[গুরু মহারাজ তাঁর ছোটোবেলার হিমালয় ভ্রমণের ঘটনাসমূহ বলছিলেন। এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ভক্তদের(আমাদের মতো সাধারণ অজ্ঞানী মানুষেরা) নির্বুদ্ধিতার জন্য, ওনাকে(অলক্ষ্যে থাকা) গুরুকুলের কাছে কৈফিয়ৎ পর্যন্ত দিতে হয়, গুরুকুলের রোষ থেকে তিনি (করুনাময় রূপে) ভক্তদের রক্ষা করেন এইসব কথা বলছিলেন।।] ………………………………………………………………… [ গতদিনের আলোচনার শেষাংশ ] ……. যারা ডিষ্টার্ব করলো তারা জানতেও পারলো না যে, অলক্ষ্যে কতো বড়ো বিপর্যয় থেকে তারা রক্ষা পেল ! কারণ ঐ গুরুকুলের যোগীরা যদি কারও উপর রোষদৃষ্টি পাত করেন, তাহলে তার যে কি ক্ষতি বা সর্বনাশ হোতে পারে তা চিন্তাতেও আনতে পারবে না!! কয়েক জন্মের বিবর্তন পিছিয়ে যেতে পারে, যে কোনো ইতরযোনিতে জন্ম হোতে পারে _ইত্যাদি অনেককিছুই হোতে পারে ! আবার দেখেছি পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে থাকা কোনো ব্যক্তি যদি প্রত্যাশাবিহীনভাবে মানুষের জন্য তথা সমাজের জন্য কাজ করে ‘বহুজন হিতায় বা বহুজন সুখায়’ কাজ করে _ তাহলে ওনারা তার উপর প্রসন্ন হ’ন এবং তাকে সাহস ও শক্তি জুগিয়ে সহযোগিতা করেন ! তাঁরাই ঐ ব্যক্তির ছোটোখাটো বিপদ-আপদ বা দুর্বিপাক থেকে তাকে রক্ষাও করেন অর্থাৎ তাঁরা সর্বদা দৃষ্টি রাখেন যাতে ঐ ধরণের ব্যক্তির কোনো অনিষ্ট না হয়।

দ্যাখো, এইসব কথা তোমাদের বলার উদ্দেশ্য এই যে_ তোমরা যাতে কখনোও কোনো সাধুসঙ্গ বা সৎসঙ্গে গিয়ে কাউকে অমর্যাদা না করো। কারণ মানব সমাজে সাধু(প্রকৃত সাধু )হোচ্ছে কেউটে সাপ, লেজে পা পড়লেই দেবে ছুবলে ! ঢোড়া-ঢ্যামনা গুরু হোলে অবশ্য অতোটা ভয় নাই কিন্তু গুরুকুল আশ্রিত প্রকৃত সাধুর পাল্লায় পড়লেই সর্বনাশ ! এছাড়া শক্তিসাধনকারীরা(তান্ত্রিক,অঘোরী, কাপালিক ইত্যাদি)বা সিদ্ধিপ্রাপ্ত সাধুরা কোনো মানুষের ভাল করতে না পারলেও নানান অভিচার ক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের চরম ক্ষতি করে দিতে পারে। সেইজন্যেই বলা হোলো _’সাধুকে চটাতে নাই’ !

তবে ‘প্রকৃত সাধু’ রুষ্ট হোলে যা ক্ষতি হয়– তা পূরণ করতে ৭ জন্ম লেগে যায়। সাধুদের উদ্দেশ্যে একটা কথা বলা হয়ে থাকে‘সাধু সাবধান’ কিন্তু ওটাই সব কিছু নয়, সাধারণ মানুষের জন্য সতর্কবার্তা হোলো ‘সাধু হোতে সাবধান’!

এবার যদি কোথাও প্রেমিক সাধু পাও, তাহলে অবশ্য কোনো ভয় বা সংকোচের প্রয়োজন থাকে না, কারণ তিনি কারও দোষ দেখেন না —তাঁর অন্তঃকরণে কোনো reaction থাকে না। তাই তাঁর দ্বারা কারও কখনোই কোনো অমঙ্গল হয় না কারণ তিনি সদা শিবস্বরূপ ! কিন্তু সে তো ‘কোটিতে গুটি’_তাই নয় কি !!

যাই হোক, আবার হিমালয়ের কথায় ফিরে আসি। দুৰ্জ্জেয়, দুর্লঙ্ঘ্য হিমালয়ের বিভিন্ন প্রান্তে, প্রতিটি চূড়ায়, পর্বতের গভীরতম প্রদেশের গিরি-কন্দরে ঘুরে বেড়ানোর আমার একটাই উদ্দেশ্য ছিল—সত্যলাভ। কারণ আমি শুনেছিলাম যে, হিমালয়ের গিরি-গুহা-অরণ্যে রয়েছেন সত্যদ্রষ্টা মহাত্মারা_ যাঁরা সত্যের সন্ধান জানেন এবং তা অপরকে জানাতেও পারেন। শুধুমাত্র এইসব কথার সত্যতা যাচাই করার জন্যই আমার পথচলা_ ‘চলা আর চলা’।

এইরকমই চলার পথে একবার কয়েকটা হনুমানে আমাকে ভীষণ মেরেছিল। কোনো এক জন্মে কিছু হনুমান এবং একদল হাতিকে আমি ব্রহ্মচর্য দীক্ষা দিয়ে একটা করে ব্রহ্মচারী-পরম্পরা চালু করেছিলাম। হিমালয়ে ঘোরার সময় দেখেছিলাম সেই পরম্পরাগুলো এখনও রয়েছে ! ঐ হনুমানের দলটির সাথে আমার কোন জন্মের কি দেনা-পাওনা বাকি ছিল কে জানে ! ঐ হনুমানগুলোর মুখোমুখি হোতেই ওরা আমাকে লেজে করে মারতে শুরু করলো। লেজে করে এতো জোরে জোরে মারছিল যে মনে হচ্ছিলো যেন ‘লাঠির ঘা’ ! তবে বিভিন্ন জন্তু-জানোয়ারের হাত থেকে কিভাবে রক্ষা পেতে হয়, সেগুলো সাধুরা আগেই আমাকে শিখিয়ে দিয়েছিলেন। ফলে হনুমানের ঐ দলটির হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে আমার অসুবিধা হয় নি। হনুমানে কারুকে attack করলে কি করতে হয় বলো তো ! দু’হাত উঁচু করে তুলে প্রণামের ভঙ্গি করতে হয়, তারপর মাটিতে শরণাগত মুদ্রায় উপুড় হয়ে শুয়ে পড়তে হয়। ব্যস, তাহলেই হনুর দল ঠাণ্ডা ! আমার ক্ষেত্রেও সেটাই হোলো ওরা আমার ঐ মুদ্রাটা কিছুক্ষণ watch করলো, তারপর আমাকে ছেড়ে দিয়ে অন্য কোথাও চলে গেল।

তবে আমি হাতির দলের সামনে যখন পড়েছিলাম তখন কোনো মুদ্রা কাজ করে নি, এক্ষেত্রে আমাকে অন্য কায়দায় বেরিয়ে আসতে হয়েছিল। ওখানে শরণাগত মুদ্রা দেখালে কয়েকশ’ হাতির পায়ে পিষ্ঠ হয়ে শরীরটাই হয়তো চিঁড়ের মতো চ্যাপ্টা হয়ে যেতো।(ক্রমশঃ)