গুরু মহারাজ:~দ্যাখো, রাজনৈতিক নেতারা কি বলে – সেটার মধ্যে আমি যাচ্ছি না। কারণ আমি এটা জানি যে, ওদের এ ব্যাপারে ঠিকমতো ধারণা নাই ! প্রকৃত রামরাজত্ব কেমন ছিল – তা এরা কি করে জানবে ? ওটা তো যোগলব্ধ ব্যাপার !
দ্যাখো, ভগবান রামচন্দ্র যৌবনপ্রাপ্ত হবার পর যখন পিতা দশরথ(তৎকালীন যুগের শ্রেষ্ঠ নৃপতি) ওনাকে ‘রাজা হবার উপযুক্ত’ হিসাবে বিবেচিত করলেন – তখন উনি সাথে সাথে সিংহাসনে না বসে সমগ্র ভারতবর্ষ ঘুরে বেরিয়ে নিজের চোখে সমগ্র দেশটা একবার দেখে নিতে চেয়েছিলেন ।এইজন্যেই তিনি ভারতের উত্তর থেকে দক্ষিণ ঘুরে বেড়ালেন ৷
তৎকালে ভারতবর্ষে তিনটে সবচাইতে বড় dynasty ছিল – আর্য dynasty, দ্রাবিড় dynasty এবং নিষাদ dynasty ! শ্রীরামচন্দ্র পরিভ্রমণ কালে এই তিনটি জনজাতির নেতাদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করেছিলেন ৷ আর সে বন্ধুত্ব যে-সে বন্ধুত্ব নয় – এমন গভীর বন্ধুত্ব যে, একে অপরের জন্য প্রাণ পর্যন্ত দিতে প্রস্তুত !
দ্রাবিড় জাতির নেতা সুগ্রীব, নিষাদ জাতির নেতা গুহক এবং রাক্ষস জাতির নেতা বিভীষণের সাথে রামচন্দ্র সম্পর্ক স্থাপন করে সমগ্র ভারতবর্ষকে এক প্রেমের বাঁধনে বেঁধে ফেলেছিলেন (উল্লেখ রয়েছে পাতালেও মকরধ্বজ নামের হনুমান পুত্রকে রাজা করেছিলেন রামচন্দ্র ৷) |
এইভাবে বন্ধুত্বের সাহায্যে এক একটা অঞ্চলের অত্যাচারী শাসকদের সরিয়ে দিয়ে – বিবেকবানদের হাতে রাজত্বের ভার দিয়ে – সেইসব রাজ্যের সাধারণ মানুষের জীবনে স্বস্তি বা শান্তি এনে দিতে সাহায্য করেছিলেন ৷ এইভাবে রামচন্দ্র তৎকালীন সমগ্র ভারতবর্ষ অর্থাৎ উত্তরে হিমালয়, পশ্চিমে বর্তমান পাকিস্তান ও আফগানিস্তান বা গান্ধার অঞ্চল, পূর্বে বর্তমান বাংলাদেশ-বার্মা, দক্ষিনে বর্তমান সিংহল সহ আরো অনেক দ্বীপরাষ্ট্র (যা এখন সমুদ্রের জলের তলায় রয়েছে) এক ছত্রছায়ায় নিয়ে এসেছিলেন ৷
এই প্রকারে রামচন্দ্রের ন্যায় একজন উপযুক্ত আর্য রাজার নেতৃত্বে পাশাপাশি সমস্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজাদের ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ সহাবস্থানের ফলে সমগ্র ভারতবর্ষব্যাপী একটা স্বস্তি দেখা দিয়েছিল।ফলে সেই সময় এই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ভিন্ন ভিন্ন culture-এর মধ্যেও একটা সমন্বয় সাধন হয়েছিল ৷ একটা দেশের সমস্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র State-এর শাসনকর্তা এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রের শাসকদের মধ্যে এই যে বন্ধুত্বপূর্ণ সহাবস্থান – এটাকেই বলতে পারো “রামরাজত্ব” ৷
এমনটা যদি ভারতবর্ষে বা অন্য কোথাও কখনও হয় – তাহলে প্রজাদের জীবনে সুখ, স্বস্তি এবং সমৃদ্ধি নেমে আসবে _এটা নিশ্চিত!
আসলে কথা হোচ্ছে যে, সমাজে বা দেশে “রামরাজত্ব” আসুক বা না আসুক – সাধারণ মানুষ তো সুখ-স্বস্তি-সমৃদ্ধিতে থাকতেই চায় তাই না ! কে আর অশান্তি, দুঃখ, কষ্ট ইত্যাদি তার নিজের জীবনে বরণ করতে চায় __বলো দেখি ?
তৎকালীন রামরাজত্বের বিস্তার যে পশ্চিমে বর্তমান পাকিস্তান পর্যন্ত ছিল তার প্রমাণ হোলো – রামপুত্র লবের রাজধানী ছিল লবপুর, যা বর্তমানে লাহোর ৷ রামের অপর পুত্র কুশের নাম অনুযায়ী কুশীনগর(উত্তর বিহার এবং নেপালের সীমান্তে অবস্থিত)- যা তৎকালীন সময়ে রাজা কুশের রাজধানী ছিল ৷
