জিজ্ঞাসু—নরওয়েতে যে Peace University হবে সেখানে কি শুধু শান্তির বার্তা গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়াটাই কাজ না কি অন্যান্য কাজও হবে ?
গুরুমহারাজ—কে শান্তির বাণী ছড়াবে ? যার নিজের জীবনে শান্তি নেই, সে কি করে অপরকে শান্তি দেবে ? Peace – University-র প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে যারা এই University-র সাথে যুক্ত হবে, তারা যেন জীবনে শান্তি পায়। শরীরে, মনে, প্রাণে অশান্তির আগুনে জ্বলছে গোটা পৃথিবীর মানুষের। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলি বা অনুন্নত জাতিরা জ্বলছে অভাব, অনটন ও নানান সমস্যা না মেটার জ্বালায়। বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন জ্বলছে অপরকে স্বমতে কেন আনতে পারছে না এই জ্বালায়। আর উন্নত দেশগুলি জ্বলছে একাকীত্ব, নিঃসঙ্গতা, প্রেমহীনতা, বিশ্বাসহীনতার জ্বালায়। এগুলি অবশ্য মনোজগতের জ্বালা, এর সঙ্গে রয়েছে দেহে রোগের জ্বালা বা যন্ত্রণা। আর সর্বোপরি রয়েছে প্রাণের জ্বালা—এটাই আধ্যাত্মিক জ্বালা। Peace University-তে মানুষের এই ত্রিবিধ জ্বালা বা যন্ত্রণা থেকে মুক্তির উপায় শেখানো হবে। সেগুলি শিখে বিভিন্ন মানুষ সমাজে তার প্রয়োগ করতে পারবে, তাহলেই মানুষের কল্যাণ হবে। আর তুমি যদি বল শান্তির বাণী ছড়ালেই কাজ হবে, তাহলে তো ভগবান বুদ্ধ আজ থেকে ২৫০০ বছর আগে মৈত্রী ও শান্তির ললিত বাণী শুনিয়েই রেখেছেন। যীশু বা হজরতও ভালোবাসা এবং শান্তির কথাই বলেছেন। ইসলাম কথাটার একটি অর্থই হচ্ছে শান্তি। কিন্তু বাস্তবে এসবের কোন প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না। সুতরাং ওভাবে হয় না। হাতে-কলমে—জীবনে জীবন যোগ করে বা অভ্যাসযোগের দ্বারা জীবনের কলা বা বাঁচার কলা রপ্ত করতে হয়। আর এটাই ওখানকার উদ্দেশ্য। Food habit এবং Life style-এর পরিবর্তন ঘটিয়ে এবং আসন, প্রাণায়াম ও ধ্যানশিক্ষা দিয়ে মানুষের দেহ ও মনের শুদ্ধিকরণ করা হবে, রোগমুক্ত করা হবে, আর দৈহিক ও মানসিক ব্যাধি মুক্ত হলেই মানুষ তখন আধ্যাত্মিক জগতে ভালোভাবে প্রবেশ করতে পারবে ও প্রকৃত শান্তির সন্ধান পাবে। আর একজন শান্তিপ্রাপ্ত, শান্ত ব্যক্তিই পারবে অপরকে শান্তির সন্ধান দিতে। Peace University-র এটাই উদ্দেশ্য। আর কখনোই ভেবো না যে, Univer sity মানে ওখানেও বাঁধা-ধরা, রুটিন মাফিক, নিয়মের নিগড়ে বাঁধা ছাত্র-ছাত্রীরা যন্ত্রের মতো কাজ করবে, পড়াশুনা করবে, শিখবে – না তা নয়। ওখানে সকলেই মুক্ত, সকলেই ছাত্র – সকলেই শিক্ষক। প্রতিটি মানুষের জীবনে উত্থান-পতনের ইতিহাস রয়েছে, প্রতিটি পৃথক পৃথক মানুষ পৃথক পৃথক ভাবে জীবনকে, জগৎকে দেখে এবং তাদের অনুভূতি পৃথক। সুতরাং জগৎ, জীবন ও ঈশ্বর সম্বন্ধে সকলেরই কিছু বক্তব্য রয়েছে, সেগুলি থেকে গ্রহণযোগ্যটাকে গ্রহণ করতে হবে। শুধু কয়েকজন দায়িত্বপ্রাপ্ত লোক বলবে আর বাকীরা সবাই copy করে নেবে—এটা প্রকৃত শিক্ষা হতে পারে না। হয়ত তাঁরা বেশী অভিজ্ঞ, বেশী জানেন
—তাই তাঁরা বেশী বলবেন বা তাঁদের কথাগুলি অধিক গ্রহণযোগ্য হবে। তবে অন্যান্য যাঁরা রয়েছেন তাঁদের বক্তব্যও শুনতে হবে এবং সেখান থেকেও কিছু নিতে হবে। এইভাবে পারস্পরিক আদান-প্রদানের মাধ্যমে সুন্দর সম্পর্ক গড়ে উঠবে এবং শিক্ষাও সম্পূর্ণতার রূপ পাবে। যেমন ধরো একজন কেমেষ্ট্রির professor, তিনি তো আর কার্পেন্টারী জানেন না, কিন্তু তিনি বাড়ীতে বিভিন্ন কাঠের ফার্ণিচার ব্যবহার করেন। সেগুলির সামান্য defect হলেই তাঁকে একগাদা টাকা খরচ করে কোন carpenter-কে ডেকে আনতে হয় অথবা তিনি চরম অসুবিধা ভোগ করতে থাকেন। এবার যদি সামান্য কিছু শিক্ষা একজন carpenter- এর কাছে শিখে নেন তাহলে হয়তো দেখা যাবে যে, তিনি নিজের কাজ নিজেই করে নিতে পারছেন। বর্তমানে মানুষ তো লেখাপড়া শিখে ঠিক আত্মনির্ভর হতে পারছে না – যথেষ্ট পরিমাণে পরনির্ভর। এখানে com- plete man করা যাবে কিনা জানি না তবে তার চেষ্টা করা হবে।
জিজ্ঞাসু—নরওয়ে ছাড়া ইউরোপের অন্যান্য দেশে আপনি গিয়েছিলেন—সেখানকার কথা বা সেখানকার মানুষের সঙ্গে আপনার আলোচনার কথা কিছু বলুন ?
