গুরু মহারাজ :- নামটা শুনে বলছ বোধহয় ! Protestant বা প্রতিবাদী ৷ খ্রীষ্টান ক্যাথলিক ধর্মযাজকদের নানারকম গোঁড়ামি , অনাচার , ভন্ডামির বিরুদ্ধে প্রথম বড়সড় প্রতিবাদ হয়েছিল মার্টিন লুথারের নেতৃত্বে ৷ তাছাড়াও কেলভিন বা অন্যান্য কয়েকজনও প্রতিবাদী ছিল ৷ এদের সকলের নাম অনুযায়ী আলাদা আলাদা খ্রীষ্টান সম্প্রদায় রয়েছে। ফলে খ্রীষ্টান জগতে যে দুটো ভাগ_তা নয়!!লুথারিয়ান, পিউরিটান ইত্যাদি আরো অনেক রয়েছে। এদের আলাদা আলাদা ধর্মস্থান বা গীর্জাও রয়েছে , এদের সকলেরই ধর্মগ্রন্থ বাইবেল কিন্ত নিজ নিজ মতের প্রতিষ্টাতার শিক্ষা অনুযায়ী ক্রিয়া-কর্ম বা আচার-অনুষ্ঠানে কিছুটা পার্থক্য দেখা যায় ৷ তবে যে সময়ে (ষোড়শ শতক) এই আন্দোলন দানা বেঁধেছিল এবং Protestant -রা মূল ক্যাথলিক চার্চ ছেড়ে বেড়িয়ে এসেছিল, সে সময় সাধারণ খ্রীষ্টধর্মাবলম্বীদের — ধর্মযাজকদের দ্বারা খুবই অত্যাচারিত হতে হত ৷ ঈশ্বরের নামে , যীশুর নামে ধর্মযাজকেরা সাধারণ মানুষ এমন কি রাজন্যবর্গের উপরেও কর্তৃত্ব করতো!
মানুষের যখন সহ্যের সীমা অতিক্রম করে যায় — তখনই সে বিদ্রোহ করে বা বিকল্পের খোঁজ করে ৷ যাইহোক , এইভাবে খ্রীষ্টানধর্মে Protestant -দের জন্ম হয়। কিন্তু এটাতো মাত্র কয়েক’শ বছর আগের ইতিহাস !
এমনিতে Bible -ই লেখা হয়েছিল যীশুর মৃত্যুর অনেক পরে ৷ প্রথম Bible লেখা হয়েছিল প্রাচীন ল্যাটিন ভাষায় ৷ অন্য কোন ভাষায় তখনও পর্যন্ত কোন Bible ছিল না! অথচ যীশু কথা বলতেন ‘অ্যারামাইকে’! জার্মানীরা প্রথম Latin -থেকে নিজেদের ভাষায় Bible অনুবাদ করেছিল। পরে ইউরোপীয়রা তাদের নিজের নিজের ভাষায় অনুবাদ করতে থাকে। আর এখন তো পৃথিবীর সব ভাষাতেই Bible পাওয়া যায়। তবে গোঁড়ামি নিয়ে যা কথা হচ্ছিল — সেই প্রসঙ্গে বলা যায় যে , দেখা গেছে Semetic -দের মধ্যেই ‘গোঁড়ামি’ ব্যাপারটা প্রচন্ড পরিমানে রয়েছে ৷ ওদের যে কোন চিন্তায় ‘গোঁড়ামি’ প্রাধান্য পেয়েছে , নিজেদেরটা ঠিক — অপরেরটা বেঠিক, অতএব তা একদম-ই বর্জনীয়! আর এই ব্যাপারটাই ওদের চেতনার উন্নতির পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ৷ যেটুকু চেতনার উন্নতি ওদের হয়েছে সেটা আর্য্যচিন্তার স্পর্শ পেয়ে। ভারতবর্ষে আসার পর থেকেই যে ওদের শিল্প , সাহিত্য , সঙ্গীত , নৃত্য ইত্যাদি বিভিন্ন কলার উৎকর্ষতা লাভ করেছে, তা Semetic -দের আগেকার ইতিহাস ঘাঁটলেই স্পষ্ট বোঝা যায়। বহু প্রাচীনকালে ব্যাবলনীয় সভ্যতার সময় ওই সমস্ত অঞ্চলের সাথে বর্তমান ভারতবর্ষের উত্তর বা উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের রাজন্যবর্গের খুবই যোগাযোগ ছিল ৷ তৎকালীন ভারতবর্ষের অন্তর্ভুক্ত বা মিত্ররাষ্ট্র হিসাবে ছিল ওই সব অঞ্চল।
