জিজ্ঞাসু :— সাধুটি তাহলে তো সাংঘাতিক অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন ?
গুরুমহারাজ :— অলৌকিক বলছো কেন ? বুদ্ধি দিয়ে যেটা বুঝতে পারছো না সেটাই অলৌকিক হয়ে গেল ? ঐ যে ঐ সাধুবাবা জলকে দুধ বানালেন বা পরে মিষ্টি করে দিলেন, এটা তো বিজ্ঞান ! Material Change-এর বিজ্ঞান জানেন ওঁরা—এটাকে ‘কিমিয়াবিদ্যা’ বলা হয়। সূর্যবিজ্ঞান এবং রসায়ন এদের করায়ত্ত। পারদবিজ্ঞানে অসাধারণ পারদর্শী এঁরা। আধুনিক বিজ্ঞানীরা এইসব জানলে অবাক হয়ে যাবে। পরবর্তীকালে আমি এরূপ অনেক সাধুকেই দেখেছি যাঁরা পারদ জমাতে পারেন, আমি পারদের শিবলিঙ্গ দেখেছি অনেক সাধুর কাছে। এইতো আমাদের এখানেই(বনগ্রামের কাছে)বণ্ডুল বলে যে গ্রামটি রয়েছে ন’কাকার (শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর) শ্বশুরবাড়ীর পাশের গ্রাম—ওখানে ছিলেন ভোলানাথ, যাঁর সন্ন্যাস নাম ছিল বিশুদ্ধানন্দ পরমহংস! উনি পারদের শিবপূজা করতেন, যেটা হয়তো এখনও বণ্ডুল গ্রামে ওনার মন্দিরে রয়েছে। এ ছাড়াও উনি শুন্য থেকে যে কোনো বস্তু সৃষ্টি করে দেখাতে পারতেন। যে কোনো সুগন্ধ সৃষ্টি করতেন বলে ওনাকে সবাই ‘গন্ধবাবা’ও বলতো। কিন্তু ঘটনা কি ঘটলো জানো ? উনি যখন বিভিন্ন স্কুল-কলেজে বা যুবসম্প্রদায়ের মধ্যে ঈশ্বরের যে অস্তিত্ব আছে তা প্রমাণ করার জন্য_ওনার সাধনালব্ধ শক্তি প্রদর্শন করতে শুরু করলেন, তখনই গুরুকুল ওনার উপর থেকে শক্তি withdraw করে নিলো।
দাখো , ✓রী মা জগদম্বার ইচ্ছায় জগৎ চলে, এখানে শিব static, কালী dynamic। কালীমূর্তি দেখেছো তো, দেখবে শিব শান্ত–সমাহিত, আর কালী তাঁর মুখের দিকে চেয়ে dancing mood- এ দাঁড়িয়ে রয়েছেন। এইটাই জগতের রহস্য। তুমি মায়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যেতে পারো না। স্বামী বিবেকানন্দ একবার ক্ষীরভবানীর মন্দিরে মহাপ্রকৃতির নিয়মের বিরুদ্ধে যাবার কথা ভেবেছিলেন। কিন্তু ✓রী মা তাঁকে নিরস্ত করেন এবং বোঝান যে_ ‘যা হয়েছে তা হবার ছিল বলেই হয়েছে, এখনও যা হচ্ছে তা ✓রী মায়ের জ্ঞাতসারেই ঘটছে।’ এরপর থেকে স্বামীজী একেবারেই শান্ত হয়ে গিয়েছিলেন।।
তাছাড়া আর একটা কথা চিন্তা করে দ্যাখোযে কোনো ঘটনা তুমি জানতে পারছো, আমি জানছি আর যাঁর জগৎ তিনি অর্থাৎ ✓রী মা জানেন না ! তাঁরই যখন জগৎ_ তিনিই তো সবচেয়ে আগে জানবেন ! কথায় আছে _ ঈশ্বর পিঁপড়ের নুপুরধ্বনিও শুনতে পান। কোনটা ভালো এবং কোনটা মন্দ মা জগদম্বা সবই জানেন। জগতে যেমন ভালো রয়েছে—তেমনি মন্দও রয়েছে, যেমন মহাপুরুষগণ রয়েছেন–তেমনি আবার কাপুরুষরাও রয়েছে, যেমন প্রেম-ভালোবাসা রয়েছে–তেমনি আবার অত্যাচার ঘৃণাও রয়েছে_ তাইনা !
যাইহোক, গুরুকুলের নির্দেশে বিশুদ্ধানন্দের গুরুদেব ওনাকে হিমালয়ে ডেকে পাঠান এবং বলেন বাড়ী ফিরে গিয়ে বিবাহ করে সংসারী হোতে। গুরুর আজ্ঞায় উনি তাই করেছিলেন। ওনার বংশধরেরা এখনও রয়েছে। কিন্তু এই যে ওনার বিবাহ হয়েছিল _এতে ওনার আধ্যাত্মিক স্থিতির কোনো বিচ্যুতি ঘটেনি। ‘যোগক্ষেমং বহাম্যহম্’ —ভগবানের অমোঘবাণী। ওনার দ্বারা ঐ শরীরে যে কাজ ছিল তা ঐ ভাবেই পূর্ণ করানো হয়েছে—পরবর্তী শরীরে আবার অন্য কাজ হবে।।
