জিজ্ঞাসু—শব্দের প্রভাব মানুষের জীবনে আছে জানি কিন্তুএভাবে যে হয় তাতো আগে ভাবিনি ?
গুরুমহারাজ—এই । শব্দবিজ্ঞানের গবেষণাতেই তো Science-এর highest achievement ঘটবে। এখনই তো শব্দবিজ্ঞানের সাহায্যে মানুষের প্রভূত কল্যাণসাধিত হচ্ছে। শব্দের সাহায্যে লোহা- কাটা হচ্ছে, খনির অভ্যন্তরে শব্দকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন রকম কাজ করা হচ্ছে। সর্বোপরি বিভিন্ন কম্পাঙ্ক সৃষ্টি করে মানুষের অনেক রোগ সারানো হচ্ছে। ফলে অদূর ভবিষ্যতে যদি ওষুধের দোকানগুলো উঠে গিয়ে রোগ সারানোর জন্য বিভিন্ন কম্পাঙ্কের tune-এর cassette-দোকান তৈরী হয় তাতে আশ্চর্য বা অবাক হবার কিছু থাকবে না। ধর একজন দোকানে গিয়ে বলল, “দাদা । Tubercu- losis সারার ক্যাসেট-টা দিন তো।” কেউ হয়তো spondilitis-এর cassette-টা চাইল । এবার টেপ-রেকর্ডার বা সি, ডি, প্লেয়ার-এ একটা নির্দিষ্ট সময় ধরে, একটা বিশেষ ফ্রিকোয়েন্সির মিউজিক্ বা কোন tune শুনতে থাকল, আর কিছুদিনের মধ্যেই রোগমুক্তি – কেমন, বেশ মজার ব্যাপার নয় কি ? জগৎ-সংসার সৃষ্টির পাঁচটি প্রধান element — ক্ষিতি, অপ, তেজ, মরুৎ ও ব্যোম্। বর্তমান জড়বিজ্ঞান ক্ষিতিতত্ত্ব, অপতত্ত্ব ছাড়াও তেজতত্ত্বের মধ্যে আলোকবিজ্ঞান, ইলেকট্রিসিটি, ইলেকট্রনিক্স, এমনকি laser আবিষ্কার পর্যন্ত করছে। কিন্তু এই দিয়েও জড়বিজ্ঞান খুব উন্নত হয়েছে একথা বলা যায় না। কারণ মরুত্তত্ত্ব নিয়ে গবেষণা শুরু হয়েছে কিন্তু perfection-এ পৌঁছায়নি। Vibration বা frequency- কে কাজে লাগানো এটা জড়বিজ্ঞানের আরও সূক্ষ্ম অবস্থা আর জানবে এটা successful হলেই জড়বিজ্ঞানের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানো যাবে। বেদে বলা হয়েছে স্পন্দনতত্ত্বের সাহায্যে সৃষ্টিতত্ত্বকে ব্যাখ্যা করা যাবে । বহুকাল পূর্বে ঋষিরা যা বলে গিয়েছিলেন তার সত্যতা প্রমাণিত হবে। প্রাচীনকালে যে জড়বিজ্ঞান কত উন্নত ছিল বিভিন্ন পুরাণে তার উল্লেখ রয়েছে। ভীষ্ম মদ্রদেশ আক্রমণের সময় এমন বাণ নিক্ষেপ করেছিলেন যে, সেখানে প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়েছিল। অর্থাৎ তিনি বৈজ্ঞানিক কৌশলে সেই স্থানের আবহমণ্ডলের vibration change করে phenomenal disturbance ঘটালেন। রাম রাবণের রাজ্য লঙ্কাপুরী আক্রমণের সময়ও এই ধরণের অস্ত্র প্রয়োগ করেছিলেন। এই বিজ্ঞানগুলি ঋষিদের অধিগত হয়েছিল এবং পরম্পরাক্রমে এসব বিদ্যা তাঁরা নিজেদের কাছেই সীমাবদ্ধ রাখতেন। সমাজের প্রয়োজনে উপযুক্ত পাত্র পেলে তবেই এই বিদ্যা তাঁরা তাকে শেখাতেন—অন্যথা নয়। কারণ তাঁরা জানতেন বিরেক জাগ্রত নয় এমন মানুষের হাতে এসব অস্ত্র পড়লে তারা এর অপপ্রয়োগ করবে এবং মানুষের মঙ্গল না হয়ে তার চরম ক্ষতি হবে। বর্তমানে এই ব্যাপারটার দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে না বলেই সমাজে মাঝে-মাঝেই নরমেধ যজ্ঞ হয়ে চলেছে বা পৃথিবী এক ভয়ঙ্কর পরিণতির দোরগোড়ায় এসে দাঁড়িয়েছে। তৎকালে রাম এই সব অস্ত্র প্রয়োগের বিদ্যাশিক্ষা করেছিলেন বিশ্বামিত্র এবং ভরদ্বাজ ঋষির কাছ থেকে। ভীষ্ম পেয়েছিলেন ভার্গব পরশুরামের কাছ থেকে। এখন পৃথিবীতে অতি ভয়ঙ্কর অস্ত্র হচ্ছে Atom-bomb কিন্তু পারমাণবিক যুদ্ধের থেকেও অনেক উন্নত, কার্যকরী এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন যুদ্ধ হল মন্ত্রযুদ্ধ বা psychic-war । রামচন্দ্র সূর্পণখার সঙ্গে আসা খর ও দূষণের সৈন্যদলের উপর এই অস্ত্র প্রয়োগ করেছিলেন। এর ফল হিসাবে দেখা গেল যে, বিপক্ষদলের সৈন্যরা সকলে সম্মোহিত হয়ে একে অপরকে হত্যা করতে লাগল এবং বিশাল সৈন্যদলের সবাই মারা গেল—একজনও বাঁচল না। পরমাণু অস্ত্রে যেমন particular কোন স্থানের সাধারণ নিরীহ লোক, পশু-পাখী, গাছ- পালা, পরিবেশ—সবকিছুরই ক্ষতিসাধন হয়, শুধু যে বিপক্ষদলের সৈন্যদের ক্ষতি হয় তা নয়, এখানে কিন্তু শুধুই যেটুকু দরকার সে কাজটাই নিখুঁতভাবে হবে, অন্য কোনকিছুর উপর কোন বিরূপ প্রভাব পড়বে না। Psycho control ব্যাপারটা এখন বিজ্ঞানের গবেষণায় এসে গেছে। আগামী দিনে হয়তো এর সুফল পাবে মানবসমাজ।