আর ভারতবর্ষে মুসলমান অনুপ্রবেশ বা রাজত্ব তো সেদিনকার কথা! মধ্য এশিয়ার যে দেশগুলি থেকে ইসলামিয়রা ভারতবর্ষে ঢুকেছিল — একমাত্র সুমের অঞ্চল (ইরাক , ইরান) ছাড়া বাকীদের প্রাচীনত্ব কোথায়? মোঙ্গল জাতির কি_ সংস্কৃতি, কলা বা শিল্প-সাহিত্যের কোন প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে ? ইসলামী রীতি – বলে একটা কথা প্রচলিত রয়েছে , কি সেই রীতি ? মক্কা এবং মদিনাতে যখন ইসলামের সূত্রপাত হচ্ছে (প্রায় ১৫০০ বছর আগে) তখন তো ওগুলো ছোট ছোট এক একটা “ট্যাঁবো”! এক বা একাধিক সর্দারের শাসনাধীনে এক একটা দল এক এক স্থানে প্রচন্ড প্রতিকুলতার মধ্যে বাস করত ৷ বেশীর ভাগেরই যাযাবর জীবন — সেখানে কোথায় সংস্কৃতি, সাহিত্য, শিল্প? হজরথ মহম্মদ সেই গোষ্ঠীগুলিকে সংঘবদ্ধ করলেন — তাই তাঁকে বলা হোত — আরব জাতির ত্রাণকর্তা (হজরথ মানে ‘মহান’) ৷ হজরথ নিজে যে ক’টি যুদ্ধ করেছিলেন তার ইতিহাস রয়েছে — বদরের যুদ্ধে বা অহদের যুদ্ধে কোথাও ২০টি , কোথাও ৪০-৫০টি সৈনিক নিহত হয়েছে। তাহলেই ভাবো ওই অঞ্চলে তখন জনসংখ্যা কিরূপ ছিল!
হজরথের দেহান্তের পর — তাঁর উত্তরসূরীরা প্রচন্ড “গোঁড়ামি”-র শিকার হ’ল। Spain থেকে Indonasia পর্যন্ত Pan-islamic brotherhood করার প্রচেষ্টা আজও অব্যাহত। আজও মুসলিম রাষ্ট্রগুলি নিজেদের মধ্যেই লড়াই করছে! নিজেদের মধ্যেই প্রচন্ড বিরোধ রয়েছে, নানান সমস্যা রয়েছে — তবু সকল ধর্মমতের মানুষকে মুসলিম বানিয়ে সকলকে এক ছত্রছায়ায় আনার প্রচেষ্টারও শেষ নাই।
এইজন্যই মহাপুরুষগন বলেন — পৃথিবী গ্রহ এখনও শৈশবাবস্থায় রয়েছে। ক্রুশেড , জেহাদ , Communist Contradiction Theory — এইসব দিয়ে ধর্মনেতা, রাজনেতারা প্রত্যেকেই চাইছে সকলকে এক ছত্রছায়ায় বা একই আদর্শের পতাকাতলে আনতে, কিন্তু তা হচ্ছে না — শুধু অকারণ রক্ত ঝরছে – বারবার রক্ত ঝরছে! মানব মন_প্রধান , তাই মানুষের মনকে বিশ্লেষণ না করে, মন কি চাইছে – সেই অনুযায়ী খোরাক না দিয়ে — জোর করে কোন মত বা আদর্শকে মানতে বাধ্য করাটা মূর্খতা নয় কি? প্রতিটি মানুষের একটা নিজস্বতা আছে, তার স্ব-প্রকৃতি বা স্ব-ভাব রয়েছে ৷ আর সেগুলিকে অক্ষুণ্ণ রেখে অপূর্ণতাবিশিষ্ট মানবের পূর্ণতার দিকে এগিয়ে চলাই আধ্যাত্মিকতা ৷ এই সত্য না বুঝে কিছু আচার-অনুষ্ঠান জোর করে চাপিয়ে দিলে বা কিছু নিয়মাদি জোর করে পালন করাতে পারলেই কি ঐ ব্যক্তির আধ্যাত্মিক কল্যাণ হবে ? — কখনই হবে না। আর যেহেতু আধ্যাত্মিক মঙ্গলই কোন ব্যক্তির প্রকৃত মঙ্গল, তাই ঐ ব্যক্তির আধ্যাত্মিক মঙ্গল সাধন না হলে সমাজের কল্যাণ বা মঙ্গল হবে না , আবার সমাজের মঙ্গল না হলে দেশের মঙ্গল হবে না ৷ আর এই সত্য না মেনে বিভিন্ন দেশ যদি ভুল আদর্শের শিকার হয় — তাহলে পৃথিবীতে দেখা দেবে হানাহানি , রক্তপাত , যুদ্ধ , বিশ্বযুদ্ধ ৷ এই যে কথাগুলি বলছি এর সপক্ষে প্রমাণ — বিশ্বের অতীত ইতিহাস ৷ আর এর আরও প্রকৃষ্ট প্রমাণ বর্তমান বিশ্ব , বর্তমান মানব সমাজ!