গুরুমহারাজ—হ্যাঁ, নরওয়ে থেকে স্ক্যাণ্ডেনেভিয়ার অন্যান্য দেশ অর্থাৎ সুইডেন, ফিনল্যাণ্ড ইত্যাদি কয়েকটি দেশেও আমার আলোচনার ব্যবস্থা করেছিল ওরা। ঐ দেশগুলির কাজ সেরে আমি ইউরোপের অন্যান্য দেশে বিভিন্ন ব্যক্তি বা সংস্থার আমন্ত্রণে গিয়েছিলাম। High- tech age-এর ইউরোপ material science-এ কি উন্নতিই না করেছে !” এখানকার মানুষ ওদের উন্নতির কথা শুধু কল্পনা করতে পারে—বাস্তবে না দেখলে বিশ্বাস করা মুস্কিল। ইউরোপের দেশগুলির মধ্যে দেখলাম ইতালির climate বা ওখানকার মানুষের মানসিকতা অনেকটা ভারতের সঙ্গে মেলে। প্রাচীন ল্যাটিন এবং সংস্কৃতের সঙ্গেও মিল রয়েছে। বহুপূর্বে হয়তো ওখানকার মানুষের সঙ্গে এখানকার মানুষের সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিনিময় হোত। জার্মানীরা খুবই কর্মঠ, শারীরিকভাবে শক্তিশালী এবং স্বদেশপ্রেমী। ওরা বেশী কথা বলে না। রাস্তা-ঘাটে, ট্রেনে-বাসে ভারতীয়রা যেমন অনর্গল কথা বলে চলে, ওখানে তুমি সেটি একদমই পাবে না। যখন কোন ট্রেনে কেউ কারও পরিচয় জিজ্ঞাসা করে বা তার দেশ অথবা তার কাজকর্মের খবর নিতে যায়— তখন ইউরোপীয়টি অবশ্যই বলবে, “তুমি নিশ্চয়ই ভারতীয়”। জার্মানীতে ট্রেনে দেখবে অনেকে বসে আছে, যদিও ভারতবর্ষের মতো over-popu- lation তো ওসব দেশে নেই, তাই ট্রেন-বাস, দোকান-বাজার অনেকটাই ফাঁকা ফাঁকা, অনেক লোক তো ট্রেনে চাপে তবু দেখবে ট্রেনটা কেমন শান্ত, সবাই চুপচাপ বসে আছে, হয়তো কেউ কোন সংবাদপত্র বা maga- zine পড়ছে, না হয় কোন বই পড়ছে অথবা শুধুই বসে আছে, কিন্তু চুপচাপ। ইউরোপের বেশীরভাগ দেশেই ব্যবহারিক ভদ্রতা খুবই maintain করা হয়। কথায় কথায় “Excuse me”, আর ‘Thank you’। নরওয়েতে ‘থুজন থাক্’ অথবা ইতালীতে ‘গ্রাৎশিয়ে’ বলতে বলতে তোমার মুখ ব্যথা হয়ে যাবে। অন্তরজগতে হয়তো ভদ্র নয় আর ভালোবাসাও নেই তবু বাইরের ব্যবহারে প্রচণ্ড ভদ্রতা maintain করা হয় ওসব দেশে। মা ছেলেকে অথবা পিতা তার পুত্রকেও ‘I love you’ বলে তাদের ভালোবাসা জানায়। এগুলো সত্যিই ভারতীয়দের কাছে অবাক লাগারই কথা ।
ইতালীতে আমি অনেকদিন ছিলাম আর ওখানে আমার অনেক বন্ধুরাও রয়েছে। এদের মধ্যে ফ্রান্সিস্কো বা ফ্রাঙ্কো আমার বিশেষ বন্ধু । ও এখান থেকেই পরবর্তীতে সন্ন্যাসও নিয়েছে, এখন ওর নাম স্বামী প্রেমানন্দ। ও খুব ঘুরতে ভালোবাসে। ছোটবেলা থেকেই ওর ভারতবর্ষের প্রতি প্রচণ্ড টান ছিল। সম্ভবত ও পূর্ব জন্মে ভারতীয়ই ছিল। এখানকার আশ্রমের জন্যে খুবই চিন্তা করে এবং এখানকার অনাথ ছেলেদের জন্য ওদেশের মানুষের কাছে আবেদন করে এবং সাহায্য পাঠায়। এছাড়া ইলারিও, রুজেরো, আলেক্স ইত্যাদি ছেলেরাও আমার জন্য ভাবনা-চিন্তা করে। ওখানে একটা আলোচনাসভায় (sitting) কয়েকজন Artist এসেছিল। তারা আমার কথাবলার যে আঙ্গিক অর্থাৎ মুখভঙ্গি, হাতনাড়া