জিজ্ঞাসু—বিভিন্ন প্রকারের আওয়াজের সঙ্গে কি বৃষ্টিপাতের বা অন্যান্য প্রাকৃতিক ব্যাপারের সম্পর্ক রয়েছে ?

গুরুমহারাজ—রয়েছে বই কি ! পশ্চিমবঙ্গে শরৎকালে শারদীয়া দুর্গোৎসবের সময় বা তার আগে ঢাকী বা ঢুলিরা যে ঢাক-ঢোল বাজায় সেই আওয়াজ ধানকে গর্ভ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করে। এই শব্দে মাছের বৃদ্ধি হয়। আমেরিকা এখন এসব নিয়ে খুবই গবেষণা করছে। পশুকে বা গাছকে music শুনিয়ে ওরা রোগ সারাচ্ছে বা ফলন বাড়াচ্ছে। সুরের সাহায্যে আগুন সৃষ্টি করেছিল ক্যালিফর্নিয়ার এক সুরকার। আমাদের দেশে বেদ বা উপনিষদগুলি ভিন্ন ভিন্ন ছন্দে পাঠ করা হয়। এগুলির অধিকাংশই বিভিন্ন পশু বা পাখীর স্বরের ছন্দ থেকে নেওয়া। যেমন মাণ্ডুক্য উপনিষদ ব্যাঙের ডাক থেকে, তৈত্তিরীয় উপনিষদ তিতির পাখীর ডাক থেকে—ইত্যাদি। এর মধ্যে ব্যাঙের ডাকের সঙ্গে বৃষ্টিপাতের একটা সম্পর্ক রয়েছে। দেখবে বৃষ্টিপাতের আগে এবং বৃষ্টিপাতের পরে ব্যাঙেরা চিৎকার করে ডাকতে থাকে । যদিও বর্ষাকালে ওদের mating season, সেই জন্যই স্ত্রীব্যাঙদের আকর্ষণ করার জন্য পুরুষ ব্যাঙেরা ‘ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ্’ করে ডাকে। কিন্তু ব্যাঙের ডাকের সঙ্গে যে বৃষ্টিপাতের প্রত্যক্ষ সংযোগ রয়েছে তার প্রমাণও রয়েছে। ঘটনাটা ঘটেছিল দঃ আমেরিকায় আমাজন নদীর অববাহিকায়। ওখানে সরকারিভাবে একটা পাহাড়ি নদীর উপর ব্রীজ তৈরী হচ্ছিল। কিন্তু স্থানীয় অধিবাসীরা অর্থাৎ ঐ অঞ্চলের আদিম বাসিন্দারা সেটা চাইছিল না। কিন্তু সরকার তাদের কথা মানবে কেন ? ব্রীজের কাজ শুরু করে দিল, এদিকে আদিবাসীরা ওদের গুণিনকে দিয়ে পুজো-পাঠ করিয়ে সকলে মিলে সমবেতকণ্ঠে ব্যাঙের ডাক ডাকতে লাগল। এরফলে ঐ অঞ্চলে এত বৃষ্টিপাত শুরু হ’ল যে, ব্রীজের যেটুকু অংশ হয়েছিল সেটুকু সমেত সমস্ত মালপত্র স্রোতে ভেসে গেল। সরকার পুনরায় ব্রীজের কাজ শুরু করেছিল, স্থানীয় মানুষেরা সেই একই কায়দায় আবার ব্রীজটিকে নষ্ট করে দিতে সমর্থ হয়েছিল। পরে বিজ্ঞানীরা অনুসন্ধান চালিয়ে ব্যাপারটা বুঝেছিল।