মানুষের-ই সৃষ্ট মানব-সমাজ আজ সমস্যাজর্জরিত যেন ধুঁকছে! ধর্মীয় Sentiment , Politicial Sentiment , Social Sentiment — ইত্যাদি নানান Sentiment -এর শিকার মানব-সমাজ ৷
সবসময় জানবে, কিছু মতবাদ, কিছু আচার-আচরণ জোর করে চাপিয়ে দিয়ে মানবজাতির কোন কল্যান হয় না! এই কথারও প্রমাণ পূর্ব পূর্ব ইতিহাস আর বর্তমান মানব-সমাজ !! বিভিন্ন Sentiment এমন গভীরভাবে মানুষের অস্থিতে মজ্জায় ঢুকে পড়েছে যে সেখান থেকে বের করে আনা মুস্কিল! যে সকল বিরোধ , যুদ্ধ , হানাহানি আজ দেখছ — সে সবের মূলেই রয়েছে কোন না কোন Sentiment ৷ Sentiment – কিন্তু তম:গুণের একটি বৈশিষ্ট ৷ রজোগুনী ব্য স্বত্ত্ব:গুনীদের এত গোঁড়ামিযুক্ত Sentiment থাকে না। রজ:গুণীরা কোন মত বা আচার মনোমত না হলে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করবে — কোন সত্ত্ব: গুণীকে যদি ব্যাপারটার সত্যতা বোঝানো যায় তাহলে মানতে না পারলে সে নতমস্তকে স্থানত্যাগ করবে। এদের মানতে না পারার কারণ_সত্ত্ব:গুণীরা প্রথমেই ব্যাপারটাকে বিচার করবে, আদৌ সেটা গ্রহণযোগ্য অথবা নয়।
দেখবে — সমাজের যারা উচ্চশ্রেণীর সদস্য অর্থাৎ বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সু-সাহিত্যিক — অর্থাৎ প্রকৃতঅর্থে জ্ঞান-বিজ্ঞান সাধকেরা কখনই Sentimental হয় না! তাদের জীবনযাপন, তাদের চিন্তা-ভাবনা সম্বলিত কথাবার্ত্তা শুনে বা writings পড়ে দেখো — কোথাও কোন Sentiment -এর সন্ধান পাবে না ৷ যত কিছু Sentiment জগদ্দল পাহাড় হয়ে গেড়ে বসে আছে নিচুতলায়! সাধারণ আমজনতা-র মধ্যে থেকে ধর্মীয় Sentiment , Political Sentiment সহজে যেতে চায় না ৷ এটাই তমো প্রভাব! আর ধর্মীয় নেতারা, Political নেতারা এই রহস্য জানে — তারা এদেরকে front -এ রেখে বিরোধ চালায় ৷ ফলে নিরীহ, অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত, কমবয়সী যুবসমাজ যুগে যুগে , দেশে-দেশে নানান আন্দোলনে সামিল হয়, অত্যাচারিত হয়, শোষিত হয় অথবা মারা-ও যায় ৷ যত উগ্রপন্থী বা terrorist সাধারণ মানুষকে মারে বা নিজেরা মরে তারা কি উচ্চবিত্ত ঘরের মাঝবয়সী ছেলে-মেয়ে বা বয়স্ক লোক ? কখনই নয়। সাধারণ নিম্নবিত্ত ঘরের , আর অল্পবয়সী ছেলে-মেয়ে। নেতারা মানুষের অভাব সমস্যা আর কম বয়সের উচ্ছ্বাস বা আবেগ-কে সু-কৌশলে কাজে লাগিয়ে নিজেদের অজ্ঞানতা-প্রসূত বিকৃত চিন্তাভাবনার রূপায়ণ দেখতে চায় ৷ এটা অলীক চিন্তা — যা কখনই বাস্তবে রূপ নেবে না ৷ কারণ জগৎ-সংসার তো ব্যক্তির অধীন নয়, কোন ব্যক্তির