ইত্যাদির মধ্যেও একটা বিশেষ Art দেখতে পেয়েছিল। একথা পরে আমাকে জিজ্ঞাসা করায় আমি ভারতীয় ‘মুদ্রা’ সম্বন্ধে ওদের বোঝালাম। এক-একটা মুদ্রা কি দারুণ অর্থবহ শুনে ওরা অবাক হ’ল । বললাম বোবাদের ভাষা নেই কিন্তু আন্তর্জাতিক বোবা সম্মেলন হলে ভাষা কি হবে ? অথবা বোবাদের ভাব বিনিময়ের মাধ্যম কি হবে ? নিশ্চয়ই অঙ্গিভঙ্গী। সুতরাং ঠিক ঠিক ভঙ্গিমা বা মুদ্রা সবসময়ই শুধু আন্তর্জাতিকই নয় universal language হতে পারে। ওরা বলল- ‘ওরা এটা নিয়ে ভাববে’। ওরা ভারতীয় পুরাণের গল্প নিয়ে আলোচনা করতে চাইল, আমি বললাম ব্রহ্মাকে সৃষ্টিকর্তা বলা হয়েছে। কিন্তু তাঁর পুত্র কশ্যপ থেকেই জীবের বিভিন্নতা আসে। ওখানে বলা হয়েছে কশ্যপের ১২টি স্ত্রী। কিন্তু প্রতিটি স্ত্রীর গর্ভজাতরা ভিন্ন ভিন্ন রূপ ও গুণবিশিষ্ট। যেমন কদ্রুর সন্তান নাগ, বিনতার সন্তান গরুড়, এইভাবে দিতির গর্ভজাতরা অসুর, সুরমার গর্ভজাতরা রাক্ষস, দনুর সন্তানরা দানব এবং অদিতির গর্ভজাতরা সুর বা দেবতা। এইভাবেই সৃষ্টিতে যে সরীসৃপ প্রজাতি, পক্ষী প্রজাতি ইত্যাদি মেরুদণ্ডী প্রাণীদের প্রজাতি রয়েছে তা ৮ প্রকার। মানুষের মধ্যেও বিভিন্ন স্বভাবের মানসিকতা রয়েছে আবার Anthropologist-রা যে চার প্রকার আদি মানবজাতির কথা বলেছে সেগুলিও ওখানে রয়েছে, যথা ককেশান, নিগ্রয়েড, অষ্ট্রালয়েড এবং মোঙ্গলয়েড। এগুলিকেই অদিতিপুত্র, সুরমাপুত্র, দনুপুত্র ও দিতিপুত্র বলা হয়েছে। এই সমস্ত বিজ্ঞানে গল্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বোঝানোর যে অসাধারণ Art পুরাণকার দেখিয়েছেন তা অনন্য।
এসব শুনে ওরা স্তম্ভিত হয়ে গেল। প্রকৃতপক্ষে ওরা ছিল ইতালির বিভিন্ন University-র Indology section-এর শিক্ষক, এসব শুনে ওরা ওদের Philosophy এবং Bio-science গ্রুপের professor-দের খবর দেয়। পরে পরে তারা অনেকে এসেছিল, আবার অনেকে তাদের University-তে আমন্ত্রণ করে নিয়ে গিয়েছিল। এইভাবে Europe-এর বিভিন্ন দেশের বিদ্যোৎসমাজ কিন্তু স্বামী পরমানন্দর নাম জেনে ফেলেছে। এখন তো Computer-এর যুগ। যে কোন section-এর professor ও গবেষকরা তো আমার বক্তব্যগুলো শুনেই Computer-এ load করে নিচ্ছিল আর নতুন নতুন website খুলে আরও তথ্য জানার বা ঐসব তথ্য পরস্পরকে দেবার চেষ্টা করছিল। এতে অনেক নতুন নতুন লোক ঐসব website থেকে আমার কথা জেনে গিয়েছিল। ইউরোপীয়দের চরিত্র ভারতীয়দের থেকে আলাদা। এখানকার মানুষ অনেক কিছু শুনবে, জানবে কিন্তু কার্যে প্রয়োগ করবে না। কিন্তু ওখানকার মানুষ যা নতুনকিছু শুনবে সেটাকেই কতক্ষণে কাজে লাগাবে তার জন্য যেন ব্যস্ত। আধুনিক বিজ্ঞান এখন 5th dimention নিয়ে গবেষণা করছে অর্থাৎ ‘মন’কে include করেছে। কিন্তু ওদেরকে আমি 7th dimention-এর রহস্য বলে এসেছি। ওরা শুনে বিস্মিত হয়েছে —accept-ও করেছে। ওরাই আমাকে বলল যে, এখন নতুন নতুন গবেষণার সূত্র রয়েছে ভারতীয় বেদ-পুরাণে। আপনি অনেক নতুন সূত্র আমাদের দিলেন। এসব কথা আমি এখানেও বলি কিন্তু ক’জন সেগুলোকে নিয়ে গবেষণায় মত্ত হয়। দেখবে আগামী দিনে ওরাই বিজ্ঞানের সাহায্যে তোমাদের আধ্যাত্মিকতার ব্যাখ্যা শেখাবে।
