জিজ্ঞাসু:–গাধা আর খচ্চর কি আলাদা প্রজাতি ?

গুরুমহারাজ:—হ্যাঁ, ঘোড়া আর গাধার cros breeding-এর ফল হোচ্ছে খচ্চর। কথিত আছে বিশ্বামিত্র একবার নতুন বিশ্বসৃষ্টি করার সংকল্প করে কিছু নতুন প্রাণী সৃষ্টি করেছিলেন, তার মধ্যে মহিষ, খচ্চর এগুলি পড়ে। এখানে ব্যাপারটা হোচ্ছে—এই প্রাণীগুলোকে কিন্তু কৃত্রিমভাবে প্রজনন ঘটিয়ে করানো হয়নি, এরা natural-ভাবেই cros-breeding -এর ফলে সৃষ্টি হয়েছে। Nature এদের accept করেছে, তাই ওরা হাজার হাজার বছর ধরে টিকে আছে, না হোলে কবে বিলুপ্ত হয়ে যেতো। বনে-জঙ্গলে পশু-পাখীদের ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির মধ্যে যৌনমিলন হামেশাই হয়ে থাকে, কিন্তু নতুন প্রজাতির সৃষ্টি হয় কি–হয় না। কোনো সময় পৃথিবীর তৎকালীন পরিবেশে হঠাৎ করে natural-ভাবেই এটা হয়ে যায়। আর সেই থেকে প্রকৃতিতে একটি নতুন প্রজাতির জন্ম হয়। জীবনবিজ্ঞানের ‘মিউটেশন’ ব্যাপারটা এই ভাবেই আসে। বিশ্বামিত্রের ব্যাপারটা এখানে এমন হয়েছিল যে, তৎকালীন আর্যাবর্তে খচ্চর, মহিষ এই প্রাণীগুলি ছিল না, উনি অন্য স্থান থেকে এদের দ্বারা কাজের সুবিধার জন্য আর্যাবর্তে আমদানি করেছিলেন। পাহাড়ি রাস্তায় মাল বইবার কাজে খচ্চর খুবই উপযোগী। তাই পাহাড়ি এলাকায় প্রায় প্রতি বাড়ীতেই খচ্চর পোষে। গাধাও মাল বইবার কাজে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু ঘোড়ার স্বভাব-প্রকৃতি বা আভিজাত্যের কাছে কিন্তু বাকী দুটো প্ৰজাতি ম্লান । আজকের দ্রুতগামী যন্ত্রযান আবিষ্কারের আগে পর্যন্ত ঘোড়ার ব্যবহার মানুষের কাছে অপরিহার্য ছিল। দূরপাল্লার যাত্রা বা যোগাযোগ রক্ষার ক্ষেত্রে ঘোড়াকে ছাড়া অন্য কিছু তখন ভাবাই যেতো না। কারণ ঘোড়া দিনরাত সমানে ছুটতে পারে—সহজে ক্লান্ত হয় না। সমভূমি, পাহাড়ি- রাস্তা অর্থাৎ চড়াই বা উৎরাই অথবা জলাভূমি বা তৃণভূমি যে কোনো পথেই ঘোড়া ছুটে চলবে। সওয়ার ক্লান্ত হয়ে যাবে কিন্তু ঘোড়া সহজে ক্লান্ত হবে না।

তবে বুনো ঘোড়াকে বশ মানিয়ে তাকে কাজে লাগানোও চাট্টিখানি কথা নয়। সহজে বশ মানতে চায় না বুনো ঘোড়া। ওস্তাদ Trainer না হলে বা ভাল করে তাকে কাবু না করে যদি ঘোড়ার পিঠে চাপা হয় তাহলে ঘোড়া সামনের দু’পা তুলে দিয়ে ঘুরে ঘুরে সওয়ারকে নিচে ফেলে দেবে, আর তারপরই পিছনের পায়ের সজোরে লাথি, একেবারে হাড় গুঁড়ো করে দেবে। বহু সওয়ারের এইভাবেই মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু ঘোড়া যদি একবার বশ মেনে যায় তাহলে তার মতো বন্ধু আবার খুব কম পাওয়া যায়। প্রভুর বিপদ বুঝলে ঘোড়া নিজের জীবনের বিনিময়েও তার জীবন রক্ষা করে থাকে। এমন অনেক ঘটনা শোনা যায় যে, ঘোড়াটি হয়ত বাড়িতে রয়েছে আর তার প্রভু বা মালিক বহুদূরে কোনো বিপদে পড়েছে অর্থাৎ তার প্রাণসংশয় হয়েছে – সেক্ষেত্রে ঘোড়া বাড়ি থেকেই এই বিপদের কথা জানতে পারে এবং হয়তো তার পায়ের দড়ি বা শিকল ছিঁড়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। একমাত্র মা-ই সন্তানের বিপদের কথা আঁচ করতে পারে – ঘোড়ার মধ্যে এই অদ্ভুত ক্ষমতা রয়েছে, অবশ্য পশুদের মধ্যে কুকুরেরও এই ধরণের আশ্চর্য ক্ষমতা রয়েছে—কুকুর এমন ঘটনা ঘটিয়েছে এমন নজিরও পাওয়া যায়।

বুনো ঘোড়ার Trainer-রা নানারকমভাবে ঘোড়াকে আগে শান্ত করে, তারপর তার নাকসমেত উপরের চোয়াল চেপে ধরে থাকে দীর্ঘক্ষণ— এতে ঘোড়া খুবই কাবু হয়ে পড়ে। এটা ঘোড়ার কি ধরণের ‘সাইকোলজি’ কে জানে ! কিন্তু এমনটা করতে পারলেই ঘোড়া সেই Trainer-কে ভয় পেতে বা মান্য করতে শেখে। তখন Trainer তার মুখে লাগাম আটকে ঘোড়ার পিঠে চড়ে তাকে বাগে আনে।।