চিন্তা-তে কি জগৎ নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে — না হতে পারে ! সেই ব্যক্তি বা নেতা যদি কোন রাজনৈতিক সংগঠনের লোক হ’ন তাহলে তার ভাবা উচিৎ — তিনি যে মতাদর্শকে সমাজে বা দেশে বা সমগ্র পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিতে চাইছেন — সেই মতবাদের স্রষ্টা কি স্বয়ং ঈশ্বর? অথবা যিনি ছড়াচ্ছেন তিনি কি জগতের শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী, শ্রেষ্ঠ মানব ? তার মনের বা চেতনার উৎকর্ষতা কি জগতের সমস্ত জ্ঞানীদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ?
এবার সেই ব্যক্তি বা নেতা যদি কোন ধর্মীয় সংগঠনের হ’ন – তাঁকেও ভাবতে হবে যে তাঁর পূর্বসূরী মহামানবগণ বা সেই সত্যের প্রতিষ্ঠাতা তো উগ্রপন্থাকে আশ্রয় করে মানুষের রক্তে পৃথিবীকে স্নাত করতে বলেন নি ৷ তিনি নিজে বা তাঁর অনুগামীদের দিয়ে তো সেকাজ করেন নি বা করান নি ৷ তাহলে আমি কেন করছি ! এর দায় তো সম্পূর্ণ আমার উপর বর্তাবে! দল বা সম্প্রদায় তো কোন দায় নেবে না !!
এইগুলি কি বলোতো_এইগুলি চিন্তাজগতের কুষ্ঠরোগ! কিছু শক্তিমান মানুষ বিকৃত চিন্তার শিকার হয়ে সমাজে এই ধরনের কর্ম করে বসে! আর ক্ষতিগ্রস্থ হয় সাধারণ মানুষ, মানব-সমাজের অগ্রগতি হয় ব্যাহত ৷ এগুলিকেই বলা হয় ধর্মীয় গ্লানি — এই গ্লানি থেকে আর্ত মানবসমাজের হাহাকার , দুঃখ-কষ্ট মোচন করতে আবার কোন মহাপুরুষকে শরীর নিতে হয় পৃথিবীতে। শরীর নিয়েই তিনি সমস্ত Negative-কে শোষণ করেন তাঁর অপার্থিব Devine Positive শক্তির দ্বারা। যেখানে তাঁর কর্মক্ষেত্র, সেই স্থানের আবহাওয়াকে শান্ত করে তিনি চলে যান আবার অন্য কাজে, অন্য স্থানে — মহাবিশ্ব প্রকৃতির নির্দেশে। পড়ে থাকে তাঁর কাজ , তার বাণী যা পরবর্তীতে স্থান-কাল-পাত্রের সীমা ছাড়িয়ে গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে! কিন্তু মুস্কিল কি জানো তো — কালভেদে, পাত্রভেদে তাঁর বলে যাওয়া কথার অর্থ বিকৃত ব্যাখ্যা করে আবার কিছু বিকৃত মানুষ! ফলে আবার শুরু হয় হানাহানি, মারামারি ৷ এইভাবেই চলছে মানব সমাজ।
অগ্রগতি হচ্ছে — কিন্তু খুবই শ্লথগতি। Political Sentiment , Religious Sentiment , Racial Sentiment এখন গোটা বিশ্বে সাংঘাতিক আকার ধারণ করেছে ৷ আফ্রিকার বিভিন্ন ছোট ছোট দেশ Racial Sentiment -এ পরস্পরের সঙ্গে লড়ছে ৷ বাংলাদেশ – পাকিস্তান পূর্বে লড়াই করেছে, বর্তমানে ভারতের সঙ্গে এই দুটো দেশের-ই সম্পর্ক খুব ভালো নয় — নানান বিষয়ে অসন্তোষ দানা বাঁধছে ৷ ইরাক – ইরান (1992) , ইস্রায়েল – লেবানন , — এইরকমভাবে সমগ্র একটা দেশ অপর আর একটা দেশের বিরুদ্ধে লড়ছে । তাহলে ভাবতে পারছ — গোটা পৃথিবীতে কি সাংঘাতিক একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে ।