জিজ্ঞাসু—আপনি কি জার্মানীও গিয়েছিলেন ?
গুরুমহারাজ—হ্যাঁ, জার্মানীর শান্তি ফ্রেডরিকা রয়েছে না। এখানকার দীক্ষিত। তাছাড়া গেরহাদ এসেছিল বনগ্রামে, ওরাই ar- range করেছিল ওখানকার কিছু programme. পরে অবশ্য ওখানকার বিদ্যোৎসমাজ আমাকে অনেক জায়গায় আমন্ত্রণ করেছিল। যাইহোক আমি প্রথমে শান্তির বাড়ি যাই। ওঁর দিদি ফ্রান্সিস্কা তখন মৃত্যুশয্যায়। ওর দিদি India সম্বন্ধে প্রচুর পড়াশোনা করেছিল এবং এখানকার কৃষ্টি- সংস্কৃতির প্রতি খুবই আকৃষ্ট হয়েছিল। ফলে ও যখন চাকরি পেল তখন কিছু টাকা নিয়ে ও এদেশে চলে আসে এবং হিমালয়ের বিভিন্ন স্থানঘুরতে থাকে। সেখানে ও কোন প্রতারকের হাতে পড়ে এবং ওর টাকা-পয়সা এবং নারীত্ব দুটোই লুট হয়। জার্মানী প্রথম বিশ্বের দেশ, ফলে sexual connection-টা ওদের কাছে বড় কথা নয় কিন্তু যে আদর্শ নিয়ে ওদেশ থেকে এদেশে এসেছিল সেটায় ঘা পড়ায় ও খুবই মুষড়ে পড়ে। ওখানে ফিরে গিয়ে ও আবার নানারকম পড়াশোনা করতে থাকে এবং স্বামী বিবেকানন্দের কিছু লেখা ও রামকৃষ্ণ মিশন সম্বন্ধে জানতে পারে। ফলে second time ও আবার ভারতে আসে—এবার বিভিন্ন রামকৃষ্ণ মিশনগুলোয় ঘুরতে থাকে। কিন্তু দুর্ভাগ্য ওর পিছু ছাড়েনি। এখানেও ও কোন এক মিশনে প্রতারিত ও দৈহিকভাবেও লাঞ্ছিত হয়।
এই ঘটনা ওকে আর ওর মানসিকতাকে একেবারে বিপর্যস্ত করে দেয়। ও দেশে ফিরে গিয়ে মনোদুঃখে পাগলের মতো হয়ে যায় এবং ধর্ম ও আধ্যাত্মিকতার প্রতি ওর একটা বীতশ্রদ্ধ ভাব দেখা দেয়, ফলে ও স্থির করেছিল যে, ঐ কলুষিত জীবন আর রাখবে না। সেইজন্যই ও সমস্ত ঔষধ বা খাবার ত্যাগ করে মৃত্যুর প্রতীক্ষা করছিল। এইরকম একটা সময়ে আমি ওদের ওখানে পৌঁছেছিলাম। শান্তি নিয়ে গেল ওর দিদির ঘরে। কি অবস্থা ! বিছানায় শায়িত একটা কঙ্কাল, নারী না পুরুষ বোঝা যায় না ! অনাহারে, অপুষ্টিতে, ক্ষীণ-ক্ষয়িষ্ণু শরীর, আমি সকলকে ঘরের বাইরে যেতে বলে প্রথমেই কিছুটা শক্তি ওর শরীরে transfer করলাম। এর ফলে কিছুক্ষণের মধ্যেই ও উঠে বসল আর আমার সন্ন্যাসীর পোশাক দেখে খুব ঘৃণার দৃষ্টিতে দেখল। তারপর আমাকে জিজ্ঞাসা করল, “তুমি কে ?” আমি বললাম, “আমি তোমার সন্তান !” ও বলল, “তাহলে আমি তোমার কে ?” আমি বললাম, “তুমি আমার মা।” ও কেঁদে ফেলল। আমাকে কপালে চুম্বন করে বলল, “আজ থেকে তুমি আমার তৃতীয় ছেলে। ব্যাপারটা পরে জেনেছিলাম যে, রাশিয়ার president গরবাচেভ আর আমেরিকার presi- dent রেগন-কে ও আর দুটো ছেলে বলে মনে করে এবং তাদেরকে বিভিন্ন suggestion