আশ্রমের বাগানে হাস্নুহানা ফুল ফুটেছে, তার সুগন্ধ পাওয়া যাচ্ছে বিকাল বেলায়। গুরুজী সিটিং-এ বসেই বাগানে কর্মরত স্বামী তপেশ্বরানন্দ মহারাজকে গন্ধের উৎস সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারলেন যে, ওটা হাস্নুহানার-ই গন্ধ কারণ গাছটিতে সবে সেইদিনই(ঐ season-এ) প্রথম ফুল ফুটেছিল। গুরুজী বলতে লাগলেন : চাঁপা, হাস্নুহানা এদের গন্ধ একটু উগ্র। কিন্তু বকুল, যুঁই, বেল এদের গন্ধ বেশ মিষ্টি। এখানে বিভিন্ন ধরণের ফুলগাছ আছে — পৃথক পৃথক ভাবে গন্ধ শুঁকলে এদের প্রত্যেকের তফাৎ বেশ বোঝা যায়। তবে আশ্রমের বাগানের যে কোনো গাছ থেকে ফুল ছিঁড়লেই আমার কষ্ট হয়। এখানে অনেক সাধক গাছ হয়ে রয়েছে, সবাই তো তাঁদের চেনে না ! অকারণে ফুল ছিঁড়লে গাছেরা কষ্ট পায়।আর ওদেরকে কষ্ট দিলে ওরা আমার কাছে পরে complain করে ! রাত্রে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে তাদের কাছে গিয়ে আমাকে আবার গাছগুলিকে আদর করতে হয়।

এই আশ্রমের সবকিছুই অন্যরকম। এখানকার পরিবেশ ভারতবর্ষের কোনো অঞ্চলের সঙ্গে মিলবে না। এটা যেন International স্থান—যদিও আশ্রমের বেশিরভাগ গাছই ভারতীয় গাছ কিন্তু এখানে বিদেশী গাছ বা হিমালয়ান climate-এর গাছ লাগালেও তা বাঁচবে এবং বাড়বে। এখানকার পরিবেশ অন্যরকম বলে এখানকার গাছগুলি season বুঝতে পারে না, confused হয়ে যায়, অসময়ে ফুল-ফল দিয়ে বসে। এই আশ্রমের পুরো জায়গাটার vibration ভিন্ন প্রকৃতির, যা কোনো জায়গার সঙ্গে মেলে না। এইজন্যই আশ্রমের কোনো boundary wall নাই, প্রকৃতপক্ষে এই আশ্রম হোলো Human University । বনগ্রাম আশ্রমের area-র যে কোনো স্থানে বসে ধ্যান- জপ করলে এখানকার vibration তাকে সাহায্য করবে। এর জন্য বিশেষ কোনো নির্দিষ্ট স্থান বা বিশেষ নির্দিষ্ট কোনো আসনের প্রয়োজন নেই—যে কোনো স্থানে কেউ বসলেই তার ধ্যান জমবে। এটা যেন একটা শক্তির ব্যাঙ্ক, শক্তি এখানে reserve করা আছে। যে কেউ উদ্যোগী হবে—এই স্থান তাকেই সাহায্য করবে ! আমার হয়তো ততদিন শরীর থাকবে না কিন্তু কালে এখানে হাজার হাজার সাধক সিদ্ধ হবে।

এই স্থানের এবং এই আদর্শের স্থায়িত্ব ৫ হাজার বছর পর্যন্ত হোতে পারতো_ যদি গ্রাম থেকে আসা রাস্তাটা আশ্রমের পূর্ব প্রান্ত দিয়ে যেতো। কিন্তু আশ্রমের মাঝখান দিয়ে রাস্তা যাওয়ায় অতোটা হবে না। মাঝ বরাবর রাস্তা থাকায় আশ্রমের vibration অনেকাংশে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে, এর স্থায়িত্বকাল অনেকটাই কমে যাবে। এছাড়া বর্তমানে(১৯৯০-৯১) এখানে যেটুকু খুঁত, তা হোলো গ্রামের ছেলেরা আশ্রমের মাঠে বল খেলা করতে আসে। নানারকম ছেলে আসে—অনেকে বাজে কথা বলে, নানারকম কুৎসিত ভাব ছড়ায়, এতে আশ্রমের vibration খুবই hamper হয়। অনেক সময় আমাকে আবার গভীর রাতে মাঠের মধ্যে গিয়ে এই negative ভাবসমূহকে neutralise করতে হয়। গ্রামের ছেলেরা মাঠটা এখন ছাড়ছে না–হয়তো ভাবছে যে, ওদের আর আশ্রমে ঢুকতে দেওয়া হবে না—এই ভয় পাচ্ছে। ওরা ব্যক্তিগতভাবে অনেকেই আমাকে ভালোবাসে, কোনো ভাল জিনিস খাবার আগে আমার কথা চিন্তা করে। কিন্তু sentiment ছাড়তে পারছে না । পরে অবশ্য ঠিক হয়ে যাবে। মাঠটা ছাড়তে পারছে না বলে কিন্তু গ্রামের ছেলেরা suffer-ও করছে। লক্ষ্মী এবং সরস্বতী-জনিত কষ্ট পাচ্ছে ওরা। বাস্তুবিজ্ঞান অনুযায়ী যে স্থান যে জন্য, তা সেই কাজেই ব্যবহার করতে হয় অন্যথায় কষ্টভোগ করতে হয়। ওরা তা করছে না, তাই কষ্ট পাচ্ছে।

যাইহোক, এই সমস্যা বেশীদিন থাকবে না—সব স্বাভাবিক হয়ে যাবে। আশ্রমের পরিমণ্ডল সম্বন্ধে যা বলছিলাম সেগুলিই বলি। এই আশ্রমে কোনো মন্দির বা মূর্তিপূজার ব্যবস্থা থাকবে না। এখানে আলাদা করে শক্তিপূজা বা শিবপূজার প্রয়োজন নেই। এখানে জীব শিব হবে। এখানে Head, Heart এবং Muscle এই তিনের manifestation ঘটবে।

1) Head completely manifested হোলে মানবজীবনে আসে Knowledge, যার বহিঃপ্রকাশ Wisdom।

2) Heart completely manifested হোলে আসে Love, যার বহিঃপ্রকাশ Compassion I

3) Muscle completely manifested হোলে আসে Strength, যার বহিঃপ্রকাশ Service ।

এই তিনটির সম্পূর্ণ manifestation হোলেই সাধকের জীবনে Wisdom, Compassion এবং Service-এর সম্পূর্ণ প্রকাশ ঘটতে দেখা যায় ৷ এটাই ঈশ্বরত্বে উত্তরণ—এটাই জীবের শিব হওয়া।

বনগ্রাম পরমানন্দ মিশন স্থাপনের এটাও অন্যতম উদ্দেশ্য হোলো এই যে, এখানে শত শত সাধক এসে তাদের সাধনপথের শেষ সোপানে এসে পৌঁছাবে। জীব অবস্থার মানুষও Head, Heart এবং Muscle, এই তিনের manifestation ঘটিয়ে ধীরে ধীরে শিবত্ব- স্থিতি লাভ করবে।