শুধুমাত্র Sentiment বজায় রাখতে দেশে-দেশে , মানুষে-মানুষে , সমাজে- সমাজে , জাতিতে-জাতিতে লড়াই চলছে, রক্তপাত হচ্ছে।
অন্য একটা নক্ষত্রলোকের কোন গ্রহ থেকে বা ধরো এই পৃথিবীর বাইরের কোন গ্রহ থেকে_যদি নিরপেক্ষ কোন সত্তা এইগুলি দেখে — তাহলে সে কি ভাববেনা যে পৃথিবীর “মানুষ” -নামক জীবগুলো নিতান্তই শিশু অবস্থায় রয়েছে ! কেমন তারা তুচ্ছাতিতুচ্ছ বিষয়-সমূহ নিয়ে নিজেদের মধ্যে নিরন্তর মারামারি , হানাহানি ঘাটিয়ে চলেছে ! শিশুরা যখন খেলা করে দেখবে হয়তো বেশ মিলেমিশে রয়েছে — তারপর কোন না কোন তুচ্ছ কারণ নিয়ে চুলোচুলি , ঝগড়া শুরু করে দিল । কোন পূর্ণবয়স্ক মানুষ হঠাৎ সেখানে উপস্থিত হয়ে যেমন ঝগড়ার বিষয়বস্তুর কথা শুনে মনে মনে হাসে আর ভাবে কি ছেলে-মানুষী — এখানেও সেইরকম হয় । প্রকৃত জ্ঞানীদের চোখে মানুষের এই হানাহানি ঐরকম শিশুদের তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ঝগড়া-ঝাঁটির মতোই হাস্যকর! তিনি ভাবেন মানুষের যে মূল লক্ষ্য আত্মজ্ঞান লাভ — ঈশ্বরত্ব লাভ — পূর্ণত্ব অর্জন করা — সেসব ভুলে এরা কি করছে!
জন্ম-মৃত্যুর চক্র সম্পূর্ণ করতেই হবে — পূর্ণ হতেই হবে — তার জন্য ব্রতী না হয়ে এরা এসব কি করছে ! অথচ মুখে ‘ধর্ম’ – ‘ধর্ম’ করছে ! কি হাস্যকর !
তবু দ্যাখো — পৃথিবীর মানুষ নিজেদেরকে শিক্ষিত , সভ্য , জ্ঞান-বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে উন্নত বলে গর্ব করে , অহংকার করে ! নিজেরা সভ্য হয়েছে বলে পরিচয় দেয় ! আদিম মানব-সমাজকে যদি অসভ্য ধরা হয় — তাহলে তো বলতে হয় — তারা খাদ্যের জন্য , আশ্রয়ের জন্য লড়াই করত — অকারণে তো করত না ! এখন তো অকারণে শুধু Sentiment -কে প্রাধান্য দেবার কারণে লড়াই হচ্ছে ৷ একবারও ভাবছে না__যে মতবাদ বা Sentiment -এর মধ্যে তুই বা তোরা আছিস, তাতে তোরা কতটা ভালো আছিস ? নিজে ভালো থাকলে তো অপরকে ভাল রাখতে পারবি বা অপরের ভালো করার কথা ভাববি ? তা – না , নিজের লেজ কেটেছে — অপরেরও লেজটা কাট্ ৷ নিজে জ্বলছি — অপরকেও জ্বালা ৷ এটাই বিকৃত মানসিকতা , সুস্থ চিন্তা এগুলি নয় ৷ তাই পৃথিবীর মানুষের এখনও নিজেদেরকে ‘সভ্য’ বলার সময় আসেনি ৷ যুদ্ধের খতিয়ান দিয়ে নিজেদের-কে উন্নত বা সভ্য বলা — চরম মূর্খতা নয় কি ?