দিয়ে চিঠিও পাঠায়। বলাই বাহুল্য তারা অবশ্য এই পাগলী মায়ের সম্বন্ধে কিছুই অবগত নয়। সে যাইহোক, এরপর আমার সাথে ওর অনেক কথা হতে লাগল, ওই আমাকে ওর ভারতের তিক্ত-অভিজ্ঞতার কথা বলতে লাগল আর কাঁদতে লাগল। বলল- ঈশ্বর, ভগবান, যীশু, God সবার প্রতি ও আস্থা হারিয়েছে, কারণ কেউ-ই ওর কান্না শোনেনি। আমি বললাম ঈশ্বর, ভগবান, যীশু, God তোমার কান্না, প্রার্থনা শুনেছেন বলেই আমাকে তোমার কাছে পাঠালেন। ঘরে যখন এইসব বলছে, বাইরের লোকেরা তো অধৈর্য হয়ে উঠছে- এতক্ষণ পরমানন্দ একজন মুমুর্ষু রোগীর ঘরে কি করছে ! শান্তি ঘরে ঢুকে দেখল যে, ওর দিদি উঠে বসে আমার সঙ্গে গলগল করে কথা বলছে। ও বলল, ‘এমন অসম্ভব কি করে সম্ভব হল ? যাইহোক এরপর ও ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে গেল এবং আবার কাজে-কর্মে মন দিল। ও আবার India-য় এসেছিল, এবার অবশ্য এখানে অর্থাৎ বনগ্রামে। ও খুব সিগারেট খায়। আর আমাকে খুবই চিঠি লেখে। পৃথিবীর যে কোন দেশে যে কোন সমস্যা সৃষ্টি হোক না কেন, ও আমাকে চিঠি লিখে অনুরোধ করে –“পরমানন্দ ওই ব্যাপারটা একটু দেখো—ওটা যেন ঠিক হয়ে যায় !” একদম মাতৃভাব, পৃথিবীর সকল মানুষকে ও সন্তানব দেখে।
জার্মানীতে এখন (১৯৯০) দুই জার্মানী এক হবার হাওয়া। ওখানকার মানুষ নিজেরাই বার্লিন প্রাচীর ভেঙেছে, কোন মধ্যস্থতার দরকার হয়নি। পূর্ব জার্মানী কম্যুনিষ্ট এবং পশ্চিম জার্মানী ক্যাপিটালিষ্ট —রাজনৈতিকভাবে আলাদা করে দেওয়া হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর। এটা কায়দা করেই করেছিল মিত্রপক্ষ। তবু শেষ রক্ষা করতে পারল না–৫০ বছরের মধ্যেই দুই জার্মানী এক হয়ে গেল। ওখানকার মানুষ যে কি খুশি তা ভাষায় বোঝানো যাবে না। সমস্ত দেশে একদেশের মানুষ অন্য দেশে এলে Refugee বলে, একটা হেয় চোখে দেখে । আমাদের এখানেই ইংরেজরা বাংলাকে বিভাগ করে গেল মাত্র ক’দিন আগে। তবু ওখানকার মানুষকে Refugee, ওপার বাংলার মানুষ, বাঙাল ইত্যাদি বলে একটু হেয় করার চেষ্টা হয়, আর ওরাও যেন কেমন প্রথমটায় একটু Inferiority complex বা হীনমন্যতায় ভোগে। পরে অবশ্য ঠিক হয়ে যায়। যাইহোক ওখানে কিন্তু এসব হয়নি। দুই বার্লিন এক হবার পর হাজার হাজার নরনারী যেভাবে পরস্পরকে আলিঙ্গন করেছে। —welcome করেছে তা ওখানকার বা ইউরোপের সবদেশের T.V.- তেই বেশ কয়েকদিন ধরে দেখিয়েছে। বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দের মতামত নিচ্ছিল সাংবাদিকরা, তাতে দেখলাম ফ্রান্সের president স্পষ্ট বলে দিল যে, এই মিলনে আমরা (ফ্রান্সবাসী) চিন্তিত। কারণ অতীতের ইতিহাস থেকে জানা যায় যে, ফ্রান্সজাতি পর্যুদস্ত হয়েছে বা মার খেয়েছে একমাত্র জার্মানীদের কাছে। যতদিন দুই জার্মানী পৃথক ছিল, ততদিন ওরা যেন নিশ্চিন্তে ছিল, এবার আবার একজায়গায় আসাটা ওদের কাছে ভীতিপ্রদ।
