহারাজ : শাস্ত্রে রয়েছে পাঁচজন ব্যক্তি নাকি আজও শরীর ধারণ করে রয়েছেন। বিভিন্ন সাধু পরম্পরাতেও দেখেছি ওনারা একথা বিশ্বাস করেন যে, বিশাল শরীরধারী অশত্থামা বা বিভীষণকে নাকি মাঝে মাঝে দেখা যায়, কুম্ভমেলায় নাকি ওঁরা স্নান করতে আসেন। কয়েক হাজার বছরের ব্যবধানে ওনাদের অনেক পরিবর্তনও হয়েছে ইত্যাদি সব কথা প্রচলিত রয়েছে। আমি হিমালয়ের বিভিন্ন পার্বত্য জাতিদের গ্রামে যখন ঘুরতাম তখন গ্রামবাসীদের অনেককে বলতে শুনেছি যে, তারা অশ্বত্থামাকে দেখেছে। এমনকি কোন কোন গৃহে হঠাৎ করে অবির্ভূত হয়ে ‘তেল দাও’ বলে সে দাঁড়িয়ে পড়ে। গৃহীরা সরষের তেল একটু হাতে দিলেই তাড়াতাড়ি মাথার তালুতে দেয় এবং সঙ্গে সঙ্গে অদৃশ্য হয়ে যায়। অশ্বত্থামার মাথার ঘা নাকি আজও রয়েছে এবং এইজন্য গায়ে একটা উৎকট গন্ধ ৷

একজন গ্রামবাসী আমায় বলল যে, বহুপূর্বে সে একবার গভীর জঙ্গলে কাঠ কাটতে গিয়ে পথ হারিয়েছিল। পথের সন্ধানে উল্টোদিকে হেঁটে সে বহুদূরে চলে গিয়েছিল, রাত্রিটা গাছে কাটিয়ে পরদিন আবার হাঁটা শুরু করে একটা এমন জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছিল যেখান থেকে সে বুঝতে পারছিল যে, তার পক্ষে আর ফেরা সম্ভব নয়। তখন অনন্যোপায় হয়ে সে জোরে জোরে সাহায্যের জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা জানাতে শুরু করতেই হঠাৎ দেখে দীর্ঘদেহী একজন পুরুষ, যার মাথায় দগদগে ঘা, সেখানে উপস্থিত হল। কাঠুরিয়াটির কান্নার কারণ কি সব শুনে সে বলল, “চোখ বন্ধ কর”। কাঠুরিয়াটি চোখ বন্ধ করতেই দীর্ঘদেহী লোকটি তার হাত চেপে ধরল। এবার কিছুক্ষণ যেন লোকটির মনে হয়েছিল একটা প্রচণ্ড কম্পনশীল অবস্থার মধ্যে দিয়ে তারা চলেছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই লোকটি বলল, ‘চোখ খোল’। চোখ খুলতেই দেখা গেল কাঠুরিয়াটি একেবারে তার গ্রামে বাড়ীর সামনে দাঁড়িয়ে আর সেই মানুষটিও অদৃশ্য। তা ঐ কাঠুরিয়াটি আমাকে নিজে ঐ গল্প করেছিল এবং এও বলেছিল যে, ওদের গ্রামগুলিতে সবাই পুরুষানুক্রমে জানে যে, বনে বিপদে পড়লে অশ্বত্থামাকে আহ্বান করলেই তার সাহায্য পাওয়া যায়।

আমার নিজের সাথে তার সাক্ষাতের ব্যাপারটা আলাদা কিন্তু সাধারণ মানুষও তার দ্বারা আজও উপকৃত হয়ে চলেছে। এইভাবেই হিমালয় মানুষের কাজে দুয়ে আর রহস্যাবৃত হয়েই থেকেছে চিরকাল আর থাকবেও। ওখানে এরকম কত রহস্য লুকিয়ে আছে যা সাধারণ মানুষ বুদ্ধি দিয়ে কখনই ব্যাখ্যা করতে পারবে না।