জিজ্ঞাসু – আপনি বলেছিলেন আপনার চলা খুব fast, যা সাধারণের সাথে মেলে না! কিন্তু এই বিশেষ চলার রহস্য টা কি ?

গুরুমহারাজ:—এইগুলি দীর্ঘ যোগাভ্যাসের ফল।যোগবিজ্ঞান যিনি জানেন, তাঁর অনেক কিছুই করায়ত্ত হয়। বহু যোগী আছেন, যাঁরা ইচ্ছামত শরীরকে হাল্কা করে নিয়ে জল-কাদার উপর দিয়ে চলে যেতে পারেন। অনেকে শূন্যে ভাসমান অবস্থায় বহুক্ষণ থাকতে পারেন। বরদাচরণ মজুমদার ছিলেন এরকমই একজন যোগী, যিনি বহুক্ষণ আসনে বসে থাকলে gravitationless হয়ে যেতেন এবং চেয়ারে বসে থাকা অবস্থাতেই চেয়ার সমেত শুন্যে ভেসে যেতেন ! উনি মুর্শিদাবাদের লালগোলা অঞ্চলে হাইস্কুলে শিক্ষকতা করতেন । এই ধরণের ঘটনা অনেক সময় ক্লাশরূমেই ঘটে যেতো। ফলে তৎকালীন সময়ে অনেকেই এই ঘটনা নিজের চোখে দেখেছিলেন।

এই মহাত্মা তৎকালীন বিপ্লবীদের অগ্নিমন্ত্রে দীক্ষিত করতেন এবং যোগের নানান কৌশল সকলকে শেখাতেন !

একটা জিনিষ খেয়াল করে দেখবে যে__ভারতীয়(বিশেষতঃ বাঙালি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ছিল steel nerve ! ফাঁসির দড়ি গলায় পড়তে যাচ্ছে হাসিমুখে, বীরদর্পে ‘বন্দে মাতরম্’ ধ্বনি দিতে দিতে—ভাবা যায় ! এটা কাপুরুষের কর্ম নয়, বিপ্লবীদের মনের অবস্থা এই জায়গায় পৌঁছে দিতে বরদাচরণের অপরিসীম ভূমিকা ছিল।

তবে, দেখা যায় সাধারণত পায়ের গোড়ালি পেতে যারা চলে, তারা উচ্চচিন্তার অধিকারী হয়। এমন যদি কাউকে দেখো, তাহলে জানবে যে, সে নিতান্ত সাধারণ নয়। এরা যে সবসময় সাধু-সন্ন্যাসী হবে তা হয়তো নয় —কিন্তু এরা অন্য জগতের লোক। আর পাঁচজন সাধারণ মানুষের সঙ্গে এদের মেলাতে পারবে না।

আবার যারা পুরো পা পেতে চলছে – জানবে তারা ভোগী। তারা ঘোর সংসারী হয়েই জীবন কাটাবে।