ওখানের সমস্ত দেশই আর একটা T. V. programme অনেকদিন ধরে দেখিয়েছিল সেটা হ’ল রোমানিয়ার president চেওসেস্কুর মৃত্যুদৃশ্য, যেটা এখানকার T.V. প্রায় একদমই দেখায়নি। কিভাবে চেওসেস্কুরকে ধরা হ’ল, কিভাবে গণ-আদালতে তার ও তার স্ত্রীর বিচার হল এবং সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যুর রায়ও হয়ে গেল। গণ-আদালত কেমন জানো তো— সেনাবাহিনী ওদের দুজনকে বেঁধে টানতে টানতে একটা উঁচু জায়গায় তুলল আর সেখানে হাজার হাজার জনগণ উপস্থিত। সেনাবাহিনীর কমাণ্ডার চিৎকার করে বলল বন্ধুগণ, এই সেই অত্যাচারী, দুরাচারী president, যে দেশের মানুষের এই এই ক্ষতি করেছে, নিজের জন্য এই এই কাজ করেছে ইত্যাদি। তারপর বলল – বন্ধুগণ তাহলে আপনাদের বিচারে এর শাস্তি কি ? জনগণ সমস্বরে বলে উঠল— ‘মৃত্যু’। ব্যস এটাই গণ-আদালতের রায়। আর তা সঙ্গে সঙ্গে কার্যকরী। ঐ মঞ্চেই ওদেরকে টানতে টানতে নিয়ে গিয়ে আংটার সঙ্গে বাঁধল আর তারপরেই দু’জন কমাণ্ডার position নিয়ে এ’কে ৪৭ বা ঐ ধরণের রাইফেল থেকে অন্তত দুজনের উপর ২৫০ করে ৫০০ রাউণ্ড গুলি চালাল। এই হচ্ছে গণ-আদালত আর তার বিচার-ব্যবস্থা। অত গুলি চালানো দেখে বোঝা যাচ্ছিল president-এর উপর মানুষের কতটা ঘৃণা হয়েছিল। তবে দেখছিলাম কি জানো—অতবড় যে লোকটা যার দোর্দণ্ড প্রতাপ, যে একটা দেশের president, সেও কিন্তু সাক্ষাৎ মৃত্যু তার সামনে যখন বুঝতে পারল তখন চিৎকার করতে লাগল, কণ্ঠস্বর মেয়েলি হয়ে গেল, প্রাণভিক্ষা চাইছে, তা-ও ভয়ে কথা বেরুচ্ছে না। সৈন্যরা যখন মঞ্চে নিয়ে যাচ্ছে তখন আর নিজে হাঁটতে পারছে না ঠক্ঠক্ করে কাঁপছে, পায়ে খুঁট দিতে পারল না। সৈন্যরা ছেঁচড়ে ছেঁচড়ে নিয়ে গেল। ঐ দৃশ্য দেখে আমার মনে পড়ে যাচ্ছিল ভারতবর্ষের স্বাধীনতায় সৈনিকদের কথা, আমাদের দেশপ্রেমিকদের কথা। ‘ফাঁসির মঞ্চে গেয়ে গেল যারা জীবনের জয়গান’। হাসিমুখে ফাঁসির দড়ি নিজের গলায় পরেছে—জল্লাদের হাত থেকে দড়ি কেড়ে নিয়ে নিজে গলায় পরেছে, মুখে গীতার শ্লোক বলতে বলতে ভারতমাতার জয়ধ্বনি দিতে দিতে তারা বীরদর্পে ফাঁসির মঞ্চের দিকে এগিয়ে গিয়েছে আর এদিকে একি কম্যুনিষ্ট বীরকে দেখছি ! ভারতের স্বাধীনতা-সৈনিকদের প্রতি শ্রদ্ধায় আমার মাথা নত হয়ে গেল। সত্যিই পৃথিবীর ইতিহাসে এরূপ বীরদের আখ্যান খুব কমই আছে। মৃত্যুর সামনা-সামনি হয়েও নির্ভয় থাকা এটা বড় কম কথা নয় ! এর পিছনে রহস্য কি বলো তো—গীতা। গীতার অমোঘ শ্লোক—“নৈনং ছিন্দন্তি শস্ত্রাণি নৈনং দহতি পাবকঃ। ন চৈনং ক্লেদয়ন্ত্যাপো ন শোষয়তি মারুতঃ ৷ ” এই শ্লোকগুলির ব্যাখ্যা যখনই অগ্নিমন্ত্রে দীক্ষিত সৈনিকদের শোনানো হোত তখনই তারা বুঝতে পারত যে, আত্মা অবিনশ্বর, এর জন্ম নেই, মৃত্যু নেই, অস্ত্র তাকে ছিন্ন করতে পারে না, আগুন তাকে দগ্ধ করতে পারে না, জল তাকে সিক্ত করতে পারে না। আত্মা মরে না শুধু জীর্ণ বস্ত্রের পরিবর্তে নতুন বস্ত্র পরিধানের মতো শরীর পরিবর্তন করে মাত্র। এই শিক্ষাই মানুষকে মৃত্যুঞ্জয় করতে পারে—অন্যথায় কোন “বাদ’ দিয়ে বা কোন স্কুল-কলেজের ডিগ্রি দিয়ে এটা করতে পারবে না। এখন কিছু কিছু জঙ্গী সংগঠনে suicide-squad তৈরী হয়েছে। এরা কিন্তু জ্ঞানী বা মৃত্যুঞ্জয়ী নয়—এদেরকে বিভ্রান্ত করা হয়, মৃত্যুর পর বিশেষ সুখ-সুবিধা, ভোগ-সম্মান ইত্যাদির লোভ দেখানো হয়। ফলে এরা বিভ্রান্তির শিকার হয়—মৃত্যুর পর ঐ সব আকর্ষণীয় বস্তুলাভ তো হয়ই না বরং নিদারুণ যন্ত্রণা-ভোগের শিকার হয় এরা।
এবার আবার একটু প্রসঙ্গান্তরে যাই। পশ্চিম জার্মানীর বিভিন্ন শহরে ট্রেনে, বাসে যাত্রীরা খুবই চুপচাপ, হয় magazine পড়ছে নয়তো Newspaper অথবা Journal, নয় official কাগজপত্র ঘাঁটাঘাঁটি করছে, কিন্তু কেউ কারও সাথে কথা বলছে না। গোটা ট্রেনে আশ্চর্য নিস্তব্ধতা। আমার ভারতীয় বা বাঙালী সংস্কার, প্রথমটায় অদ্ভুত লাগছিল। আমার সঙ্গীদের কাছ থেকে জানলাম যে, ভ্রমণকালীন ওরা নিজেও কারও সাথে কথা বলে না আবার কেউ বললেও বিরক্ত হয়। এমন কি হয়তো বলে বসে, “আপনি নিশ্চয়ই এশিয়ান !” অর্থাৎ এশিয়ার মানুষেরা বেশী কথা বলে, আর ইতালি এবং গ্রীসের লোকেরাও একটু বেশী কথা বলে । ইউরোপের বেশিরভাগ অংশের লোক রাস্তাঘাটে কথা বলা পছন্দ করে না। জার্মানীতে আর একটা জিনিস ভারতীয়দের চোখে দৃষ্টিকটু লাগবে যেখানে সেখানে অর্থাৎ Railway platform, Compartment-এ বা একটু ফাঁকা জায়গায় প্রেমিক-প্রেমিকার open sex
ফ্রান্সেও এটা খুব রয়েছে। তবে দেখবে অচিরেই প্রকৃতির মারে এসব উঠে যাবে। Aids বর্তমানে যেভাবে ইউরোপ-আমেরিকায় ছড়াচ্ছে তাতে free-sex ব্যাপারটাই ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এমনিতে ওরা তো ভীষণ শরীর-সচেতন। যেখানে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোয় এখনও (১৯৯০) সরকারি বা বেসরকারিভাবে তেমন প্রচারই শুরু হয়নি, ওসব দেশে জনগণ রীতিমতো সতর্ক হয়ে গেছে। Cur- rent Blood-report না দেখে কোন ছেলে-মেয়ে আর মেলামেশাই করছে না। সমাজতত্ত্ববিদরা আবার ভারতীয় রীতির বিবাহ অর্থাৎ একটা পুরুষ একটা নারীর আজীবন সম্পর্কের ভালোদিক নিয়ে প্রচার শুরু করে দিয়েছে। শিক্ষিত যুবকেরা interested-ও হচ্ছে।
যাইহোক জার্মানীরা ভীষণ পরিশ্রমী। কোন রাস্তাঘাট ভেঙে গেলে বা Hurricane-এ কোন এলাকা বিপর্যস্ত হয়ে গেলে এত দ্রুত ঠিক করে দেয় যে, এখানকার লোকেরা ভাবতেও পারবে না। ওরা নিজেদের ‘ডইচ্’ বলে— জার্মানী বলে না। ‘জার্মানী’ এই নামটা ইংরেজদের দেওয়া। যেমন গ্রীকরা নিজেদেরকে হ্যালাস্ (Hallas) বলে, Greek নামটাও ইংরেজদের দেওয়া। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের খুবই স্বাভিমানবোধ রয়েছে এবং বেশীরভাগ দেশই ইংরেজদেরকে পছন্দ করে না। ঠিক ‘ঘৃণা’ শব্দটা না ব্যবহার করে বলা যায় উপেক্ষা করে বা ভালো চোখে দেখে না। আমাদের পুরাণাদি শাস্ত্রে ‘দৈত্য’ কথাটি রয়েছে। যাদের বিশাল শরীর, খুবই ক্ষমতা, খুব খেতে পারে—এই ‘দৈত্য’-রাই ‘ডইচ্’, এদেরকে ‘দিতি’-র সন্তান বলা হয়েছে। ওরা জার্মানীকে বলে ‘ডইল্যাণ্ড’ (Doichland) অর্থাৎ ‘দৈত্যস্থান’।
প্রথম বিশ্বের দেশ হলে কি হবে—ওখানেও নানারকম ঠক, অপরাধী সবই রয়েছে। তবে প্রথম বিশ্বের প্রশাসন বা ধান্দাবাজ, আইন খুবই কড়া, ফলে হয়তো অতটা openly হয় না কিছুটা বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে হয় এই যা তফাৎ। একদিন ওখানকার ‘মিউনিখ্’ শহরে আমার একটা আলোচনাসভা চলছিল। কয়েকটি যুবক আমাকে নানান জিজ্ঞাসা করছিল এবং আমি তার উত্তর দিচ্ছিলাম। আলোচনা বেশ জমে উঠেছে, ছেলেগুলিও interest পাচ্ছে, এমন সময় একজন প্রৌঢ়া ভদ্রমহিলা আমার কাছে উঠে এসে আমাকে বলল, “দেখো তুমি বয়সে আমার ছেলের মতো, কিন্তু কথা বলছ আমার বাবার বয়সী লোকের মতো। কিন্তু এই পরিবেশে এসব ছেলেছোকরাদের সামনে এসব কথা বলে লাভ কি ? এরা এসব কথার অর্থ কি বুঝবে ? তার চেয়ে আমার সাথে চলো, আমাদের একটা Society আছে, সেখানে অনেক বয়স্ক, জ্ঞানী-গুণী মানুষেরা আছেন, তাঁদের কাছে তোমার এইসব বক্তব্য মর্যাদা পাবে, তাঁরাও তোমার কাছ থেকে অনেক নতুন কথা শিখতে পারবেন। চল আমার সঙ্গে”। মায়ের মতো ভদ্রমহিলার কথা গুরুত্ব না দিই কি করে—আমি যাব কি না ভাবছি—এমন সময় ছেলেগুলি বলে উঠল, “Sir, আপনি যাই করুন ওনার সাথে যেন যাবেন না–ও একজন পিম্প (pimp)।” প্রৌঢ়ার দিকে তাকিয়ে দেখি ওনার মুখমণ্ডল বিবর্ণ হয়ে গেছে, উনি খুব দ্রুতপায়ে স্থানত্যাগ করলেন। এইরকম ইউরোপের বিভিন্ন জায়গায় নানান ঝামেলায় পড়তে হয়েছে। ইস্তাম্বুলে আমি আর বিয়ন ঘুরছি—দুজনারই আলখাল্লার মতো পোশাক, আমার গেরুয়া, ওর নীল, আমার মাথায় একটা Ribon বাঁধা ছিল ফেটির মতো। কৃষ্ণ- সাগরের তীর ধরে হাঁটছি—বেশ ভালো লাগছে। হঠাৎ কয়েকজন মহিলা এসে নানান প্রলোভন দিচ্ছে—ওরা ভেবেছে আমরা বোধহয় আরবের কোন ধনী শেখ। আমি উর্দুতে ওদের নানাভাবে বোঝানোর চেষ্টা করলাম তবু ওরা পিছু ছাড়ে না। তখন আমি ওদের কোরান- শরীফ থেকে ধর্মীয় কথাবার্তা বলতে শুরু করলাম। ওরা কিছুক্ষণ শুনল, তারপর ‘আদাব’ জানিয়ে সরে পড়ল। যাবার সময় বলল, ‘আপনি হাজি তা আগে বলবেন তো !’ আমাদের একজন ভক্ত তার নাম বলব না, তাকে তো প্রলুব্ধ করে নিয়ে গিয়ে ব্যাগপত্তর এমনকি জামাকাপড়ও কেড়ে নিয়েছিল। সম্পূর্ণ জামাকাপড় খোলার পর ও কাতর হয়ে অন্তত হোটেল পর্যন্ত যাবার জন্য কিছু পোশাক চেয়েছিল। তাতে ওরা ওকে একটা Newspaper ছুঁড়ে দিয়ে বলেছিল, “এইটা জড়িয়ে নিয়ে হোটেলে যা’। ভাব একবার। আমাদের দেশে বোধহয় এতটা হয় না।